বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্লাস ২৯০০

বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্লাস ২৯০০ বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মিটার-গেজ ডিজেল–বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভের একটি শ্রেণী।[১][২][৩][৪] এই শ্রেণীর মোট ৩৯টি লোকো ১৯৯৯, ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৩ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হয়।[৫]

বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্লাস ২৯০০
Subarna Express.jpg
সূবর্ণ এক্সপ্রেসের সাথে লোকোমোটিভ ২৯৩৮
ধরন ও উদ্ভব
শক্তির ধরনডিজেল-বৈদ্যুতিক
নকশাকারইলেক্ট্রো-মোটিভ ডিভিশন (ইএমডি)
নির্মাণকারীহুন্দাই রোটেম
মডেলইএমডি জিটি১৮এলএ-২
নির্মাণের তারিখ১৯৯৯, ২০০৪, ২০১১, ২০১৩
মোট উৎপাদন৩৯টি
সবিস্তার বিবরণী
চাকার বিন্যাস:
 • এএআরএ১এ-এ১এ
গেজ১,০০০ মিলিমিটার (৩ ফুট   ইঞ্চি)
চাকার ব্যাস৪০ ইঞ্চি (১.০১৬ মিটার)
লোকোর ওজন৭২ টন (৭১ লং টন; ৭৯ শর্ট টন)
জ্বালানির ধরনডিজেল
জ্বালানি সক্ষমতা৩,০০০ লিটার (৬৬০ ইম্পেরিয়াল গ্যালন; ৭৯০ ইউএস গ্যালন)
প্রাইম মুভারইএমডি ৮-৬৪৫ই৩সি
ইঞ্জিনের ধরনদুই-স্ট্রোক ভি৮
Aspirationরুট্স‌-টাইপ সুপারচার্জার
Traction motorsডিসি
সিলিন্ডার৮টি
সঞ্চালনডিজেল-বৈদ্যুতিক
লোকোর ব্রেকএয়ার
কাপলারনরওয়েজিয়ান
কার্যক্ষমতা
সর্বোচ্চ গতি১০৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা (৬৬ মাইল প্রতি ঘণ্টা)
পাওয়ার আউটপুট১,৫০০ অশ্বশক্তি (১,১০০ কিলোওয়াট)
ট্র্যাকটিভ বলপ্রয়োগ৯৮,০০০ lbf (৪৩৫.৯৩ কিN)
কার্যকাল
পরিচালকবাংলাদেশ রেলওয়ে
শ্রেণীএমইআই-১৫
নম্বর২৯০১–২৯৩৯
বর্তমান মালিকবাংলাদেশ রেলওয়ে
বিলিব্যবস্থাসচল

সূচনাকাল থেকে এই শ্রেণীর লোকো মূলত আন্তঃনগর ট্রেনে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কিছু মেইল/কমিউটার ও লোকাল ট্রেনে এর ব্যবহার রয়েছে। মালবাহী ট্রেনে এই শ্রেণীর লোকো মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা হয়।

প্রস্তুতকারক বিবরণসম্পাদনা

২৯০০ শ্রেণীর লোকো যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রো-মোটিভ ডিভিশনের (ইএমডি) লাইসেন্স নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম উৎপাদন করে।[৬][৭] এদের মডেল ইএমডি জিটি১৮এলএ-২, যা ২৬০০ শ্রেণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ৩৯টি লোকো ৪ ধাপে বাংলাদেশে আসে:

  • ১৯৯৯: ২৯০১–২০০৮
  • ২০০৪: ২৯০৯–২৯১৯
  • ২০১১: ২৯২০–২৯২৮
  • ২০১৩: ২৯২৯–২৯৩৯[৬]

যান্ত্রিক বিবরণসম্পাদনা

এই লোকোগুলোতে ইএমডি ৮-৬৪৫ই৩সি প্রাইম মুভার ব্যবহার করা হয়েছে। এদের ক্ষমতা ১,৫০০ অশ্বশক্তি এবং এরা সর্বোচ্চ ১০৭ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। এদের চাকার বিন্যাস হলো এ১এ-এ১এ

এদেরকে বাংলাদেশের অন্যতম সফল লোকো শ্রেণী বলা হয়ে থাকে। ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় সকল লোকো সচল রয়েছে। ১৯৮৮ সালে ২৬০০ সিরিজের লোকো বাংলাদেশে আসে। ২৬০০ ও ২৯০০ একই ধরনের লোকো। শুধু ২৬০০ শ্রেণীরগুলো জিএমডির তৈরি। ২৭০০ শ্রেণীর লোকোর সাথেও এদের মিল রয়েছে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার Keretapi Tanah Melayu জন্য ১৭টি, ঘানার ঘানা রেলওয়ের জন্য ১৪টি ও জেনারেল মোটরসের জন্য একটি, সবমিলিয়ে মোট ৩১টি ইএমডি জিটি১৮এলসি-২ মডেলের লোকো উৎপাদন করা হয়। এই লোকো ও ইএমডি জিটি১৮এলএ-২ লোকো প্রায় একই। তবে কিছু পার্থক্য রয়েছে যেমন, সেগুলোর চাকার বিন্যাস এ১এ–এ১এ না হয়ে সি–সি হয়েছে।

শ্রেণীকরণ ও সংখ্যায়নসম্পাদনা

এই লোকোগুলোর সংখ্যা-সিরিজ/শ্রেণী হচ্ছে ২৯০০, এবং এদেরকে ২৯০১ থেকে ২৯৩৯ পর্যন্ত সংখ্যায়িত করা হয়েছে। এদের শ্রেণী-নাম/স্পেসিফিকেশন হচ্ছে “এমইআই-১৫”।[৬] এখানে, এম = মিটার-গেজ, ই = ডিজেল-ইলেক্ট্রিক, আই = হুন্দাই রোটেম এবং ১৫ = ১৫ × ১০০ = ১,৫০০ অশ্বশক্তি।

রংসম্পাদনা

  1. আকাশী নীল-হলুদ
  2. সবুজ-হলুদ
  3. গাঢ় নীল-হলুদ
  4. সাদা, সাথে লাল ও সবুজ ডোরা (বর্তমানে নেই)

রক্ষণাবেক্ষণসম্পাদনা

২৯০০ শ্রেণীর লোকোগুলোর বেজ চট্টগ্রাম রেল বিভাগে। এদেরকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ডিজেল শপে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

দুর্ঘটনাসম্পাদনা

  • ০৭/১০/২০১৬: সকালে হবিগঞ্জ জেলার নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে পারাবত এক্সপ্রেসের সাথে থাকা ২৯৩৩ নং লোকোর নিচের অংশের জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগে যায়। তখন চলন্ত ট্রেনটিকে দ্রুত থামানোর উদ্দেশ্যে ব্রেক চাপা হলে এর কয়েকটি কোচ লাইনচ্যুত হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।[৮] লোকোটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। একে পাহাড়তলী ডিজেল কারখানায় রাখা হয়। পরে ২০১৯ সালের ১৫ই মে একে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় মেরামতের জন্য নেওয়া হয়। লোকোটি সম্পূর্ণ খুলে ফেলে পুননির্মান ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মেরামত করা হয়। সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়া লোকোটির ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ব্যবস্থাও প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রায় ৩ কোটি বাংলাদেশি টাকা ব্যয়ে একে মেরামত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ লোকোটিকে রেল বহরে যুক্ত করা হয়। ধারনা করা হয়, মেরামতের ফলে প্রায় ৩০ কোটি বাংলাদেশী টাকা সাশ্রয় হয়েছে।[৬] তবে একই বছরের ২৮শে জুন ট্র্যাকশন মোটরের ত্রুটিজনিত কারনে এটি আবার বিকল হলে আবার একে মেরামত করে ৭ই জুলাই রেল বহরে যুক্ত করা হয়। ১১ দিন পর ১৮ই জুলাই লোকোটি পুনরায় বিকল হয়।[৯]
  • ১২/১১/২০১৯: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলস্টেশনে রেলওয়ের লাল সিগনাল মিস করে স্টেশনে দাঁড়ানো উদয়ন এক্সপ্রেসের সাথে চলন্ত তূর্ণা এক্সপ্রেসের মারাত্নক সংঘর্ষ হয়। এতে করে তূর্ণা এক্সপ্রেসের সাথে থাকা লোকোমোটিভ ২৯২৩ মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই দুর্ঘটনায় প্রায় ১৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে সেই লোকোমোটিভ মেরামত করে আবারও রেলসেবায় যোগ করা হয়।[১০]

চিত্রশালাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Analysis of Problems" (PDF)Bangladesh Railway। ৩১ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. "GT18L-2 — Trainspo"trainspo.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৬ 
  3. "Final Report on Rolling Stock Maintenance" (PDF)Asian Development Bank [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Railway goes backward"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১২-১২-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২৪ 
  5. "Status of Railway Tracks and Rolling Stocks in Bangladesh" (PDF) 
  6. "রেলের অচল ইঞ্জিন সচল, বাঁচল ৩০ কোটি টাকা"দৈনিক প্রথম আলো। ২০২০-০২-২৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২০ 
  7. "Railway to procure nine locomotives"The Daily Star। ১২ জানুয়ারি ২০১০। 
  8. "Parabat Express engine catches fire" [পারাবত এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়]। ডেইলি সান (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-১০-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-২৫ 
  9. "সেই লোকোমোটিভ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে মতামত দিচ্ছে না রেল!"বাংলা ট্রিবিউন। ২০২০-১০-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-২৫ 
  10. Hartley-Parkinson, Richard। "At least 16 dead after two packed trains are ripped apart after crash"Metro। Associated Newspapers। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

  উইকিমিডিয়া কমন্সে বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্লাস ২৯০০ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন