আনন্দকিশোর মজুমদার

আনন্দকিশোর মজুমদার (ইংরেজি: Anandakishore Majumder) (১৮৯২ - ১৯৪০) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব।

আনন্দকিশোর মজুমদার
জন্ম১৮৯২
মৃত্যু১৯৪০
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

বিপ্লবী কার্যকলাপসম্পাদনা

ময়মনসিংহে হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী, মোহিনীশঙ্কর রায় এবং তার প্রচেষ্টায় সাধনা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৬ সালে যতিন্দ্রনাথ মুখার্জীঅরবিন্দ ঘোষের সংস্পর্শে এসে তারা সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হতে থাকেন। সরকারি আদেশে সাধনা সমিতি বেআইনি ঘোষিত হলে বিপ্লবী যুগান্তর দল গুপ্তপথে অগ্রসর হতে থাকে। এসময় তিনি কিশোরগঞ্জ, বাজিতপুর, আঠারোবাড়ি, ঈশ্বরগঞ্জ শ্রীহট্ট, কুমিল্লা প্রভৃতি স্থানে সমিতির শাখা-প্রশাখা ও কার্যক্রম বিস্তার করতে থাকেন। এই দলের সঙ্গে ময়মনসিংহের প্রখ্যাত নেতা সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ তার অণুগামীদের নিয়ে মিলিত হন। এই সময় তার চেষ্টায় ময়মনসিংহের অণুশীলন দল, সুহৃদ সমিতি প্রভৃতি একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী দলে পরিণত হয়। এই দলের কর্মী নরেশ চৌধুরী, মণি চৌধুরী, ক্ষিতীশ চৌধুরী, সঞ্জীব রায় প্রভৃতি অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ময়মনসিংহ ও কলকাতায় গুপ্তচর ও দারোগাদের বিনাশসাধন, ডাকাতি করে অর্থসংগ্রহ, জনমনে স্বদেশী ভাব উদ্দীপন প্রভৃতি কাজে লিপ্ত থাকার জন্য ১৯১৬ সালে ধরা পড়েন। ১৯১৯ সালে ছাড়া পান। ১৯২৩ সালে তারকেশ্বর সত্যাগ্রহে তিনি বহু ধর্মীয় কর্মীসহ অংশগ্রহণ করেন। ১৯২৪ সনে তিন ধারায় ধরা পড়ে ১৯২৭ পর্যন্ত বহরমপুর জেলে থাকেন।

কংগ্রেসের কর্মসম্পাদনা

১৯২৮ সালে কলকাতা কংগ্রেসের দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের খাওয়াবার ভার তার উপর ছিলো। ১৯৩০ সনে সত্যাগ্রহ করায় আটক আইনে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৩৫ পর্যন্ত বক্সা ক্যাম্পে থাকেন। ১৯৩৬ সালে মুক্তি পেয়ে ময়মনসিংহ জেলার কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় দুরন্ত যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন। এখানেই মৃত্যু।[১] তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ব্রিটিশ রাজের কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এবং জেলে অনশন করেন মোট ৮৫ দিন।[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, দ্বিতীয় সংস্করণ, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৮১৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গণ, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ২২১।