উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতাকা

পতাকা

উসমানীয় সাম্রাজ্যের জাতীয় পতাকা হল লাল পটভূমির উপর সাদা চাঁদ ও পাঁচ কোণা তারা বিশিষ্ট একটি পতাকা। ১৮৪৪ সালে তানযিমাতের অংশ হিসেবে এ পতাকা প্রবর্তন করা হয়।

উসমানীয় সম্রাজ্য
Flag of the Ottoman Empire.svg
নাম চাঁদ ও তারা (তুর্কী: Ay yıldız),পতাকা (তুর্কী: Al bayrak),লাল পতাকা (তুর্কী: Al sancak)
ব্যবহার জাতীয় পতাকা এবং ensign পূর্বে ব্যবহৃত হতো, কিন্তু বর্তমানে পরিত্যক্ত
অনুপাত ২:৩
গৃহীত ১৮৪৪; ১৭৫ বছর আগে (1844)
অঙ্কন লাল জমিনের উপর সাদা ক্রিসেন্ট চাঁদ ও পাঁচ কোণা তারা।
রঙ:
     লাল
     সাদা

পূর্বে উসমানীয় সাম্রাজ্যের কোনো একক জাতীয় পতাকা ছিল না। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল ও সামরিক বাহিনীগুলোতে (বিশেষ করে নৌ-বাহিনীতে) বিভিন্ন ধরনের পতাকা প্রচলিত ছিল। ১৮শ শতাব্দীর শেষার্ধে এসব পতাকায় চাঁদ ও তারার ব্যবহার শুরু হয়। ১৭৯৩ সালে জারি করা এক বুইরুলদু (অধ্যাদেশ)এ উসমানীয় নৌ-বাহিনীর সকল জাহাজে লাল জমিনের উপর সাদা চাঁদ ও তারা সম্বলিত পতাকা ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর ১৮৪৪ সালে এ পতাকারই একটি রূপ (৫ কোণা তারা বিশিষ্ট) উসমানীয় সম্রাজ্যের জাতীয় পতাকা হিসেবে গৃহীত হয়। এই জাতীয় পতাকা নির্ধারণ ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের আধুনিকায়নের একটি অংশ যা তানযিমাত নামে পরিচিত।

বিংশ শতাব্দীতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল স্বাধীন হলে চাঁদ ও তারা এসব দেশের পতাকার একটি সাধারণ উপাদান হয়ে ওঠে (যেমন: আলজেরিয়া, আজারবাইজান, লিবিয়া ইত্যাদি)। ১৯৩৬ সালের ২৯ মে'তে প্রবর্তিত বর্তমান তুরস্কের জাতীয় পতাকাও এই পতাকার অনুরূপ (তবে পতাকার মাপ, জ্যামিতিক অনুপাত ও লালের ঘনত্বে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে)।

প্রাথমিক যুগের পতাকাসম্পাদনা

প্রাক-আধুনিক উসমানীয় সেনাবাহিনীতে পতাকার চেয়ে বরং ঘোড়ার লেজের মতো তুগ ব্যবহৃত হতো। ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পতাকার পাশাপাশি এগুলোর চল ছিল। জোসেফ পিটন ডি টর্নেফোর্ট (১৭১৯) এর Relation d'un voyage du Levant এ একটি তুগের বর্ণনা পাওয়া যায়।[১] সামরিক পতাকার ব্যবহার শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। ১৬শ ও ১৭শ শতাব্দীর উসমানীয় সামরিক পতাকাগুলোতে জুলফিকার আঁকা থাকত, যাকে প্রায়ই পশ্চিমা সাহিত্যে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয় একজোড়া কাঁচি হিসেবে দেখিয়ে।[২] ১৫২০ সালে প্রথম সেলিমের আমলে ব্যবহৃত একটি তুগ তোপকাপি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

চাঁদ ও তারা সম্বলিত পতাকাসম্পাদনা

 
আট কোণা তারা বিশিষ্ট উসমানীয় পতাকা (১৭৯৩-১৮৪৪)

কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর ১৪৫৩ সাল থেকে তুর্কী জনগণের পতাকায় চাঁদ ও তারার প্রতীক ব্যবহার শুরু হয়। পূর্বে উসমানীয় পতাকা সমূহ সাধারণত সবুজ হত। কিন্তু ১৭৯৩ সালে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে পতাকার রং লাল নির্ধারণ এবং এতে একটি আট কোণা তারা যুক্ত করা হয়।[৩][৪] সুলতান তৃতীয় সেলিমের আমলে এই লাল পতাকা সর্বত্র ব্যবহৃত হতে শুরু করে।[৫] তবে ১৮৪০ এর আগে ৫ কোণা তারা বিশিষ্ট পতাকা দেখা যেত না।[৪]

ঊনবিংশ শতাব্দীর তানযিমাতের সময় ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর পতাকার আদলে উসমানীয় পতাকার নকশা করা হয়। উসমানীয় নৌ-বাহিনীর পতাকা ছিল লাল রঙের (কেননা তখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পতাকা হত সবুজ রঙের আর সেক্যুলার প্রতিষ্ঠানগুলোর পতাকা হত লাল রঙের)। এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে উসমানীয় পাশালিক, বেইলিক এবং আমিরাতসমূহের নিজস্ব পতাকা বিলুপ্ত করা হয়[কোনটি?] এবং এদের স্থানে একক উসমানীয় জাতীয় পতাকা প্রবর্তন করা হয়। নকশাটি ছিল লাল পটভূমির উপর সাদা রঙের চাঁদ ও তারা যা বর্তমান তুরস্কের জাতীয় পতাকার অগ্রদূত। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ লাল রঙের পতাকাকে সিভিল এনসাইন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯২৩ সালে তুরস্ক প্রজাতন্ত্র গঠিত হলে নবগঠিত সরকার উসমানীয় সম্রাজ্যের সর্বশেষ পতাকাটিই বহাল রাখে। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালের ২৯ মে তুরস্কের পতাকা আইন (তুর্কী: Türk Bayrağı Kanunu) এর মাধ্যমে পতাকার অনুপাতে কিছুটা পরিবর্তন এনে বর্তমান রূপ প্রদান করা হয়।

চাঁদ-তারা প্রতীকের উৎসসম্পাদনা

অনেক ঐতিহাসিকের মতে ঊনবিংশ শতাব্দীর উসমানীয় পতাকার চাঁদ ও তারা বাইজেন্টাইনদের থেকে নেওয়া। তবে, ফ্রান্জ বেবিঞ্জার (১৯৯২) এর মতে চন্দ্র প্রতীক (তারা নয়) এশীয় তুর্কিদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য।[৭]

রাজকীয় পতাকাসম্পাদনা

 
১৮৮২ সালে গৃহীত উসমানীয় প্রতীকে বাম দিকে সবুজ পতাকা (খিলাফতের প্রতীক) এবং ডান দিকে লাল পতাকা (উসমানীয় সম্রাজ্যের প্রতীক) রয়েছে।

রাজকীয় পতাকায় লাল বা গোলাপী জমিনের উপর সুলতানের তুগরা থাকতো।

শেষ উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ যে পতাকা ব্যবহার করতেল তার মূল রঙ ছিল সবুজ। এর মাঝে লাল ডিম্বাকৃতির অংশে সাদা চাঁদ ও তারা অঙ্কিত থাকতো এবং লাল অংশের বাইরে সাদা নকশা ব্যবহৃত হত।

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Lors des campagnes, la marche du Grand Vizir (1er ministre nommé par le Sultan de Constantinople) est précédée par trois Étendards ou Queues de cheval terminées chacune par une pomme dorée, ils sont l'enseigne militaire des Othomans appelée Thou ou Thouy. On dit qu'un Général de cette nation, ne sachant comment rallier ses troupes qui avaient perdu tous ses Étendards, s'avisa de couper la queue d'un cheval et de l'attacher au bout d'une lance; les soldats coururent à ce nouveau signal et remportèrent la victoire... cited after Marc Pasquin, 22 November 2004, crwflags.com; c.f. also a facsimile image hosted at the website of the Bibliothèque nationale de France.
  2. e.g. Jaques Nicolas Bellin, Tableau des Pavillons de le nations que aborent à la mer (1756).
  3. Publishing, D. K. (২০০৯-০১-০৬)। Complete Flags of the World। Penguin। আইএসবিএন 978-0-7566-5486-3 
  4. Marshall, Tim (২০১৭-০৭-০৪)। A Flag Worth Dying For: The Power and Politics of National Symbols। Simon and Schuster। আইএসবিএন 978-1-5011-6833-8 
  5. İslâm Ansiklopedisi (Turkish ভাষায়)। 4। Istanbul: Türkiye Diyanet Vakfı। ১৯৯১। পৃষ্ঠা 298। 
  6. Miller, Geoffrey: STRAITS: British Policy towards the Ottoman Empire and the Origins of the Dardanelles Campaign. Chapter 18.
  7. "It seems possible, though not certain, that after the conquest Mehmed took over the crescent and star as an emblem of sovereignty from the Byzantines. The half-moon alone on a blood red flag, allegedly conferred on the Janissaries by Emir Orhan, was much older, as is demonstrated by numerous references to it dating from before 1453. But since these flags lack the star, which along with the half-moon is to be found on Sassanid and Byzantine municipal coins, it may be regarded as an innovation of Mehmed. It seems certain that in the interior of Asia tribes of Turkish nomads had been using the half-moon alone as an emblem for some time past, but it is equally certain that crescent and star together are attested only for a much later period. There is good reason to believe that old Turkish and Byzantine traditions were combined in the emblem of Ottoman and, much later, present-day Republican Turkish sovereignty." Franz Babinger (William C. Hickman Ed., Ralph Manheim Trans.), Mehmed the Conqueror and His Time, Princeton University Press, 1992, p 108
  8. "Ottoman Empire: Standard of the Sultan" at Flags of the World.
  9. "Standard of the Caliph" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে at royaltombs.dk.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা