রল্ফ গ্র্যান্ট

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার
(রল্ফ গ্রান্ট থেকে পুনর্নির্দেশিত)

রল্ফ স্টুয়ার্ট গ্র্যান্ট (ইংরেজি: Rolph Grant; জন্ম: ১৫ ডিসেম্বর, ১৯০৯ - মৃত্যু: ১৮ অক্টোবর, ১৯৭৭) ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১][২][৩] এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

রল্ফ গ্র্যান্ট
রল্ফ গ্র্যান্ট.png
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরল্ফ স্টুয়ার্ট গ্র্যান্ট
জন্ম(১৯০৯-১২-১৫)১৫ ডিসেম্বর ১৯০৯
পোর্ট অব স্পেন, ত্রিনিদাদ
মৃত্যু১৮ অক্টোবর ১৯৭৭(1977-10-18) (বয়স ৬৭)
ওকভিল, ওন্টারিও, কানাডা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান, অধিনায়ক
সম্পর্কফ্রেডরিক গ্র্যান্ট (ভ্রাতা) ও জ্যাকি গ্র্যান্ট (ভ্রাতা),
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৯)
৮ জানুয়ারি ১৯৩৫ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৯ আগস্ট ১৯৩৯ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৮
রানের সংখ্যা ২২০ ১৮৮৩
ব্যাটিং গড় ২২.০০ ২৮.৫৩
১০০/৫০ ০/১ ১/১০
সর্বোচ্চ রান ৭৭ ১৫২
বল করেছে ৩৫৩ ১৯৮৯
উইকেট ১১ ৭৯
বোলিং গড় ৩২.০৯ ২৫.১৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৬৮ ৪/৪১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৩/০ ৬৬/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ভূমিকা পালন করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন রল্ফ গ্র্যান্ট

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে রল্ফকে খেলাধূলায় অনিয়মিতভাবে খেলায় অংশ নিতে দেখা যেতো। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্লু লাভ করেন। তবে, স্বভাবজাত ক্রীড়াবিদ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে শৌখিন ফুটবলার হিসেবে খেলতেন ও দেশের পক্ষে হেভিওয়েট বক্সিংয়ে শিরোপাধারী ছিলেন।

১৯৩৩ সালে মূলতঃ দূর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের কারণে দলে ঠাঁই হয় তার। নিচেরসারিতে ব্যাট হাতে দক্ষতা দেখিয়েছেন। অক্সফোর্ডের প্রথম শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের তিনজনকে আউট করেন ৪৪ রানে। অত্যন্ত বিপজ্জ্বনক খেলোয়াড় এফ. জি. এইচ. চককে শর্ট লেগ অঞ্চলে দর্শনীয়ভাবে ক্যাচ তালুবন্দী করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রত্যাবর্তন করে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে এমসিসি দলের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। ১৯ আগস্ট, ১৯৩৫ তারিখে টেস্ট অভিষেক ঘটে রল্ফ গ্র্যান্টের। চতুর্থ টেস্টে নিজস্ব সর্বোচ্চ ৭৭ রান তুলেন।

১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক মনোনীত হন। সহোদর জ্যাকি গ্র্যান্টের কাছ থেকে অধিনায়ক হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন। মধ্য-জুনে ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে জে. বি. স্টলমেয়ারের ছন্দ হারানোয় বেশ সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। সফরের শেষ দিনগুলো পর্যন্ত তার এ সফলতা অব্যাহত ছিল। মৌসুমে নিজস্ব সর্বোচ্চ ৯৫ রান তুলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে নিজের সেরা ইনিংস খেলেন। ইংরেজ দল ১৬৪/৭ ডিক্লেয়ার করলে আটত্রিশ মিনিটে ৫৬ রানের মধ্যে একাই করে ৪৭। তন্মধ্যে গডার্ডের বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। আউট হবার পর দর্শকেরা তার প্রশংসা করে। ঐ দিনের শুরুতে তিনি হাটনজো হার্ডস্টাফকে ষোল রানে বিদায় করেন। অভিজ্ঞতার স্বল্প কারণ স্বত্ত্বেও প্রশংসনীয় নেতৃত্বের গুণাবলী তার মধ্যে বহমান ছিল।

পরবর্তীকালে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা রল্ফ গ্র্যান্টকে অধিনায়ক হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। দল নির্বাচকমণ্ডলী শ্বেতাঙ্গ অধিনায়ককে চাচ্ছিলেন যদিও রল্ফের এ যোগ্যতা ছিল।[৪]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

রল্ফ ও জ্যাকি গ্র্যান্টের আরও দুই ভাই ছিল। তবে তারা তাদের মতো টেস্ট ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাননি। ১৮ অক্টোবর, ১৯৭৭ তারিখে ৬৭ বছর বয়সে কানাডার ওকভিল এলাকায় তার দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. List of West Indies Test Cricketers
  2. "West Indies – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৬ 
  3. "West Indies – Test Bowling Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৬ 
  4. "The forgotten story of ... white West Indian cricketers"Talking Sport। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৩ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

পূর্বসূরী
জ্যাকি গ্র্যান্ট
ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৩৯
উত্তরসূরী
জর্জ হ্যাডলি