হরিচাঁদ ঠাকুর

হিন্দুধর্মীয় সাধক ও মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরু ও সমাজ সংস্কারক

হরিচাঁদ ঠাকুর [মধুকৃষ্ণাতিথি, মহাবারুনী, বুধবার , ১২১৮ বঙ্গাব্দ] (১১ মার্চ ১৮১২ – ৫ মার্চ ১৮৭৮) মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রবর্তক। তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া নিম্নশ্রেণির অথবা, দলিত মানুষের উন্নয়নে নানান কাজ করেছিলেন। এই লক্ষ্যে হরিতনয় শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ ঠাকুর ০৯ অক্টোবর, ১৯৩২ সালে মতুয়াদের জন্য একমাত্র সংগঠন শ্রীশ্রীহরি-গুরুচাঁদ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন যা পরর্বতীতে শ্রীশ্রীহরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন নামে পরিচালিত হয়। যার কেন্দ্রীয় কার্যালয় শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে অবস্থিত এবং বর্তমান সভাপতি মহা-মতুয়াচার্য শ্রীপদ্মনাভ ঠাকুর, সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক গুরু (মতুয়া সম্প্রদায়) এবং গদিসমাসীন ঠাকুর পূণ্য লীলাভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দি।

হরিচাঁদ ঠাকুর
জন্ম
শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর

(১৮১২-০৩-১১)১১ মার্চ ১৮১২
[[শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি][ওড়াকান্দি ইউনিয়ন]], কাশিয়ানী উপজেলা, গোপালগঞ্জ জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি , ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু৫ মার্চ ১৮৭৮(1878-03-05) (বয়স ৬৫)
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয়
পরিচিতির কারণধর্ম ও সমাজ সংস্কারক
সন্তানগুরুচাঁদ ঠাকুর
আত্মীয়[[ড. ভগবতী প্রসন্ন ঠাকুর][ডা শ্রীপতি ঠাকুর][প্রমথ রঞ্জন ঠাকুর]] (প্রপৌত্র)

সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্পাদনা

শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর[১] ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই মার্চ (১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৯ ফাল্গুন বুধবার,কৃষ্ণা ত্রয়োদশী) অবিভক্ত বাংলার গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার অন্তর্গত ওড়াকাঁন্দির পার্শ্ববর্তী সাফলাডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার মাতা-পিতার নাম অন্নপূর্ণা বৈরাগী ও যশোমন্ত বৈরাগী। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সেভাবে হয়নি, কিন্তু প্রেম-ভক্তির কথা সহজ-সরলভাবে প্রচার করতেন। বৈষ্ণব বাড়িতে জন্ম হওয়ার কারণে শাস্ত্র আলোচনার মাধ্যমে হিন্দু ও বৌদ্ধ শাস্ত্রের সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন, বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করার সুযোগে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন তিনি।[২] তার প্রচলিত সাধন পদ্ধতিকে বলা হতো মতুয়াবাদ। তার দুই ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুর ও উমাচরণ ঠাকুর। শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর তার পিতা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মৃত্যুর পর মতুয়া ধর্মের উন্নতিসাধন, শিক্ষার প্রসারে ব্রতী হয়েছিলেন। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবনী নিয়ে কবি রসরাজ তারক চন্দ্র সরকার শ্রীশ্রী হরিলীলামৃত নামক গ্রন্থটি রচনা করেন।[৩] শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর একজন মহাপুরুষ হিসাবে অবতার যা তার অনুসারিরা(ভক্তরা) সকলে বিশ্বাস করেন এবং তাকে বলা হয় পতিতপাবন। তাঁর ভক্তরা তাঁকে শ্রীচৈতন্যদেব এবং গৌতম বুদ্ধের যৌথ অবতার বলে মনে করতো। তাঁর প্রচারিত মতুয়া ধর্মে কোনো দেব-দেবীর স্থান নেই। ভক্ত ও অনুসারীদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি বাণী প্রচার করেছিলেন 'মুখে হরি নাম কৃষ্ণ নাম হাতে কাম'। হরিবোল কথাটির অর্থ এখানে শ্রী হরী বিষ্ণু বলা হয়েছে। হরিচাঁদ কখনো নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেননি।

মৃত্যু সম্পাদনা

হরিচাঁদ ঠাকুর ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২৩ ফাল্গুন ইংরেজি ৫ মার্চ ,১৮৭৮ খৃস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

ঠাকুরবাড়ি ও মতুয়া ধাম সম্পাদনা

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার ওড়াকাঁন্দি-তে হরিচাঁদ ঠাকুরের ঠাকুরবাড়ি অবস্থিত। এটি গোবরা-কাশিয়ানী একক ডিজেল রেললাইনের কাছে ছোট বাহিরবাগ স্টেশন থেকে ৮ কিমি উত্তর-পূর্বে দিকে অবস্থিত। এর পূর্বে রাজপাট ইউনিয়ন অবস্থিত।

প্রতি বছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথীতে ঠাকুর বাড়িতে মহাবারুনি পূণ্য স্নান ও মতুয়া মহামেলা অনুষ্ঠিত হয়। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি ও মতুয়া ধাম বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মতুয়া ধাম ঠাকুরনগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। প্রতিবছর চৈত্র মাসে মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ও তার কনিষ্ঠপুত্র শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে মতুয়া ধামে মতুয়া মহামেলা মহা মেলাবসে।[৪][৫]

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "ঠাকুর, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ"। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  2. "দলিত মানুষের ত্রানকর্তা"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  3. মনোরঞ্জন ঘোষ (২০১২)। "ঠাকুর, হরিচাঁদ"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  4. "ঠাকুরনগরে শুরু হল মতুয়া মেলা"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২১ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ 
  5. "Meet the matuas"ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ সম্পাদনা