হেলেন (অভিনেত্রী)

ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতী

হেলেন জেইরাগ রিচার্ডসন হলেন একজন ভারতীয় অভিনেত্রী এবং এংলো বার্মিজ বংশোদ্ভুত নৃত্যশিল্পি যিনি মুলত হিন্দি ছবিতে কাজ করে থাকেন। তিনি ৫০০টির উপরে চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।[২] তিনি প্রায়ই তার সময়ে আইটেম গানের জন্য জনপ্রিয় একজন নর্তকী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।[৩] এছাড়াও তিনি তার জনপ্রিয় ৪টি চলচ্চিত্র ও ১টি বইয়ের জন্য অনপ্রাণিত ছিলেন।[৪]

হেলেন
Helen at Kallista Spa opening.jpg
জন্ম
হেলেেন রিচার্ডসন

(1938-11-21) ২১ নভেম্বর ১৯৩৮ (বয়স ৮২)[১]
পেশাঅভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী
কর্মজীবন১৯৫১–বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীসেলিম খান (১৯৮১–বর্তমান)
সন্তানঅর্পিতা খান
আত্মীয়সালমান খান (সম পুত্র)
আরবাজ খান (সম পুত্র)
সোহেল খান (সম পুত্র)

প্রাথমিক জীবন এবং পটভূমিসম্পাদনা

হেলেন ১৯৩৯ সালের ২১ ডিসেম্বর তারিখে একটি এংলো ভারতীয় পিতা এবং বর্মী মায়ের ঘরে বার্মায় জন্মগ্রহণ করেন।[৫] তার রজার নামের একটি ভাই এবং জেনিফার নামে একটি বোন রয়েছে। তার পিতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মৃত্যুবরণ করেন।[৬]

কর্মজীবনসম্পাদনা

 
১৯৭৪ সালের মার্চে হেলেন

হেলেনকে বলিউডে পরিচয় করিয়ে দেন কুকো নামের একজন বন্ধু হিসাবে পরিচিত একজন অভিনেত্রী যিনি তাকে কাজ খুঁজতে সাহায্য করেছিলেন; যাতে করে তিনি "সাবিস্তান" এবং "আওয়ারা" (১৯৫১) চলচ্চিত্রে একজন নর্তকী হিসেবে অভিনয় করার সুযোগ পান। এরপর তিনি খুব শ্রীঘ্রই কাজে নিয়মিত হন এবং আলিফ লায়লা (১৯৫৪), হুর-ই-আরব (১৯৫৫), এবং জনপ্রিয় গান "মি. জন ও বাবা খান" বারিশ ইত্যাদি চলচ্চিত্রে একজন একক শিল্পী হিসাবে দেখা গিয়েছিল।

চিত্র্যনাট্যাকার সেলিম খান জাভেদ আখতার সঙ্গে সহকারী স্ক্রিপ্ট হিসেবে কিছু চলচ্চিত্রে তাকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। যেমন: ইমান ধর্ম, ডন, দোস্তানা, এবং শোলে। এইসব চলচ্চিত্রগুলির ভূমিকা অনুসরণ করে তিনি মহেশ ভাটের চলচ্চিত্র "লাহু কে দো রাঙ (১৯৭৯) তে অসাধারন অভিনয় করেন। যার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ সহ-তারকার পুরস্কার জিতে নেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।

হেলেন আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৩ সালে চলচ্চিত্র থেকে অবসর গ্রহণ করেন; কিন্তু এরপর থেকে তিনি "খামোশি: দ্যা মিউজিক্যাল (১৯৯৬) এবং "মোহাব্বাতে (২০০০) চলচ্চিত্রে অতিথি চরিত্রে হাজির হন। এছাড়াও তিনি "হাম দিল দে চুকে সনম" চলচ্চিত্রে বাস্তব জীবনের ধাপে সম-পুত্র সালমান খান এর মায়ের চরিত্রে বিশেষ উপস্থিতি হিসেবে হাজির হন। তিনি ২০০৬ সালের "হামকো দিওয়ানা কার গায়ে" চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। হেলেনকে ঐশ্বরিয়া রাই এবং অক্ষয় কুমার এর সঙ্গে ২০০৯ সালের পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল।

অন্যান্য কর্মসম্পাদনা

এছাড়াও হেলেন লন্ডন, প্যারিস, এবং হংকং এর অসংখ্য স্টেজ শোতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৩ সালে হেলেনের "কুইন অব দ্যা নাটস গার্ল", একটি ৩০ মিনিটের মার্চেন্ট আইভরি চলচ্চিত্র থেকে তথ্যচিত্র মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটির নির্দেশনা দেন এ্যান্থনি করনার। হেলেন সম্পর্কে ২০০৬ সালে জেরি পিন্টো কর্তৃক "দ্যা লাইফ এ্যান্ড টাইমস অব এ্যান এইচ-বন্ম" শিরোনামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল।[৭][৮] যেটি ২০০৭ সালের চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ বইয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন।

হেলেন ২০০৯ সালের "ইন্ডিয়ান ড্যান্সিং কুইন" (নৃত্য প্রতিযোগিতা) এর সেমি ফাইনাল ও ফাইনালে একজন বিচারক হিসেবে কার করেন।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

হেলেন ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর ধরে তার হিতকারী চলচ্চিত্র পরিচালক পিএন আরোরার সঙ্গে বসবাস করতেন। তার ৩৫তম জন্মদিনের সময়ে তিনি তার থেকে বিচ্ছেদ হয়ে যান।[৯] ১৯৮১ সালে হেলেন সেলিম খান এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার ২য় স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা পান। এই দম্পতির অর্পিতা খান নামে একটি মেয়ে রয়েছে। সালমান খান, সোহেল খান এবং আরবাজ খান হলেন তার সম-সন্তান বা সৎছেলে। তিনি "হাম দিল দে চুকে সানাম" চলচ্চিত্রে সালমান খান এর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও খামোশি: দ্যা মিউজিক্যাল এবং দিল নে জিসে আপনা কাহাতে শ্বাশুড়ীর চরিত্রে এবং "মেরিগোল্ড" চলচ্চিত্রে তার নানীর চরিত্রে অভিনয় করেন। হেলেন এর একটি ভাইঝি নিনা এবং নিখিল নামের ভাতিজা আছে।

হেলেন এর অভিনীত জনপ্রিয় গানসম্পাদনা

  • "মেরে নাম চিন চিন চু" - হাওড়া ব্রিজ (১৯৫৮)
  • "ওয়ে মা ওয়ে মা ইয়ে ক্যা হো গায়া" - পরশমনি (১৯৬৩)
  • "গাম চদ কে মানাও রঙ্গ রিলি" - গুমনাম (১৯৬৫)
  • "ও হাসিনা জুলফওয়ালে " - তিসরি মঞ্জিল (১৯৬৬)
  • "আ জানে জান" - ইন্তেকাম (১৯৬৯)
  • "পিয়া তু আন তো আজা" - ক্যারাভান (১৯৭১)
  • "আয়ে নওজয়ান হ্যায় সাব" - অপরাধ (১৯৭২)
  • "আজ কি রাত কই আপনে কই হ্যায়" - অনামিকা (১৯৭৩)
  • "মেহবুবা ও মেহবুব " - শোলে (১৯৭৫)
  • "মুঙ্গলা ম্যায় গুড কি দালি" - ইনকার (১৯৭৮)
  • "ইয়ে মেরা দিল প্যায়ার কে দিওয়ানা " - ডন (১৯৭৮)
  • "ইয়ে পাল চঞ্চল " - কালিচরণ (১৯৭৬)

পুরস্কার এবং সন্মাননাসম্পাদনা

নির্বাচিত চলচ্চিত্রের তালিকাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

Notes
  1. "Helen celebrates 72nd birthday on Nov 21st"। bbc.co.uk। ২১ অক্টোবর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১২ 
  2. Jerry Pinto (১ মার্চ ২০০৬)। Helen: The Life and Times of an H-Bomb। Penguin Books India। আইএসবিএন 978-0-14-303124-6। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  3. Mukherjee, Madhurita (৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৩)। "Revamping Bollywood's sexy vamps"Times of India। ৩ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১০ 
  4. "Helen"। OutlookIndia। ১৭ এপ্রিল ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১১ 
  5. "Helen Richardson"। liveindia.com। ১৮ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০১২ 
  6. [://www.upperstall.com/people/helen "Helen Upperstall profile"] |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। Upperstall.com। ৮ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রু ২০১৩ 
  7. "'Helen: The Life and the Times of an H-Bomb'"। ২৩ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৪ 
  8. Rediff Interview / Jerry Pinto ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে 29 March 2006.
  9. "Salim vows to marry Helen"। picasaweb.google.com। ৮ মার্চ ২০১২। ৯ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০১২ 
  10. "1st Filmfare Awards 1953" (PDF)। Deep750.googlepages.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১১ 
Further reading

বহিঃসংযোগসম্পাদনা