মাইকেল প্যাপস

নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার
(Michael Papps থেকে পুনর্নির্দেশিত)

মাইকেল হিউ উইলিয়াম প্যাপস (ইংরেজি: Michael Papps; জন্ম: ২ জুলাই, ১৯৭৯) ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

মাইকেল প্যাপস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমাইকেল হিউ উইলিয়াম প্যাপস
জন্ম (1979-07-02) ২ জুলাই ১৯৭৯ (বয়স ৪১)
ক্রাইস্টচার্চ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, উইকেট-রক্ষক
সম্পর্কটিজেটি প্যাপস (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২২৫)
১০ মার্চ ২০০৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট১৬ নভেম্বর ২০০৭ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৩৭)
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ ওডিআই২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৮ - ২০১১ক্যান্টারবারি
২০১১ - ২০১৮ওয়েলিংটন
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৮৮ ১৬৬
রানের সংখ্যা ২৪৬ ২০৭ ১২,২৯৪ ৫,৮১০
ব্যাটিং গড় ১৬.৪০ ৫১.৭৫ ৩৮.৬৬ ৩৭.৯৭
১০০/৫০ ০/২ ০/২ ৩৩/৫২ ১২/৩২
সর্বোচ্চ রান ৮৬ ৯২* ৩১৬* ১৬২*
বল করেছে ৩৪
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ০/২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১১/০ ১/০ ২৩৩/৬ ৮৬/৪
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন মাইকেল প্যাপস

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাইকেল প্যাপসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ছোটখাটো গড়নের সাধারণমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া মাইকেল প্যাপস বোলারদের উপর ছড়ি ঘোরাতে বেশ কার্যকরী ছিলেন। বলকে হাফ-ভলিতে রূপান্তরে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে স্থানীয় প্রাদেশিক ক্লাব ক্যান্টারবারি উইজার্ডসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর থেকে ৬,৬৬৩ রান তুলে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এ দলটিতে বারো মৌসুম অতিবাহিত করেন।

২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০১৩ সালে উইল্টশায়ারভিত্তিক বারব্যাজ এন্ড ইস্টন রয়্যাল ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছিলেন তিনি।[১] প্লাঙ্কেট শীল্ডের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দশ সহস্রাধিক রান সংগ্রহের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন।[২]

দল পরিবর্তনসম্পাদনা

জুলাই, ২০১১ সালে ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের সদস্য হন।[৩] অক্টোবর, ২০১৭ সালে প্লাঙ্কেট শীল্ডের খেলায় ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে অকল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।[৪] তার এ সংগ্রহটি প্লাঙ্কেট শীল্ডে ওয়েলিংটনের পক্ষে ব্যক্তিগত সংগ্রহ হিসেবে চিত্রিত হয়।[৫] এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩৮ বছর ১১৩ দিন বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ত্রি-শতক করার গৌরব অর্জন করেন।[৬] এ পর্যায়ে লুক উডককের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৩২ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট আসরে যে-কোন জুটিতে সর্বোচ্চ রান তোলার কৃতিত্ব প্রদর্শনের সাথে জড়িত হন।[৫][৭]

২০১৭-১৮ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ড প্রতিযোগিতায় দশ খেলায় অংশ নিয়ে ৮১৪ রান তুলেন। এটিই তার সর্বশেষ মৌসুম ছিল।[৮]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আটটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন মাইকেল প্যাপস। ১০ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হ্যামিল্টনে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৬ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ঘরোয়া আসরে সুন্দর খেলা প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হন। পূর্বেকার মৌসুমে সকল খেলায় অংশ নিয়ে সহস্রাধিক রান তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দলে রাখা হয়। এরফলে, নিউজিল্যান্ড দলে দীর্ঘদিনের কার্যকরী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের শূন্যতা পূরণ হয়। তিনি স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সাথে জুটি গড়েন। অভিষেক খেলায় ৫৯ রান তুলেন। তবে, এরপর থেকেই ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়তে থাকেন।

দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জনে সক্ষম না হলেও ২০০৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে তাকে নিউজিল্যান্ড দলে রাখা হয়। ক্রেইগ ম্যাকমিলানের আঘাতের কারণে হেডিংলিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ৮৬ রান তুলেন। তবে, এরজন্যে তাকে বেশ মূল্য দিতে হয়। আঙ্গুলে আঘাত পান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। নিউজিল্যান্ড সিরিজে পরাজিত হয়।

অস্ট্রেলিয়া গমনসম্পাদনা

২০০৫ সালের শুরুতে অকল্যান্ডে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে ব্রেট লি’র বাউন্সারে দুইবার মাথায় আঘাত পান। মাথা স্ক্যান করে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও এ ঘটনার পর আর তিনি কোন ওডিআইয়ে অংশ নেননি।[৯] ভাঙ্গা আঙ্গুল, কাঁধে চোট ও ব্রেট লি’র বলে মাথায় আঘাতের পর ২০০৬ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাকে দলে পুণরায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। টেস্টগুলোয় চারবার ২২ রানের কোটা অতিক্রম করতে পারেননি।

তাসত্ত্বেও, ২০০৬-০৭ মৌসুমে বেশ ভালোমানের ঘরোয়া মৌসুম অতিবাহিত করার কারণে দল নির্বাচকমণ্ডলী তার প্রতি দৃষ্টি রেখেছিলেন। ৯১.৩৬ গড়ে ১০০৫ রান তুলেন। রানের দিক দিয়ে নিকটতম ব্যাটসম্যানের চেয়ে প্রায় আড়াইশত রানের ব্যবধান ছিল। ২০০৭-০৮ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। তবে, ঐ সিরিজের প্রত্যেকটিতে এক অঙ্কের কোটার বাইরে রান তুলতে পারেননি তিনি। এরপর থেকে তাকে দলের বাইরে রাখা হয় ও আর তাকে নিউজিল্যান্ড দলে খেলতে দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই দূর্দান্ত খেলা উপহার দিতে থাকেন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্লাঙ্কেট শীল্ড প্রতিযোগিতায় দশ সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেন। এপ্রিল, ২০১৮ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন মাইকেল প্যাপস।[১০]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. [১]
  2. "Papps first to 10000 Plunket Shield runs as Wellington beat Auckland"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৬ 
  3. "Cricket Wellington signs Michael Papps"। canterburycricket.org। ৭ জুলাই ২০১১। ২১ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  4. "Plunket Shield at Wellington, Oct 23-26 2017"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৭ 
  5. "Michael Papps and Luke Woodcock smash records with mammoth opening stand for Wellington"Stuff। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৭ 
  6. "Record-breaking Papps stars in crushing Wellington win"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৭ 
  7. "Cricket: Michael Papps and Luke Woodcock smash records with mammoth opening stand for Wellington"New Zealand Herald। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৭ 
  8. "Plunket Shield, 2017/18: Most runs"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১৮ 
  9. "Early exits for Tuffey and Papps"Cricinfo। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৫। 
  10. "New Zealand's Michael Papps calls time on career"International Cricket Council। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১৮ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা