মহিলা সৈন্য শাখা

মহিলা সৈন্য শাখা (English: Women's Army Corps বা সংক্ষেপে WAC) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নারীদের সেনা শাখা ছিলো। এই শাখাটি যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একটি সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিলো ১৯৪২ সালের মে মাসের ১৫ তারিখে; ১৯৪৩ সালের ১ জুলাই এই শাখাটি মার্কিন সেনাবাহিনীর নিয়মিত সৈন্যদলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ১৯৭৮ সালে এই সেনাদলটি ভেঙে দেওয়া হয় এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী কর্মরত নারী সৈন্যরা পুরুষদের সেনা ইউনিটগুলোতে মিশ্রিত হয়ে যান।

মহিলা সৈন্য শাখা
WomensArmyCorpBC.gif
প্যালাস এথেন (প্রাচীন গ্রীক পৌরাণিক দেবী), মহিলা সৈন্য শাখার চিহ্ন
সক্রিয়১৯৪২-১৯৭৮
দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
শাখা মার্কিন সেনাবাহিনী
ধরননারী সেনাদল
ভূমিকাসেনাবাহিনীর সহায়ক ভূমিকা পালন
হোম স্টেশনফোর্ট ম্যাকক্লেলান, আলাবামা
শাখা রঙপুরোনো স্বর্ণালি
যুদ্ধসমূহদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
কোরীয় যুদ্ধ
ভিয়েতনাম যুদ্ধ
১৯৪৩ সালে একজন নারী বিমানসেনার অঙ্কিত চিত্র

ইতিহাসসম্পাদনা

 
মহিলা সেনাদলের চিহ্নসমূহ

মহিলাদের জন্য সেনাদল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল গিলমান সি. মাজেট, যদিও তিনি অনেক আগে থেকে চেষ্টা করে আসছিলেন কিন্তু তার চেষ্টা বারবার বিফলে যাচ্ছিলো; তিনি ১১,০০০ সৈন্যর একটি নারীদল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন।[১] প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই নারীদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে চাচ্ছিলোনা; একজন নারী সংসদ সদস্য যার নাম ছিলো এডিথ নোউর্স রজার্স তিনি নারীদের সৈন্যদল গঠনের জোরালো প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন ১৯৪১ সালের ২৮ মে তারিখে; সংসদে তিনি খুব দৃঢ় কণ্ঠে নারীদের নিয়োগ প্রদানের ব্যাপারে কথা বলেছিলেন যে, নারীদেরকেও সেনাবাহিনীতে নিতে হবে। মহিলা সাংসদের কথা কেউ কর্ণপাত করেননি এবং ইতোমধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিয়ে ফেলেছিলো। মার্কিন সংসদ ১৯৪১ সালের ১৪ মে একটি আইন পাশ করে যে নারীদেরকে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হবে এবং এটা কার্যকর হয় ঠিক এক বছর পরে অর্থাৎ ১৯৪২ সালের ১৪ মে।[২] মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের কানে যায় কথাগুলো এবং তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেবার কথা ভাবেন, তিনি নারীদেরকে নিয়োগ প্রদানের অনুমতি দেন, এবং বলেন ২৫,০০০ নারীকে মার্কিন সেনাবাহিনীতে ঢোকাতে, যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেনরি এল. স্টিমসন ৫০,০০০ নারী সৈন্য নিয়োগ দেবার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি কাছে।[৩]

তৎকালীন মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল জর্জ মার্শাল নারীদেরকে কিভাবে নিয়োগ দেয়া হবে এই দিকে মনোনিবেশ করেন, প্রাথমিকভাবে নারীদেরকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মতো করে নিয়োগ দেবার কথা ভাবা হয়; ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নারীরা সৈনিক হিসেবে কাজ করেছিলো।[৪] মহিলা সৈন্যরা প্রাথমিক ভাবে সেবিকা (নার্স) হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছিলেন।[৫] ১৯৪২ সালে ৮০০ নারী রিক্রুটের একটি দল মেডিক্যাল সহকারী সৈনিকের প্রশিক্ষণ শেষ করে, এটা ছিলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম সাধারণ নারী সৈনিকদের দল। তাদেরকে সামরিক পোশাক দেওয়া হয় (সামরিক ঘাঘরা সহ) এবং যুদ্ধে কিভাবে আহত পুরুষ সৈন্যদের চিকিৎসা করতে হবে সেগুলো শেখানো হয়।[৬]

তিনটি বিশেষ কাজে মহিলা সৈন্যদের প্রশিক্ষণ খুব দ্রুত শুরু হয়। মেডিক্যাল সহকারী, ক্লার্ক (করণিক) এবং গাড়ি মেকানিক - এই তিনটি পেশায় নারীদেরকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছিলো। ধীরে ধীরে নারীদেরকে বিমান মেরামত (সেনা বিমান শাখায় সৈনিক হিসেবে নিয়োগ), সাঁজোয়া যান মেরামতের কাজেও নেওয়া শুরু হয় এবং নারীরা কর্মকর্তাদের গাড়ি এবং পুরুষ সৈন্য বহনকারী ট্রাক চালানোর প্রশিক্ষণও লাভ করা শুরু করেন; তারপর নারীদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয় ব্যাটেলিয়নের পাচকের দায়িত্ব পালন হিসেবে এবং সিগনাল শাখার সিগন্যালওম্যান হিসেবে।

সেনাবাহিনীর চাকরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকতো যে, "আপনারই চাকরিঃ পুরুষদের মতো আপনিও সৈনিক হউন"।[৭] তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিলো, মার্কিন সেনাবাহিনীতে নারী নিয়োগ ছিলো এই প্রথম; চাকরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকতো সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। শারীরিক প্রশিক্ষণ পুরুষদের মতোই হচ্ছিলো যদিও পুরোপুরি নয়। সামরিক বাহিনীর নিজস্ব রীতিতে নারীদের পোশাক-আশাক, খাবার সহ সব কিছু তৈরি করা হয়; মাথার চুল কাটার নিয়মও মার্কিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব রীতি অনুযায়ী তৈরি করা হয়।[৭]

সেনাবাহিনী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখে অনেক নারীই আবেদন করা শুরু করেন। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নারীদেরকে পদাতিক বাহিনীতে নিতে অপারগ ছিলেন, তারা গোলন্দাজ শাখাতেও নিতে চাচ্ছিলেন না, শুধু সাঁজোয়া শাখাতে নারীরা যন্ত্র মেরামতকারী হিসেবে নিয়োগ পেতেন আর সেনা বিমান শাখাতেও নারীদেরকে বিমানের যন্ত্রাংশ ঠিক করার কাজে নেওয়া হতো।[৩] নারীরা এসব কাজ ছাড়াও সামরিক পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব, সৈন্যদের খাবার এবং গোলাবারুদ সরবরাহের দায়িত্ব পেতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০,০০০ নারী সৈনিক হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন যদিও এদের সবাই নিয়মিত সৈনিক ছিলেননা।[৮] মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এইসব নারীরাই ছিলেন প্রথম যারা যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।[৯] সেনাবাহিনীর উচ্চ মহলে রক্ষণশীল কর্মকর্তা ছিলেন, তারা নিয়োগের বিরোধিতা করেই যাচ্ছিলেন, তবে মার্কিন সংসদ আর রাষ্ট্রপতির নির্দেশ তারা অমান্য করতে পারছিলেননা; ধীরে ধীরে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাধারণ স্তরের পুরুষ সৈন্যরা নারীদেরকে তাদের সহ-যোদ্ধা বন্ধু হিসেবে মেনে নিচ্ছিলো।

 
সেনা বিমান শাখার সাংকেতিক যোগাযোগ বিভাগে নারী সৈনিকদের কর্মব্যস্ততা

নারী সৈন্য নিয়োগ বিরোধী প্রচারণাসম্পাদনা

 
নারী সৈন্য নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি

১৯৪৩ সালে একটি অভিযোগ ওঠে যে নারীদেরকে সেনাবাহিনীতে সৈন্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা উচিৎ নয়; এটা অনৈতিক একটা কাজ।[১০] বহু পুরুষ সৈন্য নারীদেরকে সৈন্য হিসেবে নেবার বিরোধিতা করতেন কারণ তারা বিশ্বাস করতেন যে, নারীরা সৈনিক হিসেবে মানানসই নয়, তাছাড়া বহু পুরুষ সৈন্য তাদের সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে এবং নারীরা নারীদের সঙ্গে একই সেনাছাউনীতে থেকে সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে - এইগুলো সেনাবাহিনীর জন্য খুবই অপমানজনক এবং শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্ম যা যুদ্ধে পরাজয় ডেকে আনতে পারে।[১১] এছাড়া একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, সাধারণ মার্কিন নারী সৈন্যরা সেনাবাহিনীতে যৌন সেবিকা হিসেবে যোগ দিচ্ছেন যে নারী সৈনিকরা আসলে নাকি সত্যিকারের সৈনিক নন তারা পুরুষ সৈনিকদের প্রমোদবালা হিসেবে সেনাবাহিনীতে নাকি ঢুকছে।[১২] গুজব গুলো মিথ্যে বলে উড়িয়ে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি দৈনিক সংবাদ পত্রগুলোতে প্রকাশিত হচ্ছিলো এবং সাধারণ মানুষদেরকে কোনো গুজবে কান না দেবার আহ্বান জানানো হয়েছিলো।[১৩][১৪]

অনেক অসৎ সাংবাদিক ছিলেন যারা নারী সৈন্য নিয়োগের নামে দৈনিক সংবাদপত্রে কুৎসা রটাচ্ছিলেন,[১৫][১৬][১৭] এবং নারী সৈনিক নিয়োগ বন্ধ করার জন্য সংবাদপত্রে কুযুক্তিমূলক কথা লিখছিলেন,[১৮][১৯] জন ও. ডনেল নামের একজন কলাম লেখক ছিলেন যিনি প্রায় প্রতিনিয়ত নারী সৈন্যদের নামে কুৎসা প্রচার করতেন পত্রিকায়। সেনাবাহিনীর একটি ইতিহাস থেকে জানা যায়,[২০] ১৯৪৩ সালের ৮ জুন তারিখে ডনেল একটি কলাম লেখেন যার নাম ছিলো "নারীদের অপূরণীয় ক্ষতি"।[২১] কলামটির লেখা শুরুই হয়েছিলো এইভাবে যে, নারীরা পুরুষ সৈনিকদের সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় জড়াবেন আর তাদের জন্য সেনাবাহিনী থেকেই নাকি গর্ভনিরোধক বড়ি দেওয়া হবে।[২২] ডনেল নারী সৈন্যদেরকে সমকামী বলেও অপমান করেছিলেন; মার্কিন সমাজে সমকামীদেরকে তখনো ভালো চোখে দেখা হতোনা।[২৩]

নারী সৈন্যদের বিরুদ্ধে চালিত কথাগুলোর প্রত্যেকটার জবাব দিচ্ছিলো সেনাবাহিনী সদর দপ্তর,[১৭][২৪][২৫] যদিও অনেকেই সংবাদপত্রের মিথ্যে কথায় কান দিচ্ছিলেন। নারী সৈন্যদের নিয়ে কথাবার্তা সাধারণ মানুষদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলো।[২৬] ডনেল[১৯] এবং অন্যান্য অসৎ সাংবাদিকদের বানানো কথাগুলো অনেক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিলো তৎকালীন মার্কিন সমাজে।[২৭]

নারীদের গায়ের রঙসম্পাদনা

কৃষ্ণ বর্ণের নারীদেরকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হতোনা এবং হলেও সেটা অনেক কম ছিলো আর মার্কিন নৌবাহিনীতে কৃষ্ণ নারীরা যোগদানের সুযোগই পেতেননা।[২৮] কৃষ্ণ বর্ণের নারী সেনারা অনেক বৈষম্যের শিকার হতেন, তাদের পদোন্নতি কম দেওয়া হতো; শ্বেতাঙ্গ নারীরা কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতেননা।[২৯] শুরুতে কৃষ্ণ বর্ণীদের এতোই বৈষম্য করা হতো যে তাদেরকে শ্বেতাঙ্গ নারীদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে দেওয়া হতোনা। মার্কিন সেনা কর্তৃপক্ষ ১০ শতাংশ কৃষ্ণ নারী নিতে চাইলেও পরে তা কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশে নিয়ে আসে।[৩০]

গুণগৌরবসম্পাদনা

 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নারী সেনা করণিকেরা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীতে ডগলাস ম্যাকআর্থার নামের একজন জেনারেল ছিলেন, তিনি নারী সৈন্যদের অনেক প্রশংসা করতেন, তিনি বলতেন, আমাদের নারী সেনারা অনেক মন দিয়ে কাজ করে।[৩১] অনেক সেনাপতিই আরো নারী সৈন্য নিয়োগের ব্যাপারে ব্যাকুল ছিলেন, তারা চাচ্ছিলেন মার্কিন সমাজে নারীদের সত্যিকারের ক্ষমতায়ন আসুক।[৩২] জেনারেল এবং পরে রাষ্ট্রপতি ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার যুদ্ধে নারীদের অবদানের অনেক প্রশংসা করেছিলেন।[৩৩]

একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নৌ শাখা অর্থাৎ মার্কিন নৌবাহিনীতেও যুদ্ধ জাহাজে নারী নাবিক ওঠানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিলো, নৌবাহিনীর নারীদেরকে ওয়েভস বলা হতো; যুক্তরাষ্ট্র মেরিন কোর-এ নারীদের কম নেওয়া হয়েছিলো যদিও। মার্কিন সমাজ নাকি তখন নারীদেরকে সৈন্য হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলোনা এমনটাই দাবি করেন মার্কিন ইতিহাসবেত্তা ডি'এন ক্যাম্পবেলঃ

নারীরা সেনা এবং নৌবাহিনীতে খুব ভালো দক্ষতা দেখিয়েছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধতে; নারীরা মার্কিন সমাজে দূর্বল জাতি হিসেবে বিবেচিত হতো এবং নারীরা যে সৈনিক হতে পারে এটা সমাজ বিশ্বাস করতো না; কিন্তু যুদ্ধে নারীদের অবদান তাদের চেহারা বদলে দিয়েছিলো। মার্কিন সমাজে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নারীদের অবদানের প্রভাব অনেক তৈরি হয়েছে। সমাজ নারীদেরকে শুরুতে সৈন্য হিসেবে মানতে পারতোনা কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ঢুকে নারীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলো যে সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো সম্ভব।[৩৪]

ম্যানহাটন প্রকল্পসম্পাদনা

১৯৪৩ সালের শুরুর দিকে নারী সৈন্যদেরকে সেনা প্রকৌশল শাখায় নেওয়া হয়। মাত্র ৪২২ জন নারী শুরুতে সেনা হিসেবে এই শাখাতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। মেজর জেনারেল লেসলি আর. গ্রোভস ছিলেন একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশল সেনাপতি; তিনি নারীদের দক্ষতাপূর্ণ অবদানের কথা বলেছিলেন এভাবে যে, নারীরা সৈন্যরা পুরুষ সৈন্যদের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিলোনা।

নারীদেরকে কর্মকর্তা পদবীতেও খুবই দ্রুত নেওয়া শুরু হয়; নারীদেরকে পুরুষ কর্মকর্তাদের মতো সামরিক একাডেমীতে না হলেও অফিসার ক্যান্ডিডেট স্কুলে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হতো।

নারী সেনারা অনেক সামরিক পদক অর্জন করেছিলো তাদের যুদ্ধে অবদানের জন্য;[৩৫] মহিলা সৈন্যরা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেও বিশেষ সম্মাননা পেয়েছিলো।

নারীদের সেনাদল ভেঙে দেওয়া হলোসম্পাদনা

১৯৭৮ সালে মহিলা সৈন্য শাখা ভেঙে দিয়ে কর্মরত নারী সেনা সদস্যদেরকে পুরুষদের ইউনিটগুলোতে একীভূত করে দেওয়া হয়। প্রত্যেক নারীরা ঘাঘরার পরিবর্তে পুরুষদের মতো প্যান্ট-শার্ট পরার নির্দেশ পাচ্ছিলেন তখন থেকে। তখন থেকে নারীরা পুরুষদের সঙ্গে একই সেনা ব্যারাকে থাকার নির্দেশ সহ পুরুষদের সঙ্গে সামরিক ড্রিল করার নির্দেশ পাচ্ছিলেন যেটা আগে ছিলোনা এবং পুরুষদের সঙ্গে একই ব্যারাকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করা দেওয়া হয়, নারী সেনাদের পদবি হুবহু পুরুষদের মতো করে দেওয়া হয়; লেস এসপিন ছিলেন তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং তিনি এসব নির্দেশ দিয়েছিলেন যে নারী সেনাদের সঙ্গে পুরুষ সেনাদের যেনো কোনো ধরনের বৈষম্য না করা হয়, যদিও নারীদের ঘাঘরা অফিস-পোশাক হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছিলো। ২০০৫ সালে জ্যা পেইস নামের একজন নারী ওয়ারেন্ট অফিসার পদবিতে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রথম নারী সৈন্য যিনি সবচেয়ে বেশি পদক পেয়েছিলেন।[৩৬][৩৭][৩৮] ১৯৭২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে সাধারণ সৈনিক (প্রাইভেট সোলজার) পদবিতে সেনা বাদক দলের একজন সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।[৩৭]

মহিলা সৈন্যদলের পদবি সমূহসম্পাদনা

 
১৯৪৪ সালের একটি ছবিতে দুইজন মহিলা সেনা ফিল্ড সুইচবোর্ড অপারেটরদের দেখা যাচ্ছে যারা সেনা সিগনাল শাখার হয়ে কাজ করছিলেন

মহিলা সৈন্যদের পদবি ছিলো চারটি (অক্সিলিয়ারি, জুনিয়র লিডার, লিডার, এবং সিনিয়র লিডার) এবং অফিসার পদবি ছিলো তিনটি (ফার্স্ট, সেকেন্ড অ্যান্ড থার্ড অফিসার)। পরিচালককে মেজরের সমান ধরা হতো; পরে কর্নেল পদবির সমান সম্মান দেওয়া হয়েছিলো। নারী সৈনিক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিলো কারণ যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তাই তাদেরকে ডেকে আনছিলো। খুব দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছিলো যুদ্ধের সময়ে।

মহিলা সৈন্য শাখা সংস্থাটির অন্যতম একটি চিহ্ন ছিলো ঈগল পাখির। এই চিহ্নটা মাথার টুপির ব্যাজে পরতো নারী সেনারা, এছাড়াও তাদের শার্টের বোতামেও এটা থাকতো ছোটো করে। নারী সৈন্য আর অফিসারদের পোশাকের মধ্যে খুব বেশি একটা পার্থক্য ছিলোনা। নিয়মিত সৈন্য হিসেবে নারীরা পুরুষদের মতোই স্যালুটিং শিখতেন।

মহিলা সৈন্যদলের পদবি (মে, ১৯৪২ – এপ্রিল, ১৯৪৩)
সাধারণ সৈন্য মার্কিন সেনাবাহিনী
সম-সম্মান
মহিলা সৈন্য কর্মকর্তা মার্কিন সেনাবাহিনী
সম-সম্মান
সিনিয়র লিডার মাস্টার সার্জেন্ট মহিলা সৈন্য পরিচালক মেজর
সিনিয়র লিডার ফার্স্ট সার্জেন্ট ফার্স্ট অফিসার ক্যাপ্টেন
লিডার টেকনিক্যাল সার্জেন্ট সেকেন্ড অফিসার ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট
লিডার স্টাফ সার্জেন্ট থার্ড অফিসার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
লিডার সার্জেন্ট
জুনিয়র লিডার কর্পোর‍্যাল
অক্সিলিয়ারি ফার্স্ট ক্লাস প্রাইভেট ফার্স্ট ক্লাস
অক্সিলিয়ারি সেকেন্ড ক্লাস প্রাইভেট
অক্সিলিয়ারি থার্ড ক্লাস রিক্রুট
মহিলা সৈন্য শাখা পদবি (এপ্রিল, ১৯৪৩ – জুলাই, ১৯৪৩)
সাধারণ সেনা মার্কিন সেনাবাহিনী
সম - সম্মান
মহিলা সৈন্য কর্মকর্তা মার্কিন সেনাবাহিনী
সম-সম্মান
চীফ লিডার মাস্টার সার্জেন্ট মহিলা সৈন্য পরিচালক কর্নেল
ফার্স্ট লিডার ফার্স্ট সার্জেন্ট সহকারী মহিলা সৈন্য পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল
কারিগরী লিডার কারিগরী সার্জেন্ট যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালক মেজর
স্টাফ লিডার স্টাফ সার্জেন্ট ফার্স্ট অফিসার ক্যাপ্টেন
লিডার সার্জেন্ট সেকেন্ড অফিসার ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট
জুনিয়র লিডার কর্পোর‍্যাল থার্ড অফিসার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
অক্সিলিয়ারি ফার্স্ট ক্লাস প্রাইভেট ফার্স্ট ক্লাস
অক্সিলিয়ারি সেকেন্ড ক্লাস প্রাইভেট
অক্সিলিয়ারি থার্ড ক্লাস রিক্রুট

মহিলা সৈন্যদের অবস্থানসম্পাদনা

 
মহিলা সৈনিক নিয়োগ সংক্রান্ত গুজব বিরোধী প্রচারণা (১৯৪১-'৪৫)

১৯৪৩ সালের জুলাই মাসে মহিলা সৈন্য শাখা মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি পূর্ণ নিয়মিত শাখায় রূপান্তরিত হয়ে যায়।[৩৯]। মার্কিন সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত একটি ঈগল চিহ্ন মহিলা সৈন্যদের জন্য চালু হয়ে আয় খুব দ্রুত যেটা আগে ছিলো একজন প্রাচীন গ্রীক দেবীর মূর্তি।

১৯৭৮ সাল পর্যন্ত নারীরা সাঁজোয়া, গোলন্দাজ এবং পদাতিক শাখার নিয়মিত সৈন্য হতে পারতোনা, তাদেরকে আগে অনিয়মিত সৈন্য হিসেবে নেওয়া হতো।

মহিলা সৈন্যরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনাযুক্তক (নন-কমিশন্ড অফিসার) বা কমিশন্ড অফিসারের মতো সত্যিকারের সম্মান পেতোনা।

নারী সেনাদের কোনো ওয়ারেন্ট অফিসার পদবি ছিলোনা।

মহিলা সৈন্যদের পদবি (সেপ্টেম্বর ১৯৪৩ - '৪৫)
বেতন গ্রেড সাধারণ সৈন্য (নারী) মাসিক বেতন বার্ষিক বেতন মহিলা সৈন্য অফিসার মাসিক বেতন বার্ষিক বেতন
গ্রেড ১ মাস্টার সার্জেন্ট $১৩৮ $১৬৫৬ কর্নেল $৩৩৩ $৪০০০
গ্রেড ১ ফার্স্ট সার্জেন্ট $১৩৮ $১৬৫৬ লেফটেন্যান্ট কর্নেল $২৯১ $৩৫০০
গ্রেড ২ টেকনিক্যাল সার্জেন্ট $১১৪ $১৩৬৮ মেজর $২৫০ $৩০০০
গ্রেড ৩ স্টাফ সার্জেন্ট $৯৬ $১১৫২ ক্যাপ্টেন $২০০ $২৪০০
গ্রেড ৩ টেকনিশিয়ান থার্ড গ্রেড $৯৬ $১১৫২ ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট $১৬৬ $২০০০
গ্রেড ৪ সার্জেন্ট $৭৮ $৯৩৬ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট $১৫০ $১৮০০
গ্রেড ৪ টেকনিশিয়ান ৪র্থ গ্রেড $৭৮ $৯৩৬ চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার $১৭৫ $২১০০
গ্রেড ৫ কর্পোর‍্যাল $৬৬ $৭৯২ ওয়ারেন্ট অফিসার (জুনিয়র গ্রেড) $১৫০ $১৮০০
গ্রেড ৫ টেকনিশিয়ান ৫ম গ্রেড $৬৬ $৭৯২
গ্রেড ৬ প্রাইভেট ফার্স্ট ক্লাস $৫৪ $৬৪৮
গ্রেড ৭ প্রাইভেট $৫০ $৬০০

পরিচালকদের তালিকাসম্পাদনা

কর্নেল ওভেটা কাল্প হবি   (১৯৪২-'৪৫)
কর্নেল ওয়েস্টরে বেটল বয়সে   (১৯৪৫-'৪৭)
কর্নেল ম্যারি এ. হ্যালারেন   (১৯৪৭-'৫৩)
কর্নেল আইরিন ও. গ্যালাওয়ে   (১৯৫৩-'৫৭)
কর্নেল ম্যারি লুইজ রেজমুসজন   (১৯৫৭-'৬২)
কর্নেল এমিলি সি. গরম্যান   (১৯৬২-'৬৬)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলিজাবেথ পি. হোইসিংটন   (১৯৬৬-'৭১)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিলডরেড ইনেজ ক্যারুন বেলে   (১৯৭১-'৭৫)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ম্যারি ই. ক্লার্ক   (১৯৭৫-'৭৮)

মহিলা সৈন্যদলের প্রাক্তন সেনাদের সংঘসম্পাদনা

এই সংঘটি ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ছিলো; তৈরি হয়েছিলো ১৯৪৬ সালে। সংঘটির উদ্দেশ্য ছিলো অবসরপ্রাপ্ত নারী সেনাদের মনোবল বজিয়ে রাখা।[৪০]

চিত্রশালাসম্পাদনা

আরো দেখুনসম্পাদনা

টিকাসম্পাদনা

  1. Treadwell 1954, পৃ. 26–28
  2. Bellafaire 2003, পৃ. 2
  3. Bellafaire 2003, পৃ. 2
  4. Bernard A. Cook, Women and war: a historical encyclopedia from antiquity to the present (2006) Volume 1 p. 242
  5. Bellafaire 2003, পৃ. 1
  6. Treadwell 1954, ch 3–4
  7. W. A. C. Field Manual Physical Training (FM 35-20). War Department, 15 July 1943. United States Government Printing Office, Washington, D.C.
  8. Bellafaire 1972, পৃ. 2
  9. Video: American Army Women Serving On All Fronts Etc. (1944)Universal Newsreel। ১৯৪৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  10. Leisa D. Meyer (১৯৯৮)। Creating G. I. Jane: Sexuality and Power in the Women's Army Corps During World War II। Columbia University Press। পৃষ্ঠা 33–51। আইএসবিএন 9780231101455 
  11. Treadwell 1954, পৃ. 212–14
  12. Treadwell 1954
  13. Treadwell 1954, পৃ. 184
  14. Ann Pfau, Miss Yourlovin: GIs, Gender, and Domesticity during World War II (Columbia University Press, 2008), chap. 2, online
  15. Treadwell 1954, পৃ. 194–201, 206–13
  16. "Editorial: The WAACs Are All Right"News-Press। Fort Myers, Florida। ১৬ জুন ১৯৪৩। পৃষ্ঠা 4। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  17. "WAC Gossip Lie, Says Stimson"Daily News। New York। Associated Press। ১১ জুন ১৯৪৩। পৃষ্ঠা 5। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  18. Ann Pfau, Miss Yourlovin: GIs, Gender, and Domesticity during World War II (Columbia University Press, 2008), chap. 2, online "Forced to retract his allegations, O'Donnell and his publisher remained determined to discredit the corps. Soon after this incident, O'Donnell was discovered 'canvassing Army general hospitals.' He sought [to] ascertain the number of Waacs hospitalized for pregnancy and thus defend his reputation with undeniable proof of promiscuity." Footnote omitted.
  19. Treadwell 1954, পৃ. 201–03
  20. O'Donnell, John (১০ জুন ১৯৪৩)। "Capitol Stuff"Daily News। New York। পৃষ্ঠা 4। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯Colonel Oveta Culp Hobby, director of the WAACs, declared today that there is 'no foundation of truth' for the report that contraceptives and prophylactics will be furnished to the women in her organization. Col. Hobby's statement was made to refute the report which this column printed yesterday. 
  21. Bellafaire 1972
  22. O'Donnell, John (৯ জুন ১৯৪৩)। "Capitol Stuff"Daily News। New York। পৃষ্ঠা 4, 356। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  23. O'Donnell, John (৯ জুন ১৯৪৩)। "Capitol Stuff"The Times। Shreveport, Louisiana। পৃষ্ঠা 4। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  24. Pyle, Ernie (৮ জুলাই ১৯৪৩)। "Ernie Pyle About WACs: Mothers Needn't Worry—Girls Safe, Doing Big Job"The Boston Globe। পৃষ্ঠা 24। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  25. Lardner, John (৯ জুন ১৯৪৩)। "Lardner: WAACs Good Soldiers: Writer Resents Jokes That Have Been Written About Them and Refutes Slanderous Rumors—Praises Service in Africa"Indianapolis Star। পৃষ্ঠা 19। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯Lately another variety of buckshot has been aimed at the Women’s Army Auxiliary Corps which is fast becoming the clay pigeon of the armed forces. The new story is ludicrous as well as unsanitary, but a lot of otherwise level-headed typewriter flailers have taken cognizance of it, so I guess it requires a little more counter-testimony from one who has seen and known the WAACs in North Africa. 
  26. "Morals Are Good: Probe of WAACs Finds No Truth in Charges"Tipton Daily Tribune। Indiana। ৬ জুলাই ১৯৪৩। পৃষ্ঠা 3। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  27. Treadwell 1954, পৃ. 216–18
  28. Sandra Bolzenius, "Asserting Citizenship: Black Women in the Women’s Army Corps (wac)," International Journal of Military History and Historiography 39#2 (2019) : 208–231.
  29. Moore, Brenda L. (১৯৯৭)। To Serve My Country, to Serve My Race। NYU Press। পৃষ্ঠা 79। আইএসবিএন 9780814755877 
  30. Morden, Bettie J. (১৯৯২)। The Women's Army Corps, 1945–1978। পৃষ্ঠা 34। আইএসবিএন 9781105093562 
  31. Treadwell 1954, পৃ. 460
  32. Treadwell 1954, পৃ. 95–96
  33. Treadwell 1954, পৃ. 408
  34. Campbell, পৃ. 49
  35. Treadwell 1954, পৃ. 326–29
  36. "Women's Army Corps veteran values support systems – The Redstone Rocket: News"। The Redstone Rocket। ১৯৭১-০৯-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৭-২৫ 
  37. "Longest-serving female warrant to retire after 43 years"। Armytimes.com। ২০১৫-০৭-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৭-২৫ 
  38. "Trooper reflects on 43 years of selfless service – Fort Hood Herald: Across The Fort"। Kdhnews.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৭-২৫ 
  39. Public Law 78-110 (signed into law on 3 July 1943)
  40. "Women's Army Corps Veterans' Association – Army Women United"armywomen.org। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৮ 

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

প্রাথমিক উৎসসম্পাদনা

আরো পঠনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

টেমপ্লেট:USWWII