বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট লেখক সিড বার্নসের ক্রিকেট ক্যাপ পরিহিত অবস্থায় গৃহীত স্থিরচিত্র

ক্রিকেট ক্যাপ বা ক্রিকেট টুপি ক্রিকেটের পরিভাষা ও এক ধরনের নরম টুপিবিশেষ। প্রায়শঃই এ ধরনের টুপি ট্যাক্সটাইলে উৎপাদিত সূতা দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। এটি ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণকারী যে-কোন বয়স বা লিঙ্গধারী খেলোয়াড়ের মাথায় ব্যবহারকল্পে ঐতিহ্যবাহী আবরণ বা শিরবস্ত্র। সচরাচর এটি মাথায় টুপি হিসেবে শক্তভাবে লাগানো থাকে। ছয় কিংবা আটটি অংশ একত্রিত করাসহ অর্ধ-চন্দ্রাকৃতি সহযোগে চোখের উপরে আচ্ছাদনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। প্রায়শঃই এটি ব্যবহারকারীর মাথায় স্থিতাবস্থা আনয়ণে আটকে রাখার স্বার্থে পেছনের দিককে প্রাধান্য দেয়। কখনোবার আটোসাটো ক্রিকেট টুপির তুলনায় সর্বদা স্থিতাবস্থা আনয়ণে বৈচিত্র্যময় ঢিলেঢালা টুপি বা ‘ব্যাগি ক্যাপ’ ব্যবহার করা হয়।

বিবরণসম্পাদনা

প্রায়শঃই যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথভূক্ত দেশসমূহের ব্যক্তিমালিকানাধীন বিদ্যালয়ের ছাত্রদের পোশাকের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মাথার আচ্ছাদনে ব্যবহার থেকে টুপি পরার পদ্ধতির প্রচলন ঘটেছে। তবে, শুধুমাত্র খেলাতেই এর ব্যবহার সীমিত না থেকে আধুনিক যুগে সাধারণ বিষয় না হলেও ক্রিকেট ক্যাপ ক্রেতাদুরস্ত ব্যক্তিদের মাথার আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

সর্বদা বহু রঙের না হলেও ক্রিকেট ক্যাপ সাধারণত ক্রিকেট ক্লাব কিংবা বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত নকশায় করা হয়। কখনোবা এগুলো বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন রঙে বা বিভিন্ন রঙিন বৃত্তে বা অতিরিক্ত আবরণ দিয়ে সাজানো হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঐতিহ্যগতভাবে এক রঙে তৈরি করা হয়। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অনেক ক্রিকেট দল বিশেষতঃ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বেসবলজাতীয় ক্যাপ পরিধান করে খেলাকে বেছে নিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের দলসহ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট দলের তুলনায় এ ধরনের ক্যাপের প্রচলনের জনপ্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে।

ক্রিকেট ক্যাপের উৎপত্তির বিষয়টি সনাক্ত করা বেশ কঠিন বিষয়। তবে, মুদ্রিত নথিতে দেখা যায় যে, খেলাটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে শুরু হবার পর থেকে উপস্থাপিত খেলোয়াড়দেরকে প্রচলিত ক্রিকেট ক্যাপের অনুরূপ বিভিন্ন টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

সম্ভবতঃ ক্রিকেট ক্যাপের আধুনিক কালের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ক্রমবিকাশ প্রক্রিয়া হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ঢিলেঢালা প্রকৃতির ব্যাগি গ্রীন ক্রিকেট ক্যাপ। এ টুপিকে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখে।[১] টুপিকে ঘিরে বেশ রহস্যবাদের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ খেলোয়াড়ী জীবনে খেলোয়াড়েরা মূল টুপি পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতিজ্ঞাপন করে ও প্রায়শঃই ভাগ্যরেখা হিসেবে মনে করে। এর ফলাফল হিসেবে দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিতকারী খেলোয়াড়দেরকে রাজ্য দলের পুরনো টুপির পরিবর্তে মাথায় পরিহিত অবস্থায় খেলতে দেখা যায়। দলীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দল প্রত্যেক খেলার প্রথম অধিবেশনে সৌর টুপির পরিবর্তে ব্যাগি ক্রিকেট ক্যাপ দীর্ঘদিন ধরে পরিধান করে খেলতে নামে।

অন্য ব্যবহারসম্পাদনা

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট বা টেস্ট খেলায় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়কে খেলা শুরুর পূর্বে প্রায়শঃই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ উপহার দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়াকে ‘প্রথম ক্যাপ গ্রহণ’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। ইতোপূর্বে দলে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের পর এ ক্যাপ নম্বর নির্ধারিত হয়। যেমন: বাংলাদেশী ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল টেস্ট পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষে ১৭তম খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন ও ক্যাপ নম্বর ১৭ লাভ করেন। এছাড়াও, কখনোবা একজন খেলোয়াড় কতবার খেলায় অংশ নিয়েছেন তা বুঝাতে ব্যবহার করা হয়। যেমন: ভারতীয় ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর ভারতের পক্ষে ২০০ টেস্ট খেলায় অংশ নিয়েছেন। ফলে, তিনি ২০০ ক্যাপ লাভ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রত্যেকবারই যে প্রকৃত খেলার সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে তার তেমন প্রয়োজন নেই। তবে, প্রায়শঃই একজন খেলোয়াড়ের অভিষেকসহ ৫০তম বা শততম টেস্টে অংশগ্রহণের ন্যায় মাইলফক স্পর্শে স্মারকসূচক ক্যাপ প্রদান করা হয়ে থাকে।

রেকর্ডসম্পাদনা

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিকসংখ্যক ক্যাপ লাভের বিশ্বরেকর্ডধারী হচ্ছেন ভারতের বিখ্যাত ক্রিকেট তারক শচীন তেন্ডুলকর। চব্বিশ বছরের অধিক সময় ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনে ২০০ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, একদিনের আন্তর্জাতিকে সর্বাধিকসংখ্যক ৪৬৩টি ক্যাপ লাভের ন্যায় বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী তিনি।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Gavin Mortimer (২০১৩)। A History of Cricket in 100 Objects। Serpent's Tail। আইএসবিএন 978-1846689406