কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা

কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (সংক্ষেপে: কেলোকা) বাংলাদেশের একটি লোকোমোটিভ কারখানা, যেখানে বাংলাদেশের মিটারগেজ ও ব্রডগেজ ডিজেল লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ ও ভারী সংস্কারের কাজ করা হয়।[১] এই কারখানাটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে পার্বতীপুর-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।[২] এটি বাংলাদেশের প্রধান ও সর্ববৃহৎ লোকোমোটিভ কারখানা।

কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা
ধরনসরকারি
শিল্পরেলপথ
প্রতিষ্ঠাকাল১৪ মে ১৯৯২; ৩২ বছর আগে (1992-05-14)
সদরদপ্তরপার্বতীপুর উপজেলা, ,
বাণিজ্য অঞ্চল
সমগ্র বাংলাদেশ
পরিষেবাসমূহলোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত
কর্মীসংখ্যা
২৩৬

বিস্তারিত

সম্পাদনা

১৯৯২ সালের ১৪ই মে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপিত হয়। কারখানায় যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও স্টোরসহ ১১টি বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের বরাদ্দ মোট জনবলের সংখ্যা ৫৪৫ জন। তবে ২০১৯ সালের হিসাবে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩৬ জন। আর শূন্য পদ রয়েছে ৩০৯টি।[২] এই কারখানার বর্তমান প্রধান নির্বাহী (সিএক্স) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ।[৩]

এই কারখানায় প্রতি ৬ বছর অন্তর চলমান প্রত্যেক লোকোমোটিভের ভারী মেরামত (জেনারেল ওভারহোলিং বা জিওএইচ) এবং দূর্ঘটনায় কবলিত বা ত্রুটিযুক্ত লোকোমোটিভের বিশেষ মেরামত করা হয়।[৪]

উল্লেখযোগ্য ঘটনা

সম্পাদনা

২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর পারাবত এক্সপ্রেসের সাথে থাকা ২৯০০ ক্লাসের লোকোমোটিভ ২৯৩৩ হবিগঞ্জের মাধবপুরে নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। এতে সেই লোকোমোটিভের জ্বালানী ট্যাংকারে আগুন লেগে একটি বিরাট অংশ পুড়ে যায়। এতে করে লোকোমোটিভটি চলার পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে পরে। প্রায় দীর্ঘ ৩ বছর পাহাড়তলী ডিজেল কারখানায় পড়ে থাকার পর ২০১৯ সালের ১৫ই মে একে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় পাঠানো হয়। ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ ৮ মাস এই লোকোমোটিভকে মেরামত করে পুনরায় সচল ও ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার একটি উল্লেখযোগ্য সফলতা হিসেবে দেখা হয়।[৫]

আরও দেখুন

সম্পাদনা

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. "কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা"parbatipur.dinajpur.gov.bd। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. "অর্ধেক জনশক্তি পার্বতীপুর লোকোমোটিভ কারখানায়"Daily Nayadiganta। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৬ 
  3. "দৈনিক জনকন্ঠ || কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম"দৈনিক জনকন্ঠ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৬ 
  4. "খুঁড়িয়ে চলছে রেলওয়ের লোকোমোটিভ কারখানা"www.jaijaidinbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৬ 
  5. webdesk@somoynews.tv। "বাঁচল ৩৩ কোটি, রেলওয়ের অচল ইঞ্জিন দেশেই সচল"somoynews.tv (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১৬ 

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা