তামিল জাতি

দ্রাবিড় নৃ-ভাষাগত জনগোষ্ঠী

তামিল জাতি (তামিল: தமிழர்; tamiḻar) ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ুশ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী একটি দ্রাবিড় নৃ-ভাষাগত জনগোষ্ঠী। এই জাতির মানুষেরা তামিল ভাষায় (তামিল: தமிழ்) ভাষায় কথা বলেন। তামিল জাতির ইতিহাস দুই হাজার বছরের প্রাচীন।[৮] যারা তামিল বংশে জন্মগ্রহণ করে তারা তামিলীয় বলে বিবেচিত হয়।[৯] তামিলরা ভারতের জনসংখ্যার ৫.৯% (প্রধানত তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে বেশি), শ্রীলঙ্কায় ১৫% ( শ্রীলঙ্কা মুরস ব্যতীত[note ৩]),  মালয়েশিয়ায় ৭% , মরিশাসে ৬%[১৪] এবং ৫% সিঙ্গাপুরে। এছাড়া সারা বিশ্বেই এই জাতির অভিবাসনকারী প্রবাসী সদস্যদের দেখা মেলে। তামিলরা মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

তামিল
தமிழர்
Tamil bride and groom performing 'மெட்டி அணிதல்'.jpg
তামিল বর ও কনে বিবাহের আচার পালন করছে
মোট জনসংখ্যা
আনু. ৮.৬ কোটি[১]
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চল
 ভারত৬,৯০,২৬,৮৮১ (২০১১)[২]
 শ্রীলঙ্কা৩১,৩৫,৭৭০ (২০১২)[৩]
 মালয়েশিয়া১৮,০০,০০০[১]
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র২,৩৮,৬৯৯+[৪]
 কানাডা২৩৭,৮৯০ (২০২১)[৫][note ১]
 সিঙ্গাপুর১৯২,৬৬৫+ (২০১৫)[৬][৭][note ২]
অন্যান্যতামিল প্রবাসী দেখুন
ভাষা
তামিল
ধর্ম
সংখ্যাগরিষ্ঠ:
Tamil Om.svg হিন্দুধর্ম
সংখ্যালঘু:
সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী

তামিল ভাষা ধ্রুপদি ভাষার মর্যাদা প্রাপ্ত প্রথম ভারতীয় ভাষা। দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠী মধ্যে এই ভাষার সাহিত্যই প্রাচীনতম।[১৫] তামিলদের শিল্প ও স্থাপত্যকলা ভারতীয় তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পকলার জগতে বিশেষ অবদান রেখেছে। তামিলদের প্রসিদ্ধ নটরাজ স্থাপত্য হিন্দুধর্মের একটি বিশ্বজনীন প্রতীক। প্রাচীন তামিল দেশে সৃষ্ট সংগীতমন্দির স্থাপত্য আজও অধীত ও অনুশীলিত হয়ে থাকে। এই কারণে তামিল সভ্যতাকে বিশ্বের সর্বশেষ বিদ্যমান ধ্রুপদি সভ্যতা বলা হয়।[১৬] তামিল পল্লব সাম্রাজ্যে দক্ষিণী ব্রাহ্মীর অন্যতম রূপভেদ পল্লব লিপি ব্যবহৃত হত। এই লিপি বর্মি, খমের, থাই, লাওজাভা লিপির মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন বর্ণমালাগুলির উৎস।[১৭]

ইতিহাসসম্পাদনা


ভৌগোলিক বিস্তৃতিসম্পাদনা

ভারতীয় তামিলসম্পাদনা

অধিকাংশ ভারতীয় তামিল বসবাস করেন তামিল নাড়ু রাজ্যে। প্রাক্তন ফরাসি ঊপনিবেশ, বর্তমানে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে তামিলরাই সংখ্যাগুরু। আন্দামান এবং নিকোবার দ্বীপপুঞ্জের জনসংখ্যার কমপক্ষে এক-ষষ্ঠমাংশ তামিল।

ভারতের অন্যান্য অংশেও তামিল সম্প্রদায়ের বসতী রয়েছে। এদের অধিকাংশই সাম্প্রতিক, ঊপনিবেশিক এবং উত্তর-ঊপনিবেশিক আমলের, বিশেষ করে দক্ষিণ কর্নাটকের হেবার এবং মান্দিয়াম তামিল সম্প্রদায় (২৯ লাখ), পুনে, মহারাষ্ট্র (১৪ লাখ), অন্ধ্র প্রদেশ (১২ লাখ), কেরালার পালাক্কাদ (৬ লাখ) এবং দিল্লীর (১ লাখ) — অন্তত মধ্যযুগ থেকে চলে আসছে।[১৮]

সংস্কৃতিসম্পাদনা

ভাষা ও সাহিত্যসম্পাদনা

 
ঋষি আগাথিয়ার, প্রাচীন তামিল সাহিত্যের অন্যতম অবদানকারী

তামিলদের তামিল ভাষার প্রতি দৃঢ় অনুরাগ রয়েছে, যা সাহিত্যে প্রায়শই তামিলআননাই , "তামিল মা" নামে পূজিত হয়।[১৯] এটি ঐতিহাসিকভাবে এখনও অনেকাংশে তামিল পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু।[২০] এটি একটি দ্রাবিড় ভাষা , উত্তর ভারতের ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুলির সাথে সামান্য সম্পর্ক রয়েছে । ভাষাটি অন্যান্য দ্রাবিড় ভাষার তুলনায় সংস্কৃত দ্বারা অনেক কম প্রভাবিত হয়েছে এবং যদিও বর্তমানে সংস্কৃত ও ইংরেজি থেকে অনেক শব্দ এই ভাষায় স্থান পেয়েছে, তবুও এটি প্রোটো-দ্রাবিড়ের অনেক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে ।[২১] তামিল সাহিত্য যথেষ্ট প্রাচীন। ভারত সরকার কর্তৃক তামিলকে একটি ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভিত্তি করে। শাস্ত্রীয় তামিল সাহিত্য, যা গীতিকবিতা থেকে শুরু করে কাব্যতত্ত্ব এবং নৈতিক দর্শনের উপর কাজ করে। অন্যান্য ভারতীয় ভাষার সমসাময়িক এবং পরবর্তী সাহিত্য থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্যের প্রাচীনতম অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।[২২]

ধর্মসম্পাদনা

উল্লেখযোগ্য তামিল ব্যক্তিসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. Statistic includes all speakers of the Tamil language, as many multi-generation individuals do not speak the language as a mother tongue, but instead as a second or third language.
  2. Note: The Singapore Tamil population data excludes Tamils who were unable to speak and those in one-person households and households comprising only unrelated persons.
  3. Tamils in Sri Lanka are classified into three ethnicities by the Sri Lankan government, namely Sri Lankan Tamils, Indian Origin Tamils and Sri Lankan Moors who accounted for 11.2%, 4.1% and 9.3% respectively of the country's population in 2011.[১০] Indian Origin Tamils were separately classified in the 1911 census onwards, while the Sri Lankan government lists a substantial Tamil-speaking Muslim population as a distinct ethnicity. However, much of the available genealogical evidence suggests that the Sri Lankan Moor community are of Tamil ethnicity, and that the majority of their ancestors were also Tamils who had lived in the country for generations, and had simply converted to Islam from other faiths.[১১][১২][১৩] It is also evidenced by the fact that Sri Lankan Moors were not a self-defined group of people and neither did the 'Moor' identity exist before the arrival of Portuguese colonists.[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. এথ্‌নোলগে Tamil (১৯তম সংস্করণ, ২০১৬)
  2. Statement 1 : Abstract of speakers' strength of languages and mother tongues – 2011, Censusindia.gov
  3. "Census of Population and Housing of Sri Lanka, 2012 – Table A3: Population by district, ethnic group and sex" (পিডিএফ)। Department of Census and Statistics, Sri Lanka। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২৩ 
  4. ""Commuting Times, Median Rents and Language other than English Use""। Census.gov। ২০১৭-১২-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৮-০৩ 
  5. Government of Canada, Statistics Canada (২০২২-০৮-১৭)। "Knowledge of languages by age and gender: Canada, provinces and territories, census metropolitan areas and census agglomerations with parts"www12.statcan.gc.ca। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-১০-১২ 
  6. "Basic Demographic Characteristics: Table 6 Indian Resident Population by Age Group, Dialect Group and Sex"Census of Population 2010 Statistical Release 1: Demographic Characteristics, Education, Language and Religion। Department of Statistics, Singapore। ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  7. General Household Survey 2015 - Department of Statistics, Ministry of Trade & Industry, Republic of Singapore, Web.archive.org
  8. M. B. Emeneau (১৯৫৬)। "India as a lingustic Area"Language32 (1): 5। ডিওআই:10.2307/410649। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-০৩Of the four literary Dravidian languages, Tamil has voluminous records dating back at least two millennia  অজানা প্যারামিটার |month= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  9. Llc, Books (সেপ্টেম্বর ২০১০)। Social Groups of Tamil Nadu: Badagas, Kongu Vellalar, Iyer, Boyar, Iyengar, Paravar, Nagarathar, Rajus, Nadar, Balija, Pallar, Kamma, Thondaimandala Mudaliar, Arya Vysyas, Paraiyar, Saurashtra Language, Maravar, Sengunthar, Vadama, Kapu, Kotas, Toda People (ইংরেজি ভাষায়) (Revised সংস্করণ)। India: General Books LLC। পৃষ্ঠা 174। আইএসবিএন 978-1-157-56781-3 
  10. "A2: Population by ethnic group according to districts, 2012"। Department of Census & Statistics, Sri Lanka। ২৮ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২৩ 
  11. Mohan, Vasundhara (১৯৮৭)। Identity Crisis of Sri Lankan Muslims। Delhi: Mittal Publications। পৃষ্ঠা 9–14, 27–30, 67–74, 113–18। 
  12. "Ross Brann, "The Moors?"" (পিডিএফ)Drum.lib.umd.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  13. "Analysis: Tamil-Muslim divide"। BBC News World Edition। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৪ 
  14. "Archived copy" (পিডিএফ)। ৩ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৮ 
  15. Burton Stein (১৯৭৭)। "Circulation and the Historical Geography of Tamil Country"The Journal of Asian Studies37 (1): 7–26। ডিওআই:10.2307/2053325। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-০৩Tamil is one of the two longest-surviving classical languages in India.  অজানা প্যারামিটার |month= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  16. Michael Wood, BBC
  17. Daniels, Peter T. (২০০৮)। "Writing systems of major and minor languages"। Kachru, Braj B.; Kachru, Yamuna; Sridhar, S.N.। Language in South Asia। Cambridge: Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 285–308। আইএসবিএন 0521781418  at p. 291
  18. "Almost 5 million Tamils live outside Tamil Nadu, inside India"। Censusindia.gov.in। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১০ 
  19. See Sumathi Ramasamy, Passions of the Tongue, 'Feminising language: Tamil as Goddess, Mother, Maiden' Chapter 3.
  20. (Ramaswamy 1998)
  21. Kailasapathy, K. (১৯৭৯), "The Tamil Purist Movement: A Re-Evaluation", Social Scientist, 7 (10): 23–51, জেস্টোর 3516775, ডিওআই:10.2307/3516775 
  22. Hart, G. L. (১৯৭৫)। The Poems of Ancient Tamil: Their Milieu and their Sanskrit Counterparts। University of California Press। আইএসবিএন 0-520-02672-1 

সূত্রসম্পাদনা

  • de Silva, Chandra Richard (১৯৯৭), Sri Lanka – A History (2, illustrated সংস্করণ), Vikas Pub. House, আইএসবিএন 978-0-9510710-2-1 
  • de Silva, K. M. (২০০৫), A History of Sri Lanka, Colombo: Vijitha Yapa, আইএসবিএন 978-955-8095-92-8 
  • Gadgil, M. & Joshi, N.V. & Shambu Prasad, U.V. & Manoharan, S. & Patil, S. (1997). "Peopling of India." In D. Balasubramanian and N. Appaji Rao (eds.), The Indian Human Heritage, pp. 100–129. Hyderabad: Universities Press. আইএসবিএন ৮১-৭৩৭১-১২৮-৩.
  • Mark Jarzombek, "Horse Shrines in Tamil India: Reflections on Modernity", Future Anterior, (4/1), pp 18–36.
  • Mahadevan, Iravatham (2003). Early Tamil Epigraphy from the Earliest Times to the Sixth Century A.D. Cambridge, Harvard University Press. আইএসবিএন ০-৬৭৪-০১২২৭-৫.
  • Pillai, Suresh B. (1976). Introduction to the study of temple art. Thanjavur: Equator and Meridian.
  • Ramaswamy, Sumathi (1998). Passions of the Tongue: language devotion in Tamil India 1891–1970. Delhi: Munshiram. আইএসবিএন ৮১-২১৫-০৮৫১-৭.
  • Sastri, K.A. Nilakanta (২০০২) [1955], A history of South India from prehistoric times to the fall of Vijayanagar, New Delhi: Indian Branch, Oxford University Press, আইএসবিএন 978-0-19-560686-7 
  • Sastri, K.S. Ramaswamy (2002). The Tamils: The People, Their History and Culture, Vol. 1: An Introduction to Tamil History and Society. New Delhi: Cosmo Publications. আইএসবিএন ৮১-৭৭৫৫-৪০৬-৯.
  • Sharma, Manorama (2004). Folk India: A Comprehensive Study of Indian Folk Music and Culture, Vol. 11: Tamil Nadu and Kerala. New Delhi: Sundeep Prakashan. আইএসবিএন ৮১-৭৫৭৪-১৪১-৪.
  • Steever, Sanford (১৯৯৮), Steever, Sanford, সম্পাদক, The Dravidian Languages, London: Routledge, আইএসবিএন 978-0-415-10023-6 
  • Subramanian, T.S. (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫), "'Rudimentary Tamil-Brahmi script' unearthed at Adichanallur", The Hindu, Chennai, India, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা 
  • Wells, Spencer (২০০৪)। The Journey of Man : A Genetic Odyssey। New York, NY: Random House Trade Paperbacks। আইএসবিএন 978-0-8129-7146-0 
  • Patil, S. (1997). "Peopling of India." In D. Balasubramanian and N. Appaji Rao (eds.), The Indian Human Heritage.

আরো পড়ুনসম্পাদনা

  • Bowers, F. (১৯৫৬)। Theatre in the East – A Survey of Asian Dance and Drama। Grove Press। 
  • Chaitanya, Krishna (১৯৭১)। A history of Malayalam literature। Orient Longman। আইএসবিএন 81-250-0488-2 
  • Hart, G. L. (১৯৭৯)। "The Nature of Tamil Devotion"। Deshpande, M. M.; Hook, P. E.। Aryan and Non-Aryan in India। Ann Arbor। পৃষ্ঠা 11–33। আইএসবিএন 0-89148-014-5 
  • Hart, G. L. (১৯৮৭)। "Early Evidence for Caste in South India"। Hockings, P.। Dimensions of Social Life: Essays in honor of David B. Mandelbaum। Mouton Gruyter। 
  • Keay, John (২০০০)। India: A History। New York: Grove Publications। আইএসবিএন 978-0-8021-3797-5 
  • Varadpande, M. L. (১৯৯২)। Loka Ranga: Panorama of Indian Folk Theatre। Abhinav Publications। আইএসবিএন 81-7017-278-0 
  • Zvebil, K. (১৯৭৪)। The Smile of Murugan: On Tamil Literature of South India। Brill। আইএসবিএন 90-04-03591-5 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা