প্রধান মেনু খুলুন

মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংস (ইংরেজি: Writers' Building) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় ভবন। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার বিবাদীবাগ অঞ্চলে লালদিঘির উত্তরে এই ভবনটি অবস্থিত। ১৭৭০ সালে স্থাপিত ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংসের নকশা প্রস্তুত করেছিলেন টমাস লায়ন্স।[১] ১৭৭৬ সালে লায়ন্স ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইউরোপীয় কেরানিদের বসবাসের জন্য উনিশটি পৃথক অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করেন; এগুলি দেখতে ছিল সারিবদ্ধ দোকানের মতো।[২] এই কেরানিদের বলা হত রাইটার; এদের নাম থেকেই ভবনের পূর্বতন নাম রাইটার্স বিল্ডিংস-এর উদ্ভব। ১৮৮৯ সালে ভবনটি গথিক স্থাপত্যে। ভবনের সম্মুখভাগে করিন্থীয় স্থাপত্য নব্য রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীর একটি উদাহরণ। প্রধান প্রবেশদ্বারের শীর্ষে ব্রিটানিয়ার একটি মূর্তিও স্থাপিত হয়।

মহাকরণ
রাইটার্স বিল্ডিংস
Kolkata BBD Bagh2.jpg
লালদিঘির উত্তরে বর্তমান মহাকরণ
সাধারণ তথ্য
স্থাপত্য রীতিগথিক স্থাপত্য (করিন্থীয় শৈলীর সম্মুখভাগ)
শহরকলকাতা
দেশপশ্চিমবঙ্গ, ভারত
বর্তমান দায়িত্বপশ্চিমবঙ্গ সরকার
সম্পূর্ণ১৭৭০
নকশা এবং নির্মান
স্থপতিটমাস লায়ন্স

অলিন্দ যুদ্ধসম্পাদনা

 
অলিন্দ যুদ্ধের স্মৃতিফলক

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংসের নাম নানাভাবে জড়িত। ১৯৩০ সালের ৮ নভেম্বর বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্তদীনেশ গুপ্ত রাইটার্স বিল্ডিংসে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে কারাবিভাগের প্রধান অত্যাচারী ইংরেজ অফিসার এন. জি. সিম্পসনকে হত্যা করেন। এই ঘটনার অব্যবহিত পরে ভবনের অলিন্দে নিরাপত্তারক্ষী ও কমিশনার টেগার্টের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবী-ত্রয়ীর যে সংঘর্ষ হয় তা "অলিন্দ যুদ্ধ" নামে প্রসিদ্ধ। সংঘর্ষের শেষে গ্রেফতারি এড়াতে বাদল গুপ্ত সেখানেই আত্মহত্যা করেন, বিনয় হাসপাতালে মারা যান ও দীনেশের ফাঁসি হয়।[৩]

স্বাধীনোত্তর ভারতেসম্পাদনা

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতালাভের পর রাইটার্স বিল্ডিংস পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজ্য সচিবালয়ে পরিণত হয়। এই সময় বাংলায় ভবনটির নামকরণ হয় "মহাকরণ"। যদিও ইংরেজি নাম হিসেবে "রাইটার্স বিল্ডিংস" কথাটিই প্রচলিত। দীর্ঘকাল মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহাফেজখানা সহ রাজ্য সরকারের একাধিক সরকারি বিভাগের প্রধান কার্যালয় মহাকরণে অবস্থিত ছিল। বর্তমান প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় হাওড়ার নবান্ন (ভবন) তে স্থানান্তরিত করা হয়েছে ও ঐতিহ্যশালী মহাকরণের সংস্কার চলছে।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. কলকাতা: একাল ও সেকাল, রথীন মিত্র, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, পৃ. ৬৯
  2. কলকাতা: এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, অতুল সুর, জেনারেল প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৮৪, পৃ. ২৮৮
  3. আধুনিক ভারত (১৯২০ – ১৯৪৭): দ্বিতীয় খণ্ড, প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষৎ, কলকাতা, ১৯৯৯, পৃ. ১০৭

বহিঃসংযোগসম্পাদনা