জেমস ল্যাংগ্রিজ

ইংরেজ ক্রিকেটার

জেমস ল্যাংগ্রিজ (ইংরেজি: James Langridge; জন্ম: [১০ জুলাই, ১৯০৬ - মৃত্যু: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬) সাসেক্সের নিউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পরে আট টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

জেমস ল্যাংগ্রিজ
জেমস ল্যাংগ্রিজ.jpg
আনুমানিক ১৯৩৩ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জেমস ল্যাংগ্রিজ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজেমস ল্যাংগ্রিজ
জন্ম(১৯০৬-০৭-১০)১০ জুলাই ১৯০৬
নিউইক, সাসেক্স, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬(1966-09-10) (বয়স ৬০)
ব্রাইটন, সাসেক্স, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট আর্ম অর্থোডক্স
সম্পর্করিচার্ড ল্যাংগ্রিজ (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৬৮)
২২ জুলাই ১৯৩৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট১৭ আগস্ট ১৯৪৬ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬৯৫
রানের সংখ্যা ২৪২ ৩১৭১৬
ব্যাটিং গড় ২৬.৮৮ ৩৫.২০
১০০/৫০ -/১ ৪২/১৮১
সর্বোচ্চ রান ৭০ ১৬৭
বল করেছে ১০৭৪ ৮৯৮৪০
উইকেট ১৯ ১৫৩০
বোলিং গড় ২১.৭৩ ২২.৫৬
ইনিংসে ৫ উইকেট ৯১
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৪
সেরা বোলিং ৭/৫৬ ৯/৩৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬/- ৩৮০/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১১ এপ্রিল ২০১৮

ঘরোয়া ক্রিকেটসম্পাদনা

সাসেক্সের নিউইকে জন্মগ্রহণকারী জেমস ল্যাংগ্রিজ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রায় ত্রিশ বছরকাল অংশগ্রহণ করেন। তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা জন ল্যাংগ্রিজ সাসেক্সের পক্ষাবলম্বন করে ব্যাটিং উদ্বোধন করে গেছেন। ফলশ্রুতিতে, তাদেরকে চিহ্নিত করতে জেমস ল্যাংগ্রিজের নামের প্রথম অংশকে ব্যবহার করা হতো। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ১৯২৪ সালে সাসেক্সের পক্ষে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে সহস্রাধিক রান তুলেন যা পরবর্তী বিশ মৌসুমে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৪২ সেঞ্চুরি সহযোগে ৩১,৭১৬ রান তুলেছেন তিনি। সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিজেকে ৫২তম স্থানে অবস্থান করালেও স্বীয় ভ্রাতার চেয়ে ১১ স্থান দূরে অবস্থান করেছেন।

১৯২০-এর দশকের শেষার্ধ্বে স্পিন বোলার হিসেবেও ব্যতিক্রমধর্মী নিখুঁতভাব বজায় রাখতে সচেষ্ট হন। তবে বলে তেমন উচ্চতা ছিল না। সূর্য কিরণের পর বৃষ্টি নামলে তাকে মোকাবেলা করা ব্যাটসম্যানদের বেশ কষ্টের হতো। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ছয় মৌসুমে একাধারে শতাধিক উইকেট দখল করেছেন জেমস ল্যাংগ্রিজ। এ সময়ে সহস্রাধিক রান ও শতাধিক উইকেট লাভের ন্যায় অল-রাউন্ডার ডাবল লাভ করেন তিনি।

১৯৩৩, ১৯৩৫, ১৯৩৭ ও ১৯৩৯ সালে সাসেক্সের বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে আরোহণ করেছেন। কিন্তু, ১৯৩৬ ও ১৯৩৮ সালে গ্রীষ্মের ভেজা মৌসুমে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ১৯৩৭ সালে ২০৮২ রান ও ১০২ উইকেট লাভ করেন যা পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে ট্রেভর বেইলি লাভ করেছেন। এ কৃতিত্ব অর্জনের পাশাপাশি মাত্র একবার সেঞ্চুরি করে ২০০০ রান লাভের রেকর্ড গড়েন। সর্বমোট ১,৫৩০ উইকেট নিয়ে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিজেকে ৭৭তম অবস্থানে রেখেছেন। এছাড়া, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সাসেক্সের পক্ষে ৬২২ খেলায় অংশ নিয়েছেন, যা কাউন্টি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এছাড়াও, ১৯২৭-২৮ মৌসুমে অকল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।[২]

অধিনায়কত্ব লাভসম্পাদনা

১৯৫০ থেকে ১৯৫২ সময়কালে সাসেক্সের পক্ষে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। লিচেস্টারশায়ারের লেস বেরি ও ওয়ারউইকশায়ার টম ডলারি’র পর তৃতীয় পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে বিংশ শতাব্দীতে কাউন্টি ক্লাবকে পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৩৫ সালে ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল লিচেস্টারশায়ারকে এক মৌসুম অধিনায়কত্ব করলেও তখন কোন শৌখিন খেলোয়াড় এ দায়িত্ব নিতে রাজী ছিলেন না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

ল্যাংগ্রিজের টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন তেরো বছরব্যাপী চলমান ছিল। কিন্তু এ সময়ে তিনি মাত্র আটটি টেস্টে অংশগ্রহণ করতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। ১৯৩৩ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে জেমস ল্যাংগ্রিজের। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৫৬ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান তিনি।[৩] এরপর ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ডগলাস জারদিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। কলকাতা টেস্টে ৭০ রান তুলেন ও মাদ্রাজ টেস্টে ৫/৬৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় সিরিজের একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেন তিনি। এছাড়াও, ১৯৩৬ ও ১৯৪৬ সালে ভারতের বিপক্ষে একটি করে টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল জেমস ল্যাংগ্রিজের। তবে ঐ সময়ে ইংল্যান্ডের অবিস্মরণীয় বামহাতি স্পিনার হ্যাডলি ভেরিটি’র জন্য নিঃসন্দেহে তাকে টেস্টে অংশগ্রহণের পথ অবরুদ্ধ করে রাখে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেডলি ভেরিটি নিহত হন। ফলশ্রুতিতে যুদ্ধ পরবর্তীকালে ৪০ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য জেমস ল্যাংগ্রিজকে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে মনোনয়ন দেয়া হয়। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তার অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু অনুশীলনীকালে গুরুতর আঘাত পেলে খেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এরপর আর তাকে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়নি।

মূল্যায়নসম্পাদনা

১৯৩২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা লাভ করেন জেমস ল্যাংগ্রিজ।

ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যানের মতে, তিনি সাসেক্সের সেরা কর্মী ছিলেন। বিক্ষিপ্ত খেলোয়াড়ী জীবনে জিম ল্যাংগ্রিজ যুদ্ধের পর মাত্র একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন। দৃঢ় প্রত্যয়ী বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। ধৈর্যশীল বামহাতি স্পিনার হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। তবে, ইয়র্কশায়ারের হেডলি ভেরিটি’র ইংল্যান্ড দলে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ অনেকাংশেই ব্যাহত হয়েছিল তার।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর সাসেক্স দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত কাউন্টি কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। স্বীয় সন্তান রিচার্ড ল্যাংগ্রিজ ১৯৬০-এর দশকে নিয়মিতভাবে সাসেক্সের পক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে মাঠে নামতেন।

১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে সাসেক্সের ব্রাইটন এলাকায় ৬০ বছর বয়সে জেমস ল্যাংগ্রিজের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 108। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "James Langridge"Cricket Archive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৬ 
  3. "2nd Test: England v West Indies at Manchester, Jul 22–25, 1933"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
হিউ বার্টলেট
সাসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৫০–১৯৫২
উত্তরসূরী
ডেভিড শেপার্ড