প্রধান মেনু খুলুন
Knuffi Oi.jpg

হুইল চেয়ার (ইংরেজি: Wheelchair) এক ধরনের চাকাযুক্ত চেয়ার যা সাধারণতঃ স্বাভাবিকভাবে চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিগণ ব্যবহার করে থাকেন। এ ধরনের চেয়ারের সাহায্যে পঙ্গুত্বে বরণকারী ব্যক্তি এক স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াত করেন। অক্ষম ব্যক্তি তাঁর নিজস্ব হাতের সাহায্যে চাকায় ধাক্কা দিয়ে এ চেয়ারটি পরিচালনা করে থাকেন। এছাড়াও, অন্য কোন ব্যক্তি চেয়ারের পিছনে ধাক্কা দিয়ে কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে গমন করেন। প্রয়োজনে তিনি অন্য কোন ব্যক্তির সাহায্যে বাঁধা অতিক্রমণে অন্যের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন।

ইতিহাসসম্পাদনা

যে সকল ব্যক্তি হেঁটে চলাচল করতে ব্যাপক অসুবিধা অনুভব করেন অথবা শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ, আঘাতগ্রস্ততা অথবা পঙ্গুত্বে বরণ করেছেন - কেবল ঐ স্তরের ব্যক্তিগণই হুইল চেয়ারের ন্যায় উপকরণকে চলাচলের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। সুস্থ, স্বাভাবিক, চলাচলে সক্ষম ব্যক্তিগণ এ চেয়ারের সাহায্য ব্যতিরেকে হেঁটে চলাচল করে থাকেন। কোন কারণে অক্ষম ব্যক্তির শারীরিক গঠনশৈলী ভিন্নতর হলে হুইল চেয়ারের মধ্যে আরো অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। ১৬৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম হুইল চেয়ার ব্যবহারের নজীর রয়েছে।[১] ইউরোপ মহাদেশে এ প্রযুক্তি জার্মান রেনেসাঁয় আরো উত্তরণ ঘটানো হয়।

প্রবেশাধিকারসম্পাদনা

উন্নত দেশসমূহে বিনোদনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে থিয়েটার, সিনেমা হলগুলোয় হুইল চেয়ার রাখার উপযোগী মুক্ত স্থান রাখা হয়। ভবন নির্মাণে হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীদের প্রবেশের নিশ্চয়তার লক্ষ্যে পঙ্গুত্ব অধিকার আন্দোলনআমেরিকানস উইদ ডিজএবিলিটিজ এ্যাক্ট অব ১৯৯০ (এডিএ) এর প্রচারণার অন্যতম ক্ষেত্রস্থল। অন্যতম প্রধান নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া হচ্ছে বৈশ্বিক নক্সা যাতে পঙ্গুত্বে বরণকারী সকল স্তরের লোকজন সাধারণ পরিবহণ ও ভবনে স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে কিছু রেলগাড়ী থেকে স্বল্পসংখ্যায় আসন তুলে নেয়া হয়েছে যাতে সাইকেল ও হুইল চেয়ার রাখা যায়।[২] নিউইয়র্ক সিটির সম্পূর্ণ বাস ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে হুইল চেয়ার নিয়ে ব্যক্তির প্রবেশের পরিবেশ বিদ্যমান এবং লিফটের মাধ্যমে উচ্চ ভবনগুলোয় প্রবেশাধিকারের পরিকল্পনা চলমান অবস্থায় আছে। অস্ট্রেলিয়ার এডিলেডের সকল প্রকার সরকারী যানবাহনে কমপক্ষে দু'টি হুইল চেয়ার রাখার ব্যবস্থা আছে যাতে বাস, ট্রাম এবং রেলগাড়ী অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে সকল রেলগাড়ীতেই সাইকেল রাখার উপযোগী জায়গা আছে।

পাওয়ার চেয়ার ফুটবলসম্পাদনা

পাওয়ার চেয়ার ব্যবহারকারী প্রতিবন্ধীগণের ক্রীড়াসূলভ মনোভাব জাগ্রতকরণে নতুন ধরনের খেলার প্রচলন ঘটানো হয়েছে যা পাওয়ার চেয়ার ফুটবল বা পাওয়ার সকার নামে পরিচিত। পাওয়ার চেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্যে এটিই একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক দলীয় ক্রীড়া। ফ্রান্সের প্যারিসে ফিপফা নামীয় ক্রীড়া সংস্থাটি এ প্রতিযোগিতার প্রধান নিয়ন্ত্রক।[৩]

গ্যালারিসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Oxford English Dictionary, (2nd Ed.), 1989, Vol. XX., p. 203.
  2. Metro Making Room for Bikes on Their Trains
  3. FIPFA Official Website

বহিঃসংযোগসম্পাদনা


টেমপ্লেট:Human-powered vehicles টেমপ্লেট:Disability navbox