প্রধান মেনু খুলুন

উইলিয়াম হার্ভে ( ১লা এপ্রিল ১৫৭৮– ৩রা জুন ১৬৫৭) ছিলেন একজন ইংরেজ চিকিৎসক যিনি শরীর-বিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন । মানুষের দেহ আর রোগ নিয়ে যাঁরা গবেষণা করে গেছেন তাঁদের মধ্যে উইলিয়াম হার্ভে অন্যতম । আজ থেকে প্রায় চারশো বছর আগে মানুষের দেহের ভেতর রক্তের পদ্ধতিগত চলাচলের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে এবং বিস্তারিত তিনিই প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন। এর আগে রক্ত চলাচল সম্পর্কে কারও সঠিক ধারণা ছিল না। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তশিরা পথে হৃৎপিণ্ডে আসে এবং হৃৎপিণ্ড থেকে ধমনীর মাধ্যমে বিভিন্ন অংশে সঞ্চালিত হয়, এটা সর্বপ্রথম হার্ভেই বলেছিলেন । এই প্রতিভাবান চিকিৎসক এর সম্মানার্থে ১৯৭৩ সালে তাঁর জন্মস্থান 'ফোকস্টনে'র নিকটে 'অ্যাশফোর্ড' শহরে 'দ্যা উইলিয়াম হার্ভে হাসপাতাল' নির্মাণ করা হয় ।


পরিবার :


হার্ভের পিতা থমাস হার্ভে ছিলেন ফোকস্টনের একজন জুরাৎট, ১৬০০ সালে তিনি সেখানকার মেয়র হয়েছিলেন । নথিপত্র ও ব্যাক্তিগত বর্ননা থেকে জানা যায় তিনি ছিলেন সর্বোপরি একজন অবিচল, পরিশ্রমী এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন লোক । তার সুখ্যাতির চর্চা হতো চারদিকে যার কিছুটা হার্ভের ব্যাক্তিগত জীবনেও সুফল বয়ে এনেছিল । তিনি এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, এসসিক্সের চিংওয়েল শহরে 'রোলস পার্কে'র ডাইনিংয়ের কেন্দ্রীয় দেয়ালের এখনো তার পোট্রেট শোভা পাচ্ছে । সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে হার্ভে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ ।


প্রারম্ভিক জীবন ও পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়

হার্ভের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল ফোকস্টনে, সেখানে তিনি ল্যাটিন শিখতেন । তারপর তিনি ৫ বছর  কিংস্ বিদ্যালয়ে যান । এরপর ১৫৯৩ সালে তিনি ক্যামব্রিজের 'গনভিল অ্যান্ড কাইজ কলেজ' থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ।

হার্ভে ১৫৯৭ সালে কাইজ থেকে বি এ পাস করেন । এরপর তিনি ফ্রান্স ও জার্মানি হয়ে ইতালি পাড়ি জমান এবং ১৫৯৯ সালে সেখানে তিনি 'পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে' ভর্তি হন‌।‌

২৫ শে এপ্রিল ১৬০২ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে হার্ভে পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডক্টর অব মেডিসিন'এ স্নাতক সম্পন্ন করেন ।

শিক্ষকরা তাঁর দক্ষতা, মেধা, আগ্রহ ও স্মৃতিশক্তিতে এতটাই মুগ্ধ হন যে অল্পদিনেই তিনি সকলের মনে বিরাট এক আশার সঞ্চার করেন । পরীক্ষাও তিনি চমৎকার ভাবেই নিজেকে জানান দেন ।