ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজী

মুহাম্মদ ঘুরীর বাংলা বিজেতা সেনাপতি

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি[১] (ফার্সি: اختيار الدين محمد بن بختيار الخلجي‎‎) যিনি বখতিয়ার খলজি[২][৩] নামেও পরিচিত, ছিলেন ঘুরির একজন তুর্কি-আফগান[৪][৫][৬] সেনাপতি ও প্রাথমিক দিল্লি সুলতানাত সৈনিক জেনারেল এবং প্রথম মুসলিম যিনি বাংলাবিহার জয় করেছিল।[৭][৮][৯][১০] পূর্ব ভারতে তার প্রতিষ্ঠার সময় আলিমদের ইসলামী দাওয়াতের কাজ সর্বাধিক সাফল্য অর্জন হয়েছিলো এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল।[১১][১২][১৩][১৪]

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি
The end of Buddhist Monks, A.D. 1193.jpg
উত্তরসূরিশিরাণ খলজী
জন্মগরমশির, হেলমান্দ, আফগানিস্তান
মৃত্যু১২০৬
দেবকোট, দক্ষিণ দিনাজপুর, বঙ্গ
সমাধি
পীরপাল দরগাহ, নারায়ণপুর, গঙ্গারামপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর
পেশাসেনাধ্যক্ষ, শাসক
যে ধারাবাহিকের অংশ সেটি হল
বাংলার ইতিহাস
Atisha.jpg
প্রাচীন বাংলা
 বৈদিক যুগ 
বাংলার প্রাচীন জনপদসমূহ
গঙ্গারিডাই, বঙ্গ,
পুণ্ড্র, সুহ্ম,
অঙ্গ, হরিকেল

মৌর্যযুগ
ধ্রুপদী বাংলা
ধ্রুপদী যুগ
শশাঙ্ক
সাম্রাজ্যের যুগ
পাল সাম্রাজ্য, সেন সাম্রাজ্য
মধ্যযুগীয় বাংলা
ইসলামের আগমন
বাংলা সুলতানী, দেব রাজ্য
বখতিয়ার খিলজি, রাজা গণেশ, জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ
মুঘল যুগ
কন্দর্প রায়, প্রতাপাদিত্য, রাজা সীতারাম রায়
বাংলার নবাব, বারো ভুঁইয়া, রাণী ভবাণী

আধুনিক বাংলা
কোম্পানি রাজ
পলাশীর যুদ্ধ, জমিদারী ব্যবস্থা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্রিটিশ ভারত
বাংলার নবজাগরণ
ব্রাহ্মসমাজ
স্বামী বিবেকানন্দ, জগদীশচন্দ্র বসু,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু

উত্তর-সাম্রাজ্য যুগ
বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭), বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
শেখ মুজিবুর রহমান, জ্যোতি বসু, বিধানচন্দ্র রায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা

এছাড়াও দেখুন
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ

তিনি ভারত থেকে বৌদ্ধ ধর্ম প্রবলভাবে দুর্বল করে তুলেছিলেন।[১৫] তিনি প্রথম দিকে সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেকের মন্ত্রী ছিলেন।

পূর্ব জীবনসম্পাদনা

বখতিয়ার খলজি যাকে 'মালিক গাজি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, ছিলেন মুসলিম খলজি উপজাতির একজন সদস্য[১৬][১৭][১৮][১৯] যা ২০০ বছর আগে তুর্কিস্থান থেকে আফগানিস্থানে এসে বসতি স্থাপন করে।[২০][২১][২২] মুসলিম খলজি উপজাতি উত্তর-পূর্বের প্রায় সকল দখল-যুদ্ধে যোগদানকারী সেনাবাহিনীর অধিপতিদের কাজে নিযুক্ত ছিল।

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন জাতিতে তুর্কি আর পেশায় ভাগ্যান্বেষী সৈনিক। জীবনের প্রথম ভাগে তিনি ছিলেন আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী।[২৩][২৪] তার বাল্যজীবন সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। তবে মনে করা হয় দারিদ্রের পীড়নে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেন এবং নিজের কর্মশক্তির উপর ভর করে অন্যান্য দেশবাসীর ন্যায় ভাগ্যান্বেষণে বের হন। প্রথমেই তিনি গজনির সুলতান মুহাম্মাদ ঘুরির সৈন্যবাহিনীতে চাকুরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। আকারে খাটো, লম্বা হাত এবং কুৎসিত চেহারার অধিকারী হওয়ায় সেনাধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হন। গজনীতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লিতে কুতুবউদ্দীন আইবেকের দরবারে হাজির হন। এখানেও তিনি চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। অতঃপর তিনি বদাউনে যান। সেখানকার শাসনকর্তা মালিক হিজবর-উদ্দিন বখতিয়ার খলজিকে নগদ বেতনে সেনাবাহিনীতে চাকরি প্রদান করেন। কিন্তু উচ্চভিলাসি বখতিয়ার সামান্য বেতনভোগী সিপাহি হয়ে পরিতৃপ্ত হতে পারেন নি। অল্পকাল পর তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোদ্ধায় যান। অযোদ্ধার শাসনকর্তা হুসামউদ্দিন তাকে বর্তমান মির্জাপুর জেলার পূর্ব দক্ষিণ কোণে ভগবৎ ও ভিউলি নামক দুইটি পরগনার জায়গির প্রদান করেন। এখানেই বখতিয়ার তার ভবিষ্যৎ উন্নতির উৎস খুঁজে পান এবং এই দুটি পরগনাই পরবর্তীকালে তার শক্তির উৎস হয়ে ওঠে।[২৫]

বিহার বিজয়সম্পাদনা

 
নালন্দা বিহার।

১২০১ সালে বখতিয়ার মাত্র দু হাজার সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো আক্রমণ করতে থাকেন। সেই সময়ে তার বীরত্বের কথা চারিদিক ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং অনেক মুসলিম সৈনিক তার বাহিনীতে যোগদান করতে থাকে, এতে করে তার সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে তিনি একদিন এক প্রাচীরবেষ্টিত দুর্গের মতো স্থানে আসেন এবং আক্রমণ করেন। প্রতিপক্ষ কোনো বাধাই দেয় নি। দুর্গজয়ের পর তিনি দেখলেন যে দুর্গের অধিবাসীরা প্রত্যেকেই মুণ্ডিতমস্তক এবং দুর্গটি বইপত্র দিয়ে ভরা। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জানতে পারলেন যে তিনি একটি বৌদ্ধ বিহার জয় করেছেন। এটি ছিল ওদন্ত বিহার বা ওদন্তপুরী বিহার। সেই সময় থেকেই মুসলমানেরা জায়গাটিকে বিহার বা বিহার শরিফ নামে ডাকে।

বিহার জয়ের পর বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্ন সহ কুতুব-উদ্দিন আইবকের সাথে দেখা করতে যান এবং কুতুবউদ্দিন কর্তৃক সম্মানিত হয়ে ফিরে আসেন। এর পরই তিনি বাংলা জয়ের জন্য সাহস এবং শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন।

বাংলা বিজয়সম্পাদনা

তৎকালীন বাংলার রাজা লক্ষণ সেন বাংলার রাজধানী নদিয়ায় অবস্থান করছিলেন কারণ নদিয়া ছিল বহিঃশত্রুর কাছ থেকে সবচেয়ে সুরক্ষিত অঞ্চল। বলা হয়ে থাকে যে নদিয়ায় আসার কিছু আগে রাজসভার কিছু দৈবজ্ঞ পণ্ডিত তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এক তুর্কি সৈনিক তাকে পরাজিত করতে পারে। এতে করে লক্ষণ সেনের মনে ভীতির সঞ্চার হয় এবং নদিয়ার প্রবেশপথ রাজমহল ও তেলিয়াগড়ের নিরাপত্তা জোরদার করেন। লক্ষণ সেনের ধারণা ছিল যে ঝাড়খণ্ডের শ্বাপদশংকুল অরণ্য দিয়ে কোনো সৈন্যবাহিনীর পক্ষে নদিয়া আক্রমণ করা সম্ভব নয় কিন্তু বখতিয়ার সেইপথেই তার সৈন্যবাহিনীকে নিয়ে আসেন। নদিয়া অভিযানকালে বখতিয়ার ঝাড়খণ্ডের মধ্য দিয়ে এত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়েছিলেন যে তার সাথে মাত্র ১৭ জন সৈনিকই তাল মেলাতে পেরেছিলেন[২৬][২৭]। বখতিয়ার সোজা রাজা লক্ষণ সেনের প্রাসাদদ্বারে উপস্থিত হন এবং দ্বাররক্ষী ও প্রহরীদের হত্যা করে প্রাসাদের ভিতরে প্রবেশ করেন। এতে প্রাসাদের ভিতরে হইচই পড়ে যায় এবং লক্ষণ সেন দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলে প্রাসাদের পেছনের দরজা দিয়ে নৌপথে বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।

নদিয়া জয় করে পরবর্তীতে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসহ হন এবং সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন। এই লক্ষণাবতীই পরবর্তীকালে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়। গৌড় জয়ের পর আরও পূর্বদিকে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি এলাকাগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে একজন করে সেনাপতিকে শাসনভার অর্পণ করেন। বখতিয়ারের সেনাধ্যক্ষদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুবেদার আউলিয়া খাঁ পূর্ব ভারতের বঙ্গ এলাকা, আলি মর্দান খলজি বরসৌলে, হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি গঙ্গতরীর শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির ১৭ জন অগ্রগামীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন আফগানিস্থানের গরমশিরের অধিবাসী বখতিয়ারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুবেদার আউলিয়া খাঁ। তিনি মুলতঃ খলজি কর্তৃক পূর্ব ভারতের বঙ্গ এলাকার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। মৃত্যুকাল পর্যন্ত সুবেদার আউলিয়া খাঁ বঙ্গ এলাকার শাসনকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। পরবর্তীতে তার বংসধরেরা বংসপরম্পরায় এই এলাকা শাসন করেন। আউলিয়া খাঁ ১২০৬ সনে তাঁর প্রিয় বন্ধু বখতিয়ার খলজিকে স্বরণীয় করে রাখতে বর্তমান ভাওয়াল গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার বখতিয়ারপুর এলাকার নামকরণ করেছিলেন। যা বর্তমানে বক্তারপুর এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেই সময় বখতিয়ারপুরে আউলিয়া খাঁ তার প্রাশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করেন। বসবাসের জন্য চমৎকার হওয়ায় তিনি পাশর্^বর্তী ফুলহরী এলাকায় (যা বর্তমান ফুলদী গ্রাম) বসতি স্থাপন করেন। তথ্যসূত্রে জানাযায়, সুবেদার আউলিয়া খাঁর বংসধর সার্কেল ইন্সপ্যাক্টর অব পুলিশ মুন্সী মুহাম্মদ ছরওয়ার খাঁ (তৎকালীন রূপগঞ্জ সার্কেল) বৃটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে ফুলহরী নাম পরিবর্তন করে ফুলদী নামকরণ করেন।

তিব্বত আক্রমণসম্পাদনা

বখতিয়ারের রাজ্য পূর্বে তিস্তা নদীকরতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী, উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পূর্বে অধিকৃত বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। যদিও বাংলাদেশের বৃহদাংশ তার রাজ্যের বাইরে ছিল, ঐসব অঞ্চল দখল না করে তিনি তিব্বত আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। উদ্দেশ্য ছিল তুর্কিস্তানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। তিব্বত আক্রমণের রাস্তা আবিষ্কারের জন্য বখতিয়ার বাংলার উত্তর পূর্বাংশের উপজাতীগোষ্টির সদস্য আলী মেচকে নিয়োগ দেন।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর তিনি তিন জন সেনাপতি ও প্রায় দশ হাজার সৈন্য সামন্ত নিয়ে লখনৌতি থেকে তিব্বতের দিকে রওনা দেন।[২৮] সৈন্যবাহিনী বর্ধনকোট শহরের কাছে পৌছালে তারা তিস্তা নদীর চেয়েও তিন গুন চওড়া বেগমতী নদী পার না হয়ে নদীর তীর ধরে তিন দিন দূরত্ব চলার পর একটি পাথরের সেতুর নিকটে আসেন এবং সেখানে তার দুইজন সেনাপতিকে সেতুর সুরক্ষায় রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হন। সামনে একটি কেল্লা পরে। ঐ কেল্লার সৈন্যদের সাথে যুদ্ধে বখতিয়ার জয় করলেও সৈন্যবাহিনী ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়। কেল্লার সৈন্যদের থেকে বখতিয়ার জানতে পারেন যে অদূরে করমবত্তন নামক শহরে কয়েক লক্ষ সৈন্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। এই কথা শুনে বখতিয়ার সামনের দিকে অগ্রসর না হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। ফেরার পথে তার সৈন্যরা অসীম কষ্ট সহ্য করে। সেতুর কাছে এসে বখতিয়ার দেখেন যে পার্বত্য লোকেরা তার দুই সেনাপতির উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের মেরে ফেলেছে এবং সেতুটি পুরোপুরি বিদ্ধস্ত করে দিয়েছে। এরপর বখতিয়ার খুব অল্প সংখ্যক সৈন্য সহ ফিরে আসতে সক্ষন হন। এই ঘটনার পরেই বখতিয়ার বুঝতে পারেন যে তিব্বত অভিযান বিফল হওয়ার ফলে তার শক্তি মারাত্বক ভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

মৃত্যুসম্পাদনা

তিব্বত অভিযান বিফল হলে বখতিয়ার দেবকোটে ফিরে আসেন। গৌহাটির নিকটে ব্রহ্মপুত্রের তীরে কানাই বড়শি বোয়া নামক স্থানে তুর্কি সেনাদলের বিধ্বস্ত হওয়ার বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। তিব্বত অভিযান বিফল এবং সৈন্যবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতির ফলে লখনৌতির মুসলিম রাজ্যের প্রজাদের মধ্যে বিদ্রোহ ও বিরোধ দেখা দিতে শুরু করে। এরই ফলে বাংলার ছোট ছোট মুসলিম রাজ্যগুলো দিল্লির সাথে সম্ভাব্য বিরোধে আগে থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এরকম নানাবিধ চিন্তা, এবং পরাজয়ের গ্লানিতে বখতিয়ার অসুস্থ এবং পরে শয্যাশায়ী হন। এর অল্প কিছুদিন বাদে ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মিনহাজ ই সিরাজের বর্ণনানুসারে, তিনি আলী মর্দান খলজী কর্তৃক ছুরিকাঘাতে নিহত হন।[২৯][৩০][৩১] দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নারায়ণপুরের পীরপাল দরগাহে তার সমাধিস্থল রয়েছে।

বিতর্ক ও সমালোচনাসম্পাদনা

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি সংক্রান্ত সকল তথ্যই মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজউদ্দিন শিরাজের তবকাৎ-ই-নাসিরী গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করা। মিনহাজ বখতিয়ারের মৃত্যুর প্রায় চল্লিশ বছর পর বাংলায় গিয়ে বাংলা বিজয়ের যে কাহিনী শুনেছিলেন তাই মূলত লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তার উপর ভিত্তি করেই ইতিহাস রচিত হয়েছে। তার বর্ণ‌না থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি মূলত প্রচলিত কাহিনীগুলিকেই লিপিবদ্ধ করেছিলেন যা ঐতিহাসিকদের কাছে বাংলা জয়ের একমাত্র দলিল। তাই মিনহাজের সব কথাই সঠিক তা নাও হতে পারে।

১১৯৩ সালে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য খিলজিকে দায়ী করা হয়। সেখানে থাকা সকল ছাত্রদেরকেও সে সময় হত্যা করা হয়। [৩২][৩৩][৩৪]

অর্জনসম্পাদনা

১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশি কবি আল মাহমুদ "বখতিয়ারের ঘোড়া" নামক এক কাব্যগ্রন্থ লেখেন যেখানে বখতিয়ার খলজিকে বাংলার একজন গুরুত্ত্বপূর্ণ বীর হিসেবে উল্লেখ করেন ৷[৩৫] বাংলার ইতিহাসে তিনি একজন অন্যতম পরিচিত ব্যক্তি।[৩৬] বখতিয়ার খলজির শাসনামলে ভারতের প্রচুর সংখ্যক মানুষ ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিল।[১৪] মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি খুতবা পড়ে নিজের নামে মুদ্রা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বখতিয়ারের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বাংলায় মসজিদ, মাদ্রাসা এবং খানকাহ নির্মাণের মাধ্যমে ইসলামের নতুন আবাস উত্থিত হয়েছিল এবং তার আমিররা তার কাজকে অনুকরণ করেছিলেন।[৩৭][৩৮]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Ikhtiyār al-Dīn Muḥammad Bakhtiyār Khaljī | Muslim general"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-২২ 
  2. Faruqui, Munis D. (২০০৫)। "Review of The Bengal Sultanate: Politics, Economy and Coins (AD 1205-1576)"The Sixteenth Century Journal36 (1): 246–248। আইএসএসএন 0361-0160ডিওআই:10.2307/20477310 
  3. Hussain, Syed Ejaz (২০০৩)। The Bengal Sultanate : politics, economy and coins, A.D. 1205-1576। New Delhi: Manohar। পৃষ্ঠা ২৭। আইএসবিএন 81-7304-482-1ওসিএলসি 53830951 
  4. Eaton, R.M. (১৯৯৬)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204–1760। University of California Press। আইএসবিএন 978-0-520-20507-9 
  5. Experts, Arihant (২০১৯-০৮-২২)। Know Your State West Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। Arihant Publications India limited। পৃষ্ঠা ১৫। আইএসবিএন 978-93-131-9801-7 
  6. Chandra, Satish (২০০৪)। Medieval India: From Sultanat to the Mughals-Delhi Sultanat (1206-1526) - Part One (ইংরেজি ভাষায়)। Har-Anand Publications। পৃষ্ঠা ২২৬। আইএসবিএন 978-81-241-1064-5 
  7. Majumdar, R. C. (Ramesh Chandra), 1888-1980,। History of mediaeval Bengal। Kolkata। পৃষ্ঠা ১। আইএসবিএন 81-89118-06-4ওসিএলসি 942846162 
  8. Mehta, Jaswant Lal (১৯৭৯)। Advanced Study in the History of Medieval India (ইংরেজি ভাষায়)। Sterling Publishers Pvt. Ltd। আইএসবিএন 978-81-207-0617-0 
  9. Thakur, Amrendra Kumar; Verma, Binod Kumar (১৯৯২)। India and the Afghans: A study of a neglected region, 1370-1576 A.D (ইংরেজি ভাষায়)। Janaki Prakashan। পৃষ্ঠা ১৪৮। 
  10. Ahmed, Salahuddin (২০০৪)। Bangladesh: Past and Present (ইংরেজি ভাষায়)। APH Publishing। পৃষ্ঠা ৫৯। আইএসবিএন 978-81-7648-469-5 
  11. Hussain, Syed Ejaz. (২০০৩)। The Bengal Sultanate : politics, economy and coins, A.D. 1205-1576। New Delhi: Manohar। আইএসবিএন 8173044821ওসিএলসি 53830951 
  12. "Review of The Bengal Sultanate: Politics, Economy and Coins (AD 1205-1576)"। The Sixteenth Century Journal৩৬: ২৪৬-২৪৮। জেস্টোর 20477310ডিওআই:10.2307/20477310 
  13. Majumdar, R. C. (Ramesh Chandra), 1888-1980,। History of mediaeval Bengal। Kolkata। আইএসবিএন 8189118064ওসিএলসি 942846162 
  14. Arnold, Thomas Walker (১৮৯৬)। The preaching of Islam; a history of the propagation of the Muslim faith। University of California: Westminster : A. Constable and co.। পৃষ্ঠা ২২৭–২২৮। 
  15. Hartmut Scharfe (২০০২)। Handbook of Oriental Studies। BRILL। পৃষ্ঠা 150। আইএসবিএন 90-04-12556-6Nalanda, together with the colleges at Vikramasila and Odantapuri, suffered gravely during the conquest of Bihar by the Muslim general Muhammad Bhakhtiyar Khalji between A.D. 1197 and 1206, and many monks were killed or forced to flee. 
  16. Chandra, Satish, 1922- ... (২০০৫)। Medieval India : from Sultanat to the Mughals (সংশোধিত সংস্করণ)। New Delhi: Har-Anand Publications। পৃষ্ঠা ৪১। আইএসবিএন 8124110646ওসিএলসি 469652456 
  17. Jūzjānī, Minhāj Sirāj (১৮৮১)। Tabaḳāt-i-Nāṣirī: A General History of the Muhammadan Dynasties of Asia, Including Hindūstān, from A.H. 194 [810 A.D.], to A.H. 658 [1260 A.D.], and the Irruption of the Infidel Mug̲h̲als Into Islam (ইংরেজি ভাষায়)। Asiatic Society of Bengal। পৃষ্ঠা ৫৪৮। 
  18. "Khaljī dynasty | Indian dynasty"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-২২ 
  19. Sarkar, Jadunath (১৯৭৩)। The history of Bengal; Muslim period, 1200-1757. (English ভাষায়)। Patna, India: Academica Asiatica। ওসিএলসি 924890 
  20. Srivastava, Ashirbadi Lal (১৯৬৪)। The History of India, 1000 A.D.-1707 A.D. (ইংরেজি ভাষায়)। Shiva Lal Agarwala। 
  21. Eraly, Abraham (২০১৫-০৪-০১)। The Age of Wrath: A History of the Delhi Sultanate (ইংরেজি ভাষায়)। Penguin UK। আইএসবিএন 978-93-5118-658-8 
  22. Chaurasia, Radhey Shyam (২০০২)। History of Medieval India: From 1000 A.D. to 1707 A.D. (ইংরেজি ভাষায়)। Atlantic Publishers & Dist। আইএসবিএন 978-81-269-0123-4 
  23. Abdul Karim (১৯৫৬)। Social History of the Muslims in Bengal, Down to A. D. 1538। Pakistan: Asiatic Society of Pakistan। পৃষ্ঠা ৮৬। 
  24. Ali, Md Mohar (১৯৬২)। "Social History of the Muslims in Bengal (Down to a.d. 1538). By Abdul Karim. pp. xviii + 252. The Asiatic Society of Pakistan, Dacca, 1959. Rs. 15."Journal of the Royal Asiatic Society (ইংরেজি ভাষায়)। 94 (1-2): 101–102। আইএসএসএন 1474-0591ডিওআই:10.1017/S0035869X00120829 
  25. বাংলাদেশের ইতিহাস- ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। পৃষ্ঠাঃ ১৪৯
  26. Sen, Amulyachandra (১৯৫৪)। Rajagriha and Nalanda। Institute of Indology, volume 4। Calcutta: Calcutta Institute of Indology, Indian Publicity Society। পৃষ্ঠা 52। ওসিএলসি 28533779 
  27. "Far East Kingdoms" 
  28. Social History of the Muslim of Bengal, Abul Karim পৃষ্ঠাঃ ৮৯
  29. "History of Dinajpur District: Muslim Period"। ৬ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৩ 
  30. Sengupta, Nitish K., (1934) (২০১১)। Land of two rivers : a history of Bengal from the Mahabharata to Mujib। New Delhi: Penguin Books India। পৃষ্ঠা ৬৩–৬৪। আইএসবিএন 9780143416784ওসিএলসি 756441985 
  31. The River of Golden Sand : the Narrative of a Journey through China and Eastern Tibet to Burmah. Volume 1। Gill, William John., Yule, Henry.। Cambridge: Cambridge University Press। ২০১০। পৃষ্ঠা ৪৩। আইএসবিএন 9780511736278ওসিএলসি 889962284 
  32. (Minhāju-s Sirāj 1881:552)
  33. Dr. Ambedkar speech in Colombo Sri Lanka 29th May 1950.
  34. Mortajā, Golama Ahamada. (২০০৭)। চেপে রাখা ইতিহাস। কোলকাতা: Biśvabaṅgīẏa Prakāśana। আইএসবিএন 8188792128ওসিএলসি 309707069 
  35. "বখতিয়ারের ঘোড়া"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-২৭ 
  36. Eaton, Richard Maxwell.। The rise of Islam and the Bengal frontier, 1204-1760। Berkeley। আইএসবিএন 9780520917774ওসিএলসি 43476319 
  37. Ichimura, Shōhei (২০০১)। Buddhist Critical Spirituality: Prajñā and Śūnyatā (ইংরেজি ভাষায়)। Motilal Banarsidass Publishe। পৃষ্ঠা ৬৫ (টীকা ৮৭)। আইএসবিএন 978-81-208-1798-2 
  38. Sen, Gertrude Emerson (১৯৬৪)। The Story of Early Indian Civilization। Orient Longmans। ওসিএলসি 610346317 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

পূর্বসূরী
সেন রাজবংশ
রাজা লক্ষণ সেন
খলজী বংশ
১২০৪–১২০৬
উত্তরসূরী
মুহাম্মদ শিরাণ খলজী