প্রবোধচন্দ্র গুহ

প্রবোধচন্দ্র গুহ (১৮৮৫ – ২ জুলাই ১৯৬৯) ছিলেন বাংলা রঙ্গমঞ্চের অন্যতম পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা।[১]

প্রবোধচন্দ্র গুহ
জন্ম১৮৮৫
মৃত্যু২ জুলাই ১৯৬৯
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয়  
পেশারঙ্গমঞ্চ পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা।

সংক্ষিপ্ত জীবনীসম্পাদনা

প্রবোধচন্দ্র গুহের জন্ম বৃটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের বরিশালের বানারিপাড়ায়। শিক্ষান্তে কলকাতায় সরকারি চাকরি করতেন। তবে নাট্যামোদী তিনি কলকাতার 'আর্ট থিয়েটারের সাথে যুক্ত ছিলেন। 'আর্ট থিয়েটার' স্টার থিয়েটারের পরিচালনভার গ্রহণ করলে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে স্টার থিয়েটারের সেক্রেটারির পদ গ্রহণ করেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম নাটক অপরেশচন্দ্র রচিত নাটক 'কর্ণার্জুন' প্রথম মঞ্চস্থ করে আর্ট থিয়েটার প্রবোধচন্দ্রের তত্ত্বাবধানে। এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়তার কারণে নাটকটি দু-শো রজনী অভিনীত হয়েছিল।[২] পরে তিনি মনোমোহন থিয়েটারে আসেন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিজস্ব রঙ্গালয় 'নাট্য নিকেতন' প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার আমন্ত্রণে নটসূর্য অহীন্দ্র চৌধুরী যোগদেন। নাট্যনিকেতনের তখন উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা ছিল -

  • মুক্তির উপায়
  • মা
  • পথের দাবি
  • চরিত্রহীন
  • সিরাজদ্দৌল্লা (১৯৩৮)
  • আলেয়া
  • কারাগার (১৯৩০)
  • কালিন্দী

অহীন্দ্র চৌধুরী ছাড়াও তার প্রযোজিত বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনকড়ি চক্রবর্তী, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেশ মিত্র, নীহারবালা প্রমুখেরা। রানিবালা ও সরযূদেবী নাট্যনিকেতনেই অভিনেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠা পান। নাট্যকার শচীন সেনগুপ্তমন্মথ রায় প্রবোধচন্দ্রের সংস্পর্শে এসে তারা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পান। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশবিভাগের পর প্রবোধচন্দ্র কিছুকাল পাকিস্তানে বাসকরার সময় সিনেমা শিল্পে আত্মনিয়োগ করেন। এক সময় তিনি পাকিস্তানের রিজার্ভ ব্যাংকের অন্যতম পরিচালকও হয়েছিলেন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তার প্রতিষ্ঠিত নাট্যনিকেতনই পরে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে শিশিরকুমার ভাদুড়ীর হয় 'শ্রীরঙ্গম'। [৩] ১৪ বৎসর পর ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে অর্থাভাবে শ্রীরঙ্গমও বন্ধ হয়ে যায়। এটিই বর্তমানে 'বিশ্বরূপা থিয়েটার[৪]

প্রবোধচন্দ্র গুহ ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ২রা জুলাই পরলোক গমন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ৪১৪, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬,  পৃষ্ঠা ২৭, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  3. "কলকাতা"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-০২ 
  4. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬,  পৃষ্ঠা ৭১৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬