প্রধান মেনু খুলুন

রাজনৈতিক বর্ণালী হল পরস্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানকে এক বা একাধিক স্বতন্ত্র রাজনৈতিক মাত্রার প্রতিনিধিত্বকারী জ্যামিতিক অক্ষের ভিত্তিতে বৈশিষ্টায়ন ও শ্রেনীবিন্যস্ত করার ব্যবস্থা।[১] "রাজনৈতিক কম্পাস" এবং "রাজনৈতিক মানচিত্র" শব্দদ্বয় রাজনৈতিক বর্ণালীকে নির্দেশ করে এবং এগুলো মূলত রাজনৈতিক বর্ণালীর বিশ্বের জনপ্রিয় দুটি দ্বিমাত্রিক মডেল।[২][৩][৪][৫]

দীর্ঘকালব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় বর্ণালী হলো বাম-ডান মাত্রা, যা মূলত বিপ্লবের (১৭৮৯-১৭৯৯) পর ফরাসি আইনসভার আসনবিন্যাসকে নির্দেশ করে যাতে আমূল-সংস্কারবাদীরা বামে এবং অভিজাততন্ত্রীরা ডানে আসন গ্রহণ করত।[১][৬] আন্তর্জাতিকভাবে সাম্যবাদসমাজতন্ত্রকে বামপন্থা হিসেবে এবং রক্ষণশীলতাবাদফ্যাসিবাদকে ডানপন্থী বিবেচনা করা হয়। [১] উদারনীতিবাদ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অর্থ বোঝাতে পারে: কখনো বা বামপন্থা (সামাজিক উদারনীতিবাদ) আবার কখনোবা ডানপন্থা (ধ্রুপদী উদারনীতিবাদ)। মধ্যবর্তী দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্নদেরকে মাঝে মাঝেকেন্দ্রপন্থী হিসেবে শ্রেণীকরণ করা হয় সে হিসেবে উদারনীতিবাদী এবং নব্যউদারনীতিবাদীদেরকেও কেন্দ্রপন্থী ধরা হয়। যে রাজনীতিতে প্রথাগত বাম-ডান বর্ণালীকে স্বীকার করা হয় তাকে মিশ্র রাজনীতি বলা হয়,[৭][৮] যদিও আখ্যা দ্বি-অক্ষ বর্ণালীতে একটি যৌক্তিক অবস্থান রয়েছে এমন মতাদর্শগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে কারণ সাধারণভাবে মনে হয় এটি একটি অক্ষের বাম-ডান বর্ণালীতে এলোমেলোভাবে আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন যে একক বাম-ডান অক্ষ রাজনৈতিক বিশ্বাসের বিদ্যমান বৈচিত্র বর্ণনা করার জন্য খুব সহজ এবং অপর্যাপ্ত। তাই তারা অন্যান্য অক্ষ অন্তর্ভুক্ত করেন।[১][৯] পোলার বিপরীতে বর্ণনামূলক শব্দগুলি পরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও জনপ্রিয় বাইবিয়াম বর্ণালীতে সাধারণত অর্থনৈতিক বিষয় (বাম-ডান মাত্রা) এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয় (কর্তৃপক্ষ-স্বাধীনতা মাত্রা) দুটি অক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১][১০]

পদদ্বয়ের ঐতিহাসিক ব্যুৎপত্তিসম্পাদনা

"ডান" এবং "বাম" পদদ্বয় ফরাসি বিপ্লবের প্রথমদিকে ১৭৮৯-৯৯ এর দশকে উদ্ভব হয় এবং প্রকৃতপক্ষে এটি ফ্রান্সের বিভিন্ন সংসদের আসন বিন্যাস নির্দেশ করত। [৬] স্পিকারের আসনে বসে আইনসভার সামনে থেকে দেখলে, অভিজাততন্ত্রবাদীরা ডানে (প্রথাগত সম্মানিত আসন) ও সাধারণরা বামে বসতো এবং তার ফলে বামপন্থী রাজনীতি এবং ডানপন্থী রাজনীতি শব্দদ্বয়ের আবির্ভাব ঘটে। [৬]

আসলে আদর্শিক সংজ্ঞা প্রদান করা হয় Ancien Régime ("প্রাচীন আদেশ") অনুসারে। এটি অনুযায়ী "ডান" বলতে অভিজাততন্ত্র বা রাজকীয় স্বার্থ এবং গির্জার সমর্থনকে বোঝায়, যেখানে "বাম" বলতে প্রজাতন্ত্রবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার সমর্থনকে বোঝায়।[৬] কারণ বিপ্লবের শুরুতে রাজনৈতিক ভোটাধিকার তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ ছিল, প্রকৃত "বামপন্থীরা" মূলত বুর্জোয়াদের স্বার্থ, ক্রমবর্ধমান পুঁজিবাদী শ্রেণীকে প্রাধান্য দিত (প্রোটো-কমিউনিস্ট বাবুফের মতো উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রমও ছিল)। বামপন্থী রাজনীতিবিদরা লেসে-ফেয়ার বাণিজ্য এবং মুক্ত বাজারের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন কারণ এই উপস্থাপিত নীতিগুলি অভিজাত শ্রেণীর চেয়ে পুঁজিপতিদের পক্ষে অনুকূল ছিল, কিন্তু সংসদীয় রাজনীতির বাইরে এই মতামতগুলি প্রায়শই "ডানপন্থীদের" দিকে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়।

এই স্পষ্ট দ্বন্দ্বের কারণ হল এই সংসদীয় "বাম দিকে" আসনগ্রহণকারী বামপন্থীরা সরকারী সংসদীয় কাঠামোর (যেমন ফরাসী বিপ্লবের সান-কুলোটিস) বাইরে বেশিরভাগ সময়ই বেকার, দরিদ্র কৃষক এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। ফরাসি বিপ্লবের সময় তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ অভিজাততান্ত্রিকদের বিরোধিতা করে এবং তাই তারা নিজেদেরকে প্রাথমিক পুঁজিপতিদের সাথে সংশ্লিষ্ট মনে করে। তবে, এর অর্থ এই নয় যে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ তাদের মত যারা লেসে-ফেয়ারকে তাদের রাজনৈতিক নীতিমালা হিসেবে প্রদান করে।

অর্থনীতিতে পুঁজিবাদ প্রাধান্য বিস্তার করার সঙ্গে সঙ্গে অভিজাততন্ত্র অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা পুঁজিবাদী প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। মূলত "বাম" দ্বারা প্রকাশিত পুঁজিবাদী নীতিগুলি প্রকাশিত হওয়ার পরিবর্তে বাণিজ্য ইউনিয়নবাদী, সমাজতান্ত্রিক, নৈরাজ্যবাদী এবং কমিউনিস্ট রাজনীতিতে আংশিকভাবে বাণিজ্য শ্রেণীর আকার বৃদ্ধি করে এবং মূলত "বাম" দ্বারা প্রকাশিত হওয়ার পরিবর্তে "বাণিজ্য শিল্পের" মাধ্যমে আংশিকভাবে প্রকাশ করা শুরু করে। এই বিবর্তন প্রায়ই সংসদীয় রাজনীতিবিদরা লেসে-ফেয়ার অর্থনৈতিক নীতি থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, যদিও এটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মাত্রায় ঘটেছে, বিশেষ করে যারা তূলনামূলক বেশী কর্তৃত্ববাদী-বাম দেশ, যেমন সোভিয়েত ইউনিয়ন বা চীন (মাও সে তুং এর অধীনে চীনের)। এভাবে, আমেরিকান রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে "বাম" শব্দটি দ্বারা হয়তো "উদারনীতিবাদ" কে বোঝানো হয় এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি, কিন্তু ফ্রান্সের মতো দেশে এই অবস্থান তূলনামূলকভাবে ডানপ্নথী কিংবা সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং "বামপন্থী" বলতে "লিবারেল" এর চেয়েও "সমাজতান্ত্রিক" বা "সমাজতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক" অবস্থান বোঝায়।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণসম্পাদনা

গত এক শতক ধরে সামাজিক বিজ্ঞানীরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন কীভাবে রাজনৈতিক বৈচিত্র‍্যকে বর্ণনা করা যায়। তারই কিছু নিচে দেয়া হল

লিওনার্ড ডব্লিউ ফার্গুনসনসম্পাদনা

১৯৫০ সালে লিওনার্ড ওয়া ফার্গুসন দশটি মানদন্ডের সাহায্যে রাজনৈতিক মতকে বিস্লেষণ করেছেন: জন্ম নিয়ন্ত্রণ, সর্বোচ্চ শাস্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, সাম্যবাদ, বিবর্তন, আইন, দেশপ্রেম, আস্তিক্যবাদ, অপরাধী এবং যুদ্ধে আচরণ। কারণ বিশ্লেষণে এসব ফলাফল জমা দিয়ে তিনি তিনটি মানদন্ড চিহ্নিত করতে সক্ষম হন যাদেরকে তিনি ধর্মবাদ, মানবতাবাদ এবং জাতীয়তাবাদ নামকরণ করেন। তিনি ধর্মবাদকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং বিবর্তনজন্ম নিয়ন্ত্রণ-এর প্রতি নেতিবাচক ধারণা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন; মানবতাবাদকে যুদ্ধ, মৃত্যুদন্ড এবং অপরাধীর প্রতি কঠোর আচরণের বিরোধিতা হিসেবে ; এবং জাতীয়তাবাদকে সেন্সর ব্যবস্থা, আইন, দেশপ্রেম ও সাম্যবাদের প্রতি মতামতের বৈচিত্র‍্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।

এই ব্যবস্থাটি বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক ভিত্তির পরিবর্তে ব্যবহারিকভাবে আবির্ভাব ঘটানো হয়েছিল। এই পদ্ধতির ফলে ফার্গুসনের তিনটি কারণের ব্যাখ্যাটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত কেননা যদি একটি নিখুঁত বাস্তব মাপকাঠি নেয়া না হয় তবে কারণ বিশ্লেষণ একটি বিমূর্ত কারণ প্রদান করবে। [১১] যদিও জাতীয়তাবাদের মানদন্ডের প্রতিলিপি অসঙ্গত ছিল, তবে ধর্মবাদ ও মানবিকতাবাদ আবিষ্কার ফার্গুসন এবং অন্যান্যরা মূল্যায়ন করেছিল। [১২][১৩]

হ্যানস আইসেনকসম্পাদনা

 
হ্যান্স আইসেনক অনুযায়ী রাজনৈতিক বর্ণালীর ডায়াগ্রাম

এর খুব অল্প সময়ের পরে, হান্স আইজেন্ক গ্রেট ব্রিটেনে রাজনৈতিক মনোভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে একদিকে জাতীয় সমাজতন্ত্রীদের (নাৎসিরা) এবং অন্যদিকে কমিউনিস্টদের সম্পর্কে বাম-ডান অক্ষের বিপরীত অবস্থান সত্ত্বেও মূলত কিছুটা মিল ছিল। হ্যান্স আইশেনস ১৯৫৬ সালে "সেন্স অ্যান্ড ননসেন্স ইন সাইকোলজি" [১৪] বইয়ে পত্রিকা এবং রাজনৈতিক স্থানগুলিতে পাওয়া রাজনৈতিক বিবৃতিগুলির তালিকা সংকলন করেন এবং প্রতিটি বিষয়ে তাদের চুক্তি বা মতবিরোধের জন্য উল্লেখ করেন। ফার্গুসনের ব্যবহৃত একই প্রক্রিয়ায় কারণ বিশ্লেষণে এই জরিপ জমা দেওয়ার সময় আইজেন্ক দুটি কারণ চিহ্নিত করেছিলেন, যার নাম তিনি রেখেছিলেন "আমূল সংস্কারবাদী" (আর-ফ্যাক্টর) এবং "কোমল মানসিকতা" (টি-ফ্যাক্টর)।

এই বিশ্লেষণ বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা সম্বন্ধে তথ্য প্রদান করে এবং তাই ব্যাখ্যাটিতে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আইজেনকের আর-ফ্যাক্টরটি প্রথাগত "বাম-ডান মাত্রার" সঙ্গে সহজেই সংশ্লিষ্ট করা গেলেও টি-ফ্যাক্টরটি (আর-ফ্যাক্টরের সঙ্গে সমকোণে অঙ্কিত মাত্রা) নিরূপণ করা কঠিন কেননা এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্কোরকারীরা শান্তিবাদ,জাতিগত সমতা, ধর্মীয় শিক্ষাকে সমর্থন ও গর্ভপাতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করলেও নিম্ন স্কোরকারীরা সামরিক শাসন, কঠোর শাস্তি, সহজলভ্য বিবাহবিচ্ছেদ আইন এবং সঙ্গী বিয়ের প্রতি নমনীয় অবস্থানে থাকে।

পদ্ধতি, অবস্থান এবং তত্ত্বের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আইসেনক এবং ফার্গুসনের ফলাফল সাদৃশ্যপূর্ণ। আইজেনকের দুটি মানদন্ডকে কেবল ৪৫ ডিগ্রি ঘোরালে আমেরিকাতে ফার্গুসন দ্বারা চিহ্নিত ধর্মতত্ত্ব ও মানবতাবাদের একই মানদন্ড পাওয়া যায়।[১৫]

আইজেনকের আর এবং টি এর মাত্রাগুলি জার্মানি, সুইডেন[১৬], ফ্রান্স [১৫] এবং জাপানে[১৭] প্রাপ্ত মানের কারণ বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায়।

আইজেনক তার ১৯৫৬ সালের কর্মে একটি চাঞ্চল্যকর ফলাফল লক্ষ্য করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং গ্রেট ব্রিটেনের অধিকাংশ রাজনৈতিক বৈচিত্র‍্য বাম/ডান অক্ষে অবস্থান করলেও ফ্রান্সে টি-অক্ষটি বৃহত্তর এবং মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র টি-অক্ষই পাওয়া যায়:

আইজেনকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক গবেষণার মধ্যে সম্পর্কসম্পাদনা

আইজেনকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তার গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত: আইজেন বাম ও ডানপন্থীদের কর্তৃত্ববাদী নির্যাতন হিসাবে অনুধাবন করেন যা তার বিরোধী ছিল এবং সেই অনুযায়ী তিনি বিশ্বাস করেন যে এই টি-অক্ষের সাথে তিনি নাৎসিবাদসাম্যবাদের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। আইসেনের মতে, উভয় ভাবাদর্শের সদস্যরাই কট্টরপন্থী। আইজেনকের গবেষণার কেন্দ্রে এই দাবি ছিল যে নমনীয়-মানসিকতার মতাদর্শগুলি গণতান্ত্রিক এবং মানবিক স্বাধীনতার পক্ষে বন্ধুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে কট্টর-মনস্তাত্ত্বিক মতাদর্শগুলো আক্রমনাত্মক এবং কর্তৃত্ববাদী। এই প্রসঙ্গে আইজেনক নাৎসিবাদ ও সাম্যবাদীদের উপর গবেষণা চালিয়ে বলেন যে, নিয়ন্ত্রণকারী দলের চেয়ে সদঅস্যরা অধিক "কর্তৃত্বপরায়ণ" ও "আক্রমণাত্বক"।[১৫]

আইজেনকের গবেষণার সমালোচনাসম্পাদনা

আইজেনকের কট্টরপন্থীর ধারণা একাধিক কারণে সমালোচিত হয়েছে।

  • বিমূর্তভাবে শুধুমাত্র কট্টর-কোমল মাত্রার জন্য কোনো মান পাওয়া যায় নি।
  • "কর্তৃত্ববাদী" বনাম কোমল-মনস্তাত্ত্বিক "গণতান্ত্রিক" মূল্যবোধের প্রকাশ হিসেবে কট্টরপন্থার ব্যাখ্যার সঙ্গে ফ্রাংকফুট স্কুল এর একক-অক্ষীয় মডেল এর অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। [১৮]
  • পর্যবেক্ষণকারী মাত্রায় বহির্মুখিতামনোবিজ্ঞানের সাথে কট্টরপন্থার সম্পর্কের মাধ্যমে আইয়েঙ্ক যে তত্ত্বটি পৃথক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করার জন্য গড়ে তুলেছিলেন তা অস্পষ্ট ফলাফল দিয়েছে। [১৯]
  • নাৎসিবাদীসাম্যবাদীর মূলধারার রাজনৈতিক আন্দোলনের সদস্যদের চেয়ে অধিক কট্টরপন্থী- মিল্টন রোকচ আইজেনকের এই ফলাফলের সমালোচনা করেন। [২০]
  • আইজেনকের বিশ্লেষণের পদ্ধতি ছিল এমন একটি বিমূর্ত মাত্রা (একটি ফ্যাক্টর) খুঁজে পাওয়া, যা প্রদত্ত সেটের বিস্তার ব্যাখ্যা করে (এই ক্ষেত্রে, একটি রাজনৈতিক জরিপের স্কোর)। এই বিমূর্ত মাত্রা একটি বাস্তব গটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বা নাও হতে পারে এবং যখন এটি মানুষের মনোবিজ্ঞানে প্রয়োগ করা হয় তখন সমস্যা দেখা যায়। এই বিশ্লেষণের দ্বিতীয় মাত্রা (যেমন আইসেনের টি-ফ্যাক্টর) তথ্য বিস্তারের জন্য দ্বিতীয় সর্বোত্তম ব্যাখ্যা, যা প্রথম ফ্যাক্টরের সমকোণে অঙ্কিত হয়। প্রথম ফ্যাক্টর একটি সেটের মধ্যে একটি বৈচিত্র্যের প্রশস্ততা বর্ণনা করে এবং এটি কিছুটা বাস্তবায়ন করার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও পরবর্তী ফ্যাক্টরগুলি আরও বেশি এবং বিমূর্ত। এভাবে একটি ফ্যাক্টর যেটি প্রায়ই "বাম" এবং "ডান" অনুরূপ একটি ফ্যাক্টর খুঁজে (কারণ এটি আমাদের সমাজে রাজনীতির জন্য প্রচলিত মানদন্ড) কিন্তু আইসেনের "কট্টর/কোমল-মানসিকতা" তত্ত্ব (দ্বিতীয়, টি-ফ্যাক্টর) শুধুমাত্র একটি বিমূর্ত গাণিতিক তত্ত্ব। এই ধরনের গঠন মূল ফ্যাক্টরের সাথে সংশ্লিষ্ট কি না তা "কারণ বিশ্লেষণ"-এ পাওয়া যায় বলে আশা করা হয়।[২১][২২][২৩]

মিল্টন রকিচসম্পাদনা

হান্স যে আইসেনের কা সন্তুষ্ট না হতে পেরে মিল্টন রোকিচ ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতাসমতার উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক মূল্যবোধের নিজস্ব দুটি অক্ষীয় মডেল তৈরি করেন এবং তার The Nature of Human Values বইয়ে বর্ণনা করেন[২৪]

মিল্টন রোকিচ দাবি করেছেন যে বাম এবং ডানের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাম-দিকটি ডানদিকের চেয়ে অধিক সাম্যের গুরুত্বকে জোর দিয়েছিল। আইসেনের কট্টর-কোমল অক্ষের সমালোচনার সত্ত্বেও রোকিচ সাম্যবাদ ও নাৎসিবাদের মধ্যে মৌলিক সাদৃশ্য হিসেবে দাবি করেন যে এই দলগুলি সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র , গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রপুঁজিবাদীদের মতো স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেবে না এবং তিনি লিখেন যে "এখানে উপস্থাপিত দুটি মূল্যবোধের মডেল শুধুমাত্র আইযেনের অনুমান"।[২৪]

এই মডেলটি পরীক্ষা করতে মিল্টন রোকিচ এবং তার সহকর্মীরা নাৎসিবাদ (অ্যাডলফ হিটলার লিখিত), সাম্যবাদ (ভ্লাদিমির লেনিন লিখিত), পুঁজিবাদ (ব্যারি গোল্ডওয়াটার লিখিত) এবং সমাজতন্ত্র (বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক লেখক দ্বারা লিখিত)-এর বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করেন। বিশ্লেষণের অধীনে থাকা বিষয়বস্তুর সাথে পরীক্ষকের এবং গবেষকের বিশেষ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপর নির্ভরতার জন্য এই পদ্ধতিটি সমালোচিত হয়েছে।

স্থানিক মডেলসম্পাদনা

ভোটের স্থানিক মডেল ভোটার এবং প্রার্থীদের একটি বহুমাত্রিক ব্যবস্থায় স্থানাঙ্কিত করে যেখানে প্রতিটি মাত্রা একটি একক রাজনৈতিক ইস্যু[২৫][২৬], একটি ইস্যুর অংশবিশেষ[২৭] অথবা প্রার্থীর কোনো বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। [২৮] এই ব্যবস্থায় ভোটারদের "আদর্শ বিন্দু" হিসেবে মডেল বানানো হয় এবং ভোটাররা তার নিকটতম বিন্দুবিশিষ্ট প্রার্থীকে ভোট প্রদান করে। এছাড়াও এই মডেলের মাত্রা প্রার্থীদের অ-রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য যেমন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ইত্যাদি নির্দেশ করতে পারে।[২৫]

এই নিবন্ধের অন্য অধিকাংশ বর্ণালীকে স্বল্পসংখ্যক মাত্রার উপর এই ব্যবস্থার অভিক্ষেপরূপে বিবেচনা করা যেতে পারে। [২৯] উদাহরণস্বরূপ, জার্মান ভোটারদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ন্যূনতম চারটি মাত্রা প্রয়োজন।[২৯]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Heywood, Andrew (২০১৭)। Political Ideologies: An Introduction (6th সংস্করণ)। Basingstoke: Macmillan International Higher Education। পৃষ্ঠা 14–17। আইএসবিএন 9781137606044ওসিএলসি 988218349 
  2. Petrik, Andreas (২০১০-১২-০৩)। "Core Concept "Political Compass". How Kitschelt's Model of Liberal, Socialist, Libertarian and Conservative Orientations Can Fill the Ideology Gap in Civic Education"JSSE – Journal of Social Science Education (ইংরেজি ভাষায়): 4–2010: Social Science Literacy I: In Search for Basic Competences and Basic Concepts for Testing and Diagnosing। doi:10.4119/jsse-541 
  3. Sznajd-Weron, Katarzyna; Sznajd, Józef (জুন ২০০৫)। "Who is left, who is right?"। Physica A: Statistical Mechanics and Its Applications (ইংরেজি ভাষায়)। 351 (2–4): 593–604। doi:10.1016/j.physa.2004.12.038 
  4. Lester, J. C. (সেপ্টেম্বর ১৯৯৬)। "The Political Compass and Why Libertarianism is not Right-Wing"। Journal of Social Philosophy (ইংরেজি ভাষায়)। 27 (2): 176–186। doi:10.1111/j.1467-9833.1996.tb00245.xআইএসএসএন 0047-2786 
  5. Stapleton, Julia (অক্টোবর ১৯৯৯)। "Resisting the Centre at the Extremes: 'English' Liberalism in the Political Thought of Interwar Britain"। The British Journal of Politics and International Relations (ইংরেজি ভাষায়)। 1 (3): 270–292। doi:10.1111/1467-856X.00016আইএসএসএন 1369-1481 
  6. Knapp, Andrew; Wright, Vincent (২০০৬)। "1 French political traditions in a changing context" (ebk)The Government and Politics of France (English ভাষায়) (5 সংস্করণ)। Taylor and Francis। আইএসবিএন 978-0-203-40260-3France invented the terms Left and Right early in the great Revolution of 1789– 94 which first limited the powers of, and then overthrew, the Bourbon monarchy. 
  7. Griffin, Roger (১৯৯৫)। Fascism। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 8,307। আইএসবিএন 978-0-19-289249-2 
  8. Eatwell, Roger (২০০৩)। "A 'Spectral-Syncretic' Approach to Fascism"। Kallis, Aristotle A.। The fascism reader। Routledge। পৃষ্ঠা 71। আইএসবিএন 978-0-415-24359-9 
  9. Fenna, Alan; Robbins, Jane; Summers, John (২০১৩)। Government Politics in Australia। Robbins, Jane., Summers, John. (10th সংস্করণ)। Melbourne: Pearson Higher Education AU। পৃষ্ঠা 126 f। আইএসবিএন 9781486001385ওসিএলসি 1021804010 
  10. Love, Nancy Sue (২০০৬)। Understanding Dogmas and Dreams (Second সংস্করণ)। Washington, District of Columbia: CQ Press। পৃষ্ঠা 16। আইএসবিএন 9781483371115ওসিএলসি 893684473 
  11. SAS(R) 3.11 Users Guide, Multivariate Analysis: Factor Analysis
  12. Ferguson, L.W. (১৯৪১)। "The Stability of the Primary Social Attitudes: I. Religionism and Humanitarianism"। Journal of Psychology12 (2): 283–8। doi:10.1080/00223980.1941.9917075 
  13. Kirkpatrick, C. (১৯৪৯)। "Religion and humanitarianism: a study of institutional implications"। Psychological Monograph63 (9): i–23। doi:10.1037/h0093615 
  14. "politics"। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬ 
  15. Eysenck, H.J. (১৯৫৬)। Sense and nonsense in psychology। London: Penguin Books। 
  16. Eysenck, H.J. (১৯৫৩)। "Primary social attitudes: A comparison of attitude patterns in England, Germany, and Sweden"Journal of Abnormal and Social Psychology48 (4): 563–8। doi:10.1037/h0054347 
  17. Dator, J.A. (১৯৬৯)। "Measuring attitudes across cultures: A factor analysis of the replies of Japanese judges to Eysenck's inventory of conservative-progressive ideology"। Schubert, Glendon A.; Danelski, David Joseph। Comparative judicial behavior: cross-cultural studies of political decision-making in the East and West। Oxford University Press। 
  18. Stone, W.F. (১৯৮০)। "The myth of left-wing authoritarianism"। Political Psychology2 (3/4): 3–19। doi:10.2307/3790998জেস্টোর 3790998 
  19. Ray, J.J.; Bozek, R.S. (১৯৮১)। "Authoritarianism and Eysenck's P-scale"। Journal of Social Psychology113 (2): 231–4। doi:10.1080/00224545.1981.9924374 
  20. Rokeach, Milton; Hanley, Charles (মার্চ ১৯৫৬)। "Eysenck's Tender-Mindedness Dimension: A critique"Psychological Bulletin53 (2): 169–176। doi:10.1037/h0045968PMID 13297921 
  21. Wiggins, J.S. (1973) Personality and Prediction: Principles of Personality Assessment. Addison-Wesley
  22. Lykken, D. T. (1971) Multiple factor analysis and personality research. Journal of Experimental Research in Personality 5: 161–170.
  23. Ray JJ (1973) Factor analysis and attitude scales. The Australian and New Zealand Journal of Sociology 9(3):11–12.
  24. Rokeach, Milton (১৯৭৩)। The nature of human values। Free Press। 
  25. Davis, Otto A.; Hinich, Melvin J.; Ordeshook, Peter C. (১৯৭০-০১-০১)। "An Expository Development of a Mathematical Model of the Electoral Process"। The American Political Science Review64 (2): 426–448। doi:10.2307/1953842জেস্টোর 1953842Since our model is multi-dimensional, we can incorporate all criteria which we normally associate with a citizen's voting decision process — issues, style, partisan identification, and the like. 
  26. Stoetzer, Lukas F.; Zittlau, Steffen (২০১৫-০৭-০১)। "Multidimensional Spatial Voting with Non-separable Preferences"Political Analysis23 (3): 415–428। doi:10.1093/pan/mpv013আইএসএসএন 1047-1987The spatial model of voting is the work horse for theories and empirical models in many fields of political science research, such as the equilibrium analysis in mass elections ... the estimation of legislators’ ideal points ... and the study of voting behavior. ... Its generalization to the multidimensional policy space, the Weighted Euclidean Distance (WED) model ... forms the stable theoretical foundation upon which nearly all present variations, extensions, and applications of multidimensional spatial voting rest. 
  27. If voter preferences have more than one peak along a dimension, it needs to be decomposed into multiple dimensions that each only have a single peak. "We can satisfy our assumption about the form of the loss function if we increase the dimensionality of the analysis — by decomposing one dimension into two or more"
  28. Tideman, T; Plassmann, Florenz (জুন ২০০৮)। "The Source of Election Results: An Empirical Analysis of Statistical Models of Voter Behavior"Assume that voters care about the “attributes” of candidates. These attributes form a multi-dimensional “attribute space.” 
  29. Alós-Ferrer, Carlos; Granić, Đura-Georg (২০১৫-০৯-০১)। "Political space representations with approval data"। Electoral Studies39: 56–71। doi:10.1016/j.electstud.2015.04.003hdl:1765/111247The analysis reveals that the underlying political landscapes ... are inherently multidimensional and cannot be reduced to a single left-right dimension, or even to a two-dimensional space. ... From this representation, lower-dimensional projections can be considered which help with the visualization of the political space as resulting from an aggregation of voters' preferences. ... Even though the method aims to obtain a representation with as few dimensions as possible, we still obtain representations with four dimensions or more.