প্রধান মেনু খুলুন

উইকিপিডিয়া β


অ্যানালিস মারি ‘অ্যানা’ ফ্র্যাংক (ইংরেজি: Annelies Marie "Anne" Frank) (১২ জুন ১৯২৯ — ১৯৪৫ সালের মার্চের শুরুর দিক পর্যন্ত) হচ্ছেন হলোকস্টের স্বীকার সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও বিখ্যাত ইহুদি ব্যক্তি। তিনি পরিচিত তাঁর মানসম্পন্ন লেখনীর জন্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়কার তাঁর দিনলিপি এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক পঠিত বই, এবং অনেক চলচ্চিত্র ও নাটকের মূল বিষয় হিসেবে গৃহীত।

অ্যানা ফ্রাংক
জাতীয়তা জার্মানি (১৯৪১ পর্যন্ত)
জাতীয়তাহীন ১৯৪১-এর পর থেকে
উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ দ্য ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল (১৯৪৭)

তাঁর জন্ম ভাইমার জার্মানির ফ্র্যাংকফুর্ট এম মেইন শহরে, কিন্তু তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে। জাতীয়তায় ১৯৪১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন জার্মান। নাৎসি জার্মানির সেমিটিক বিদ্বেষী নীতির কারণে তিনি তাঁর জার্মান নাগরিকত্ব হারান। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি লাভ করেছেন তাঁর দিনলিপির জন্য, যেখানে তিনি নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন তাঁর অভিজ্ঞতাগুলোকে লিখে রেখেছিলেন।

১৯৩৩ সালে ফ্র্যাংকের পরিবার আমস্টারডামে চলে যায়। সেই বছরেই নাৎসিরা জার্মানির ক্ষমতায় আসে। ১৯৪০ সালে তাঁরা নাৎসি জার্মানির আমস্টারডাম দখলের কারণে সেখানে অন্তরীন হয়ে পড়েন। ১৯৪২ সালের দিকে ইহুদি জনগণ নিধন বাড়তে থাকায় তাঁরা তাঁর বাবার অটো ফ্র্যাংকের লুকানো কক্ষে লুকিয়ে অবস্থান করতে থাকেন। দুই বছর পর, ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সালের সকালে তাঁরা জার্মান নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে ধরা পড়েন। কে তাঁদের লুকানো বাসগৃহের কথা জার্মানদের কাছে বখশিসের বিনিময়ে জানিয়ে দিয়েছিলো তা সঠিকভাবে জানা যায় না।[১][২] তাঁরা ধরা পড়েন ও তাঁদেরকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অ্যানা ফ্র্যাংক ও তাঁর বোন মার্গট ফ্র্যাংককে বার্গেন-বেলজান কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ১৯৪৫ সালে টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে তাঁরা দুজনেই মৃত্যুবরণ করেন।

যুদ্ধ শেষে তাঁর পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা ব্যক্তি বাবা অটো ফ্র্যাংক আমস্টারডামে ফিরে আসেন, এবং অ্যানার দিনলিপিটি (ডায়েরি) খুঁজে বের করেন। তাঁর প্রচেষ্টাতেই দিনলিপিটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি মূল ওলন্দাজ ভাষা থেকে পরবর্তীকালে ১৯৫২ সালে প্রথম বারের মতো ইংরেজিতে অনূদিত হয়। এর ইংরেজি নাম হয় দ্য ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল। এটি বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ডায়েরিটি অ্যানার ১৩তম জন্মদিনে উপহারস্বরূপ দেওয়া হয়েছিলো। যেখানে অ্যানার জীবনের ১২ জুন ১৯৪২ থেকে ১ আগস্ট ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলো ফুটে উঠেছে।

টীকা ও তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Barnauw, David and Gerrold van der Stroom (২০০৩-০৪-২৫)। "Who Betrayed Anne Frank?" (PDF)। Netherlands Institute for War Documentation, Amsterdam। সংগৃহীত ২০০৭-১১-১২ 
  2. "Who Betrayed the People in Hiding?"Anne Frank House website। Anne Frank Organizations। সংগৃহীত ২ এপ্রিল, ২০১০ 

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা