প্রধান মেনু খুলুন

জেরুসালেমের মর্যাদা

জেরুসালেম নগর এলাকা। নীল অংশটি পশ্চিম জেরুসালেম, সবুজ অংশটি পূর্ব জেরুসালেম এবং লাল অংশটি অনধিকৃত ভূখণ্ড নির্দেশ করছে। কালো দাগ দিয়ে সীমাবদ্ধ এলাকাটি পুরাতন জেরুসালেম শহর

মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক শহর জেরুসালেমের মর্যাদা আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক আচার ও রীতির ক্ষেত্রে একটি বিতর্কিত প্রসঙ্গ।[১][২][৩] সংঘাতের মূল দুই পক্ষ ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয়েই জেরুসালেম শহরকে তাদের রাজধানী শহর হিসেবে দাবি করে আসছে।[৪] এই বিবাদ ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের সবচেয়ে দুর্বশ্য একটি প্রশ্ন হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।[৫] শহরের উপর বা এর কোন্‌ অংশের উপর কোন্‌ পক্ষের সার্বভৌম অধিকার আছে, এবং শহরের পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলিতে প্রবেশের পথ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, এ নিয়ে উভয়পক্ষের পরস্পর-বিরোধী দাবী রয়েছে।

বর্তমানে পূর্ব জেরুসালেমের আইনি মর্যাদা, বিশেষ করে পুরাতন জেরুসালেম শহরের আইনি মর্যাদা এই বিবাদের প্রধান বিষয়বস্তু। এর বিপরীতে পশ্চিম জেরুসালেমে ইসরায়েলের অবস্থিতির ব্যাপারে সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।[১] ২০১৭ সালের জুন মাসে রাশিয়া সরকারিভাবে পশ্চিম জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ১৯৮৮ সালে রাশিয়া পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।[৬][৭] অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে জেরুসালেমে একটি আন্তর্জাতিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সমর্থন জানালেও ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ত্বাধীন মার্কিন সরকার সরকারিভাবে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে।[৮][৯] তবে বহু রাষ্ট্র মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে।[১০] ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের অংশীদারীমূলক রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমের মর্যাদার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে।[১১] এ ব্যাপারে জাতিসংঘ[১২][১৩] এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়েই তাদের সমর্থন জ্ঞাপন করেছে।[১৪][১৫]

জাতিসংঘের সিংহভাগ সদস্যরাষ্ট্র এবং বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংস্থাই পূর্ব জেরুসালেমের উপরে ইসরায়েলের সার্বভৌম কর্তৃত্ব স্বীকার করে না। এর আগে ১৯৬৭ সালে সংঘটিত ছয় দিনের যুদ্ধশেষে পূর্ব জেরুসালেম এলাকাটি ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে আসে। তারা ১৯৮০ সালে জেরুসালেম আইন নামক ইসরায়েলের ঘোষণাটিকেও স্বীকার করে না, যেখানে "সম্পূর্ণ ও একীভূত" জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা হয়।[১৬] এর ফলশ্রুতিতে বেশির ভাগ রাষ্ট্রই ইসরায়েলে তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলিকে জেরুসালেমের পরিবর্তে হয় তেল আভিভ বা তার শহরতলীতে স্থাপন করেছে। জাতিসংঘের অনেক সদস্যরাষ্ট্র সরকারিভাবে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের সাথে একমত যে প্রস্তাব অনুসারে জেরুসালেমকে একটি আন্তর্জাতিক নগরীর মর্যাদা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে (জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৮১(২) নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী)।[১৭] ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ ব্যাপারে জাতিসংঘের নীতিই অনুসরণ করেছে; তারা জেরুসালেমকে "কর্পাস সেপারাটাম" ("পৃথক দেহ") অর্থাৎ জাতিসংঘের শাসনাধীন একটি আন্তর্জাতিক শহরের মর্যাদা দিতে বলেছে।[১৮][১৯] কিন্তু জাতিসংঘ নিজেই আবার আপাত-স্ববিরোধী হয়ে পূর্ব জেরুসালেমকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মর্যাদা দিয়েছে।[২০] রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।[২১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Moshe Hirsch, Deborah Housen-Couriel, Ruth Lapidoth. Whither Jerusalem?: Proposals and Positions Concerning the future of Jerusalem, Martinus Nijhoff Publishers, 1995. pg. 15. আইএসবিএন ৯০-৪১১-০০৭৭-৬.
  2. Brian Whitaker. "Rivals for holy city may have to turn to God". The Guardian. 21 August 2000.
  3. Deborah Sontag. "Two Dreams of Jerusalem Converge in a Blur". The New York Times. 21 May 2000.
  4. Harriet Sherwood (৩০ জানুয়ারি ২০১৪)। "Israel-Palestinian peace talks: the key issues"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  5. Leigh Phillips (19 November 2009). "EU rebukes Israel for Jerusalem settlement expansion". EUObserver. "The issue of Jerusalem is one of the most intractable issues in the Israel-Palestine conflict. While both Israelis and Palestinians claim Jerusalem as their capital, most countries maintain their embassies in Tel Aviv while the occupied territories are administered by the Palestinian Authority in the town of Ramallah."
  6. Medvedev reaffirms Soviet recognition of Palestine (Ynet News, 18 January 2011) "Russian president says Moscow has not changed its position since 1988 when it 'recognized independent Palestinian state with its capital in east Jerusalem'"
  7. FOR FIRST TIME EVER, RUSSIA TO CELEBRATE INDEPENDENCE IN JERUSALEM
  8. "President Donald J. Trump's Proclamation on Jerusalem as the Capital of the State of Israel"। White House। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  9. "Trump Declares Jerusalem as Israel's Capital"। News.com.au। ২০১৭-১২-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-০৭ 
  10. Arabs, Europe, U.N. reject Trump's recognition of Jerusalem as Israeli capital, Mark Heinrich, Reuters
  11. Sherwood, Harriet (৩০ জানুয়ারি ২০১৪)। "Israel-Palestinian peace talks: the key issues"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৭Both Israel and the future state of Palestine want Jerusalem as their capital. ... The international consensus is that Jerusalem would have to be the shared capital of both states. 
  12. A/RES/67/19 of 4 December 2012. United Nations General Assembly. The General Assembly emphasized "the need for a way to be found through negotiations to resolve the status of Jerusalem as the capital of two States".
  13. "Jerusalem must be capital of both Israel and Palestine, Ban says". UN News Centre. 28 October 2009.
  14. 2012/2694(RSP) - 05/07/2012 Text adopted by Parliament, single reading. European Parliament. Archived from the original on 11 March 2014.
  15. Leigh Phillips (19 November 2009). "EU rebukes Israel for Jerusalem settlement expansion". EUObserver. Quoting a statement by the European Union: "If there is to be genuine peace, a way must be found to resolve the status of Jerusalem as the future capital of two states."
  16. "UN security Council Resolution 478" (PDF)। United Nations। ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  17. Ira Sharkansky. Governing Jerusalem: Again on the World's Agenda. Wayne State University Press, 1996, page 23. আইএসবিএন ০-৮১৪৩-২৫৯২-০.
  18. "EU re-ignites Jerusalem sovereignty row"BBC। ১১ মার্চ ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৫ 
  19. "Special Report: Israel's Uncertain Victory in Jerusalem"Foundation for Middle East Peace। ৭ মে ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  20. "December Overview" (PDF)UNOCHA। ডিসেম্বর ২০০৯। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১০ 
  21. China supports Palestinian UN bid (Xinhua, 8 September 2011) "China recognizes Palestine as a country with east Jerusalem as its capital and possessing full sovereignty and independence, in accordance with borders agreed upon in 1967, according to Jiang"