হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী

হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী (ইংরেজি: Hemendrakishore Acharya Chaudhuri) (২৮ মে, ১৮৮১ - জুন, ১৯৩৮) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ভারত-জার্মানি সশস্ত্র বিপ্লব আন্দোলনের যে আয়োজন হয় তাতে পূর্ব বাংলার দায়িত্ব ছিলো তার উপর। বাংলার বিপ্লবীদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষকরূপে দীর্ঘ ৬ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। জেলে থাকাকালে হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হয়ে সারা জীবন কষ্ট পান।[১][২]

হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী
Hemendrkishore Acharya Chowdhury.jpg
হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী
জন্ম
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

জন্মসম্পাদনা

হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরীর জন্ম ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায়। তার পিতা দেবেন্দ্রকিশোর চৌধুরী জন্মসূত্রে মুক্তাগাছা ও ভাওয়াল রাজপরিবারের সাথে যুক্ত ছিলেন।[১]

শিক্ষাসম্পাদনা

হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরীর শিক্ষাজীবন কাটে ময়মনসিংহ এবং কলকাতায়। ছাত্রজীবনে ভাওয়ালের কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের রচিত স্বদেশী গান গেয়ে তিনি নবভারতের স্বপ্ন দেখতেন।[১]

রাজনীতিসম্পাদনা

প্রথম যৌবনে কয়েকজন বন্ধুর সংগে 'কার্বোনারী' গুপ্ত সমিতি গঠন করেন। ১৯০৪ সালে কলকাতায় অরবিন্দ ঘোষের সাহচর্যে তিনি তাকেই বিপ্লব-গুরু হিসেবে গ্রহণ করেন। বিস্ফোরকের গবেষণা করতেন। সমিতির ধ্যানধারণাকে রূপায়িত করবার উদ্দেশ্যে 'ডন সোসাইটি', 'অনুশীলন সমিতি', প্রভৃতি বৈপ্লবিক সংগঠনের প্রধানদের সংগে তিনি পরিচিত হতে থাকেন। ময়মনসিংহে তার প্রতিষ্ঠিত সাধনা সমিতি বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলো। তার বিপ্লবী সংগঠন তখন সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াত্রিপুরায় বিস্তৃতিলাভ করে। ১৯০৮ সালে তিনি বিপ্লবী হরিকুমার চক্রবর্তীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পান। তার নেতৃত্বে কলকাতায় তখন তার দলের ঘাঁটিটি যুগান্তর দলের সংগে যোগাযোগ রেখে কাজ করছিলো। ১৯১৩ সালে সম্মিলিত সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তিনি অসম, ত্রিপুরা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রভৃতি স্থানে কেন্দ্র স্থাপন করে যুবকদের অস্ত্রশিক্ষা দেন। জমিদার পরিবারের তার বাড়িটি ছিলো তখন বিপ্লবীদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। ১৯১৬ সালে অকস্মাৎ গ্রেপ্তার হয়ে খুলনায় অন্তরীণ থাকেন।[১]

সাধনা সমিতির সদস্যবৃন্দসম্পাদনা

হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী ছাড়াও সাধনা সমিতির সদস্য ছিলেন সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ, শ্যামানন্দ সেন, সিধু সেন, পৃথ্বীশচন্দ্র বসু, কোহিনুর ঘোষ, বিনোদচন্দ্র চক্রবর্তী, মহেন্দ্রচন্দ্র দে, আনন্দকিশোর মজুমদার, ভক্তিভূষণ সেন, ক্ষিতীশচন্দ্র বসু, মনোরঞ্জন ধর, সুধেন্দ্র মজুমদার, মতিলাল পুরকায়স্থ, সঞ্জীবচন্দ্র রায়, মোহিনীশঙ্কর রায়, দ্বিজেন্দ্র চৌধুরী ননী, ও নগেন্দ্রশেখর চক্রবর্তী। এঁদের সকলেই বহু বৎসর কারাগারে ও অন্তরীণে আবদ্ধ ছিলেন।[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৮৭৮, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, পাক ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ২২১।