কালীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ জেলার একটি উপজেলা

কালীগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। এগারোটি ইউনিয়ন নিয়ে এই উপজেলা গঠিত। এই এগারোটি ইউনিয়নে ১৯৮ গ্রামে ৬৭,৮৪১ টি পরিবার (খানা) রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা লোকসংখ্যা ২,৮২,৩৬৬ এর বেশি।[২]

কালীগঞ্জ
উপজেলা
কালিগঞ্জ.jpg
কালীগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কালীগঞ্জ
কালীগঞ্জ
বাংলাদেশে কালীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°২৪′৫৭″ উত্তর ৮৯°৭′৫১″ পূর্ব / ২৩.৪১৫৮৩° উত্তর ৮৯.১৩০৮৩° পূর্ব / 23.41583; 89.13083স্থানাঙ্ক: ২৩°২৪′৫৭″ উত্তর ৮৯°৭′৫১″ পূর্ব / ২৩.৪১৫৮৩° উত্তর ৮৯.১৩০৮৩° পূর্ব / 23.41583; 89.13083 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলাঝিনাইদহ জেলা
আয়তন
 • মোট৩১০ কিমি (১২০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৮২,৩৬৬
 • জনঘনত্ব৯১০/কিমি (২৪০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫৪.৮৩%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৭৩৫০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৪০ ৪৪ ৩৩
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

অবস্থান ও আয়তনসম্পাদনা

কালীগঞ্জ উপজেলার মোট আয়তন ৩১০.১৬ বর্গ কিলোমিটার। কালীগঞ্জ উপজেলার অবস্থান ২৩.১৬ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩.২৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮৯.১৬ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এর উত্তরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, দক্ষিণে যশোর সদরচৌগাছা উপজেলা, পূর্বে শালিখাবাঘারপাড়া উপজেলা, পশ্চিমে কোটচাঁদপুরচৌগাছা উপজেলা অবস্থিত।[৩]

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

১৮৬৩ সালের পূর্বে কালীগঞ্জ নলডাঙ্গা রাজবাড়ী প্রসাশনের অন্র্তভূক্ত ছিল। ১৮৬৩ সালে কালীগঞ্জ থানার সৃষ্টি হয়। কালীগঞ্জ থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। [৩] এই উপজেলায় ১টি পৌরসভা, ১১ টি ইউনিয়ন,[৪] ১৮৮টি মৌজা এবং ১৯৮টি গ্রাম রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ও এর জিও কোড হলঃ

জনসংখ্যা উপাত্তসম্পাদনা

উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২৫২,৪৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৩০,৭১৬ জন এবং মহিলার সংখ্যা ১২১,৭২৭ জন।[৫] ধর্মাবলম্বী অনুসারে- * মুসলিম ২১০,৪৪১ জন, * হিন্দু ৪১,২১৪ জন, * বৌদ্ধ ৫৮৭ জন, * খ্রিস্টান ৩৫ জন, * অন্যান্য ১২৬ জন লোক বসবাস করে ।

ইতিহাসসম্পাদনা

 
মোবারকগঞ্জ চিনিকল

এই গঞ্জ শহর প্রতিষ্ঠা করে নলডাঙ্গা রাজা প্রমথভূষণ দেবরায়। এটি নলডাঙ্গা রাজবংশ-এর তহশীল ভুক্ত ছিল। প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে বর্তমান স্থানে এই শহরের গোড়াপত্তন। কালী দেবী-এর নামানুসারে নামকরণ করা হয় কালীগঞ্জ। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক জটিলতায় কখনও আলীগঞ্জ, কখনও মোবারকগঞ্জ, কখনও মধুগঞ্জ নামকরণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত কালীগঞ্জ নামটি তার ঐতিহাসিকতা নিয়ে টিকে আছে। ব্রিটিশ আমলে এখানে নদী উপর ব্রিজ এবং রেল স্টেশন নির্মিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে ওঠে এখানকার গণমানুষ। মুসলিম লীগের মোবারক আলী (?-১৯৫৯) এই আন্দোলনে এখানকার অন্যতম নেতা ছিলেন। পূর্ব-পাকিস্তান সময়ে মোবারক আলীর নামে মোবারকগঞ্জ চিনিকল, মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোবারকগঞ্জ স্টেশনের নামকরণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে কালীগঞ্জসম্পাদনা

যশোর এবং ঝিনাইদহ সীমান্তে মহিষাহাটি গ্রামের মান্দারতলায় ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং আনুমানিক ১০০ পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা মান্দারতলা থেকে পিছু হটে আসে। পরদিন ১৪ এপ্রিল দুলালমুন্দিয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যুহ গড়ে তোলে। কিন্তু যশোর ক্যান্টনমেন্ট পাকিস্তানীদের খুব শক্ত ঘাঁটি ছিল। ফলে তারা পিছন থেকে আক্রমণ করে। এইদিনের যুদ্ধে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পরিণতির সময়ে ৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ কালীগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়। কালীগঞ্জ উপজিলার ৩১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। এই শহরে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিচিহ্ন স্তম্ভ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণাধর্মী বিভিন্ন বই লিখেছেন, ৭নং রায়গ্রাম ইউনিয়নের দয়াপুর গ্রামের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম শ্রেণীর গীতিকার আলমগীর হোসেন শিশির।

নদনদী ও জলাশয়সম্পাদনা

কালীগঞ্জ উপজেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে চিত্রা নদী, ভৈরব নদবেগবতী নদী[৬][৭] বেগবতী নদী জেলা সদর থেকে আলাদা করেছে। বারোবাজার ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদী যশোর জেলা হতে এই উপজেলাকে আলাদা করেছে।

এছাড়া মর্জাদ, মাজদিয়া, বারফা, চাঁদবার বাওড় ও সিমলা বাওড় রয়েছে। বিলের মধ্যে সাকোট, উত্তর, দিঘার, অরুয়া সালভা এবং তেঁতুল বিল উল্লেখযোগ্য।[৫]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহসম্পাদনা

  • সরকারি এম ইউ কলেজ।
  • শহীদ নূর আলী কলেজ,কালীগঞ্জ।
  • সরকারি ভূষণ হাইস্কুল
  • হাসানহাটি বড় ধোপাদি এবাদৎ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • রায়গ্রাম বানীকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় , সিংগীর বাজার, রায়গ্রাম।
  • পাঁচকাহুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বারোবাজার,ঝিনাইদহ ।
  • বারবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
  • মেগুরখির্দ্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • বারফা প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • আসাদুজ্জামান হোসনিন কেয়াবাগান আদর্শ কলেজ
  • মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • বাবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • পুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • মনোহরপুর পুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা
  • পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • দয়াপুর ভাতঘরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • ভাতঘরা দয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়

দর্শনীয় স্থানসম্পাদনা

এখানকার সুইতলা মল্লিকপুর নামক স্থানে এশিয়ার বৃহত্তম বট গাছ রয়েছে। বারোবাজার সুলতানী আমলের মসজিদ এবং নলডাঙ্গা মঠবাড়ী রাজাদের নির্মিত অনেকগুলো মন্দির। উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছেঃ গাজীকালু চম্পাবতীর মাজার, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, পীর বলুদেওয়ান এর মাজার। এছাড়াও নলডাঙ্গা রাজবাড়ি রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য। বলুদেওয়ানের মাজার, এটি কালিগঞ্জ থানার রাখালগাছি ইউনিয়নের হাসানহাটি গ্রাম ও ধোপাদি গ্রামের মিলন কেন্দ্রে অবস্থিত।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে কালীগঞ্জ"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৩০ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারী ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. এক নজরে কালীগঞ্জ
  3. বাংলাপিডিয়া,২০১১, ISBN 798-984-512-023-4
  4. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১২ 
  5. http://www.bbs.gov.bd
  6. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  7. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃষ্ঠা ৬১২। আইএসবিএন 984-70120-0436-4 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা