কররানী রাজবংশ সুলতান তাজ খান কররানী কর্তৃক ১৫৬৪ সালে স্থাপিত হয়। কররানীরা আফগান বংশোদ্ভূত ছিলেন। এটি বাংলা সালতানাতের শেষ রাজবংশ।

প্রতিষ্ঠাসম্পাদনা

তাজ খান পূর্বে আফগান সম্রাট শের শাহ শুরির একজন কর্মচারী ছিলেন। ১৫৬২ থেকে ১৫৬৪ সাল পর্যন্ত তাজ খান দক্ষিণ পূর্ব বিহার ও পশ্চিম বাংলা দখল করেন। বাংলার তৎকালীন সুলতানের হত্যার পর তিনি বাংলার ক্ষমতা লাভ করে। সোনারগাঁওয়ে তার রাজধানী ছিল। তাজ খানের পর সুলায়মান খান কররানী সুলতান হন। ১৫৬৫ সালে তিনি রাজধানী গৌড় থেকে তান্ডায় নিয়ে আসেন। সুলায়মান খান উড়িষ্যাকে স্থায়ীভাবে কররানী শাসনের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি মোগল সম্রাট আকবরের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেন। তার প্রধানমন্ত্রী লোদি খান মোগলদের উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।[১] কুচ বিহার থেকে পুরীসোন নদী থেকে ব্রহ্মপুত্র নদী পর্যন্ত সুলায়মান খানের কর্তৃত্ব ছিল।[২]

মোগল আক্রমণসম্পাদনা

১৫৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মোগল সেনাপতি মুনিম খান কররানীদের রাজধানী তান্ডা জয় করেন। ১৫৭৫ সালের ৩ মার্চ তুকারয়ের যুদ্ধের পর শেষ কররানী সুলতান দাউদ খান কররানী উড়িষ্যার দিকে সরে যান। যুদ্ধের পর কটকের সন্ধি নামের সন্ধি হয়। এর ফলে দাউদ খানকে বাংলা ও বিহার হারাতে হয় ও শুধুমাত্র উড়িষ্যা তার হাতে রয়ে যায়। ১৫৭৫ সালের অক্টোবরে মুনিম খান ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলে সন্ধি ভেঙে যায়। দাউদ খান সুযোগ গ্রহণ করে বাংলা আক্রমণ করেন এবং আকবরের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধে কররানীরা পরাজিত হয়। এতে প্রথম খান জাহান মোগলদের সেনাপতি ছিলেন। দাউদ খানকে হত্যা করা হয়। তবে বারো ভূইয়া বলে পরিচিত আফগান ও স্থানীয় জমিদাররা ঈসা খানের নেতৃত্বে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় বাংলা চূড়ান্তভাবে মোগল প্রদেশে পরিণত হয়।[৩]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Eaton, Richard (১৯৯৬)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760। University of California Press। পৃষ্ঠা 140। আইএসবিএন 9780520205079। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৮, ২০১২ 
  2. Sengupta, Nitish (২০১১)। Land of Two Rivers: A History of Bengal from the Mahabharata to Mujib। Penguin Books India। পৃষ্ঠা 126। আইএসবিএন 9780143416784। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৮, ২০১২ 
  3. Hasan, Perween (২০০৭)। Sultans and Mosques: The Early Muslim Architecture of Bangladesh। I.B.Tauris। পৃষ্ঠা 18। আইএসবিএন 9781845113810। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৮, ২০১২