ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার

ফ্রান্সিস অ্যান্থনি ওয়ার্ড (ইংরেজি: Frank Ward; জন্ম: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৬ - মৃত্যু: ২৫ মার্চ, ১৯৭৪) নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড
ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড.jpg
সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামফ্রান্সিস অ্যান্থনি ওয়ার্ড
জন্ম(১৯০৬-০২-২৩)২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯০৬
সিডনি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু২৫ মার্চ ১৯৭৪(1974-03-25) (বয়স ৬৮)
ব্রুকলিন, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক গুগলি
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৫৮)
৪ ডিসেম্বর ১৯৩৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১০ জুন ১৯৩৮ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
সাউথ অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬৬
রানের সংখ্যা ৩৬ ৮৭১
ব্যাটিং গড় ৬.০০ ১৩.৮২
১০০/৫০ ০/০ ০/১
সর্বোচ্চ রান ১৮ ৬২
বল করেছে ১২৬৮ ১৫২০৭
উইকেট ১১ ৩২০
বোলিং গড় ৫২.১৮ ২৪.৬৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৪
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/১০২ ৭/৫১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/০ ৪২/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১ অক্টোবর ২০১৮

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ লেগ ব্রেক গুগলি বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে সিডনিভিত্তিক সেন্ট জর্জ ক্লাবের পক্ষে খেলে ব্রাডম্যানের ন্যায় তিনিও অগ্রসর হয়েছিলেন। এরপর অ্যাডিলেডে চলে যান। শেফিল্ড শিল্ডের ২৮ খেলায় সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলে ১২০ উইকেট পান। রাজ্য দলটিতে সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ১৮৭ উইকেট দখল করেছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটেছে ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ডের। সবগুলো টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড দল। ১৯৩৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তিনটি ও ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে একটি টেস্টে অংশ নেন।

৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সতীর্থ জ্যাক ব্যাডকক, মরিস সাইভার্সরে রবিনসনের সাথে একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার। ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট দখল করেছিলেন তিনি।[২] ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড তার অভিষেক টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখেন। ব্রিসবেন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ ওভার বোলিং করে সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে ৬/১০২ লাভ করেন। এরপর মেলবোর্নের তৃতীয় টেস্টে ব্যাট হাতে বেশ ভালো করেন। নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে খেলেন। ফলশ্রুতিতে ডোনাল্ড ব্রাডম্যান ও জ্যাক ফিঙ্গলটন জুটি ৩৪৬ রান তুলে। এভাবেই অস্ট্রেলিয়া দল দুই খেলায় পিছিয়ে থেকেও পরবর্তীতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে সক্ষমতা দেখায়।

১৯৩৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে ১৯.২৭ গড়ে ৯২ উইকেট পান। বিল ও’রিলি’র বদান্যতায় নটিংহামে সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলার সুযোগ পান। এডি পেন্টারের দ্বি-শতক, চার্লি বার্নেট, ডেনিস কম্পটনলেন হাটনের শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ৬৫৮/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এ ইনিংসে তিনি কোন উইকেট লাভে সমর্থতা দেখাতে পারেননি।

মূল্যায়নসম্পাদনা

ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড পরিচ্ছন্নমানের লেগ স্পিনার ছিলেন। তবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় তার সেরা প্রতিপক্ষরূপে ক্ল্যারি গ্রিমেটবিল ও’রিলি’র ধ্রুপদী ছন্দের সাথে তাল মিলাতে পারেননি। বার্ট ওল্ডফিল্ড তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, অপ্রতিদ্বন্দ্বী বোলার হিসেবে তিনি বলকে সেরা দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে শূন্যে ফেলতেন। ফলশ্রুতিতে তার টেস্টে অংশগ্রহণ বেশ সীমিত পর্যায়ের ছিল।

২৫ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে ৬৮ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্রুকলিনে ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ডের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Australia – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৯ 
  2. "1st Test: Australia v England at Brisbane, Dec 4–9, 1936"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা