প্রধান মেনু খুলুন

অলঙ্কার

(গহনা থেকে পুনর্নির্দেশিত)

এই নিবন্ধটি "গহনা" বিষয়ক; ভাষার অলঙ্কার বিষয়ে দেখুন অলঙ্কার (ভাষা)

বিয়ের কনের জন্য তৈরি একপ্রস্থ সোনার গহনা। বাংলাদেশ, ২০১০

অলঙ্কার বলতে বোঝানো হয় ধাতু বা অন্য কোন উপকরণ দ্বারা তৈরী কিছু সৃদৃশ্য সামগ্রী যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সুসজ্জিত ও আকর্ষণীয় করার উদ্দেশ্যে পরিধান করা হয়। অলঙ্কার তৈরীতে সাধারণত মূল্যবান ধাতু ব্যবহৃত হয়। অন্যভাবে এসকল উপাদানকে গহনাও বলা হয়ে থাকে। অলঙ্কার সাজসজ্জার একটি মাধ্যম যা সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে বলে পৃথিবীর প্রায় সকল জাতিই বিশ্বাস পোষণ করে। আধুনিক সভ্যতায় সোনা ও রূপার অলংকার সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় লোহার তৈরী গহনাও গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হতো। বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে প্লাটিনামের গহনা তৈরীও শুরু হয়।

হীরা সহ নানা ধরনের মণি-মুক্তা দিয়ে গহনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে কৃত্রিম গহনা বা ইমিটেশান জুয়েলরীর প্রচলন হয়।

শরীররের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য পৃথক পৃথক ধরনের গহনা ব্যবহার করা হয়। গহনা প্রধানত নারীর আভরণ হলেও পুরুষরাও কিছু কিছু গহনা ব্যবহার করে থাকে। যেমন আংটি নারী-বিশেষ নির্বিশেষে সমান জনপ্রিয়।

বিভিন্ন ধরনের গহনাসম্পাদনা

আংটিসম্পাদনা

হাত আঙ্গুলে পরিধেয় গোল, ধাতব অলংকারকে আংটি বলে। আংটির সাথে দামি পাথর খচিত থাকে, যা আঙ্গুলের উপরিভাগে দেখা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে পায়ের আঙ্গুলেও আংটি পরার রেওয়াজ আছে।

কণ্ঠহারসম্পাদনা

সারা পৃথিবীতে কণ্ঠহার বা নেইকলেস নারীর অন্যতম প্রধান অলংকার। জড়োয়া কণ্ঠহার ভারী হয়ে থাকে। অন্যদিকে শিকলি বা চেইন হালকা প্রজাতির কণ্ঠহার।

কানের অলংকারসম্পাদনা

কানের অলংকার নানা রকম যার মধ্যে প্রধান হলো কানের দুল। এছাড়া রয়েছে কান পাশা। কানের অলংকারের জন্য কানের লতিতে ফুটো করা হয়। মেয়েদের ন্যায় কোন কোন জাতির পুরুষেরাও কানে অলংকার পরে থাকে।

চুড়িসম্পাদনা

 
দোকানে সজ্জিত চুড়ির বাহার

চুড়ি একধরনের গোলাকৃতির গহনা যা সাধারণত মেয়েরা হাতের কব্জিতে পরেন। চুড়ি কাচ, সোনা, রূপা এমনকি মাটি দিয়েও তৈরি হয়ে থাকে। মোটা চুড়িকে বালা নামে অভিহিত করা হয়।

টিকলীসম্পাদনা

 
বিয়ের কনের কপালে টিকলী

যে অলংকার মেয়েদের চুলের সিঁথি বরাবর চিকন সোনা বা রূপার শিকলের সাহায্যে মাথার মাঝখান থেকে টেনে এনে কপালের উপর ঝোলানো হয় তাকে টিকলী বলে। ভারতীয় উপমহাদেশে টিকলী বিয়ের বউ সাজানোর জন্য একটি আবশ্যকীয় গহনা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।

নথসম্পাদনা

নাকের যেকোনো একপাশে ছিদ্র করে তাকে ঘিরে বৃত্তাকার যে অলঙ্কার পরা হয় তাকে নথ বলে।

নোলকসম্পাদনা

নারীদের পরিধেয়, নাকের নিম্নভাগে ছোট-আকৃতির গোল ধাতব গহনাকে নোলক বলে। নোলক পরতে হলে নাকের নিচে মাঝবরাবর ছিদ্র থাকা আবশ্যক।

বিছাসম্পাদনা

এটি নারীর অলংকার যা কোমড় পেঁচিয়ে পরতে হয়।

নূপুরসম্পাদনা

পায়ের গোড়ালি ঘিরে যে ধাতব গহনা পরা হয় তাকে নূপুর বলে।

ব্যবহারসম্পাদনা

অলংকার দুই ধরনের। এক প্রকার অলংকার দৈনিক ব্যবহার করা হয়। অন্য প্রকার অলংকার বিশেষ উৎসবে-উপলক্ষে ব্যবহার করা হয়। ভারতবর্ষে বিয়ে নারীর অলংকার ব্যবহারের প্রধান আঙ্গিক।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা