গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়

অধ্যাপক ড. গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায় (ইংরেজি: Prof. Dr. Gobindagopal Mukhopadhyay) ( ২৩ মে ১৯১৮ - ২৬ মার্চ ২০০৯) সংস্কৃত ভাষার অধ্যাপক ও সংগীতশিল্পী। মহামহোপাধ্যায় উপাধি ও রাষ্ট্রপতি সম্মানে ভূষিত সংস্কৃত পণ্ডিত। [১]

গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়
জন্ম২৩ মে ১৯১৮
মৃত্যু২৬ মার্চ ২০০৯ (বয়স ৯০)
জাতীয়তাভারতীয়
মাতৃশিক্ষায়তনকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাঅধ্যাপক ও সংগীত শিল্পী
দাম্পত্য সঙ্গীমাধুরী মুখোপাধ্যায় (সঙ্গীত শিল্পী)
সন্তানস্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
পিতা-মাতাপ্রাণগোপাল মুখোপাধ্যায় (পিতা)
সুরবালা দেবী (মাতা)

জন্ম ও শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়ের জন্ম বৃটিশ ভারতের বর্তমানে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দেওঘর জেলার বৈদ্যনাথ ধামে। তিনি পিতা প্রাণগোপাল মুখোপাধ্যায় ও মাতা সুরবালা দেবীর কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। তার পিতা ছিলেন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ও শ্রীবালানন্দ ব্রহ্মচারীর শিষ্য। তিনি দেওঘরে শ্রীবালানন্দ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে আশ্রমিক হিসাবে শিক্ষা লাভ করে প্রাইভেটে ম্যাট্রিক পাশ করেন প্রথম বিভাগে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও সংস্কৃতে প্রথম শ্রেণীতে বি. এ পাশ করেন। প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন এম.এ পরীক্ষাতেও। বেনারস বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের কাছে গবেষণা করে ডি.লিট পান।

কর্মজীবনসম্পাদনা

বেনারসে কিছুদিন অধ্যাপনা করেন ও পরে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে প্রথমে যোগ দেন কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজে। তারপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজেসংস্কৃত কলেজে। শেষে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হয়ে অবসর গ্রহণ করেন। তবে অধ্যাপনা হতে অবসরের পর যুক্ত ছিলেন জাতীয় শিক্ষা পরিষদ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। দীর্ঘ পঞ্চাশ বৎসর যুক্ত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে। শ্রী অরবিন্দ ভবন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, শ্রী অরবিন্দ ইনস্টিটিউট অব কালচার ও সারদা মঠের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

সংগীত জীবনসম্পাদনা

কৃতি অধ্যাপক-জীবনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী। সঙ্গীতে তিনি তালিম নিয়েছিলেন হরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দিলীপকুমার রায়ের কাছে। তিনি আবার ভজন শিখিয়েছেন প্রখ্যাত শিল্পী ভারত রত্নএম এস শুভলক্ষ্মী ও গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে। দীর্ঘদিন তিনি আকাশবাণীদূরদর্শনের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। দ্বিজেন্দ্রগীতি, অতুলপ্রসাদের গান, রজনীকান্তর গান দিলীপকুমারের গান গাইতেন। এছাড়া মন্ত্রগান ও সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করতেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই যে,১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবার আকাশবাণী পূজার সময় মহালয়ার ভোরের বহু জনপ্রিয় অনুষ্ঠান "মহিষাসুরমর্দিনী" র পরিবর্তে "দেবীং দুর্গতিহারিণীম" প্রচার করে সেই অনুষ্ঠানে সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করেন তিনি। বাঙালি চিরাচরিত আবেগের কারণে অনুষ্ঠানটি অবশ্য সমাদর পায়নি বরং সমালোচিত হয়েছিল। তিনি তার স্ত্রী মাধুরী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছেন উপাসনার গান ও স্তোত্র। তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন দেবকী বসু পরিচালিত 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য' ও 'মাথুর' ছায়াছবিতে। 'সাগরসঙ্গমে' ও 'সাত পাকে বাঁধা' ছায়াছবিতে নেপথ্যে কণ্ঠ দিয়েছেন। বহু গানের রেকর্ড করেছেন তিনি। শিক্ষা ও সঙ্গীতের জন্য তিনি নানা সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। মহামহোপাধ্যায় উপাধি ও রাষ্ট্রপতি সম্মানে ভূষিত হন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল -

  • 'চেতনার আরোহিণী'
  • 'পত্র প্রসাদ'
  • 'মহাজন সংবাদ'
  • 'ত্রয়ীর ত্রিধারা'
  • 'দিলীপকুমার রায় - জীবনে ও গানে'
  • 'শ্রীগুরুবালানন্দ সংবাদ'
  • 'গীতার কথা'
  • 'ভাগবতের কথা'
  • 'শ্রীমদ্ভাগবতের কথা'
  • 'শ্রুতি সঞ্চয়নম' ( সংকলন গ্রন্থ)

জীবনাবসানসম্পাদনা

ড. গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায় ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে র ২৬ শে মার্চ ৯০ বৎসর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা ১১৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬