প্রধান মেনু খুলুন

নুরুন্নেছা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী

বাঙালি লেখিকা

নুরুন্নেছা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী (১৮৯৪-১৯৭৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশী লেখক এবং বাংলার প্রথম মুসলিম নারী ঔপন্যাসিক। তিনি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক হিসেবে বিবেচিত হন।[১][২]

নুরন্নেছা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী
জন্ম১৮৯৪
মৃত্যু১৯৭৫
ঢাকা
জাতিসত্তাবাঙালি

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

নুরুন্নেছা ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ রাজ্যের বাংলার প্রেসিডেন্সি অঞ্চলের মুর্শিদাবাদ মহকুমার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সরকারি চাকুরে খোন্দকার হাবিবুস সোবহান তার পিতা। অভিজাত ও রক্ষণশীল মুসলমান পরিবারে জন্ম তার। কঠিন অবরোধ প্রথার দরুন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হন। পারিবারিক গণ্ডির ভেতরেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। আইনজীবী কাজী গোলাম আহমদের সঙ্গে বিবাহের পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের ও সাহিত্যচর্চা এবং ইংরেজি শেখার সুযোগ লাভ করেন। স্বামীর ছোট ভগিনী ফাতেমা খাতুনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।[৩][৪] তিনি এবং তার সমসাময়িক মহিলা লেখকরা আমদের মহল এর মধ্য দিয়ে তাদের বাড়িগুলিতে সীমাবদ্ধতা থাকার কথা বলেছিলেন।[৫]

পেশাজীবনসম্পাদনা

নুরুন্নেছাকে তার স্বামীর চাকরির কারণে তাকে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করতে হয়। একারণেই তার লেখাসমূহ তার ভ্রমণ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। তার কবিতা "আহ্বান-গীতি" মাসিক কহিনুরের (বৈশাখ উপলক্ষে) প্রকাশিত হয়। ১৯২৯ সালে তার প্রথম উপন্যাস 'স্বপ্ন-দ্রষ্টা' প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি একটি মুসলিম পরিবারের জীবন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে লিখা। তিনি ১৯২৪ সালে ভারতে মুসলিম অগ্রগামীদের সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখেছিলেন, যা জনকী বাই বা মোসলেম বিরাতওয়া নামে পরিচিত। ১৯২৫ সালে তিনি আত্মত্যাগ সম্পর্কিত একটি বই "আত্মদান" লিখেছিলেন । তার সমগ্র কার্যাবলি কাজগুলি নুরুন্নেসা গ্রন্থাবলি নামে ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি বঙ্গীয় মুসলিম মহিলা সংঘের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সাহিত্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মলেন থেকে বিদ্যাবিনোদিনী উপাদি দেওয়া হয়। তিনি ১৯৫২ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ছেড়ে, পূর্ববাংলার ঢাকাতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।[৪] তিনি একজন নারী অধিকার কর্মী ছিলেন এবং তিনি মাদেরকে তাদের মেয়েদের শিক্ষার নিশ্চিতকরণের জন্য আহ্বান জানান।[৬]

মৃত্যুসম্পাদনা

৬ই এপ্রিল, ১৯৭৫ নূরুন্নেছা ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।[৪] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের উপর ভিত্তি করে নূরুন্নেছা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।[৭][৮]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Amin, S. N. (১৯৯৬)। The World of Muslim Women in Colonial Bengal, 1876-1939 (ইংরেজি ভাষায়)। BRILL। পৃষ্ঠা 228। আইএসবিএন 9004106421। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৭ 
  2. Haan, Francisca de (২০১৩)। Women's Activism: Global Perspectives from the 1890s to the Present (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। পৃষ্ঠা 112। আইএসবিএন 9780415535755 
  3. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; ঢাকা; এপ্রিল ২০০৩; পৃষ্ঠা ২১৫১।
  4. ওয়াকিল আহমদ (২০১২)। "বিদ্যাবিনোদিনী, নূরন্নেছা খাতুন"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীরবাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওসিএলসি 883871743 
  5. Jayawardena, Kumari; Alwis, Malathi de (১৯৯৬)। Embodied Violence: Communalising Women's Sexuality in South Asia (ইংরেজি ভাষায়)। Zed Books। পৃষ্ঠা 74। আইএসবিএন 9781856494489 
  6. Sarkar, Mahua (২০১০)। Visible Histories, Disappearing Women: Producing Muslim Womanhood in Late Colonial Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। Duke University Press। পৃষ্ঠা 129। আইএসবিএন 0822389037। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৭ 
  7. "Department of Biochemistry & Molecular Biology"Dalhousie University (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৭ 
  8. "Samina Luthfa"oxford.academia.edu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৭