পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস (উর্দু: یوم آزادی‎‎; ইয়ুম-ই আজাদী), পালিত হয় ১৪ আগস্ট তারিখে, এটি পাকিস্তানের একটি জাতীয় ছুটির দিন। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালের এই দিনে পাকিস্তান একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।[১] দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ গুলো নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার জন্য পাকিস্তান আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আন্দোলনটি পরিচালনা করে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ, যার নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস
یوم آزادی
The flag of Pakistan hoisted at the top of National Monumentইসলামাবাদে পাকিস্তানের জাতীয় স্মৃতিসৌধে উত্তোলিত পাকিস্তানের পতাকা
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের জাতীয় স্মৃতিসৌধে উত্তোলিত পাকিস্তানের পতাকা
আনুষ্ঠানিক নামপাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস
অন্য নামইয়ুম-ই-আজাদী (অর্থ: স্বাধীনতার দিন)
পালনকারী পাকিস্তান
ধরনজাতীয় ছুটির দিন
উদযাপনপতাকা উত্তোলন, প্যারেড, পুরস্কার প্রদান, জাতীয় সঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক সঙ্গীত গাওয়া, প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
তারিখ১৪ আগস্ট
সংঘটনবাৎসরিক

স্বাধীনতা দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় ইসলামাবাদে। সেখানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং সংসদ ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সাথে পতাকা উত্তোলিত হয় এবং নেতৃত্ববৃন্দের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এছাড়াও এদিনের উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান, প্যারেড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক গান গাওয়া ইত্যাদি। এই দিনে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সাধারণ নাগরিকবৃন্দ এই দিনে তাদের বাসায় পতাকা উত্তোলন করেন, এছাড়াও যানবাহন এবং পোষাকে জাতীয় পতাকার প্রদর্শন পরিলক্ষিত হয়।

ইতিহাসসম্পাদনা

পটভূমিসম্পাদনা

 
মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশনে জিন্নাহ সভাপতিত্ব করছেন, যেখানে লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
 
একটি প্রেস রিলিজের কভার; "স্বাধীনতা বার্ষিকী সিরিজ" প্রথম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯৪৮ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তান তথ্য অধিদপ্তর প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত।

পাকিস্তান গঠনকারী অঞ্চল গুলো উনিশ শতকের অধিকাংশ সময় জুড়ে ব্রিটিশ শাসনের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭ শতকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য শুরু করে এবং ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসন শুরু হয়। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পরে ভারত শাসন আইন ১৮৫৮ অনুযায়ী ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের শাসনভার ব্রিটিশ রাজ পরিবারের হাতে চলে যায়।

স্বাধীনতাসম্পাদনা

স্বাধীনতার দিনসম্পাদনা

১৪ ও ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে শাসনক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় এবং ভারত স্বাধীন আইন ১৯৪৭ অনুসারে ১৫ আগস্টকে ভারতপাকিস্তান উভয় দেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আইনে বলা হয়;[২]

"As from the fifteenth day of August, nineteen hundred and forty-seven, two independent Dominions shall be set up in India, to be known respectively as India and Pakistan."

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রথম সম্প্রচারে জিন্নাহ বলেন;[৩]

"August 15 is the birthday of the independent and sovereign state of Pakistan. It marks the fulfilment of the destiny of the Muslim nation which made great sacrifices in the past few years to have its homeland."

১৯৪৮ সালের জুলাইতে দেশটির প্রথম স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করা হয়, সেখানেও ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উল্ল্যেখ করা হয়।[৪] তবে পরবর্তী বছর হতে ১৪ আগস্ট তারিখটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।[১] ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ তারিখ রাতটি ছিলো ২৭ রমজান ১৩৬৬ হিজরি, এই রাতটিকে মুসলমানগন পবিত্র রজনী হিসেবে বিবেচনা করেন।[৫][৬]

উদযাপনসম্পাদনা

জাতির পিতা মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহর সমাধিতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর ক্যাডেটগণের শ্রদ্ধা নিবেদন
দিবসটি উদযাপনের জন্য মধ্যরাতে মেয়েদের প্রদীপ প্রজ্বলন
মিনার-ই-পাকিস্তান, স্বাধীনতার স্মৃতিচিহ্ন

স্বাধীনতা দিবস পাকিস্তানে পালিত ছয়টি ছুটির দিনের মধ্যে একটি এবং এটি সারা দেশব্যাপী উদযাপিত হয়।[৭] স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য প্রাদেশিক সরকার গুলো বিভিন্ন প্রদেশের রাজধানীতে সভা করে। এসকল সভায় সরকারী কর্মকর্তা, কূটনীতিবিদ এবং রাজনৈতিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। আগস্ট মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ দোকান এবং স্টল গড়ে ওঠে; এসকল দোকানে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, পোস্টার, জাতীয় বীরদের ছবি প্রভৃতি বিক্রয় করা হয়। যানবাহন, ব্যক্তিগত ভবন, বাসা-বাড়ি এবং রাস্তাগুলো জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়।[৮] বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারী বিভাগ সমূহ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেমিনার, ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।[৯] করাচিতে এই দিন উদযাপনের জন্য জিন্নাহর সমাধির পথ পরিষ্কার ও প্রস্তুত করা হয়।[১০]

নিরাপত্তা ব্যবস্থাসম্পাদনা

গণসংস্কৃতিসম্পাদনা

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. M,I, Choudhary (২০০৬–২০০৭)। The Most Comprehensive Colour Catalogue Pakistan Postage Stamps (11 সংস্করণ)। Lahore, Pakistan। পৃষ্ঠা 26। 
  2. "Chapter 30" (PDF)Indian Independence Act, 1947। পৃষ্ঠা 3। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  3. "Pakistan coinage: 1947 - 1948"। Chiefa Coins। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  4. Zahedi, Mahbub Jamal (১৯৯৭)। Fifty years of Pakistan stamps। Sanna Publications। পৃষ্ঠা 17। 
  5. Bhatti, M. Waqar। "Independence Day: muted affair?"The News International। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  6. Tariq Majeed। "7"। THE DIVINE IMPRINT ON THE BIRTH OF PAKISTANThe State of Pakistan came into being on Friday the 15th of August 1947, and, according to the Islamic calendar, on the 27th of Ramadan XE "27th of Ramadan" 1366. This is the factual, formal and legal date of the birth of Pakistan. [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. Malik, Iftikhar Haider (২০০৬)। Culture and customs of Pakistan (Illustrated সংস্করণ)। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 152। আইএসবিএন 9780313331268। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  8. Muhammad, Peer (১১ আগস্ট ২০১১)। "Independence day: prepping for celebrations as the city slumbers in Ramazan"The Express Tribune। Karachi। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  9. "All set to celebrate I-Day"The Nation (Pakistani newspaper)। ১৩ আগস্ট ২০১২। ১৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১২ 
  10. Sanain. "Independence Day Of Pakistan: Its History and Celebrations". Allvoices. Retrieved 13 August 2012.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা