রাখাইন রাজ্য

রাখাইন
(আরাকান থেকে পুনর্নির্দেশিত)

রাখাইন রাজ্য (বর্মী: ရခိုင်ပြည်နယ် রাখাইন উচ্চারণ [ɹəkʰàiɴ pɹènè] রাখাইঁ প্রেনে; বর্মী উচ্চারণ: [jəkʰàiɴ pjìnɛ̀] ইয়াখাইঁ প্‌য়িনে; সাবেক আরাকান অঞ্চল) বার্মার একটি প্রদেশ, পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। এর উত্তরে ছিন রাজ্য, পূর্বে ম্যাগওয়ে অঞ্চল, ব্যাগো অঞ্চল এবং আয়েইয়ারওয়াদি অঞ্চল, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ। আরাকান পর্বত, যার সর্বোচ্চ চূড়া ভিক্টোরিয়া শৃঙ্গের উচ্চতা ৩,০৬৩ মিটার (১০,০৪৯ ফু) , রাখাইন প্রদেশকে মূল বার্মা থেকে পৃথক করে রেখেছে। রাখাইন রাজ্যে চেদুবা এবং মাইঙ্গান দ্বীপের মত বড় কিছু দ্বীপ আছে। রাখাইন রাজ্যের আয়তন ৩৬,৭৬২ বর্গকিলোমিটার (১৪,১৯৪ মা) এবং এর রাজধানীর নাম সিত্তে (বর্মী: စစ်တွေ রাখাইন উচ্চারণ সাইক্‌টুয়ে; সিক্‌টুয়ে; সাবেক আকিয়াব)।[১]

রাখাইন রাজ্য
আরাকান রাজ্য।
বার্মার প্রশাসনিক অঞ্চল
মিয়ানমা প্রতিলিপি
 • রাখাইন ভাষারাখাইঁ প্রেনে
রাখাইন রাজ্যের পতাকা
পতাকা
বার্মায় রাখাইন রাজ্যের অবস্থান
বার্মায় রাখাইন রাজ্যের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ১৯°৩০′ উত্তর ৯৪°০′ পূর্ব / ১৯.৫০০° উত্তর ৯৪.০০০° পূর্ব / 19.500; 94.000
রাষ্ট্র মায়ানমার
অঞ্চলপশ্চিম উপকূল
রাজধানীসিত্তে
সরকার
 • মিলিটারি কাউন্সিল চেয়ারম্যানডাক্তার অং ক্যাও মিন (মিলিটারি)
আয়তন
 • মোট৩৬,৭৭৮.০ বর্গকিমি (১৪,২০০.১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১৪ বার্মার আদমশুমারি)
 • মোট৩১,১৮,৯৬৩
 • জনঘনত্ব৮৫/বর্গকিমি (২২০/বর্গমাইল)
Demographics
 • জাতিগোষ্ঠীরাখাইন রোহিঙ্গা, ম্রো, চাকমা, ডাইনাত, মার্মাগ্রী,খুমি এবং বার্মা।
 • ধর্মবৌদ্ধধর্ম, ইসলাম, থেরবাদীহিন্দু ধর্ম এবং অন্যান্য
সময় অঞ্চলস্থানীয় সময় (ইউটিসি+০৬:৩০)
ওয়েবসাইটrakhinestate.gov.mm

নামকরণসম্পাদনা

ধারণা করা হয় রাখাইন শব্দটি এসেছে পালিশব্দ “রাক্ষপুরা” (সংস্কৃতঃ রাক্ষসপুরা) থেকে যার অর্থ রাক্ষসদের দেশ।[২] খুব সম্ভবত এই অঞ্চলে বাস করা নেগ্রিটো অধিবাসিদের জন্য এই নাম দেয়া হয়। রাখাইন রাজ্য নিজেদের ঐতিহ্য এবং নৈতিকতা ধরে রাখতে এই নামটিই বহাল রেখেছে। তাদের ভাষায় রাখাইন শব্দের অর্থ, যে নিজের জাতিসত্ত্বা ধরে রাখে।[৩] রাখাইন ভাষায় তারা তাদের দেশকে রাখাইনপ্রে। রাখাইন আদিবাসিরা অবশ্য বলে রাখাইনথা।

ধারণা করা হয় যে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সময়ে 'রাখাইন' নামটি পর্তুগিজ অপভ্রংশে 'আরাকান' নামে পরিবর্তিত হয়, যা এখনো ইংরেজিতে সমানভাবে জনপ্রিয়।[৪]

ইতিহাসসম্পাদনা

আরাকান রাজ্যের রাজা বৌদ্ধ হলেও তিনি মুসলমান উপাধি গ্রহণ করতেন।

তাঁর মুদ্রায় ফারসি ভাষায় লেখা থাকত । আরাকান রাজদরবারে কাজ করতেন অনেক বাঙালি মুসলমান। বাংলার সঙ্গে আরাকানের ছিল গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক।

১৪০৬ সালে আরাকানের ম্রাউক-উ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নরমিখলা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ে চলে আসেন। গৌড়ের শাসক জালালুদ্দিন শাহ নরমিখলার সাহায্যে ৩০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে তাঁকে বিতাড়নকারী বর্মি রাজাকে উত্খাতে সহায়তা করেন। নরমিখলা মোহাম্মদ সোলায়মান শাহ নাম নিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসেন। ম্রাউক-উ রাজবংশ ১০০ বছর আরাকান শাসন করেছে। এর ফলে সেখানে মুসলিম ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, কবি ও শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পায়।

মহাকবি আলাওল রোসাং দরবারের রাজকবি ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন মহাকাব্য পদ্মাবতী। এ ছাড়া সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী, সয়ফুলমুলক, জঙ্গনামা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ রচিত হয়েছিল আরাকান রাজদরবারের আনুকূল্যে ও পৃষ্ঠপোষকতায়।

সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন পার্শ্ববর্তী উপকূলে আশ্রয় নেন। তাঁরা বলেন, ‘আল্লাহর রহমতের বেঁচে গেছি। ’ সেই ‘রহম’ থেকেই রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব। কিন্তু আগে রোসাং ও রোয়াং শব্দ অধিক পরিচিত ছিল। এককালে চট্টগ্রামের মানুষ আরাকানে যেত উপার্জনের জন্য। চট্টগ্রাম দীর্ঘ সময় আরাকানের অধীন ছিল। ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম গোড়া থেকেই সম্ভবত আরাকানী শাসনে ছিল। আর ৯ শতকের শেষপাদে ৮৭৭ অব্দের পূর্বে কোনো সময়ে সমগ্র সমতট আরাকানী শাসনভুক্ত ছিল। ’ (আহমদ শরীফ, চট্টগ্রামের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ২৯)

১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের আরাকান স্বাধীন রাজ্য ছিল। ১৭৮৫ সালের প্রথম দিকে মিয়ানমারের রাজা ভোধাপোয়া এটি দখল করে বার্মার (মিয়ানমার) করদ রাজ্যে পরিণত করে।

১৭৯৯ সালে প্রকাশিত ‘বার্মা সাম্রাজ্য’তে ব্রিটিশ ফ্রাঞ্চিজ বুচানন হ্যামিল্টন উল্লেখ করেন, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসারীরা (মুসলিম), যারা অনেক দিন ধরে আরাকানে বাস করছে, তাদের রুইঙ্গা (Rooinga) বা আরাকানের স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা আরাকানের মূল নিবাসী (Native of Arakan) বলা হয়।

আরাকান ছিল বরাবরই স্বাধীন ও অতিশয় সমৃদ্ধ একটি দেশ। বাংলার প্রাচুর্যের কারণে যেমন ১৫০০ সালের শুরুতে এখানে ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে, তেমনি ১৫০০ ও ১৬০০ সালে আরাকানে পর্তুগিজ ও ওলন্দাজদের আগমন ঘটে। ১৬০০ সালে ওলন্দাজরা আরাকান থেকে দাস ও চাল ক্রয় করত। তারা সেখানে নিয়ে আসত লোহা ও লৌহজাতসামগ্রী।

মিয়ানমারের বর্তমান আরাকানীদের বাঙালিরা মগ নামেই ডাকে । মগ জাতির ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ । মগ দস্যুরা বাংলার উপকূল থেকে লোকজন ধরে নিয়ে তাদের কাছে বিক্রি করত। মগদের বর্বরতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ পাওয়া যায় ড. আহমদ শরীফের লেখায়। তিনি লিখেছেন, ‘মগ জলদস্যুরা জলপথে বাঙলাদেশের ভুলুয়া, সন্দ্বীপ, সংগ্রামগড়, বিক্রমপুর, সোনারগাঁ, বাকলা, যশোর, ভূষণা ও হুগলী লুণ্ঠন করত। তারা হিন্দু-মুসলিম, নারী-পুরুষ ও বড়-ছোট-নির্বিশেষে ধরে নিয়ে যেত। হাতের তালু ফুঁড়ে বেত চালিয়ে গরু-ছাগলের মতো বেঁধে নৌকার পাটাতনে ঠাঁই দিত। মুরগীকে যেভাবে দানা ছিটিয়ে দেওয়া হয়, তাদেরও তেমনি চাউল ছুড়ে দেওয়া হত খাবার জন্যে। এ অবহেলা ও পীড়নের পরেও যারা বেঁচে থাকত তাদেরকে ভাগ করে নিত মগে-পর্তুগীজে। ’ (চট্টগ্রামের ইতিহাস, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫১)

১৫৩১ সালে আরাকানের রাজা জেবুক শাহ পর্তুগিজ নৌসেনাদের সহায়তায় আরাকানে নৌবাহিনী গঠন করেন। উদ্দেশ্য ছিল, মোগলদের থেকে আরাকানকে রক্ষা করা।

আরাকানের পতনকাল শুরু হয় ১৬৬০ সালে আরাকানের রাজা চন্দ্র সু ধর্মা কর্তৃক মোগল রাজপুত্র শাহসুজাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আরাকানে বিরাজ করে অস্থিরতা। মাঝখানে শান্তি ফিরে এলেও আরাকানি সামন্ত রাজাদের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। সে সুযোগে ১৭৮৪ সালে বর্মি রাজা ভোধাপোয়া আরাকান দখলে নেন। ভোধাপোয়ার অত্যাচারে আরাকানের রাজা ঘা থানবি পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে বর্মিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে সিনপিয়ার নেতৃত্বে আরাকান বিদ্রোহ তুঙ্গে পৌঁছে। ১৮১১ সালে সিনপিয়ার বাহিনী রাজধানী ছাড়া গোটা আরাকান দখলে নিলেও পরে পরাজিত হয় বর্মি রাজার সেনাদের কাছে।

আরাকানের বিদ্রোহ দমনের জন্য বর্মি রাজা ১৮১১ সালে গোটা বার্মায় প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন যুবক, ২৫০ টাকা, একটি বন্দুক, ১০টি চকমকি পাথর, দুই সের বারুদ, সম ওজনের সিসা, দুইটি কুঠার, ১০টি লম্বা পেরেক সরবরাহের নির্দেশ জারি করেন। এভাবে এক সর্বাত্মক যুদ্ধের মাধ্যমে তৎকালীন বর্মি রাজা সিনপিয়ার বাহিনীকে পরাজিত করে। ১৮১৫ সালে সিনপিয়ারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় আরাকানের স্বাধীনতা উদ্ধার আন্দোলন।

১৭৮২ সালে ‘থামাদা’ আরাকানের রাজধানী ‘ম্রোহং’ দখল করে নিজেকে রাজা ঘোষণা করে। গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত স্বাধীন আরাকান রাজ্য এরপর একেবারে ভেঙে পড়ে।

১৭৮৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বার্মার রাজা ভোধাপোয়া আরাকান আক্রমণ করে আরাকানকে বার্মার একটি প্রদেশে পরিণত করেন। সে সময় দুই লক্ষাধিক রাখাইনকে হত্যা করা হয়। পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়, যাতে এ জাতির পুনরুত্থানের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

ভোধাপোয়ার উচ্চ কর আরোপ আর বর্মি বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মগ-মুসলিম-নির্বিশেষে আরাকানের জনগণ পালিয়ে এসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বসবাস শুরু করে। মগরা একজোট হয়ে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল থেকে বর্মিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।

১৮২৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি বার্মা দখল করে। এরপর দীর্ঘ ১০০ বছর পর্যন্ত আরাকানিরা অনেকটা স্বস্তিতে ছিল। কিন্তু ১৯৪২ সালে আরাকান জাপানিদের অধীনে চলে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মায় জাপানি সেনাদের দ্বারা এক লাখ ৭০ হাজার থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। নিহতদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা ছিল মুসলমান।

অবশেষে ১৯৪৫ সালে আবার ব্রিটিশরা আরাকান দখল করে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে বার্মা। কিন্তু স্বাধীনতার মাধ্যমে বার্মা ব্রিটিশমুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুনভাবে আরাকানের ওপর হত্যা, নির্যাতন আর উচ্ছেদে মেতে ওঠে বর্মিরা। আরাকানবাসীদের শুরু করে চরম হত্যাযজ্ঞ। বলা যায়, বার্মার স্বাধীনতা আরাকানের রোহিঙ্গাদের জন্য বয়ে আনে অভিশাপ।

জিন্নাহর ঐতিহাসিক ভুলঃ-

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিন্নাহ আরাকানের ব্যাপারে সঠিক ভূমিকা গ্রহণ করলে আজ রোহিঙ্গাদের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে আরাকান মিয়ানামার থেকে আলাদা হতে চেয়েছিল। কেননা ঐতিহাসিকভাবে আরাকান মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ডের অংশ ছিল না। বার্মিজরা একসময়ের স্বাধীন আরাকান দখলে নেয়। ব্রিটিশ উপনিবেশে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) সঙ্গে একীভূত হতেও মত দেয় রোহিঙ্গ্যা মুসলমানদের মুজাহিদী নেতারা । নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ১৯৪৬ সালে ‘আরাকান মুসলিম লীগ’ গঠন করে তারা। কিন্তু জিন্নাহর ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে উত্তর আরাকান বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি। পারেনি তার স্বাধীন অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে। পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত না করলেও সে সময় তাদের স্বাধীন থাকার সুযোগ করে দেওয়া যেত। কিন্তু এ সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। এর দায় জিন্নাহর। তিনি আদৌ মুসলিম ছিলেন কি না, সে ব্যাপারেই অনেকের সন্দেহ! জিন্নাহ ছিলেন খোজা মুসলিম। হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছে তারা। এরা শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। বার্নার্ড লিউইস খোজাদের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘এরা মুসলিম আচ্ছাদনের তলায় হিন্দু মনোভাবাপন্ন। ’ (যশোবন্ত সিংহ, ‘জিন্না ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা’, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৬২)

সুতরাং ঐতিহাসিকভাবেই আরাকান কখনোই মিয়ানমারের অংশ ছিলোনা। আরাকান ছিলো একটি স্বাধীন রাজ্য ।

লেখক : শিক্ষক, দারুল আরকাম

শিক্ষাব্যবস্থাসম্পাদনা

ইয়াঙ্গুন এবং মান্দালয়ের বাইরে মায়ানমারে শিক্ষাসুবিধা অতি মাত্রায় অপ্রতুল। রাখাইন রাজ্যের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে সরকারী বিদ্যালয়ের সারাংশ তুলে ধরা হলোঃ[৫]

২০১৩-১৪ শিক্ষাবছর প্রাথমিক মধ্য উচ্চ
বিদ্যালয় ২,৫১৫ ১৩৭ ৬৯
শিক্ষক ১১,০৪৫ ২,৯০৯ ১,৩৩৭
ছাত্র ৩,৭০,৪৩১ ১,০০,৫৬৬ ২৬,৬৭১

রাজ্যের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সিত্তে বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাস্থ্যসেবাসম্পাদনা

মায়ানমারের স্বাস্থ্যসেবার মান খুবই করুণ। সামরিক জান্তা সরকার তাদের জিডিপির শতকরা ০.৫%-৩% স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করে যা পৃথিবী দেশসমূহের মধ্যে সব থেকে কম।[৬][৭] স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্য হলেও সরকারী ক্লিনিক এবং হাসপাতালসমূহে রোগীকে ওষুধ এবং চিকিৎসার খরচ বহন করতে হয়। ইয়াঙ্গুন এবং মান্ডালায় এর বাইরে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের দৈন্য দশা, রাখাইন রাজ্যের মত দুর্গম স্থানে নেই বললেই চলে। রাখাইন রাজ্যের হাসপাতালে অল্প কিছু বিছানা আছে। নিচে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার তথ্য তুলে ধরা হলোঃ[৮]

২০০২-২০০৩ # হাসপাতাল # বিছানা
বিশেষায়িত হাসপাতাল
বিশেষজ্ঞ সেবা সহ জেনারেল হাসপাতাল ২০০
জেনারেল হাসপাতাল ১৬ ৫৫৩
স্বাস্থ্য ক্লিনিক ২৪ ৩৮৪
সর্বমোট ৪১ ১,১৩৭

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. http://www.themimu.info/docs/MIMU696v01_110707_Planning%20Map%20for%20Rakhine%20State_Eng.pdf[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] Rakhine State Map
  2. Chowdhury, Abdul Hoque. (১৯৯৪)। Prācīna Ārākāna Roẏāiṅgā Hindu o Baṛuẏā Baudha adhibāsī। Bāṃlā Ekāḍemī (Bangladesh) (1st ed সংস্করণ)। Ḍhākā: Bāṃlā Ekāḍemī। আইএসবিএন 9840729438ওসিএলসি 36051538 
  3. စန္ဒမာလာလင်္ကာရ။ ရခိုင်ရာဇဝင်သစ် ရခိုင်သမိုင်း ၊ ၁၅ ၊ ၁၈ ရာစု။
  4. For example, see Staff (2009) "An Introduction To The Toponymy Of Burma" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে The Permanent Committee of Geographic Names (PCGN), United Kingdom
  5. "United Nations Statistic Department for data for Myanmar"। Education Statistical Year Book, 2013_2014। ২০১৫-০২-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০১-১৫ 
  6. "PPI: Almost Half of All World Health Spending is in the United States"। ২০০৭-০১-১৭। ২০১১-০৪-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৬-০৫ 
  7. Yasmin Anwar (২০০৭-০৬-২৮)। 06.28.2007 "Burma junta faulted for rampant diseases" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। UC Berkeley News। 
  8. "Hospitals and Dispensaries by State and Division"। Myanmar Central Statistical Organization। ২০১১-০৯-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৪-১৯ 

আরো পড়ুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

Political Party of Arakan (ALD)

Rakhine independence-affiliated

Arakanese News/Information

Sittwe and Kyaukpyu SEZ routes to Ruili Yunnan