বিল লকউড

ইংরেজ ক্রিকেটার

উইলিয়াম হেনরি লকউড (ইংরেজি: Bill Lockwood; জন্ম: ২৫ মার্চ, ১৮৬৮ - মৃত্যু: ২৬ এপ্রিল, ১৯৩২) নটিংহামের র‌্যাডফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিল লকউড। প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন।

বিল লকউড
William Lockwood.jpg
উইলিয়াম লকউড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলিয়াম হেনরি লকউড
জন্ম২৫ মার্চ, ১৮৬৮
র‌্যাডফোর্ড, নটিংহাম, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৬ এপ্রিল, ১৯৩২
র‌্যাডফোর্ড, নটিংহাম, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১২ ৩৬৩
রানের সংখ্যা ২৩১ ১০,৬৭৩
ব্যাটিং গড় ১৭.৭৬ ২১.৯৬
১০০/৫০ ০/১ ১৫/৪৮
সর্বোচ্চ রান ৫২* ১৬৫
বল করেছে ১,৯৭৩ ৫২,১২১
উইকেট ৪৩ ১,৩৭৬
বোলিং গড় ২০.৫৩ ১৮.৩৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২১
ম্যাচে ১০ উইকেট ২৯
সেরা বোলিং ৭/৭১ ৯/৫৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/০ ১৪০/০
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ৫ জানুয়ারি ২০১৮

ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি পেলেও বিষ্ময়করভাবে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে টম রিচার্ডসনের সাথে জুটি গড়ে প্রায়শঃই সফলতা লাভ করেছেন। দূর্বলমানের বোলিং নির্ভর দলগুলোর বিপক্ষে ব্যাপক সফলতা পান ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দশ সহস্রাধিক রান তুলতে পেরেছেন। তবে, শক্তিশালী বোলারদের বিপক্ষে তার এ কৌশল সফলতা পায়নি।

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণসম্পাদনা

১৮৮৬ সালে নিজ কাউন্টি নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলতে নামেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ শুরুর পূর্বে ১৮৮৬ ও ১৮৮৭ সালে পাঁচ খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বিল লকউড। তবে তেমন কোন সফলতা পাননি। কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে একবার সফল হয়েছিলেন।

দলের পক্ষ থেকে আগ্রহ দেখালে আবাসকালীন যোগ্যতার অংশ হিসেবে দুই বছর অবস্থান করেন। ১৮৮৯ সালে সারে দলের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। ব্যাটিংয়ে ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ১৮৮৯ সালে ৩৮৪ ও ১৮৯০ সালে ২৪-এর অধিক গড়ে পাঁচ শতাধিক রান তুলেন। এ সময় ওভালে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো মনোজ্ঞ শতরানের ইনিংস খেলেন। তবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ ঐ খেলায় সারে দল পরাজিত হয়েছিল।

সারে দলে প্রথম দুই বছর জর্জ লোহম্যানজন শার্পের বোলিং দলে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। লকউড কার্যকরী ব্যাটসম্যান হিসেবে খুব কমই সহায়তা করতে পেরেছিলেন। শার্পের সাথে স্বল্প ভূমিকা রাখা স্বত্ত্বেও আগস্ট, ১৮৯১ সালে নিজেকে মেলে ধরেন। কেন্টের বিপক্ষে ৭/১৯ বোলিং পরিসংখ্যানের ফলে উইজডেন কর্তৃক সেরা বোলিং হিসেবে আখ্যায়িত হয়।

পরের দুই বছর ওভালের পিচের বেশ উন্নয়ন ঘটলে লকউডের জন্যেও প্রভূতঃ সফলতা নিয়ে আসে। ১৮৯২ সালে বর্ষসেরা বোলারের মর্যাদা পান ও মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫১ উইকেট পান। পরের বছর নিজেকে বোলার হিসেবে পরিচিতি ঘটান। মে মাসে লর্ড শেফিল্ড একাদশের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৯/১২৬ ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে সারের সদস্য হিসেবে ৮/৩৩ নিয়ে দলকে আশ্চর্যজনকভাবে জয় এনে দেন। ইয়র্কশায়ার ও সাসেক্সের বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নিয়ে একুশ উইকেট লাভের প্রেক্ষিতে টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ এনে দেয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

১৭ জুলাই, ১৮৯৩ সালে লর্ডসে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার। প্রথম ইনিংসে ৬/১০১ লাভ করেন।[১] এরপর দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮/১৩৩ লাভ করলেও আঘাতের কারণে চূড়ান্ত টেস্টে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজে ইংল্যান্ড জয় পায়। রিচার্ডসনের চমৎকার বোলিংশৈলীর কাছে লকউডের বোলিং বেশ ম্লান মনে হয়েছিল। ঐ মৌসুমের কোন টেস্টের ইনিংসে একাধিক উইকেট লাভে ব্যর্থ হন বিল লকউড। সর্বোচ্চ রান তুলেন মাত্র ৩৩। ১৯০২ সালে রোমাঞ্চকর শেষ দুই টেস্টে তার বোলিং বেশ উত্তাপ ছড়ায়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ১১/৭৬ ও ওভালের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৪৫ পান।

১৯০৪ সালের শুরুতে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে অত্যন্ত সুন্দর বোলিং করেন। এরপর থেকে দূর্বলতম ক্রীড়া শৈলী প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে দল থেকে বাদ পড়েন। ঐ বছর শেষে খেলা থেকে অবসর নেন।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ডুবে যাওয়াসহ হাত হারানোর ন্যায় ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি। তবে, ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে ইংল্যান্ডের ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানের মারা যাবার খবর পান। এরপর থেকেই অন্তরালে চলে যান। উত্তরোত্তর মদপানের মাত্রা বৃদ্ধি হতে থাকে। ওজনও বাড়তে থাকে ও দ্রুততার সাথে ক্রীড়াশৈলীর অবনমন ঘটে। ১৮৯৮ সালে পুনরায় বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন ও বেশ স্বাস্থ্য সচেতন হন।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর জীবনের বাদ-বাকী সময় নটিংহ্যামশায়ারে অবস্থান করেন। ২৬ এপ্রিল, ১৯৩২ তারিখে নটিংহামের র‌্যাডফোর্ড এলাকায় ৬৪ বছর বয়সে তার দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "1st Test: England v Australia at Lord's, Jul 17-19, 1893"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা