লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত সহশিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত একটি বিদ্যালয় (১ম থেকে ১০ম শ্রেণী)।[১] ১৯১৯ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়টি উত্তরবঙ্গ তথা সমগ্র বাংলাদেশের প্রাচীন বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি। জাতীয় শিক্ষাক্রমের অধীনে বাংলা মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করা হয়। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে আসন খালি থাকার শর্তে সকল শ্রেণীতে ছাত্র ভর্তি করা হয়ে থাকে। বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংখ্যা ৫২ জন এবং প্রায় ১৬০০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে থাকে।[২]

লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
অবস্থান
থানা রোড, লালমনিরহাট

স্থানাঙ্ক২৫°৫৪′৫৯″ উত্তর ৮৯°২৬′৫৩″ পূর্ব / ২৫.৯১৬৩৯° উত্তর ৮৯.৪৪৮০৬° পূর্ব / 25.91639; 89.44806
তথ্য
ধরনসরকারি
প্রতিষ্ঠাকাল১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (জাতীয়করণ ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ)
প্রতিষ্ঠাতাস্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ
বিদ্যালয় বোর্ডমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর
শিক্ষাবিষয়ক কর্তৃপক্ষমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
শ্রেণীপ্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল
Ministry of Education Institution no.শিক্ষা অধিদপ্তর জাতীয় শিক্ষা অধিদপ্তর
কর্মকর্তা১০০(প্রায়)
শ্রেণীশ্রেণী ১-১০
লিঙ্গবালক
শিক্ষার্থী সংখ্যাপ্রায় ১৬০০
ভাষার মাধ্যমবাংলা
ভাষাবাংলা
ডাকনামLGHS

অবস্থানসম্পাদনা

বিদ্যালয়টি লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার থানা রোডে অবস্থিত। এর বিপরীতে লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। লালমনিরহাট জেলা ডাকঘর ও লালমনিরহাট সদর থানার নিকটবর্তী।

ইতিহাসসম্পাদনা

তৎকালীন ব্রিটিশ আমলের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উদ্যোগে ১৯১৯ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। তখন বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিল গণেশ নারায়ণ করনেশন ইন্সিটিউট নামে। ১৯২২ সালে বিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্ত হয় এবং এর নতুন নামকরণ করা হয় এইচ. ই. স্কুল। পরবর্তীতে রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ার ও অফিসারদের তত্বাবধায়নে বিদ্যালয় ভবনের কাজ শুরু হয় এবং রেলওয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

১৯২৪ সালে এই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং স্বর্গীয় কৃষ্ণ মোহন বর্মা প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন নৃসিংহ প্রসাদ সিদ্ধার্থ মহাশয়। পরবর্তীতে ১৯২৮ সালে শ্রীশ চন্দ্র সান্যাল নামের একজন প্রতিভাবান শিক্ষক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় তার অধীনে বিদ্যালয়টি উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৫৮ সালে মজিবর রহমান খন্দকার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেন এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করেন। সে সময় বিদ্যালয়টি লালমনিরহাট মডেল হাইস্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৮০ সালের পহেলা জানুয়ারী লালমনিরহাট মহকুমা গঠিত হলে নবগঠিত মহকুমার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে এই বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের দাবী ওঠে। ১৯৮১ সালের ৪ এপ্রিল এটি জাতীয়কণ করা হয়।

২০১০ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে দ্বৈত শিফ্‌ট চালু হয়। ২০১০ সালে শুধুমাত্র ১ম শ্রেনীতে এবং ২০১১ থেকে সকল শ্রেণিতে প্রভাতী ও দিবা দুইটি শিফ্‌টে পাঠদান শুরু হয়।[২]

সময়সূচীসম্পাদনা

প্রভাতি শিফ্‌ট দিবা শিফ্‌ট
ক্লাস শুরুঃ সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট ক্লাস শুরুঃ দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিট
ক্লাস শেষঃ দুপুর ১১ টা ৪৫ মিনিট ক্লাস শেষঃ বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিট

ফলাফলসম্পাদনা

সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমসম্পাদনা

খেলাধুলাসম্পাদনা

বিদ্যালয়টি খেলাধুলায় বারাবরই কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে এসেছে। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি ইত্যাদি খেলায় এই স্কুলের ছাত্রদের সাফল্য চোখে পড়ার মত। এই স্কুলের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান লিপু ইয়ং টাইগার্স জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-এ একাই সর্বমোট ৩২৫ রান করেন যা বয়সভিত্তিক এবং জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের সীমিত ওভারের যেকোনো প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ও দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস।[৩]

ছবিসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ১৬ জুন ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৫ 
  2. , "লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য" মোঃ আব্দুল আউয়াল, নিকুঞ্জ ২০১০
  3. মোহাম্মদ ইসাম। "Bangladesh schoolboy scores 325 in 50-over match"ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)।