কাজী আবু বকর সিদ্দিকী, [১] যিনি কাজী রিটন নামে বেশি পরিচিত [২] ; (জন্ম: ১৭ জানুয়ারী, ১৯৭৭) তিনি একজন বাংলাদেশী প্রযোজক, অভিনেতা, লেখক এবং পরিচালক। [৩] তিনি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন প্রযোজনা সংস্থা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট -এর স্বত্বাধিকারী। [৪] বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। [৫]

Kazi Riton
কাজী রিটন
জন্ম
কাজী আবু বকর সিদ্দিকী

(1977-01-17) ১৭ জানুয়ারি ১৯৭৭ (বয়স ৪৭)
জাতীয়তা বাংলাদেশী
পেশাপ্রযোজক, অভিনেতা, লেখক, পরিচালক
কর্মজীবন২০০০-বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীমমতাজ আলীয়া আকবরী

প্রাথমিক জীবন সম্পাদনা

কাজী রিটন ১৯৭৭ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের নাটোরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী আব্দুর রশীদ এবং মা সেলিনা বানু।

কর্মজীবন সম্পাদনা

কাজী রিটন ১৯৯৮ সালে ঢাকায় আসেন। সে সময় তিনি অভিনেতা হিসেবে থিয়েটারে এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে টিভি মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০০ সাল থেকে ফিল্ম ও টিভি মিডিয়াতে তিনি নিয়মিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অভিনেতা হিসেবে তিনি বেশ কিছু ধারাবাহিক ও টিভি নাটকে কাজ করেছেন, যেমন ‘দৌড়’ (২০০৪) বিটিভি (বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশের সরকারী টেলিভিশন সংস্থা), ‘বাইনোকুলার’ (২০০৫) এনটিভি, ‘গ্রহ কন্যা’ (২০০৬) এনটিভি, ‘ব্যাচেলর দম্পতি’ (২০০৭) বাংলাভিশন, এবং ‘এ টিম’ (২০১৩) চ্যানেল আই। এছাড়াও তিনি মডেল হিসেবে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একটেল (মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানী), যমুনা ব্যাংক ও বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনস। ২০০৮ সালে জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মুরাদ পারভেজ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘চন্দ্রগ্রহণ’ এর মাধ্যমে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ে পা রাখেন। এই চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার এবং অন্যান্য আরো কিছু পুরষ্কার অর্জন করে।[৬][৭]

প্রযোজক সম্পাদনা

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফাইভ ডট কম’-এর একজন অংশীদার হয়ে রিটন মিডিয়া জগতে একজন প্রযোজক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে তার অন্যান্য অংশীদাররা ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী বিজরী বরকতউল্লাহ ও ইপ্সিতা শবনম শ্রাবন্তী, জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়া, এবং চলচ্চিত্র ও নাট্য প্রযোজক তুহিন বড়ুয়া। এই প্রতিষ্ঠানের প্রযোজিত আনিসুল হক রচিত ও এস এ হক অলীক পরিচালিত ধারাবাহিক ‘দ্বিতীয় জীবন’ [৮] দর্শক ও সমালোচকদের কাছে দারুনভাবে প্রশংসিত হয়।

বর্তমানে কাজী রিটন তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’-এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে জনপ্রিয় নাটক ও ধারাবাহিক প্রযোজনা করে যাচ্ছেন, যেমন নাটক ‘ছায়া শিকারী’ (২০২১) মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, ‘শহরনামা’ (২০২১) মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, ‘খচাই’ (২০২১) বাংলাভিশন, ‘প্রেম ৭১’ (২০২০) মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, ‘মনে মনে’ (২০২০) মাছরাঙ্গা টেলিভিশন, ‘গল্প নয়’ (২০২০) এনটিভি, ‘আপা’ (২০১৯) একুশে টেলিভিশন, ‘টম এন্ড জেরী’ (২০১৯) এটিএন বাংলা, ‘ব্যাড ম্যান’ (২০১৯) এশিয়ান টিভি, ‘ওপারে তুমি’ (আরটিভি), ‘সায়েন্সের মেয়ে আটসের ছেলে’ (২০১৮) এটিএন বাংলা, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্বিধা’ (২০০৭), ‘অন্তরীক্ষ’ (২০০৯), ধারাবাহিক নাটক ‘পরের মেয়ে’ (এনটিভি) (২০২০-২০২১)।

তিনি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা রিয়াজ এবং পূর্ণিমা অভিনীত ' হৃদয়ের কথা ' (2006) [৯] এর সহযোগী প্রযোজক ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন সম্পাদনা

কাজী রিটন ২০০৪ সালে মমতাজ আলিয়া আকবরীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে।


তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. Pratidin, Bangladesh (২০২১-০৭-০৩)। "কাজী রিটনের দুই দশক"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২২ 
  2. "কাজী রিটনের পথচলার দুই দশক"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০২-২৭ 
  3. "Kazi Riton wants to take drama to new level"NTv Online (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১০-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০২-১২ 
  4. Arts & Entertainment Desk (২০২১-০৫-২৭)। ""Chaya Shikari" to air on Maasranga Television on May 29"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২৫ 
  5. "টেলিপ্যাবের নতুন কমিটির শপথ গ্রহণ"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০২২-০৩-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-২৫ 
  6. সর্বাধিক মনোনয়ন পেল চন্দ্রগ্রহণ [Chandragrohon was the most-nominated]। Kaler Kantho। ৬ জানুয়ারি ২০১০। ২০১৪-০২-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  7. "Meril-Prothom Alo Award ceremony held"The Daily Star। Dhaka, Bangladesh। ১১ এপ্রিল ২০০৯। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৪ 
  8. "টিভি মিডিয়ায় কাজী রিটনের এগিয়ে চলা"দৈনিক ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০২-২৭ 
  9. "I want to thrive more as a media man: Kazi Riton"NTv Online (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৩-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-০৬-২০ 

বহিঃসংযোগ সম্পাদনা