মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান যিনি MBZ নামেও পরিচিত, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এর তৃতীয় রাষ্ট্রপতি এবং আবুধাবির শাসক।[২] তিনি শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের তৃতীয় পুত্র, যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং আবুধাবির শাসক ছিলেন। জায়েদ ২০০৪ সালের নভেম্বরে মারা যান এবং তার বড় ছেলে, মোহাম্মদের সৎ ভাই শেখ খলিফা বিন জায়েদ তার পদে স্থলাভিষিক্ত হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে খলিফা যখন স্ট্রোকের শিকার হন, তখন মোহাম্মদ আবুধাবির শাসক ছিলেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নীতিনির্ধারণের প্রায় প্রতিটি দিক নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। [২] আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে আবুধাবির আমিরাতের অধিকাংশ দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব তাকে অর্পণ করা হয়েছিল। [৩] গবেষকরা বিন জায়েদকে স্বৈরাচারী শাসনের শক্তিশালী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। [৪] [৫] [৬] [৭] কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণ তাঁর প্রেসিডেন্সিতে কোনো আপত্তি জানায়নি। ২০১৯ সালে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাকে সবচেয়ে শক্তিশালী আরব শাসক এবং পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করে। [৭] [৮] টাইম পত্রিকা কর্তৃক ২০১৯ সালে ১০০ জন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন হিসাবেও তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। [৯] ২০২২ সালের ১৩ মে শেখ খলিফার মৃত্যুর পর তিনি আবুধাবীর শাসক হন; [১০] এবং পরের দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। [১১]

মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
২০২১ সালে মোহাম্মদ
৩য় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি
দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন
১৪ মে ২০২২
প্রধান মন্ত্রী
উপরাষ্ট্রপতি
মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম
পূর্বসূরিখলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
আবুধাবির আমির
রাজত্ব১৩ মে ২০২২ – বর্তমান
পূর্বসূরিখলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
জন্ম (1961-03-11) ১১ মার্চ ১৯৬১ (বয়স ৬৩)
আল আইন
দাম্পত্য সঙ্গীসালামা বিনতে হামদান আল নাহিয়ান (বি. ১৯৮১)
বংশধর
  • শেখা মরিয়ম
  • শেখ খালেদ
  • শেখা শামসা
  • শেখ তারাব
  • শেখ হামদান
  • শেখা ফাতিমা
  • শেখা শাম্মা
  • শেখ জায়েদ
  • শেখা হাসা
  • আমিনা (দত্তক)
  • সালহা (দত্তক)
পূর্ণ নাম
মোহাম্মদ বিন জায়েদ বিন সুলতান বিন জায়েদ বিন খলিফা বিন শাখবাউত বিন থেয়াব বিন ঈসা বিন নাহিয়ান বিন ফালাহ বিন ইয়াস[১]
আরবি: محمد بن زايد بن سلطان بن زايد بن خليفة بن شخبوط بن ذياب بن عيسى بن نهيان بن فلاح بن ياس
পিতাজায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান
মাতাফাতিমা বিনতে মুবারক আল কেতবি
সামরিক কর্মজীবন
আনুগত্যসংযুক্ত আরব আমিরাত
সেবা/শাখাসংযুক্ত আরব আমিরাত বিমান বাহিনী
কার্যকাল১৯৭৯–বর্তমান
পদমর্যাদাজেনারেল
ওয়েবসাইটটুইটারে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
ইন্সটাগ্রামে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

প্রাথমিক জীবন সম্পাদনা

শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ১৯৬১ সালের ১১ মার্চ আল আইনে জন্মগ্রহণ করেন যা তখনকার ট্রুশিয়াল স্টেট ছিল।[১২] তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং আবুধাবির শাসক জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান এবং তার তৃতীয় স্ত্রী শেখা ফাতিমা বিনতে মুবারক আল কেতবির তৃতীয় পুত্র।[১৩] মোহাম্মদের ভাইরা হলেন: হামদান , হাজ্জা, সাঈদ, ইসা, নাহিয়ান, সাইফ, তাহনউন , মনসুর, ফালাহ, দিয়াব, ওমর ও খালিদ (পাশাপাশি চার মৃত ভাই; খলিফা , সুলতান, নাসের ও আহমেদ)। এরা ছাড়াও তার কয়েকজন বোন রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে পাঁচজন তাঁর আপন ভাই। হামদান, হাজ্জা , তাহনউন , মনসুর এবং আবদুল্লাহ। এদেরকে বনি ফাতিমা বা ফাতেমার পুত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।[১৩]


বুঝশক্তি হওয়ার পর তার বাবা শেখ জায়েদ তাকে মরক্কোতে পাঠান। যাতে সেখানে সে শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। তিনি তাকে ভিন্ন পদবি দেখিয়ে একটি পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়েছিলেন, যাতে সেখানে কেউ তাকে চিনে রাজকীয় আচরণ করতে না পারে। মোহাম্মদ বেশ কয়েক মাস স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কাজ করেম। তখন তিনি নিজের খাবার নিজেই তৈরি করতেন এবং নিজেই লন্ড্রি করতেন। মোহাম্মদ তার তৎকালীন জীবনের বর্ণনা দিয়েছিলেন এভাবে যে, ফ্রিজে এক বাটি তাবুলেহ থাকত এবং আমি দিনের পর দিন তা খেতে থাকতাম, যতক্ষণ না তার উপরে এক ধরনের ছত্রাক তৈরি হয়।[১৪]


শেখ মোহাম্মদ ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আল আইন, আবুধাবির স্কুল এবং গর্ডনস্টোনের গ্রীষ্মকালীন স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তখন তার পিতা ইজ্জেদিন ইব্রাহিম নামে একজন সম্মানিত মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডপন্থি ইসলামি পণ্ডিতকে তার শিক্ষার দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি, স্যান্ডহার্স্টে যোগ দেন।  স্যান্ডহার্স্টে থাকাকালীন তিনি একটি মৌলিক আর্মকোর্স, একটি ফ্লাইকোর্স, একটি প্যারাসুটিস্ট কোর্স এবং কৌশলগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। স্যান্ডহার্স্টে থাকাকালীন তার সাথে হনপাহাং আব্দুল্লাহর সাথে পরিচয় হয়, যিনি পরে মালয়েশিয়ার রাজা হন। তারা দুজনেই রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টের ক্যাডেট অফিসার ছিলেন।[১৫]


এরপর মোহাম্মদ শারজাহতে অফিসার্স ট্রেনিং কোর্সে যোগ দিতে নিজ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেশে ফিরে আসেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীতে রাষ্ট্রপতি-গার্ড থেকে শুরু করে আমিরাতি বিমান বাহিনীর একজন পাইলট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সেক্টরে কর্মকতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।[১৪]

সম্মাননা সম্পাদনা

Mohamed bin Zayed Al Nahyan
এর রীতি
 
উদ্ধৃতিকরণের রীতিমহামান্য আমির
কথ্যরীতিমহামান্য আমিরের অনুগ্রহ
বিকল্প রীতিরঈস (President)
  • ব্রাজিল : কলার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য সাউদার্ন ক্রস পুরস্কার। রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারো ( ১২ নভেম্বর, ২০২১) কর্তৃক ভূষিত।[১৬]
  • ফ্রান্স : প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওলঁদ (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ ) কর্তৃক গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার ন্যাশনাল ডু মেরিতে ভূষিত।[১৭]
  • ফ্রান্স : গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য লিজিয়ন অফ অনার (১৮ জুলাই, ২০২২)।[১৮]
  • জার্মানি : গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ মেরিট অফ দ্য ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার (২৯ অক্টোবর, ২০০৮) কর্তৃক ভূষিত।[১৯]
  • কসোভো : রাষ্ট্রপতি আতিফেতে জাহজাগা (২১ এপ্রিল ২০১৪) কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতা পদক।[২০]
  • মালয়েশিয়া : গ্র্যান্ড কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ডিফেন্ডার অফ দ্য রিয়েলম। রাজা মিজান জয়নাল আবিদিন কর্তৃক (১৭ জুন ২০১১)।[২১]
  • মন্টিনিগ্রো : গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য মন্টেনিগ্রিন গ্র্যান্ড স্টার। রাষ্ট্রপতি ফিলিপ ভুজানোভিচ (১২ ডিসেম্বর, ২০১৩) কর্তৃক ভূষিত।[১৭]
  • মরক্কো : কলার অফ দ্য অর্ডার অফ মুহাম্মদ। রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ কর্তৃক (17 মার্চ 2015)।[২২]
  • ওমান : ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক (২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২) কর্তৃক কলার অফ দ্য অর্ডার অফ আল-সাইদ দ্বারা ভূষিত।[২৩]
  • স্পেন : নাইট গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ সিভিল মেরিট। রাজা জুয়ান কার্লোস (২৩ মে, ২০০৮) কর্তৃক ভূষিত।[২৪]
  • যুক্তরাজ্য : অনারারি নাইট গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ সেন্ট মাইকেল অ্যান্ড সেন্ট জর্জ (GCMG)। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ (২৫ নভেম্বর,২০১০) কর্তৃক পুরস্কৃত।[২৫]

তার নামে যে জায়গার নামকরণ হয়েছে সম্পাদনা

২০২১ সালের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি- সচিবের নির্দেশে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা-সিকাম্পেক এলিভেটেড টোল রোডের নাম পরিবর্তন করে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ স্কাইওয়ে (জালান লায়াং মোহাম্মদ বিন জায়েদ ) রাখা হয়েছিল। [২৬]

বংশ সম্পাদনা

মানবসেবা সম্পাদনা

 
ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মোহাম্মদ (মে, ২০১৭)

শেখ মোহাম্মদ মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জাতিসংঘের গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভকে 55 মিলিয়ন AED উপহার দেন। [২৭] রিচিং দ্য লাস্ট মাইল ফান্ডের জন্য তিনি $100 মিলিয়ন সংগ্রহ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন। [২৮] আফগানিস্তানপাকিস্তানে শিশুদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য $50 মিলিয়নে অর্থ দান করেছেন। [২৯] [৩০] [৩১] [৩২] এছাড়াও রোল ব্যাক ম্যালেরিয়া পার্টনারশিপে তিনি $৩০ মিলিয়ন অর্থের অবদান রেখেছেন। [৩৩] [৩৪] [৩৫]

মোহাম্মদ বিন জায়েদ ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত লুভরে আবুধাবি, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গুগেনহেইম আবু ধাবি এবং কাসর আল হোসনের মতো সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং শিল্প জাদুঘর স্থাপনের কাজে জড়িত ছিলেন। [৩৬] [৩৭] [৩৮] [৩৯]

সামরিক জীবন সম্পাদনা

 
১৯৯৭ সালে মোহাম্মদ বিন জায়েদ চীফ অফ স্টাফ হিসেবে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব উইলিয়াম এস কোহেনকে তাঁর বিমান বাহিনীর সামরিক ইউনিফর্মে অভিবাদন জানান।

মোহাম্মদ বিন জায়েদ তার বিগত জীবনে প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড, বিমানবাহিনীতে পাইলট, আমিরাতি বাহিনীর প্রতিরক্ষা কমান্ডার এবং সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৫ সালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্রবাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং তদনুসারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন। [৪০] [৪১]

১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে যখম মোহাম্মদ একজন সহকারী সেক্রেটারি অফ সেস্ট ছিলেম, তিনি রিচার্ড ক্লার্ককে বলেছিলেন যে, তিনি F-16 ফাইটার জেট কিনতে চান। ক্লার্ক তখন এই বলে উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি অবশ্যই F-16A বলতে চাইছেন, যে মডেলের জেট পেন্টাগন সাধারণত তার মিত্রদের কাছে বিক্রি করে। তা শুনে মোহাম্মাদ বলেছিলেন যে, এটার পরিবর্তে তিনি আরো উন্নত রাডার ও অস্ত্রসম্মত একটি নতুন মডেল কিনতে চান, যে সম্পর্কে তিনি "এভিয়েশন উইকে" পড়েছিলেন। ক্লার্ক তাকে বলেছিলেন যে, সেই মডেলটি এখন আর নেই। কারণ সামরিক বাহিনী সেটার প্রয়োজনীয় গবেষণা ও উন্নয়ন করেনি। মোহাম্মদ বলেন, তাহলে ইউএই গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য অর্থ প্রদান করবে। পরবর্তীতে সেই আলোচনা লাগাতার কয়েক বছর ধরে চলেছিল এবং ক্লার্কের মতে, "তিনি ইউএস এয়ার ফোর্সের চেয়ে উন্নত F-16 নিয়েই সেই আলোচনা শেষ করেছিলেন"। [৪২]


মোহাম্মদ নিজ দেশের স্কুলে জুজুৎসু বাধ্যতামূলক করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি একটি সামরিক খসড়া তৈরি করে তরুণ আমিরাতীদের এক বছরের জন্যে বুটক্যাম্পে যোগদান করতে বাধ্য করেন। আমিরাতি সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠিত করার লক্ষ্যে তিনি অস্ট্রেলিয়ার স্পেশাল অপারেশন কমান্ডের অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধান মেজর জেনারেল মাইক হিন্দমার্শ আমন্ত্রণ জানান। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, মোহাম্মদের এমন দৃষ্টিভঙ্গির ফলস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল ব্যতীত এই অঞ্চলের সেরা সজ্জিত ও প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। [৪২]

মোহাম্মদের নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনী তাদের স্বল্প সক্রিয়কর্মী থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সক্রিয়তা এবং কার্যকর সামরিক ভূমিকার ফলস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল এবং সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিস কর্তৃক "লিটল স্পার্টা" নামে ভূষিত হয়। [৪৩] ২০২০ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে মোহাম্মদের সংস্কার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর কার্যকারিতা সফলভাবে বৃদ্ধি করেছে। [৪৪]

গার্হস্থ্য নীতি সম্পাদনা

কর্তৃত্ববাদী নীতি: সম্পাদনা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মোহাম্মদ বিন জায়েদকে স্বৈরাচারী শাসনের শক্তিশালী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। [৪] [৫] [৬] [৭] কারণ তার দেশে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন নেই।সেখানে [২] রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সীমিত,[১৩] বাক স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রিত [১৩] [১৪] এবং দেশে কোনো স্বাধীন মিডিয়া নেই। [২] মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্যাতন ও নির্বিচারে আটক চলে এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের জোরপূর্বক গুম করা হয়। [১৭] [১৩] রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার ডেভিডসন আমিরাতি নেতা হিসেবে মোহাম্মাদের কার্যকালকে "স্বৈরাচারী-কর্তৃত্ববাদের একটি চিহ্নিত ও বর্ধিত সময় হিসাবে অভিহিত করেছেন। [৫]

অর্থনৈতিক নীতি : সম্পাদনা

বিশ্লেষকরা মোহাম্মদ বিন জায়েদের শাসনামলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি ভাড়াটে রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। [৪৫]কারণ রাষ্ট্রের সকল বড় বড় আর্থিক সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তিনি প্রধান বা চেয়ারমান। তিনি আবুধাবি কাউন্সিল ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ADCED) এর প্রধান, [৪৬] [৪৭] [৪৮] আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (ADIA) এর ডেপুটি চেয়ারম্যান, [৪৯] মুবাদালা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান [৫০] ( এটি একটি আমিরাতি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হোল্ডিং কোম্পানি যাকে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে)। [৪৬] [৫১]


এছাড়াও তিনি আবুধাবি বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান [৫২] [৫৩] এবং তাওয়াজুন ইকোনমিক কাউন্সিলের প্রধান, যেটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পূর্বে ইউএই অফসেট প্রোগ্রাম ব্যুরো নামে পরিচিত ছিল।[৫৪] এসবের সাথে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আবুধাবি শিক্ষা ও জ্ঞান বিভাগ এবং [৫৫] [৫৬] আবুধাবি জাতীয় তেল কোম্পানির সুপ্রিম পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও তিনি। এই কাউন্সিলটি আবু ধাবির হাইড্রোকার্বন সম্পদের প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। [৫৭] [৫৮] [৫৯]

রাজনৈতিক জীবন সম্পাদনা

আবুধাবী আমিরাত ও বিন জায়েদ: সম্পাদনা

 
ক্যাম্প ডেভিডে মোহাম্মদ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ

২০০৩ সালের নভেম্বরে শেখ জায়েদ তার ছেলে মোহাম্মদকে আবুধাবির ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স নিযুক্ত করেন। [৬০] [৬১] [৫০] ২০০৪ সালের নভেম্বরে পিতার মৃত্যুর পর শেখ মোহাম্মদ আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স হন এবং ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার নিযুক্ত হন। ওই মাসেই তাকে জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং তার বড় সৎ ভাই খলিফা বিন জায়েদের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

২০১৪ সালের জানুযারিতে শেখ খলিফার অসুস্থতা হলে কার্যত [৬২] মোহাম্মদই আবুধাবির প্রকৃত শাসক হন এবং আবুধাবি শহরে আগমনকারী বিশিষ্ট দেশি বিদেশী ব্যক্তিদের স্বাগত জানাতেন। [৬৩] [৬৪] [৬৫] ২০২২ সালের ১৩ মে তিনি বড় ভাই শেখ খলিফার মৃত্যুর পর আবুধাবির শাসক হন [১০] এবং পরেরদিন ১৪ মে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। [১১]

বিন জায়েদের আমলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি: সম্পাদনা

 
NSS 2012 -এ শেখ মোহাম্মাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন

২০১৮ সালে বিন জায়েদ ইউএই থেকে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি কাটাতে ইথিওপিয়াকে $3 বিলিয়ন অনুদানের প্রথম কিস্তি প্রদানের আগে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সাথে দেখা করতে ইথিওপিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন। মোহাম্মদের ব্যক্তিগত উৎসাহ ও উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত খরা চলাকালীন সোমালিয়াকে সহায়তা প্রদানের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহ করেছিল। [৬৬] [৬৭] [৬৮]


মোহাম্মদ ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের পর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের একজন দৃঢ় সমর্থক ছিলেন এবং ইয়েমেনে হুথি দখলের পর হুথিদের তাড়ানোর জন্য ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা-সমর্থিত হস্তক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন। [৬৯] ২০১৮ সালের নভেম্বরে মোহাম্মদের ফ্রান্স সফরের সময় একদল অধিকারকর্মী তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে "ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধ, নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণে জড়িত থাকার" অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ফরাসী মানবাধিকার গোষ্ঠী এআইডিএল-এর পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়: "ক্ষমতার জন্য তিনি অন্যায়ভাবে ইয়েমেনি ভূখণ্ডে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।" [৭০]

বিন জায়েদ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : সম্পাদনা

 
২০২২ সালের ১৬ জুলাই সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত GCC +3 শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে মোহাম্মদ।

মোহাম্মদ বিন জায়েদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রধান মিত্র হিসাবে বিবেচনা করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস এবং সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রিচার্ড এ. ক্লার্কসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সাথে তার শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসাবে মোহাম্মদ তাদের সাথে পরামর্শ করেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর বিষয়ে তাদের পরামর্শ অনুসরণ করেন। ওবামা প্রশাসনের সাথে প্রাথমিকভাবে বিন জায়েদের সম্পর্ক ভালোই ছিল কিন্তু ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি সম্পর্কে বারাক ওবামা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে পরামর্শ না করার কারণে বা চুক্তি সম্পর্কে আমিরাতকে অবহিত না করার কারণে তাদের মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাদের মাঝে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে ২০১৬ সালে, যখন আটলান্টিকে দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে ওবামা উপসাগরীয় শাসকদের "মুক্ত অশ্বারোহী হিসেবে অভিহিত করে বলেছিলেন যে, "তারা নিজেদের আগুন নেভানোরও ক্ষমতা রাখে না"। ওবামার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার সাথে দেখা করতে বিন জায়েদ নিউইয়র্কে উড়ে যান। [৪২] [৭১]


২০২০ সালের আগস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং শেখ মোহাম্মদ যৌথভাবে আনুষ্ঠানিক ইসরাইল-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। [৭২] 2022 সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্ট করে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিন জায়েদকে ফোন করেছিলেন তখন বিন জায়েদ তার ফোনকল অস্বীকার করেছিলেন। [৭৩]

বিন জায়েদ ও মিশর : সম্পাদনা

২০২২ সালের ২২ মার্চ বিন জায়েদ মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সাথে মিশরে দেখা করেছিলেন। তখন তারা ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক, রাশিয়া-ইউক্রেনীয় যুদ্ধ এবং ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন বলে ধারণা করা হয় [৭৪] [৭৫]

বিন জায়েদ ও রাশিয়া : সম্পাদনা

 
২০২২ সালের ১১ অক্টোবর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে শেখ মোহাম্মদের সাথে বৈঠক করছেন

বিন জায়েদ রাশিয়া ও তার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। রাশিয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মাঝে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আলোচনায় তিনি মধ্যস্থতাও করেছিলেন। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপে বিন জায়েদও জড়িত ছিল বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। [৭৬] রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের সাথে বিন জায়েদের দৃঢ় সম্পর্ক এবং উভয় দেশে তার প্রভাবের কারণে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা তাকে আরব বিশ্বের "সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক" হিসাবে চিহ্নিত করেছে। [৭৭]


পুতিন মোহাম্মদকে তার "পুরনো বন্ধু" এবং "রাশিয়ার একজন বড় বন্ধু" বলে অভিহিত করেন। দুই নেতা নিয়মিত ফোনে কথাও বলেন। [৭৮] আমিরাতে একটি সরকারী রাষ্ট্রীয় সফরে পুতিন মোহাম্মদকে একটি রাশিয়ান জিরফ্যালকন উপহার দেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম দুই মহাকাশচারী হাজ্জা আল মানসৌরি এবং সুলতান আল নেয়াদিকে রাশিয়া প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এবং রাশিয়ার সহায়তায় তারা প্রথম আমিরাতি ও প্রথম আরব মহাকাশচারী হিসেবে হাজ্জা আল মানসৌরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সফলভাবে অবতরণ করেন।

বিন জায়েদ ও তুরস্ক : সম্পাদনা

২০২১ সালের আগস্টে বিন জায়েদ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সাথে আলোচনা করেছিলেন। [৭৯] এর আগে লিবিয়া ইস্যুতে কর্তৃত্ব খাটাতে গিয়ে উভয়ের দেশের মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। ২০২১ সালেআফগানিস্তানে তালেবানের বিজয় এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী - সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হতে শুরু করে। [৮০]

পারমাণবিক পরিকল্পনা: সম্পাদনা

মোহাম্মদের বিন জায়েদের নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে প্রথম শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে। [৮১] সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছে যা পারমাণবিক অপ্রসারণের আন্তর্জাতিক মান উন্নত করে আশা করা হয়। [৮২]২০১২ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনে বিন জায়েদ উপস্থিত হয়েছিলেন, যা যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া ও নেদারল্যান্ডে আয়োজিত হয়েছিল। [৮৩]

বিন জায়েদের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধর্ম : সম্পাদনা

ইসলাম সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারী ধর্ম এবং সেখানে ব্লাসফেমি, অমুসলিম কর্তৃক মুসলিমদের ধর্মান্তরিতকরণে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক আইন রয়েছে। আমিরাতি সংবিধান সব ধর্মের স্বাধীন উপাসনার গ্যারান্টি দেয়, যতক্ষণ না এটি স্থানীয় জননীতি বা নৈতিকতার বিরোধী হিসেবে পর্যবসিত না হয়। [৮৪] আমিরাতি সরকার কঠোরভাবে মুসলিম আইন কানুন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করে। [৮৫] কুরআন বা ইসলাম সম্পর্কিত বিষয়বস্তুতে বক্তৃতা প্রদান এবং সে সম্পর্কিত বিষয়াদি প্রকাশের জন্য সরকারী অনুমতি প্রয়োজন হয়। দেশের সকল ইমামকে অবশ্যই আমিরাতি সরকারের কাছ থেকে তাদের বেতন গ্রহণ করতে হয়। [৮৫]

ব্যক্তিগত জীবন সম্পাদনা

শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ১৯৮১ সালে শেখা সালামা বিনতে হামদান আল নাহিয়ানকে বিয়ে করেন।[৮৬] তারা তাদের মোট নয়জন সন্তান আছে ; চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। সেই সাথে তাঁরা দুইজন কন্যা সন্তান দত্তক নিয়েছেন। সন্তানদের থেকে তাদের মোট ১৫ জন নাতি-নাতনি রয়েছে।[৮৭] তাদের সন্তানরা হলেন:

  • শেখা মারিয়াম বিনতে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
  • শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তিনি শেখা ফাতিমা বিনতে সুরুর আল নাহিয়ানকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের দুটি কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান রয়েছে (পুত্রের নাম হল, মোহাম্মদ বিন খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান)।
  • শেখা শামসা বিনতে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি শেখ মোহাম্মদ বিন হামাদ আল নাহিয়ানকে বিয়ে করেন। তাদের চার সন্তান রয়েছে (হেসা, জায়েদ, সালামা এবং ফাতিমা)।
  • শেখ তেয়াব বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
  • শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি শেখা ফাখরা বিনতে খলিফা বিন হামদান বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ানকে বিয়ে করেছেন (নভেম্বর, ২০২১)।
  • শেখা ফাতিমা বিনতে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি শেখ নাহিয়ান বিন সাইফ আল নাহিয়ানকে বিয়ে করেন। তাদের তিনজন ছেলে রয়েছে (মোহাম্মদ, সাইফ ও জায়েদ)।
  • শেখা শাম্মা বিনতে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং শেখ জায়েদ বিন হামদান বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে বিয়ে করেন।
  • শেখ জায়েদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক হন।
  • শেখা হাসা বিনতে মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
  • আমিনা (দত্তক কন্যা)।
  • সালিহা (দত্তক কন্যা)।[৮৭][৮৮]

ব্যক্তিগত শখ সম্পাদনা

আরবদের ঐতিহাসিক স্বভাব মাফিক শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ বাজপাখির প্রতি খুবই অনুরাগী এবং আমিরাতের নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রাচীন আরবের ঐতিহ্যের প্রচার এবং তা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে মোহাম্মদ বিন জায়েদ ফ্যালকনি ও ডেজার্ট ফিজিওগনোমি নামে স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি নিজেই এ বিষয়ে তার বাবার কাছ থেকে অনুশীলন শিখেছিলেন। [৮৯][৯০]

উত্তরাধিকার সম্পাদনা

শেখ মোহাম্মদ এখনো নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ক্রাউন প্রিন্স বেছে নেননি। আল জাজিরার মতে, বিন জায়েদ সম্ভবত তার ভাই মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বা তাহনউন বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অথবা তার নিজের ছেলে খালেদ বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করবেন।[৯১]

বিতর্ক সম্পাদনা

২০২০ সালের ১৭ জুলাই ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে সেখানে "যুদ্ধাপরাধে জড়িড থাকার অভিযোগে" মোহাম্মদ বিন জায়েদকে লক্ষ্য করে তদন্ত চালানোর জন্য একজন ফরাসি তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ক্রাউন প্রিন্সের প্যারিসে সরকারী সফরের সময় তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ দায়ের করার পরে তদন্তটি প্রাথমিকভাবে অক্টোবর ২০১৯ সালের অক্টোবরে শুরু করা হয়েছিল।[৯২]


দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি ছয়জন ইয়েমেনি নাগরিক সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়েছিল, তারা বলেছিল যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি জেলখানাগুলিতে তাদের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এবং সিগারেট দিয়ে পুড়িয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।  জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি রিপোর্ট দাবী করে যে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা (যে জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও আছে) যুদ্ধাপরাধ সৃষ্টি করতে পারে এবং আমিরাত বাহিনী কর্তৃক নিয়ন্ত্রণিত দুটি কেন্দ্র থেকে নির্যাতন চালানো হতে পারে।[৯৩]

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "H. H. Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan - The Official Portal of the UAE Government"। U.ae। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৭-১৯ 
  2. Krieg, Andreas (২০১৯)। Divided Gulf: The Anatomy of a Crisis (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। পৃষ্ঠা 78। আইএসবিএন 978-981-13-6314-6 
  3. "UAE leader returns after lengthy unexplained absence"Middle East Eye। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  4. Krieg, Andreas (২০১৯)। Divided Gulf: The Anatomy of a Crisis (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। পৃষ্ঠা 96–98, 101। আইএসবিএন 978-981-13-6314-6 
  5. Davidson, Christopher M. (২০২১)। From Sheikhs to Sultanism: Statecraft and Authority in Saudi Arabia and the UAE (ইংরেজি ভাষায়)। C. Hurst (Publishers) Limited। পৃষ্ঠা 13–14। আইএসবিএন 978-1-78738-393-7 
  6. "UAE's Prince Mohammed Bin Zayed's Growing Influence On The U.S."NPR.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২১ 
  7. Worth, Robert F. (৯ জানুয়ারি ২০২০)। "Mohammed bin Zayed's Dark Vision of the Middle East's Future"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২০ 
  8. D. Kirkpatrick, David (২ জুন ২০১৯)। "The Most Powerful Arab Ruler Isn't M.B.S. It's M.B.Z."The New York Times 
  9. Al Serka, Mariam M. (১৮ এপ্রিল ২০১৯)। "Mohammad Bin Zayed named among Time's 100 most influential people 2019"Gulf News 
  10. "Mohamed bin Zayed, Sheikhs perform funeral prayer for late UAE President"Emirates News Agency (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-০৫-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-০৫ 
  11. "Federal Supreme Council elects Mohamed bin Zayed as UAE President"Emirates News Agency (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-০৫-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-০৫ 
  12. "Request Rejected"www.cpc.gov.ae। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৩ 
  13. "StackPath"www.gsn-online.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৩ 
  14. Worth, Robert F. (২০২০-০১-০৯)। "Mohammed bin Zayed's Dark Vision of the Middle East's Future"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৩ 
  15. National, The (২০১৯-০৭-৩১)। "Royal ties: Sheikh Mohamed and the King of Malaysia in 1979"The National (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৩ 
  16. "Bolsonaro condecora líderes do Oriente Médio antes de viagem à região [12/11/2021]"noticias.uol.com.br (পর্তুগিজ ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৪ 
  17. "Request Rejected"cpc.gov.ae। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৪ 
  18. "Honneurs et discrétion pour la visite de Mohammed Ben Zayed Al Nahyane, président des Emirats arabes unis"Le Monde.fr (ফরাসি ভাষায়)। ২০২২-০৭-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৪ 
  19. "Mohammed bin Zayed awarded German Order of Merit"wam। ২০০৮-১০-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৪ 
  20. Wam। "Kosovo's highest order for Mohamed - News - Government - Emirates24|7"www.emirates247.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৪ 
  21. "Malaysia's King confers Grand Commander Order on Sheikh Mohammed"wam। ২০১১-০৬-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৪ 
  22. "Mohamed bin Zayed, King Mohammed VI of Morocco attend signing of agreements and MoUs"। সংগ্রহের তারিখ 23 October, 2022  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  23. "UAE President, the Sultan of Oman exchange medals and gifts"। সংগ্রহের তারিখ 23 October, 2022  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  24. "price" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ 23 October, 2022  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  25. WAM। "President Khalifa confers Order of Zayed on Queen - News - Government - Emirates24|7"www.emirates247.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৪ 
  26. "Penamaan Jalan Tol Layang Japek Jadi Sheikh Mohamed Bin Zayed, Jasa Marga: Permintaan Setpres"Kompas। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২১ 
  27. "HH General Al-Sheikh Mohammed bin Zayed Al-Nahyan"The Muslim 500 (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  28. "Gates Foundation, UAE Launch $100M Reaching The Last Mile Fund To Eradicate River Blindness, Lymphatic Filariasis"The Henry J. Kaiser Family Foundation (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  29. "Gates Foundation, Sheikh Mohammed bin Zayed Al Nahyan Pledge $100 Million for Disease Prevention"। Philanthropy News Digest। ২৭ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  30. "His Highness Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan and the Foundation Partner to Immunize Children"Bill & Melinda Gates Foundation (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  31. Candid। "Gates Foundation, Sheikh Mohammed bin Zayed al-Nahyan Pledge $100 Million for Disease Prevention"Philanthropy News Digest (PND) (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  32. "UAE delivers 371 million polio vaccines to Pakistani children - Pakistan"ReliefWeb (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  33. "محمد بن زايد.. فارس الإنسانية"العين الإخبارية (আরবি ভাষায়)। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  34. "30 مليون دولار تبرع من محمد بن زايد.. الإمارات تساهم بدحر الملاريا عالمياً"www.alittihad.ae (আরবি ভাষায়)। ২৪ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  35. "Crown Prince brings a multi-million dollar boost in the fight against malaria"The National (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  36. "Zayed National Museum and Guggenheim 'still active' as Abu Dhabi unveils Dh500m promotional campaign"The National (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  37. "Sheikh Mohamed bin Zayed reopens Qasr Al Hosn in Abu Dhabi"The National (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  38. "Gehry's Guggenheim Abu Dhabi Set to Begin Construction"ArchDaily (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  39. "The latest on Guggenheim Abu Dhabi: An interview with Richard Armstrong"www.euronews.com। ১৯ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  40. "H.H.'s Biography"www.cpc.gov.ae। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  41. "صاحب السمو الشيخ محمد بن زايد آل نهيان"www.tamm.abudhabi (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  42. Robert F. Worth (৯ জানুয়ারি ২০২০)। "Mohammed bin Zayed's Dark Vision of the Middle East's Future"The New York Times 
  43. "In the UAE, the United States has a quiet, potent ally nicknamed 'Little Sparta'"The Washington Post। ১৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  44. Roberts, David B. (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০)। "Bucking the Trend: The UAE and the Development of Military Capabilities in the Arab World": 301–334। আইএসএসএন 0963-6412ডিওআই:10.1080/09636412.2020.1722852 
  45. Davidson, Christopher M. (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। From Sheikhs to Sultanism: Statecraft and Authority in Saudi Arabia and the UAE (ইংরেজি ভাষায়)। Hurst। পৃষ্ঠা 13। আইএসবিএন 978-1-78738-393-7 
  46. "His Highness Sheikh Mohammed Bin Zayed Al Nahyan"Middle East Alliance Legal Consultancy (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৭-০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-০৪ 
  47. Patnaik, Rhonita। "Sharaka platform linked to Abu Dhabi government's TAMM"Technical Review Middle East (পোলিশ ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  48. "Home"www.added.gov.ae (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০২১ 
  49. "Abu Dhabi Investment Authority"www.adia.ae। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  50. "Crown Prince of Abu Dhabi and Deputy Supreme Commander of the UAE Armed Forces, and Chairman of the Executive Council, Chairman"MUBADALA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২১ 
  51. "Company Overview of Abu Dhabi Investment Council"www.ecouncil.ae। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  52. "Board of Directors"ADIA (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০২১ 
  53. "H.H.'s Biography"www.cpc.gov.ae। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৯ 
  54. "Tawazun is a defense and security industry enabler with an economic development focus"Tawazun (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২১ 
  55. "Roles and Responsibilities"Crown Prince Court (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০২১ 
  56. "Department of Education and Knowledge"Edarabia (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২২ 
  57. "UAE merges Supreme Petroleum Council with new economic body"The Arab Weekly (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ ডিসেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২১ 
  58. "Supreme Petroleum Council"www.adnoc.ae (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  59. "Mohamed bin Zayed chairs first SPC meeting of 2016, inaugurates new ADNOC HQ"www.uaecabinet.ae। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  60. "With MBZs promotion, Sheikha Fatima sons take centre stage"Gulf States Newsletter (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ ডিসেম্বর ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২১ 
  61. "Throwback photos of Sheikh Mohamed Bin Zayed to mark 59th birthday"Gulf News (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২১ 
  62. "Sheikh Khalifa stable after recovering from stroke"The National। ২৫ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২২ 
  63. Mitya Underwood (১৩ নভেম্বর ২০১২)। "Sheikh Mohamed welcomes back old friends to capital"The National। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৩ 
  64. "Queen Elizabeth II visits the UAE"Gulf News (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০২১ 
  65. "The Leading Mohammed bin Zayed Site on the Net"। Mohammed bin Zayed। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৩ 
  66. "Video: Sheikh Mohamed meets Afghanistan president in UAE"Khaleej Times। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  67. Crabtree, Justina (১৮ জুন ২০১৮)। "United Arab Emirates gives Ethiopia $1 billion lifeline to ease foreign exchange crisis"CNBC (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  68. "محمد بن زايد يحيي مبادرة"www.alittihad.ae (আরবি ভাষায়)। ২৫ এপ্রিল ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৯ 
  69. "Saudi-led coalition strikes back after deadly Houthi attack"CNN। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  70. Jarry, Emmanuel। "Rights group sues Abu Dhabi Crown Prince in France over Yemen"U.S. (ইংরেজি ভাষায়)। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৮ 
  71. "The Obama Doctrine"The Atlantic। এপ্রিল ২০১৬। 
  72. Singman, Brooke (১৪ আগস্ট ২০২০)। "Trump announces 'Historic Peace Agreement' between Israel, UAE"Fox News। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০২০ 
  73. Cloud, Dion Nissenbaum, Stephen Kalin and David S. (৯ মার্চ ২০২২)। "Saudi, Emirati Leaders Decline Calls With Biden During Ukraine Crisis"Wall Street Journal (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0099-9660। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০২২ 
  74. Berman, Lazar। "In first, Bennett meets Sissi, MBZ in Egypt amid concerns over Ukraine war"www.timesofisrael.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-২২ 
  75. "Israeli PM, UAE de facto ruler hold talks with el-Sisi in Egypt"Aljazeera.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-২২ 
  76. "DOJ reviews allegation that Erik Prince misled Congress in Russia probe"Politico। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২০ 
  77. "The Most Powerful Arab Ruler Isn't M.B.S. It's M.B.Z."The New York Times। ২ জুন ২০১৯। 
  78. "Vladimir Putin looking forward to seeing 'old friend' Sheikh Mohamed bin Zayed"The National। ১৩ অক্টোবর ২০১৯। 
  79. "Abu Dhabi's crown prince discusses ties with Erdogan"The Arab Weekly (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১-০৮-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-০৭ 
  80. "MBZ is performing a U-turn that could reshape the Middle East"Middle East Eye (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২১ 
  81. "UAE: Unity, effort and great sacrifices, says Mohamed bin Zayed on 48th National Day"Gulf News। ১ ডিসেম্বর ২০১৯। 
  82. "The United Arab Emirates and the United States Sign Bilateral Agreement for Peaceful Nuclear Energy Cooperation"। www.uae-embassy.org। ২৬ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ 
  83. "Safety moves welcomed by Sheikh Mohammed bin Zayed as nuclear summit concludes"The National (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৮ 
  84. "Five things to know about religious freedom in the United Arab Emirates"The Washington Post (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0190-8286। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০২২ 
  85. "UAE's tolerance embraces faiths, runs up against politics"AP NEWS (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০২২ 
  86. "Shaikha Fatima receives female diplomats. - Free Online Library"www.thefreelibrary.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৬ 
  87. "Request Rejected"www.cpc.gov.ae। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৬ 
  88. "Mohamed Bin Zayed"www.mbzfalconryschool.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৬ 
  89. "Request Rejected"www.cpc.gov.ae। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৬ 
  90. "Muhammad bin jayed"। সংগ্রহের তারিখ 26 October, 2022  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  91. Cafiero, Giorgio। "What's next for the UAE as MBZ formally takes the reins?"www.aljazeera.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৬ 
  92. "Le prince héritier d'Abou Dhabi visé par une plainte en France"LEFIGARO (ফরাসি ভাষায়)। ২০১৮-১১-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৬ 
  93. "UAE crown prince sued over alleged involvement in Yemen war"www.aljazeera.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-২৬