তসবি

মুসলিমদের জপের মালা

তসবিহ বা তাসবিহ (আরবি: تَسْبِيح‎‎) হলো মুসলিমদের ব্যবহার্য একধরনের জপমালা, যা জিকির পড়া গুনতে ব্যবহার করা হয়। আফগানিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত প্রভৃতি দেশে এটি “তসবিহ” নামে পরিচিত। এটি মিসবাহা (আরবি: مِسْبَحَة‎, প্রতিবর্ণী. misbaḥa‎), সুবহা (আরবি: سُبْحَة‎‎; আরবি, কুর্দিউর্দু ভাষায়), তেসপিহ (তুর্কি, বসনীয়আলবেনীয় ভাষায়) প্রভৃতি নামে পরিচিত।[১]

অটোমান পাথরে তৈরি ফতুরান তসবিহ

আরবিতে একে মিসবাহা বা মিসবাহাহ ও তসবিহ বলা হলেও অনারব বিভিন্ন ভাষায়, বিশেষ করে ফারসি ভাষায় জিকিরসুবহানাল্লাহ পড়াকেও তসবিহ বলে। তুরস্কে এটি তেসপিহ নামে পরিচিত।[২]

ব্যবহারসম্পাদনা

 
কুরআন ও তসবিহ

তসবিহ হলো ইসলামে জিকির গোনার একটি মাধ্যম বা উপকরণ। আল্লাহর ৯৯টি নাম বা দৈনিক নামাজের পর দোয়া গুনতেও এটি ব্যবহার করা হয়।[৩] সচরাচর কাঠ বা প্লাস্টিকের পুতি দিয়ে তৈরি হলেও জলপাইয়ের বীজ, হাতির দাঁত, মুক্তা ও স্বল্পমূল্যের পাথর, যেমন: ইন্দ্রগোপ, গোমেদআম্বর প্রভৃতি দিয়েও তৈরি করা হয়।

এ ধরনের জপমালায় সাধারণত ৯৯টি পাথর থাকে, যা দিয়ে নিম্নরূপে আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করা হয়: ৩৩ বার সুবহান আল্লাহ বা তসবিহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ বা তাহমিদ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবর বা তাকবির। কারও কারও মতে, ৯৯টি পাথর আল্লাহর ৯৯টি নামকে নির্দেশ করে। ছোট ছোট তসবিহতে অনেক সময় ৩৩টি পাথর থাকে। এভাবে তিনবার সম্পূর্ণ তসবিহ শেষ করে ৯৯ বারের চক্র পূর্ণ হয়। বিভিন্ন সুফিবাদী ধারায় জিকির গোনার সুবিধার্থে ১০০ বা ২০০ পাথরের তসবিহও ব্যবহৃত হয়।

বিভিন্ন দেশীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী তসবিহ দুশ্চিন্তা কমাতে ব্যবহার হয়, এমনকি কোনো কোনো দেশে একে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

ইতিহাসসম্পাদনা

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিমরা জিকির গোনার কাজে পাথর ও আঙুলের গিট ব্যবহার করতো।[৪]

১৭শ শতাব্দীর শিয়া ধর্মপ্রচারক আল্লামা মুহম্মদ বাকির মজলিসীর বয়ানমতে, ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে উহুদ যুদ্ধের পর মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা প্রতি দুই-তিন দিনের মধ্যে একবার শহিদদের কবরে যেতেন এবং সেই সময়ে হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কবরের মাটি দিয়ে একটি তসবিহ তৈরি করেন। এরপর থেকে তসবিহ তৈরি ও ব্যবহার শুরু হয়। যদিও এই তথ্যের সত্যতা বিতর্কিত।

কিছু কিছু হাদিসে দৈনিক নামাজের পর জিকির গুনতে ডান হাতের আঙুল ব্যবহারের উত্তম প্রতিদানের ঘোষণা করা হয়েছে।[৫]

চিত্রশালাসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Netton, Ian Richard (২০১৩-১২-১৯)। Encyclopedia of Islamic Civilization and Religion (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। আইএসবিএন 9781135179670 
  2. Leone, Stacie (মে ২০০৬)। "The Tespih Works in Mysterious Ways"Turkey Now। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-০২ 
  3. Netton, Ian Richard (২০১৩-১২-১৯)। Encyclopedia of Islamic Civilization and Religion (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। আইএসবিএন 9781135179670 
  4. (ইন্দোনেশীয় ভাষায়) Hadits Shafiyah binti Hayyi (isteri Rasulullah) yang berbunyi: عَنْ كِنَانَةَ مَوْلَى صَفِيَّةَ قَال سَمِعْتُ صَفِيَّةَ تَقُولُ دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ يَدَيَّ أَرْبَعَةُ آلَافِ نَوَاةٍ أُسَبِّحُ بِهَا فَقَالَ لَقَدْ سَبَّحْتِ بِهَذِهِ أَلَا أُعَلِّمُكِ بِأَكْثَرَ مِمَّا سَبَّحْتِ بِهِ فَقُلْتُ بَلَى عَلِّمْنِي فَقَالَ قُولِي سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ صَفِيَّةَ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ هَاشِمِ بْنِ سَعِيدٍ الْكُوفِيِّ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمَعْرُوفٍ وَفِي الْبَاب عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ "Dari Kinanah budak Shafiyah berkata, saya mendengar Shafiyah berkata: Rasulullah pernah menemuiku dan di tanganku ada empat ribu nawat (bijian korma) yang aku pakai untuk menghitung dzikirku. Aku berkata,”Aku telah bertasbih dengan ini.” Rasulullah bersabda,”Maukah aku ajari engkau (dengan) yang lebih baik dari pada yang engkau pakai bertasbih?” Saya menjawab,”Ajarilah aku,” maka Rasulullah bersabda,”Ucapkanlah : سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ. (Maha Suci Allah sejumlah apa yang diciptakan oleh Allah dari sesuatu).” (HR Tirmidzi, beliau berkata,”Hadist ini gharib. Saya tidak mengetahuinya, kecuali lewat jalan ini, yaitu Hasyim bin Sa’id Al Kufi.” Ibnu Hajar dalam kitab At Taqrib menyebutnya dhaif (lemah), begitu juga gurunya, Kinanah Maula Shafiyah didhaifkan oleh Al Adzdi.)
  5. Narrated Yusayrah, mother of Yasir: The Prophet (saw) commanded them (the women emigrants) to be regular (in remembering Allah by saying): "Allah is most great"; "Glory be to the King, the Holy"; "there is no god but Allah"; and that they should count them on fingers, for they (the fingers) will be questioned and asked to speak. (Book #8, Hadith #1496)

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

  • Dubin, Lois Sherr (২০০৯)। "Prayer Beads"। The History of Beads: From 100,000 B.C. to the Present (Rev. and expanded সংস্করণ)। New York: Abrams। পৃষ্ঠা 79–92। আইএসবিএন 9780810951747 
  • Henry, Gray; Marriott, Susannah (২০০৮)। Beads of Faith: Pathways to Meditation and Spirituality Using Rosaries, Prayer Beads and Sacred Words। Louisville, Ky.: Fons Vitae। আইএসবিএন 9781887752954 
  • Majlesi, Mohammad BaqerBiḥār al-Anwār (Arabic ভাষায়)। 110। পৃষ্ঠা 133, 64। 
  • Untracht, Oppi (২০০৮)। "Rosaries of India"। Traditional Jewelry of India। New York: Thames & Hudson। পৃষ্ঠা 69–73। আইএসবিএন 9780500287491 
  • Wiley, Eleanor; Shannon, Maggie Oman (২০০২)। A String and a Prayer: How to Make and Use Prayer Beads । Boston: Red Wheel/Weiser। আইএসবিএন 1590030109 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা