প্রধান মেনু খুলুন

এরল হোমস

ইংরেজ ক্রিকেটার

এরল রেজিনাল্ড থরোল্ড হোমস (ইংরেজি: Errol Holmes; জন্ম: ২১ আগস্ট, ১৯০৫ - মৃত্যু: ১৫ আগস্ট, ১৯৬০) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৫ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারেঅক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এরল হোমস

এরল হোমস
এরল হোমস.png
১৯৪৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে এরল হোমস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএরল রেজিনাল্ড থরোল্ড হোমস
জন্ম(১৯০৫-০৮-২১)২১ আগস্ট ১৯০৫
কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৫ আগস্ট ১৯৬০(1960-08-15) (বয়স ৫৪)
মেরিলেবোন, লন্ডন
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৭৮)
৮ জানুয়ারি ১৯৩৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২৯ জুন ১৯৩৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩০১
রানের সংখ্যা ১১৪ ১৩৫৯৮
ব্যাটিং গড় ১৬.২৮ ৩২.৮৪
১০০/৫০ -/১ ২৪/৬৭
সর্বোচ্চ রান ৮৫* ২৩৬
বল করেছে ১০৮ ১৮২৯৭
উইকেট ২৮৩
বোলিং গড় ৩৮.০০ ৩৩.৬৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/১০ ৬/১৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/- ১৯২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

দর্শনীয় ডানহাতি ব্যাটিং ভঙ্গিমার অধিকারী হোমস বিশ্বাস করতেন যে ক্রিকেট উপভোগযোগ্য খেলা। ১৯৩০-এর দশকের শুরুর দিকে বডিলাইন বিতর্কের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। বডিলাইন সিরিজের ইংরেজ অধিনায়ক ডগলাস জারদিনের পরিবর্তে ১৯৩৪ সালে সারে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব লাভ করেন।

কাউন্টি ক্রিকেটের খেলাগুলোয় বোলারদেরকে শর্ট পিচ বোলিং করতে নিরুৎসাহিত করেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে এমসিসি দলের টেস্ট সফরবিহীন শুভেচ্ছা সফরে অধিনায়কত্ব করেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

সারের দক্ষিণ গডস্টোনের পার্ক ভিউ স্কুল ও ইস্টবোর্নের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ স্কুলে অধ্যয়ন করেন। ১৯১৯ সালে ওরচেস্টারশায়ারের মালভার্ন কলেজে ভর্তি হন। সেখানে থাকাকালীন চার্লস টোপিনের কাছ থেকে ক্রিকেটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন[১] ১৯২২ সালে বিদ্যালয়ের খেলায় এক ইনিংসে ১০/৩৬ লাভ করেন।[২]

১৯২৩ ও ১৯২৪ সালে বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।[৩]

শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

১৯২৫ থেকে ১৯২৭ সময়কালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তার মারকুটে ব্যাটিং সকলের নজর কাড়ে। এ সময়ে সারে ও প্লেয়ার্সের বিপক্ষে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। এছাড়াও তিনি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। জানা যায় যে, তার দৌড়ানোর ভঙ্গিমা বোলিংয়ের চেয়ে তীব্রতর ছিল যা থেকে তিনি সফলতা পেতেন।

সতেজতার বছরে ফুটবল ও ক্রিকেটে ব্লু লাভ করেন। একবার তিনি বলেছিলেন যে, ব্লু লাভ করা প্রয়োজনীয়, তবে অক্সফোর্ড ছাত্রের কাছে জরুরি নয়।[৪] তিনি মন্তব্য করেন যে, তার পড়াশোনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছিল ও অক্সফোর্ড ক্রিকেট দলে অধিনায়কের দায়িত্বভার বহন করায় চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।[৫] খেলায় তিনি শতরান সংগ্রহ করলেও কেমব্রিজ দল জয়লাভ করেছিল।[৬]

এর কয়েকসপ্তাহ পূর্বে ফ্রি ফরেস্টার্সের বিপক্ষে মনোজ্ঞ ২৩৬ রানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে একাধারে চার বলে উপর্যুপরি ছক্কা হাঁকান তিনি। ফলশ্রুতিতে প্রথম দিন শেষে ৫২০/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে অক্সফোর্ড দল।[৭]

১৯২৬ সালে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট চলাকালীন তিনি ডাকপিয়ন হিসেবে অক্সফোর্ডের আশেপাশের গ্রামগুলোয় চিঠিপত্র বিতরণ করতেন।[৮] ১৯২৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সম্মানীয় এল এইচ টেনিসনের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে জামাইকা গমন করেন। সেখানে দলটি জামাইকার বিপক্ষে তিনটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেন।[৯]

স্টক এক্সচেঞ্জে অংশগ্রহণসম্পাদনা

অক্সফোর্ড থেকে চলে আসার পর স্টক এক্সচেঞ্জে কাজ করেন। লন্ডনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। এছাড়াও ১৯৩০ সালে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ছয়মাস ব্যয় করেন। ১৯২৮ ও ১৯২৯ সালে মাত্র কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে তার। ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে।

সারের সভাপতি এইচ. ডি. জি. লেভেসন গাওয়ার থ্রগমর্টন স্ট্রিটে ব্যক্তিগতভাবে স্বাক্ষাৎ করেন ও কাউন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্বভার বহনের অনুরোধ করেন।[১০] দ্রুত সফলতা লাভ করেন তিনি। উপর্যুপরি চারবছর সহস্রাধিক রান তুলতে থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চার টেস্টের সিরিজে এমসিসি দলের সহঃ অধিনায়কের দায়িত্ব লাভ করেন তিনি।

এছাড়াও ১৯৩৫ সালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতার কারণে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে নিজ নাম প্রত্যাহার করে নেন। ১৯৩৮ সালে একই কারণে সারে দলের অধিনায়কের দায়িত্বভার ছেড়ে দেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণসম্পাদনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি রয়্যাল আর্টিলারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মেজর পদবী ধারন করেন। ফ্লাক বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার সবিশেষ সুনাম ছিল। উইলহেম শাভেনে অবস্থিত জার্মান নৌঘাঁটিতে প্রথম আমেরিকান বোমা আক্রমণ পরিচালনায় ব্রিটিশ ফ্লাক লিয়াজোঁ কর্মকর্তা হিসেবে বিমান পরিচালনা করেন। বিমানে অবস্থানকারী গানার আহত হলে তিনি তার স্থানে বসেন। তবে তিনি গোলাবর্ষণের সুযোগ পাননি।[১১]

১৯৪৮ সালে যুদ্ধক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের অংশ হিসেবে ইউএস ডিএফসি পদক লাভ করেন। ইউরোপ জুড়ে ১ম বোম্ব উইং ডিভিশনের সাথে ফ্লাক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে এ পদক দেয়া হয়েছিল।[১২]

যুদ্ধ পরবর্তী সময়কালসম্পাদনা

যুদ্ধের পর সারে দলে ফিরে যান ও ১৯৪৭ সাল থেকে পরবর্তী দুই বছর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৫ সালের শেষদিকে ৪৯ বছর বয়সে সারের অধিনায়ক হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে একটি খেলায় অংশ নেন। নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

১৯৩৬ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনীত হন।[১৩]

অবসরসম্পাদনা

খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর এমসিসি ও সারে দলের কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালে নিজস্ব আত্মজীবনী 'ফ্লানেল্ড ফুলিশনেস এ ক্রিকেটিং ক্রোনিকল' শিরোনামীয় গ্রন্থ প্রকাশ করেন তিনি।[১৪] সতীর্থ ও সারে কমিটিতে থাকাকালীন স্যার জ্যাক হবস হোমসকে উদ্দেশ্য করে লিখেন যে, তিনি প্রকৃত ক্রীড়াবিদ ও অন্তরঙ্গ সতীর্থ এবং মাঠে আক্রমণধর্মী চমৎকার ব্যাটসম্যানের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি অতুলনীয় ও আপোষহীন ছিলেন।

হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হবার পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর ১৬ আগস্ট, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় এরল হোমসের দেহাবসান ঘটে।[১৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Errol Holmes, Flannelled Foolishness, Hollis & Carter, London, 1957, pp. 6-12.
  2. Holmes, pp. 14-15.
  3. Holmes, pp. 16-17.
  4. Holmes, p. 24.
  5. Holmes, p. 27.
  6. "Oxford University v Cambridge University 1927"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৫ 
  7. "Oxford University v Free Foresters 1927"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০১৫ 
  8. Holmes, p. 25.
  9. "L. H. Tennysons XI in Jamaica 1926-27"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৫ 
  10. Holmes, p. 31-40.
  11. "Britain at War: Two Big Day Raids on Nazi Sea Bases", Daily Telegraph, page 24, 28 January 2013 (reprint of article first published on 28 January 1943).
  12. Save The Brampton Grange Retrieved 28 January 2013.
  13. "Wisden Cricketers of the Year" (English ভাষায়)। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০২-২১ 
  14. Wisden 1958, pp. 1015–16.
  15. Wisden 1961, p. 947.

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা