উপুল থারাঙ্গা

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার

ওয়ারুশাভিথানা উপুল থারাঙ্গা (সিংহলি: උපුල් තරංග); জন্ম: ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫) বালাপিতিয়ায় জন্মগ্রহণকারী শ্রীলঙ্কার প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। সচরাচর তিনি উপুল থারাঙ্গা নামেই সমধিক পরিচিত। শ্রীলঙ্কা দলে একাধারে বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এবং উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন।

উপুল থারাঙ্গা
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামওয়ারুশাভিথানা উপুল থারাঙ্গা
জন্ম (1985-02-02) ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ (বয়স ৩৫)
বালাপিতিয়া, শ্রীলঙ্কা
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
ভূমিকাউদ্বোধনী ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক১৮ ডিসেম্বর ২০০৫ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১৫ মার্চ ২০১৭ বনাম বাংলাদেশ
ওডিআই অভিষেক২ আগস্ট ২০০৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই১ এপ্রিল ২০১৭ বনাম বাংলাদেশ
ওডিআই শার্ট নং৪৪
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ ১১)
১৫ জুন ২০০৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টি২০আই৬ এপ্রিল ২০১৭ বনাম বাংলাদেশ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০০-০১সিংহ স্পোর্টস ক্লাব
২০০৩-বর্তমাননন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব
২০০৭-বর্তমানরুহুনা
২০১৪কন্দুরাতা ম্যারুনস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই টি২০আই এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৭ ২০১ ১৬ ৯২
রানের সংখ্যা ১,৫৬৮ ৫,৯২৯ ২১৬ ৫,৫২৬
ব্যাটিং গড় ৩৩.৩৬ ৩৩.৩০ ১৩.৫০ ৩৭.৮৪
১০০/৫০ ৩/৬ ১৪/৩১ -/- ১৩/২১
সর্বোচ্চ রান ১৬৫ ১৭৪* ৩৭ ২৬৫*
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২১/– ৩৭/– ২/- ৬৪/১
উৎস: ক্রিকইনফো, ৬ এপ্রিল ২০১৭

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

আম্বালাঙ্গোদা এলাকার ধর্মসোকা কলেজে অধ্যয়ন করেন উপুল থারাঙ্গা। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন কিশোর অবস্থাতেই ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৫ বছর বয়সে নন্দেস্ক্রিপ্টস দলে খেলেন। এরপর শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেন। ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে সফলভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটিং বোর্ডের তরফে এসেক্সের লটন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষ হয়ে লীগ ক্রিকেট খেলেন।

২০০৫ সালটি মিশ্রভাবে কাটে থারাঙ্গা’র। এ বছরই যেমন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলে ডাক পান, তেমনি এশীয় সুনামিতে তার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। এরফলে তিনি কুমার সাঙ্গাকারা’র খেলার সরঞ্জামাদি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন। এ দল থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ দলের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনসম্পাদনা

২০০৬ সালের ইংল্যান্ড সফরে একদিনের ক্রিকেটে বেশ উন্নয়ন ঘটে থারাঙ্গা’র। সিরিজে তিন শতাধিক রান করলেও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় শ্রীলঙ্কা দল। তবে চূড়ান্ত খেলায় সনাথ জয়াসুরিয়া’র সাথে প্রথম উইকেট জুটিতে নতুন রেকর্ড গড়েন। ঐ খেলায় তিনি ১০২ বলে ১০৯ রান করেন।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে তার ক্রীড়াশৈলী দূর্বলতর হতে থাকে। প্রতিযোগিতায় তিনি কেবলমাত্র নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্ধ-শতক করেন। এরপর ২০০৭ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ ধারা অব্যাহত থাকে। প্রায়শঃই ১০ম ওভারের পূর্বে আউট হয়ে যাওয়ায় মাঝারিসারির পতন হতে থাকে। এরফলে দলে থাকাবস্থায় একদিনের ক্রিকেটে মালিন্দা ওয়ার্নাপুরা এবং টেস্ট ক্রিকেটে মাইকেল ভ্যানডর্টের কাছে নিজ স্থানচ্যুত হন।

কীর্তিগাঁথাসম্পাদনা

তিলকরত্নে দিলশান এবং উপুল থারাঙ্গা’র ১ম উইকেট জুটিতে ২৮২ রান আসে। ২৬ মার্চ, ২০১১ সালে পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এ সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন।[১]

বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে ২য় ব্যাটসম্যান হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাতবার দুই শতাধিক রানের জুটি গড়েছেন থারাঙ্গা।[২] তার পূর্বে এ কৃতিত্ব গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথিতযশা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক রিকি পন্টিং

২ জুলাই, ২০১৩ তারিখে শ্রীলঙ্কার একদিনের ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৭৪* রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজে ভারতের বিরুদ্ধে। একই দলের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ রানের কৃতিত্ব রয়েছে সনাথ জয়াসুরিয়া’র ১৮৯ রান। এ রান করার পথে শ্রীলঙ্কার ৯ম ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচ সহস্রাধিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা