এরল স্টুয়ার্ট

দক্ষিণ আফ্রিকান রাগবি ইউনিয়ন খেলোয়াড়

এরল লেসলি রে স্টুয়ার্ট (ইংরেজি: Errol Stewart; জন্ম: ৩০ জুলাই, ১৯৬৯) ডারবানে জন্মগ্রহণকারী সাবেক দক্ষিণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও রাগবি ইউনিয়ন খেলোয়াড়। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[১][২][৩] ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

এরল স্টুয়ার্ট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএরল লেসলি রে স্টুয়ার্ট
জন্ম৩০ জুলাই, ১৯৬৯
ডারবান, দক্ষিণ আফ্রিকা
ডাকনামমাদিবা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক, ধারাভাষ্যকার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ২৬)
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই৩ অক্টোবর ২০০২ বনাম বাংলাদেশ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা -
রানের সংখ্যা - ৬১
ব্যাটিং গড় - ১৫.২৫
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান - ২৩*
বল করেছে - -
উইকেট - -
বোলিং গড় - -
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৭ নভেম্বর ২০১৯

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংসহ ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে সক্ষম ছিলেন ‘মাদিবা’ ডাকনামে পরিচিত এরল স্টুয়ার্ট

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত এরল স্টুয়ার্টের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ডারবানের ওয়েস্টভিলের ওয়েস্টভিল বয়েজ হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এখানে অবস্থানকালেই এসএ স্কুলস ক্রিকেট ও রাগবি দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৯৮৭ সালের শক্তিধর সাউথ আফ্রিকান স্কুলস দলটিতে হানসি ক্রনিয়েজন্টি রোডসের ন্যায় ভবিষ্যতের সেরা ক্রিকেটারের অন্তর্ভূক্তি ছিল। এছাড়াও নাটাল স্কুলস দলের পক্ষে হকি ও অ্যাথলেটিক্স খেলেছেন। নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে পড়াশুনো করেন। এ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় দলে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। নাটাল ডলফিন্সে খেলেন ও ২০০৪ সাল শেষে দলের অধিনায়কত্ব করেন।

শন পোলকের সাথে নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরূপে ক্লাব ক্রিকেটে একত্রে খেলেন ও পরবর্তীতে বিতর্কিতভাবে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো ইংরেজ টেস্ট ক্রিকেটার কেভিন পিটারসনের সাথে ডারবানের বেরিয়া রোভার্সে খেলেন। নাটালের পক্ষে ৮৭ খেলায় অংশ নেন। ৮টি শতক ও ২১টি অর্ধ-শতক সহযোগে ৩৪.৮৪ গড়ে ৪৩২১ রান তুলেছিলেন। ৯৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ৩৬.৭৮ গড়ে ৫১৫০ রান তুলেন। কিংসমিডে নাটাল বি দলের সদস্যরূপে বর্ডারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০৭ রান তুলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন এরল স্টুয়ার্ট। তবে, কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে পূর্ব লন্ডনে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। ৩ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে পচেফস্ট্রুমে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন তিনি।

ছয়টি মাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ হয়েছিল এরল স্টুয়ার্টের। ১৯৯২ সালে পূর্ব লন্ডনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেকে হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যরূপে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি তিনি। ডেভ রিচার্ডসন কিংবা মার্ক বুচারের আঘাতজনিত বিকল্প উইকেট-রক্ষক হিসেবে অংশ নিতেন।

অবসরসম্পাদনা

কারি কাপ রাগবিতে শার্কস দলে খেলেছেন। কালো ও সাদা পোশাক ৩৫বার রাগবি খেলায় অংশ নিলেও তখন খেলাগুলো ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতো ও শীতকালীন ক্রীড়া হিসেবে বিবেচিত হতো। তিনি মধ্যমাঠে খেলতেন ও নাটাল রাগবি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৯৫ সালে রাট শার্কস রাগবি দলের সদস্যরূপে কারি কাপ জয় করেন। এছাড়াও কারি কাপে নাটাল ডলফিন্সের পক্ষে ক্রিকেট খেলেন। ১৯৯৭ সাল শেষে ক্রিকেট খেলাকে প্রাধান্য দেন ও রাগবি পোষাক ত্যাগ করেন।

২০০৪ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। ঐ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের নেতৃত্বে থেকে জিম্বাবুয়ে সফরে যেতে অস্বীকৃতিজ্ঞাপন করেন। এরপর আর তাকে কোন প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় নেয়া হয়নি। এছাড়াও, ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। পেশায় তিনি আইনজীবী। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাথে সম্পৃক্ত হন। ২০০৭ সাল থেকে পরবর্তী ৩ বছর সেখানে কাজ করেন। ডেভ রিচার্ডসনের সুপারিশক্রমে তিনি এ চাকুরী পান। বর্তমানে তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আন্তর্জাতিক প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকান জাতীয় দলে নির্বাচক হিসেবে মনোনীত হন।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ব্যক্তিগত জীবনে খেলাধুলার সাথে জড়িত রয়েছেন। অবসর সময়ে ক্রিকেট, গল্ফ, টেনিস ও হকি খেলে থাকেন। ডারবানে কান্ট্রি ক্লাব পরিচালনার কমিটির সদস্য তিনি ও বিমান চালানোর সনদ রয়েছে তার। ২০১০ সালের শুরুরদিকে সোনিয়া রভেরা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই কন্যা রয়েছে। ক্যারোলিন জুলাই, ১৯৯৫ ও লারা জানুয়ারি, ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Players / South Africa / ODI caps"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৯ 
  2. "South Africa ODI Batting Averages"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৯ 
  3. "South Africa ODI Bowling Averages"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৯ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা