মাসুদুর রহমান

বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা

মাসুদুর রহমান (জন্ম: ১ ডিসেম্বর, ১৯৫০) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। [১]

মাসুদুর রহমান
জন্ম১ জানুয়ারি,১৯৫০
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর প্রতীক

জন্ম ও শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

মাসুদুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি ভোলা জেলার সদর উপজেলার উকিলপাড়ায়। তিনি ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুল ওয়াজেদ এবং মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম। তার স্ত্রীর নাম সীমা রহমান। তাদের দুই মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

১৯৭১ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু তিনি যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। ৩০ মার্চ কালুরঘাটের যুদ্ধে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শুরু করেন। এরপর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একাংশের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। বুড়িঘাট ও মহালছড়ির যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গেই ভারতে যান। শুরুতে তিনি প্রথম বাংলাদেশ ওয়ার কোর্সে শুরু হয়। প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিবাহিনীর ৬ নম্বর সেক্টরের ভজনপুর সাব-সেক্টরের একটি দলকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং মেজর জেনারেল হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংগঠন মুক্ত আসরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকাসম্পাদনা

১৯৭১ সালের আগস্ট মাস শুরু হলেও পাকিস্তানিদের বিতাড়িত করতে ব্যর্থ হন মুক্তিবাহিনী। তারপর দৃঢ় মনোবল নিয়ে আবার পাকিস্তানি বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি অমরখানা আক্রমণ শুরু করেন। রাতে গভীর অন্ধকারের একদল মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে মাসুদুর রহমানের অবস্থান নিলেন অমরখানায়। অমরাখানা ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি। যা বাংলাদেশের সর্বউত্তরের পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত। এর উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার চাউলহাটি ও ভাটপাড়া। পূর্ব দিক তালমা নদী। মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ছিল মিত্রবাহিনীর ৭ মারাঠা রেজিমেন্টও। তারপর একযোগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালান। পূর্বপরিকল্পনা অনুসারের রাত দুইটায় আক্রমণ শুরু করেন। এক্পই সাথে পাকিস্তানিনের সুরক্ষিত ও শক্তিশালী ঘাঁটি পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালান। পুরো এলাকার গোলাগুলির শব্দে প্রকম্পিত হতে লাগে। তিনি অত্যন্ত সাহস, ক্ষিপ্রতা ও দক্ষতার সঙ্গে গুলি করে এগিয়ে যেতে থাকেন পাকিস্তানি ঘাঁটির দিকে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে তুমুল যুদ্ধ। এরপর পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা দুর্গে ফাটল ধরে। অবশেষে পাকিস্তানি সেনারা পশ্চাদপসরণ করতে থাকে। রাত শেষ না হতেই সব হানাদার বাহিনীর সদস্যরা অমরখানা থেকে পালিয়ে যায়। ভোরবেলা অমরখানা বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) দখল করে সেখানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি যুদ্ধ করেন। তার মধ্যে অন্যতম জগদলহাট, ময়দানদীঘি, বক্সিগঞ্জ, বোদা। [২]

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না"| তারিখ: ২৩-০৯-২০১১ ]
  2. "স্বপ্ন‌' ৭১ (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রকাশনা)"। মুক্ত আসর। ২০১২। পৃষ্ঠা ৪৮, ১৪। 

বহি:সংযোগসম্পাদনা