কীর্ণাহার

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নানুর সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের একটি গ্রাম

কীর্ণাহার হলো পূর্ব ভারতে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান বিভাগের অন্তর্গত বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমার নানুর সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের একটি গ্রাম।

কীর্ণাহার
শঙ্খ
গ্রাম
কীর্ণাহার পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
কীর্ণাহার
কীর্ণাহার
স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৫′৪৭″ উত্তর ৮৭°৫২′৩৯″ পূর্ব / ২৩.৭৬৩০° উত্তর ৮৭.৮৭৭৬° পূর্ব / 23.7630; 87.8776স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৫′৪৭″ উত্তর ৮৭°৫২′৩৯″ পূর্ব / ২৩.৭৬৩০° উত্তর ৮৭.৮৭৭৬° পূর্ব / 23.7630; 87.8776
রাষ্ট্র ভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
জেলাবীরভূম
সরকার
 • শাসকগ্রাম পঞ্চায়েত
আয়তন
 • মোট৫.৩৯ বর্গকিমি (২.০৮ বর্গমাইল)
উচ্চতা২৯ মিটার (৯৫ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট৭,১০৩
 • জনঘনত্ব১,৩০০/বর্গকিমি (৩,৪০০/বর্গমাইল)
ভাষাসমূহ
 • সরকারীবাংলা, ইংরাজী
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
পিন৭৩১৩০২
টেলিফোন কোড৯১ ৩৪৬৩
আইএসও ৩১৬৬ কোডআইএন-ডব্লুবি
লোকসভা নির্বাচনকেন্দ্রবোলপুর
বিধানসভা নির্বাচনকেন্দ্রনানুর
ওয়েবসাইটbirbhum.nic.in

ভুগোলসম্পাদনা

বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমার শহর ও নগরসমূহ
M: পুরসভা/ পুরসংস্থান CT: জনগণনা নগর R: গ্রাম/ শহরতলি, U: বিশ্ববিদ্যালয়।
Owing to space constraints in the small map, the actual locations in a larger map may vary slightly

অবস্থানসম্পাদনা

কীর্ণাহার গ্রামটি ২৩°৪৫′ উত্তর ৮৭°৫২′ পূর্ব / ২৩.৭৫° উত্তর ৮৭.৮৭° পূর্ব / 23.75; 87.87 মানচিত্র স্থানাঙ্কে অবস্থান করছে।[২] গ্রামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ২৯ মি (৯৫ ফু) উচ্চতায় অবস্থিত।

কীর্ণাহার বীরভূম জেলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অজয় নদময়ূরাক্ষী নদীর মধ্যবর্তী তরঙ্গায়িত পললমাটির ওপর অবস্থিত। গ্রীষ্মকালে স্থানটি উষ্ণ এবং শুষ্ক, যা মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে অধিক পরিলক্ষিত হয় এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস অবধি মৌসুমী আবহাওয়ার ফলে বৃৃষ্টিপাত ঘটে। এই সময়েই গড়ে সারা বছরের ৭৮ শতাংশ বৃৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।[৩]

প্রশাসনিক ব্যবস্থাসম্পাদনা

বীরভূম জেলা পরিষদের অন্তর্গত নানুর ব্লকের নানুর পঞ্চায়েত সমিতিভুক্ত দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত হলো - যথাক্রমে, কীর্ণাহার ১ ও কীর্ণাহার ২ গ্রাম পঞ্চায়েত।[৪] কীর্ণাহারে একটি পুলিশ ফাঁড়িও রয়েছে।

পরিবহনসম্পাদনা

৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ আহমদপুর কাটোয়া রেলওয়ে লাইনের প্রায় অর্ধপথে অবস্থিত কীর্ণাহার রেলওয়ে স্টেশন[৫] গ্রামটি সাঁইথিয়া, বোলপুর, আমোদপুর, সিউড়ী এবং রামপুরহাট-সহ বীরভূম, পার্শ্ববর্তী বর্ধমানমুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন গ্রাম এবং শহরের সাথে সড়কপথে ও বাস পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত। সকাল ৫:১০ মিনিট ও সকাল ৬:০০ টার দুটি বাস পরিষেবা প্রাত্যহিকভাবে কলকাতার সাথে কীর্ণাহারকে যুক্ত করে।

অর্থনীতিসম্পাদনা

ঐতিহ্যগতভাবে গ্রামে একটি সাপ্তাহিক বাজার বসে, যা স্থানীয় ভাষায় "হাট" নামে পরিচিত। বিভিন্ন প্রকার শাকসব্জি ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তথা মাটির সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, লোহার যন্ত্রাংশ, ঝুড়ি, শস্যদানা ইত্যাদি পাওয়া যায়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই হাটের প্রয়োজনীয়তা বৃৃদ্ধি পেলে তা প্রাত্যহিক হাটে পরিণত হয়। "রাসযাত্রা" উপলক্ষ্যে কীর্ণাহারে একটি মেলার আয়োজন করা হয়।[৬]

শিক্ষাসম্পাদনা

কীর্ণাহারে দুটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলি হলো -
১) কীর্ণাহার শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়
২) কীর্ণাহার তারাপদ স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

প্রথমটি স্থাপিত হয় ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে, যা বীরভূমের অন্যতম পুরাতন বিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি। এটি স্থানীয় জমিদার পরিবারের দান করা জমির ওপর ও তার পূর্বপুরুষ শিবচন্দ্র সরকার নামে নামাঙ্কিত। এই বিদ্যালয়েই দেবনাথ দাস (নেতাজীর সহযোদ্ধা),[৭] প্রণব মুখোপাধ্যায় ও মৃণাল ঠাকুর তাদের উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালাভ সম্পূর্ণ করেন।[৮]
অবস্থিত আটটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি হলো,
১) কীর্ণাহার জুনিয়র বেসিক স্কুল
২) উত্তর কীর্ণাহার প্রাথমিক বিদ্যালয়
৩) কীর্ণাহার নবীনচন্দ্র স্মৃৃৃৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৪) কীর্ণাহার লক্ষ্মীমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয়
৫) মহেশগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়
৬) নিমড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়
৭) শঙ্খ'স স্কুল ৮) পরোটা প্রাথমিক বিদ্যালয়

কীর্ণাহারে অবস্থিত সরকার নিয়ন্ত্রিত গ্রন্থাগারটি হলো, কীর্ণাহার রবীন্দ্র স্মৃতি সমিতি টাউন লাইব্রেরী। এটি ১৭ই আগস্ট ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃৃত্যুর ১০ দিন পর উদ্বোধন করা হয়েছিলো। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হস্তগত হয়। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে এটিকে টাউন লাইব্রেরী ঘোষণা করা হয়।[৯]

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসম্পাদনা

  • প্রণব মুখোপাধ্যায়, ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জন্মগ্রহণ করেন এই কীর্ণাহারের মিরাটী গ্রামে।[১০]
  • অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়|অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত রসায়ন শিক্ষক মৃণাল ঠাকুর কীর্ণাহারে জন্মগ্রহণ করেন।
  • মানবহিতৈষী অস্থিবিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক ডাঃ দিলীপ কুমার সরকার কীর্ণাহারে প্রথম এক্স-রে মেশিন চালু করেন।

স্বাস্থ্য পরিষেবাসম্পাদনা

কীর্ণাহারে দশ শয্যাবিশিষ্ট একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।[১১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. http://www.census2011.co.in/data/village/317646-kirnahar-west-bengal.html
  2. Falling Rain Genomics, Inc - Kirnahar
  3. Choudhuri, Tapan, Unnayaner alokey Birbhum, Paschim Banga , Birbhum Special Issue, February 2006, (বাংলা), pp. 60-61, Information & Cultural Department, Government of West Bengal.
  4. "Admin Reports of NPP"Details of West Bengal till Village Panchayat Tier। Ministry of Panchayati Raj, Government of India। ২০১১-১০-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-১২ 
  5. Roy Choudhuri, Samit। "Ahmadpur - Katwa Brought Gauge Line"। Indian Railways Fan Club। ১১ মে ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 
  6. Mukhopadhyay Aditya, Birbhumer Mela, Paschim Banga , Birbhum Special Issue, February 2006, (বাংলা), pp. 204-05, Information & Cultural Department, Government of West Bengal.
  7. "Indian National Army"। National Archives of Singapore। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৬-২৯ 
  8. "Mrinal Thakur - Homepage"। Auburn University। 
  9. Kirnahar Rabindra Smriti Samity Town Library:Pustak Talika
  10. "Brief Profile of Shri Pranab Mukherjee"। Ministry of Finance, Government of India। ২০০৯-০৬-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৬-২৯ 
  11. "Health & Family Welfare Department"Health Statistics। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৯