মুক্তা (ইংরেজি: Pearl) ঝিনুক বা মুক্তির মধ্যকার রত্নবিশেষ। এর অন্য নাম মোতিআঞ্চলিক ভাষায় অনেক সময় মুক্তাকে মুকুতা নামেও ডাকা হয়।[১] মুক্তা এক ধরনের শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের মাধ্যমে তৈরী হয়। এটি দেখতে ছোট এবং প্রায়শঃই সাদা রঙের হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো পাণ্ডুর বা ফ্যাকাশে রঙ-সহ কালো রঙেরও হতে পারে। সাধারণতঃ মোতি দেখতে গোলাকৃতি ধরনের হয়। এছাড়া, অর্ধ-গোলাকার, ডিম্বাকৃতি কিংবা অন্য যে-কোন বিভিন্ন আকৃতিরও হতে পারে। অলঙ্কার জগতে এর অসম্ভব জনপ্রিয়তা ও সুনাম রয়েছে। জুন মাসে জন্মগ্রহণকারী জাতকগণ জন্মপাথররূপে মুক্তা ধারণ করে থাকেন।

মুক্তা, মোতি
সাধারণ তথ্য
শ্রেণীখনিজ
রাসায়নিক সূত্রCaCO3 (ক্যালসিয়াম কার্বোনেট)
সনাক্তকরণ
বর্ণসাদা, গোলাপী, রূপালী-, হাল্কা পীতবর্ণ-, সোনালী, সবুজ, নীল, কালো, হলুদ, রংধনু ২৩৬৯
বিদারণপ্রযোজ্য নয়
কাঠিন্য মাত্রা২.৫-৪.৫
ডোরা বা বর্ণচ্ছটাসাদা
আপেক্ষিক গুরুত্ব২.৬০-২.৮৫
বিচ্ছুরণপ্রযোজ্য নয়
অতিবেগুনি প্রতিপ্রভাweak, cannot be evaluated. Genuine black p .: Red to reddish River-p.: Strong: pale green

প্রকারভেদসম্পাদনা

ঝিনুকের খোলকের অভ্যন্তরে তৈরী মুক্তোয় ক্যালসিয়াম কার্বোনেট যৌগযোগে মুক্তা তৈরী হয় যা স্তরের কেন্দ্রে সংরক্ষিত থাকে। আদর্শ মুক্তা গোলাকার ও মসৃণ প্রকৃতির হয়। ব্যারোক পার্লজাতীয় মুক্তা বিভিন্ন আকার ও আকৃতির হয়ে থাকে। চমকপ্রদ, মনোলোভা, সুন্দর ও উচ্চ মূল্যমানের মুক্তা সৌন্দর্যপিপাসুদের কাছে শত শত বছর ধরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ কারণেই মুক্তা একসময় অলঙ্কারে স্থান করে নেয়। তন্মধ্যে বেশ কিছু মুক্তা অত্যন্ত দুর্লভ, চমৎকার, প্রশংসনীয় এবং অতীব মূল্যমানের অধিকারী।

মুক্তা সংগ্রহের উপর ভিত্তি করে এটি দু'ধরনের হতে পারে -

  • প্রাকৃতিক মুক্তা যা সমুদ্র বা নদী থেকে সংগৃহীত
  • কৃত্রিম মুক্তা।
  • চাষের মুক্তা

মুক্তা সংগ্রহসম্পাদনা

হাজার হাজার বছর পূর্বে সমুদ্র বা নদী থেকে প্রাকৃতিকভাবে তৈরী মুক্তা ভারত মহাসাগর, পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং মান্নার উপসাগর থেকে ডুবুরী কর্তৃক সংগৃহীত হতো।[২]

হ্যান রাজবংশে (খ্রীষ্ট-পূর্ব ২০৬ - ২২০ খ্রীষ্টাব্দ) চীনে ব্যাপকভাবে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সামুদ্রিক মুক্তা আহরণ করতো। চতুর্দশ শতকে আরব সাগরে বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ডুবুরীদের কোমরে মুক্তা রাখার কাহিনীর কথা বর্ণনা করেন। এর মাধ্যমেই বিশ্ববাসী মুক্তা সম্পর্কে জানতে পারে।[৩]

স্পেনের সৈনিকেরা পশ্চিম গোলার্ধের কিউবাগুয়া এবং আইলা মার্গারিটা দ্বীপপুঞ্জ দখল করে। ভেনেজুয়েলা উপত্যকার ২০০ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে মুক্তোর বৃহৎ খনির সন্ধান পায়। লা পেরেগরিনা পার্ল নামীয় একজন আবিস্কারক স্পেনের রাণীকে তা দেয়ার জন্য প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, বাংলা একাডেমী, ১২শ সংস্করণ, ২০১০, ঢাকা, পৃ. ৯৮৮
  2. De Silva, K. M. (১৯৯৫)। Volume 2 of History of Ceylon, History of Ceylon: History of Sri Lanka। Peradeniya: Ceylon University Press। পৃষ্ঠা 56। আইএসবিএন 955-589-004-8 
  3. Salim Al-Hassani (২০০৮)। "1000 Years of Missing Industrial History"। Emilia Calvo Labarta, Mercè Comes Maymo, Roser Puig Aguilar, Mònica Rius Pinies। A shared legacy: Islamic science East and WestEdicions Universitat Barcelona। পৃষ্ঠা 57–82। আইএসবিএন 84-475-3285-2 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা