প্রধান মেনু খুলুন

লরেন বাকল (ইংরেজি: Lauren Bacall; জন্ম: বেটি জোন পার্স্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯২৪ - ১২ আগস্ট ২০১৪)[১] ছিলেন একজন মার্কিন অভিনেত্রী। তিনি তার ভিন্নধর্মী কণ্ঠ ও অস্বস্তিদায়ক চাহনীর জন্য পরিচিত। ১৯৯৯ সালে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট তাদের ধ্রুপদী হলিউড চলচ্চিত্রের সেরা নারী তারকা তালিকায় তাকে ২০তম স্থান প্রদান করে এবং "চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে তার কেন্দ্রীয় অবস্থানের স্বীকৃতি" হিসেবে ২০০৯ সালে একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস তাকে সম্মানসূচক অস্কার প্রদান করে।[২]

লরেন বাকল
Lauren Bacall 1945 (cropped).jpg
১৯৪৫ সালের মার্চে বাকল
স্থানীয় নাম
Lauren Bacall
জন্ম
বেটি জোন পার্স্ক

(১৯২৪-০৯-১৬)১৬ সেপ্টেম্বর ১৯২৪
মৃত্যু১২ আগস্ট ২০১৪(2014-08-12) (বয়স ৮৯)
নিউ ইয়র্ক সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সমাধিফরেস্ট লন মেমোরিয়াল পার্ক, গ্লেনডেল, ক্যালিফোর্নিয়া
জাতীয়তামার্কিন
জাতিসত্তারুশ, রোমানীয়
পেশাঅভিনেত্রী, মডেল
কার্যকাল১৯৪২-২০০৪
দাম্পত্য সঙ্গীহামফ্রি বোগার্ট (বি. ১৯৪৫; মৃ. ১৯৫৭)
জেসন রবার্ডস (বি. ১৯৬১; বিচ্ছেদ. ১৯৬৯)
সন্তান৩ (স্যাম রবার্ডস সহ)
স্বাক্ষর
LaurenBacall.png

বাকল মডেল হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৪ সালে টু হ্যাভ অ্যান্ড হ্যাভ নট-এ প্রধান নারী চরিত্রের মধ্য দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। তিনি নোয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন এবং হামফ্রি বোগার্টের বিপরীতে দ্য বিগ স্লিপ (১৯৪৬), ডার্ক প্যাসেজ (১৯৪৭), ও কি লার্গো (১৯৪৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি মেরিলিন মনরোবেটি গ্রেবলের সাথে প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক হাউ টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার (১৯৫৩) এবং গ্রেগরি পেকের সাথে ডিজাইনিং ওম্যান (১৯৫৭) চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন। তিনি জন ওয়েনের সর্বশেষ চলচ্চিত্র দ্য শুটিস্ট (১৯৭৬) চলচ্চিত্রে ওয়েনের ব্যক্তিগত অনুরোধে কাজ করেন। বাকল ব্রডওয়ে মঞ্চে সঙ্গীতনাট্যে অভিনয় করেন এবং অ্যাপ্লজ (১৯৭০) ও ওম্যান অব দ্য ইয়ার (১৯৮১) নাটকে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে টনি পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি দ্য মিরর হ্যাজ টু ফেসেস (১৯৯৬) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেন এবং একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

বাকল ১৯২৪ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের দ্য ব্রন্‌ক্সে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মনাম বেটি জোন পার্স্ক।[৩][৪] তার পিতা উইলিয়াম পার্স্ক (১৮৮৯-১৯৮২) ছিলেন একজন বিক্রয়কর্মী এবং তার মাতা নাটালি (জন্মনাম: ওয়েনস্টেইন; ১৯০১-১৯৭৭) ছিলেন একজন অফিস সহকারী। তার মাতা পরবর্তীকালে আইনগতভাবে তার নাম পরিবর্তন করে বাকল রাখেন।[৫] লরেন তার পিতামাতার একমাত্র সন্তান। তার পিতামাতা দুজনেই ইহুদি ছিলেন। বাকলে ভাষ্যমতে তার মাতা রোমানিয়া রাজ্যের ইয়াসি থেকে এলিস আইল্যান্ডে হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। অন্যদিকে, তার পিতা নিউ জার্সিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতামাতা তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্যের বর্তমান বেলারুশের ভালোঝিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[৬]

প্রারম্ভিক কর্মজীবন ও মডেলিংসম্পাদনা

১৯৪১ সালে বাকল সেন্ট জেমস থিয়েটারে দ্বারপাল হিসেবে কাজ করতেন এবং ফ্যাশন মডেল হিসেবে আবির্ভূত হন।[৩] এই সময়ে এসবের পাশাপাশিত তিনি নিউ ইয়র্কের আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টস থেকে অভিনয়ের পাঠ গ্রহণ করেন, সেখানে তার সহপাঠী ছিলেন অভিনেতা ও পরিচালক কার্ক ডগলাস[৭]

ব্রডওয়ে মঞ্চে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৪২ সালে ১৭ বছর বয়সে জনি টু ইন্টু ফোর নাটক দিয়ে। এই সময়ে তিনি তার মায়ের সাথে ৭৫ ব্যাংক স্ট্রিটে বসবাস করতেন এবং ১৯৪২ সালে তিনি মিস গ্রিনউইচের মুকুট অর্জন করেন।[৮]

কৈশোরে ফ্যাশন মডেল হিসেবে তাকে হারপার্স বাজার-এর প্রচ্ছদে এবং ভোগ-সহ একাধিক সাময়িকীর প্রচ্ছদে দেখা যায়।[৯] তিনি তার বিড়াল-আকৃতির দেহসৌষ্ঠব, ব্লন্ডি চুল এবং নীলাভ-সবুজ চোখের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।[১০]

হারপার্স বাজার-এর প্রচ্ছদ হলিউডের প্রযোজক ও পরিচালক হাওয়ার্ড হক্‌সের স্ত্রী স্লিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।[১১] স্লিম হক্‌সকে টু হ্যাভ অ্যান্ড টু হ্যাভ নট চলচ্চিত্রের জন্য বাকলের স্ক্রিন টেস্ট নেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করেন। হক্‌স তার সহকারীকে বাকল সম্পর্কে আরও তথ্য খুঁজতে বলেন, কিন্তু তার সহকারী বুঝতে ভুল করেন এবং বাকলকে অডিশন দিতে হলিউডে আসার একটি টিকেট পাঠান।[১২]

হলিউডসম্পাদনা

১৯৪৪ সালে টু হ্যাভ অ্যান্ড টু হ্যাভ নট চলচ্চিত্রের স্ক্রিন টেস্ট দেওয়ার সময় বাকল এতই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে তার শারীরিক কম্পন কমাতে তিনি তার থুতনিকে বুকের দিকে চেপে ধরে ক্যামেরার দিকে তাকান এবং তার চোখ উপরের দিকে রাখেন।[১৩] এটি "দ্য লুক" নামে পরিচিতি লাভ করে এবং তার উগ্র কণ্ঠের সাথে তার ট্রেডমার্ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।[১৪]

এই চলচ্চিত্রে বাকলের চরিত্রটি স্লিমের ডাকনাম স্লিম এবং বোগার্টের চরিত্রটি হাওয়ার্ড হক্‌সের ডাকনাম স্টিভ ব্যবহার করে। বাকলের মতে, সেটে তাদের দুজনের মধ্যে খুব দ্রুতই রসায়ন গড়ে ওঠে।[৬] তিনি ও বোগার্ট শুটিংকালে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত হন, বোগার্ট সে সময়ে মায়ো মেথটের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।[১১]

তিনি নোয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন এবং হামফ্রি বোগার্টের বিপরীতে দ্য বিগ স্লিপ (১৯৪৬), ডার্ক প্যাসেজ (১৯৪৭), ও কি লার্গো (১৯৪৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি মেরিলিন মনরোবেটি গ্রেবলের সাথে প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক হাউ টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার (১৯৫৩) এবং গ্রেগরি পেকের সাথে ডিজাইনিং ওম্যান (১৯৫৭) চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন। তিনি জন ওয়েনের সর্বশেষ চলচ্চিত্র দ্য শুটিস্ট (১৯৭৬) চলচ্চিত্রে ওয়েনের ব্যক্তিগত অনুরোধে কাজ করেন। বাকল ব্রডওয়ে মঞ্চে সঙ্গীতনাট্যে অভিনয় করেন এবং অ্যাপ্লজ (১৯৭০) ও ওম্যান অব দ্য ইয়ার (১৯৮১) নাটকে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে টনি পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি দ্য মিরর হ্যাজ টু ফেসেস (১৯৯৬) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেন এবং একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

গ্রন্থতালিকাসম্পাদনা

  • লরেন বাকল বাই মাইসেলফ (১৯৭৮)
  • নাউ (১৯৯৪)
  • বাই মাইসেলফ অ্যান্ড দেন সাম (২০০৫)

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ফোর্ড, ডানা (১২ আগস্ট ২০১৪)। "Famed actress Lauren Bacall dies at 89" (ইংরেজি ভাষায়)। সিএনএন। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৮ 
  2. "82nd Academy Awards Memorable Moments" (ইংরেজি ভাষায়)। অস্কার। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৮ 
  3. "Lauren Bacall Fast Facts" (ইংরেজি ভাষায়)। সিএনএন। ২৪ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৮ 
  4. টাইর্নায়ার, ম্যাট (১০ মার্চ ২০১১)। "To Have and Have Not"ভ্যানিটি ফেয়ার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৮ 
  5. "Lauren Bacall Biography (1924-)"ফিল্ম রেফারেন্স (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৮ 
  6. বাকল, লরেন (২০০৫)। By Myself and Then Some। নিউ ইয়র্ক: হারপার কলিন্স। আইএসবিএন 0-06-075535-0 
  7. টমাস, টনি (১৯৯১)। The Films of Kirk Douglas। নিউ ইয়র্ক: সিটাডেল প্রেস। পৃষ্ঠা ১৮। আইএসবিএন 978-0806512174 
  8. "Lauren Bacall Biography & Filmography"। ম্যাটিনি ক্লাসিকস। ২০১০। ২০১৪-০৭-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; উইকওয়্যার-১৯৪৫ নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. "Lauren Bacall"। লাইফ২৪ (৩): ৪৩। জানুয়ারি ১৯, ১৯৪৮। 
  11. টমসন, ডেভিড (সেপ্টেম্বর ১১, ২০০৪)। "Lauren Bacall: The souring of a Hollywood legend"দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  12. বগদানোভিচ, পিটার (মার্চ ১১, ১৯৯৭)। Who the Devil Made It। নফ। পৃষ্ঠা ৩২৭। আইএসবিএন 978-0679447061। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  13. কোপ, রেবেকা (আগস্ট ১৩, ২০১৪)। "Lauren Bacall's Life in Pictures"হারপার্স বাজার। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  14. "Lauren Bacall Biography"বায়োগ্রাফি। এঅ্যান্ডই টেলিভিশন নেটওয়ার্ক। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা