সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ

সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ (ইংরেজি: Surendramohan Ghosh) (২২ এপ্রিল, ১৮৯৩ - ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। যুগান্তর দলের অন্যতম কাণ্ডারি । তিনি ছিলেন ভারতের লোকসভার ও রাজ্যসভার সদস্য। আধ্যাত্মিক ভাবাদর্শে তিনি পণ্ডিচেরির অরবিন্দ আশ্রমের গোষ্ঠীভুক্ত। ভারতীয় ইতিহাস, দর্শন, স্মৃতি, তন্ত্র, বৈষ্ণব সাহিত্য, এবং শ্রী অরবিন্দের জীবন নিয়ে আলোচনা করতেন।[১] তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর ব্রিটিশ রাজের কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এবং জেলে অনশন করেন মোট ৯৬ দিন। তিনি হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহের সাধনা সমিতির সদস্য ছিলেন।[২] তার বিপ্লবী বন্ধু মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী তারই দিল্লীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[১]

সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ
জন্ম২২ এপ্রিল, ১৮৯৩
মৃত্যু১২ জানুয়ারি, ১৯৩৪
জাতীয়তাভারতীয়
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

সুরেন্দ্রমোহন ঘোষের জন্ম বৃটিশ ভারতের বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। পিতার নাম কামিনীমোহন ঘোষ। জেলা শহরের মৃত্যুঞ্জয় স্কুলে ও আনন্দমোহন কলেজে শিক্ষালাভ করেন। চোদ্দ বছর বয়সেই স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দেন। প্রথম বার্ষিক শ্রেণীতে পড়ার সময়ই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। তিনি 'মধুদা' নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ যুগান্তর দল বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত দলের বিশিষ্ট কর্মী ও নেতা হিসাবে যুক্ত ছিলেন । ১৯২৩-২৯ খ্রিস্টাব্দে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ্য দলে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আমৃত্যু তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ।

কর্মজীবনসম্পাদনা

অসহযোগ আন্দোলনে তাঁর যুগান্তর দল গান্ধীজির নেতৃত্ব মেলে নিলেও তিনি বা তাঁর দল অহিংসাকে নীতি হিসাবে গ্রহণ করেনি। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা ঐতিহাসিক কংগ্রেস অধিবেশনে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখেন। অবিভক্ত বাংলায় ত্রিশ দশকে যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তসুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বের বিরোধ দেখা দিলে তিনি তাঁর দল নিয়ে সুভাষচন্দ্র বসুর পাশে এসে দাঁড়ান। ত্রিপুরা কংগ্রেসের আগে পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে সুভাষচন্দ্র ও শরৎচন্দ্র বসুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিপ্লবের পথে যাঁরা তাঁর অগ্রজপ্রতিম ছিলেন তাঁদের মধ্যে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও ডা. যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায়েরনাম উল্লেখযোগ্য । তাঁর কারাসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিপ্লবী সূর্য সেন এবং মান্দালয় জেলে সুভাষচন্দ্র । তাঁর বিপ্লবী বন্ধু 'মহারাজ' ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী তাঁরই দিল্লীর বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন । সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ ১৯৩৯ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির অ্যাাডহক সভাপতি হন। দীর্ঘদিন ঐ পদে ছিলেন। ১৯৪৬ সালে কন্সটিটূয়েন্ট এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভারতবর্ষের ভাবী শাসনতন্ত্র তৈরির কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৫০-৫২ সালে অস্থায়ী পার্লামেন্টের সদস্য এবং ১৯৫২ সালে লোকসভার সদস্য হন। ১৯৫৬ ও ১৯৬২ সালে রাজ্যসভার সদস্য এবং ১৯৬২-৬৭ সালে পার্লামেন্টে কংগ্রেস দলের ডেপুটি নেতা ছিলেন।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৮১৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ২২১।