৩ নভেম্বর ১৯৭৫-এ বাংলাদেশে অভ্যুত্থান

১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিচক্রকে ক্ষমতার আসন থেকে উৎখাত করার জন্য একটি রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত করেন।

৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশের সামরিক অভ্যুত্থান
মূল যুদ্ধ: বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থান
তারিখ৩–৭ নভেম্বর ১৯৭৫ (৫ দিন)
অবস্থান
ফলাফল

অভ্যত্থানের উদ্দেশ্যগুলো সাময়িকভাবে সফল হলেও দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভে ব্যর্থ হয়

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের পতন ঘটে
  • শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত জুনিয়র অফিসাররা দেশত্যাগে বাধ্য হন
  • চীফ অফ স্টাফ জিয়াউর রহমান পদচ্যুত ও গৃহবন্দি হন
  • ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ চীফ অফ স্টাফ পদে অধিষ্ঠিত হন
যুধ্যমান পক্ষ
  •  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ৪৬ তম পদাতিক ব্রিগেড
  • সমর্থন:

    ১ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট
    ৪র্থ বেঙ্গল রেজিমেন্ট
    ১০ম বেঙ্গল রেজিমেন্ট
    ১৫তম বেঙ্গল রেজিমেন্ট
     বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ২য় ফিল্ড আর্টিলারি
    ১ম বেঙ্গল ল্যান্সার (ট্যাংক রেজিমেন্ট)
    সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী
  • খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  • মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান
  • মেজর খন্দকার আবদুর রশীদ
  • মেজর শরীফুল হক ডালিম
  • পটভূমিসম্পাদনা

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সৈয়দ ফারুক রহমানের নেতৃত্বে কতিপয় অসন্তুষ্ট ও উচ্চাভিলাষী জুনিয়র অফিসারদের সংঘটিত অভ্যুত্থানে নিহত হন। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি ও মুজিবনগর সরকারপ্রধান (বাংলাদেশী প্রবাসী সরকার) ছিলেন। ১৯৭২ সালে জাতীয় রক্ষীবাহিনী প্রতিষ্ঠা, ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও ৭ জুন ১৯৭৫ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠা করে একদলীয় গণতন্ত্র প্রথা চালু করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশের সমাদৃত হয়নি।[১] খন্দকার মোশতাক আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রীসভার বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ১৫ই আগস্ট অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত অফিসারদের সমর্থন করেন এবং নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।.[২]

    ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন বাঙালি অফিসার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি মুজিবনগর সরকার কর্তৃক মুক্তিবাহিনীর ২ নং সেক্টর কমাণ্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। যুদ্ধে তিনি মাথায় বুলেটের আঘাত পান এবং ভারতের লখনউতে চিকিৎসা নেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত হন।[৩] ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চীফ অফ জেনারেল স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন।[৪]

    নিহত চার নেতাসম্পাদনা

    তথ্যসূত্রসম্পাদনা

    1. Rashid, Harun। "Rahman, Bangabandhu Sheikh Mujibur"en.banglapedia.org (ইংরেজি ভাষায়)। Banglapedia। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৮ 
    2. Khan, Saleh Athar। "Ahmad, Khondakar Mostaq"en.banglapedia.org (ইংরেজি ভাষায়)। Banglapedia। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৮ 
    3. Khan, Muazzam Hussain। "Mosharraf, Major General Khaled"en.banglapedia.org (ইংরেজি ভাষায়)। Banglapedia। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৮ 
    4. "Khaled Mosharraf the mastermind"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ১ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৮ 
    5. "ইসলাম, সৈয়দ_নজরুল"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-১০ 
    6. "আহমদ, তাজউদ্দিন"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-১০ 
    7. "কামারুজ্জামান, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-১০ 
    8. "আলী, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-১০