প্রধান মেনু খুলুন

মহাবাক্য (সংস্কৃত: (একবচন) महावाक्य; (বহুবচন) महावाक्यानि) হল বেদান্তের অদ্বৈত শাখা-কর্তৃক নির্ধারিত উপনিষদের চারটি প্রধান উক্তি।

চারটি প্রধান মহাবাক্যসম্পাদনা

মহাবাক্যের সংখ্যা অসংখ্য হলেও সচরাচর প্রতিটি বেদ থেকে একটি উদ্ধৃতিকে মহাবাক্য ধরা হয়।[১] বেদান্তবাদীদের মতে, সকল উপনিষদের বিষয়বস্তু ও সারমর্ম এক এবং সকল ঔপনিষদ্‌ মহাবাক্য সংক্ষেপে একই বিশ্বজনীন বার্তা প্রেরণ করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] পরবর্তীকালের সংস্কৃত ভাষায় "মহাবাক্য" শব্দটি "আলোচনা" অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে আলোচনা বলতে কোনো মহৎ বিষয়ে দার্শনিক আলোচনা বোঝায়।[web ১]

অদ্বৈত বেদান্ত প্রথা অনুসারে চারটি ঔপনিষদ্‌ মহাবাক্য ব্যক্তির আত্মা ও পরম ব্রহ্মের সর্বোচ্চ মিলনের দ্যোতক।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

মহাবাক্যগুলি হল:

  1. প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম - "প্রজ্ঞা[note ১] হল ব্রহ্ম"{{refn|group=note|"The Absolute",[২][web ২] "অনন্ত" বা "ব্রহ্ম" হলেন প্রজ্ঞা"[web ৩] (ঐতরেয় উপনিষদ্‌, ঋগ্বেদ, ৩।৩)
  2. অয়ং আত্মা ব্রহ্ম - "আমিই সেই আত্মা যা ব্রহ্ম" (মাণ্ডুক্য উপনিষদ্‌, অথর্ববেদ, ১।২)
  3. তৎ ত্বং অসি - "তুমিই সেই" (ছান্দ্যোগ্য উপনিষদ্‌, সামবেদ, ৬।৮।৭)
  4. অহং ব্রহ্মাস্মি - "আমিই ব্রহ্ম", বা "আমি দিব্য"[৫] (বৃহদারণ্যক উপনিষদ্‌, যজুর্বেদ, ১.৪.১০)

অদ্বৈত বেদান্ত প্রথা অনুসারে সন্ন্যাস দীক্ষায় দীক্ষিত ব্যক্তিরা চারটি প্রধান মহাবাক্য মন্ত্র হিসেবে শিক্ষা করেন "যাতে তাঁরা সেই সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছতে পারেন যে অবস্থায় ব্যক্তির আত্মা অবিচ্ছেদ্যভাবে ব্রহ্মে লীন হতে পারে"।[৬]

অন্যান্য মহাবাক্যসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. "Consciousness",[২][web ২]"intelligence",[৩][৪] "wisdom"[web ৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Saraswati 1995, পৃ. 4।
  2. Grimes 1996, পৃ. 234।
  3. Sivaraman 1973, পৃ. 146।
  4. Braue 1984, পৃ. 80।
  5. Baue 1984, পৃ. 80।
  6. kamakoti.org, The Upanisads

সূত্রসম্পাদনা

প্রকাশিত সূত্রসম্পাদনা

  • Braue, Donald A. (১৯৮৪), Māyā in Radhakrishnanʾs Thought: Six Meanings Other Than Illusion, Motilall Banarsidass 
  • Grimes, John A. (১৯৯৬), A Concise Dictionary of Indian Philosophy: Sanskrit Terms Defined in English, SUNY Press 
  • Loy, David (১৯৯৭), Nonduality. A Study in Comparative Philosophy, Humanity Books 
  • Raṅganāthānanda, Swami; Nelson, Elva Linnéa (১৯৯১), Human Being in Depth: A Scientific Approach to Religion, SUNY Press 
  • Sahu, Bhagirathi (২০০৪), The New Educational Philosophy, Sarup & Sons 
  • Saraswati, Chandrasekharendra (১৯৯৫), Hindu Dharma: The Universal Way of Life, Bhavan's Book University, আইএসবিএন 81-7276-055-8 
  • Sivaraman, K. (১৯৭৩), Śaivism in Philosophical Perspective: A Study of the Formative Concepts, Problems, and Methods of Śaiva Siddhānta, Motilall Banarsidass 

ওয়েব সূত্রসম্পাদনা

  1. "Sanskrit Structure"। ২৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  2. Jiddu Krishnamurti, Saanen 2nd Conversation with Swami Venkatesananda 26th July 1969
  3. Encyclopedy of Hinduism, Mahavakyas

বহিঃসংযোগসম্পাদনা