আর্থার ডলফিন

ইংরেজ ক্রিকেটার

আর্থার ডলফিন (ইংরেজি: Arthur Dolphin; জন্ম: ২৪ ডিসেম্বর, ১৮৮৫ - মৃত্যু: ২৩ অক্টোবর, ১৯৪২) ইয়র্কশায়ারের বিংলে এলাকার উইলসডেনে জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯০৫ থেকে ১৯২৭ সময়কালে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

আর্থার ডলফিন
আর্থার ডলফিন.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামআর্থার ডলফিন
জন্ম(১৮৮৫-১২-২৪)২৪ ডিসেম্বর ১৮৮৫
উইলসডেন, বিংলে, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৩ অক্টোবর ১৯৪২(1942-10-23) (বয়স ৫৬)
লিলিক্রফ্ট, হিটন, ব্রাডফোর্ড, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ১৮৮)
১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯০৫-১৯২৭ইয়র্কশায়ার
আম্পায়ারিং তথ্য
টেস্ট আম্পায়ার৬ (১৯৩৩–১৯৩৮)
এফসি আম্পায়ার২৪৯ (১৯২৬–১৯৩৯)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৪৯
রানের সংখ্যা ৩,৪০২
ব্যাটিং গড় ০.৫০ ১১.৩০
১০০/৫০ ০/০ ০/৭
সর্বোচ্চ রান ৬৬
বল করেছে ৬৬
উইকেট
বোলিং গড় - ২৮.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং - ১/১৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/০ ৬১০/২৭২
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ মার্চ ২০১৮

দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখতেন তিনি।

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণসম্পাদনা

শুরুতে ব্রাডফোর্ড লীগে খেলেন আর্থার ডলফিন। এরপর প্রথম ব্রাডফোর্ড লীগের খেলোয়াড় হিসেবে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৪ বছর বয়সে উইলসডেন ব্রিটানিয়ার পক্ষে প্রথম খেলেন। ১৯ বছর বয়সে ১৯০৫ সালে কাউন্টির পক্ষে অভিষেক হয় তার। ইয়র্কশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলার পর ১৯১০ সাল থেকে ইয়র্কশায়ারের প্রথম পছন্দের উইকেট-রক্ষকে পরিণত হন। এরপর একাধারে সতেরো বছর এ দায়িত্বে ছিলেন। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে বাইশ বছরকাল উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ডেভিড হান্টারেরকাছে গ্লাভস হস্তান্তর করেন।

১৯২২ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্য মনোনীত হন। হেডিংলিতে কেন্টের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় £১,৮৯১ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৪ রানের বিপরীতে তার সংগ্রহ ছিল ২০ ও জয়সূচক রান তুলেন তিনি। এরফলে তার দল দশ উইকেটে জয় পায়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণসম্পাদনা

নিজ কাউন্টির দলীয় সঙ্গী রয় কিলনারমেজর বুথের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লিডস পালসে অংশগ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু, ১৯১৯ সালে ইয়র্কশায়ারে নিজ অবস্থানে ফিরে আসেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী গ্রীষ্মে ৮২ ডিসমিসাল ঘটিয়ে সর্বাধিক সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করেন।

দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও প্রভূতঃ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯১৯ সালে লেটনে এসেক্সের বিপক্ষে নিজের প্রতিভার জাগরণ ঘটান। শেষ উইকেটে ই. স্মিথের সাথে ১০৩ রান তুলেন ও ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। এরফলে ইয়র্কশায়ার দলকে ফলো-অনের কবল থেকে টেনে তুলেন। এছাড়াও, ১৯১৪ সালে একই দলের বিপক্ষে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে দ্বিতীয় উইকেটে বেঞ্জামিন উইলসনের সাথে জুটি গড়ে ১২৪ রান তুলেছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯২৬-২৭ মৌসুম পর্যন্ত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।[২][৩] এ সময়ে তিনি এমসিসি দলের সদস্যরূপে ১৯২০-২১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯২৬-২৭ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ভারতে ২৬টি ও সিলনে চারটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিল। মরিস টেট, মরিস লেল্যান্ড, অ্যান্ডি স্যান্ডহাম, বব ওয়াট, আর্থার ডলফিন, জর্জ গিয়েরি, ইউয়ার্ট অ্যাস্টিলজর্জ ব্রাউনের ন্যায় খেলোয়াড় দলের সদস্য ছিলেন।[৪]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার। ১৯২০-২১ মৌসুমে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে খেলেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২১ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আর্থার ডলফিনের টেস্ট অভিষেক ঘটে। ঐ টেস্টে তিনি মাত্র এক রান তুলেছিলেন ও একবার শূন্য রানের দেখা পান।

পরবর্তীতে অবশ্য প্রথম একাদশের পক্ষে খেলার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ঘটনার প্রেক্ষিতে এ সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। লর্ডসে মিডলসেক্সের বিপক্ষে খেলা চলাকালীন পোষাক পরিবর্তনের সময় চেয়ার থেকে পড়ে যান ও কোমড় ভেঙ্গে ফেলেন। এরফলে, ১৯২১ সালের মৌসুমের বাদ-বাকী সময় খেলার বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

ভারত গমনসম্পাদনা

উইলফ্রেড রোডসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯২০-এর দশকে বেশ কয়েকজন ইয়র্কশায়ারীয় ক্রিকেটার ইংরেজ শীত মৌসুমে পাতিয়ালার মহারাজার আমন্ত্রণে ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য গমন করেছিলেন।[৫] ১৯২৬-২৭ মৌসুমের শীতকালে সতীর্থ ইয়র্কশায়ারের ব্যাটসম্যান মরিস লেল্যান্ডকে সাথে নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। একই মৌসুমের শীতকালে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ভারত গমন করে। সফরকারী দলে খেলার জন্যে মনোনীত না হলেও উভয়েই এমসিসির পক্ষে বেশ কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।[৬]

অবসরসম্পাদনা

খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে পাছার বাতের ব্যথায় ভুগতে থাকেন। ১৯২৭ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে সর্বশেষ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন আর্থার ডলফিন। ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর এক দশককাল আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করেন। এছাড়াও, ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সময়কালে ৬ টেস্টে আম্পায়ারিত্ব করেন তিনি।

২৩ অক্টোবর, ১৯৪২ তারিখে ৫৬ বছর বয়সে ব্রাডফোর্ডের হিটন এলাকার লিলিক্রফ্টে আর্থার ডলফিনের দেহাবসান ঘটে।

হার্বার্ট সাটক্লিফের অভিমত, ডলফিন তার মস্তিষ্ক দ্রুত সঞ্চালনে সক্ষম ছিলেন ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টির কারণেই ব্যাপকসংখ্যক ব্যাটসম্যানকে কোন সুযোগ না দিয়ে আউট করতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। ডিসমিসালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই স্ট্যাম্পিং থেকে ঘটিয়েছেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Warner, David (২০১১)। The Yorkshire County Cricket Club: 2011 Yearbook (113th সংস্করণ)। Ilkley, Yorkshire: Great Northern Books। পৃষ্ঠা 367। আইএসবিএন 978-1-905080-85-4 
  2. ACS (১৯৮২)। A Guide to First-Class Cricket Matches Played in the British Isles। Nottingham: ACS। 
  3. "Marylebone Cricket Club Players"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৭ 
  4. "Marylebone Cricket Club cricket team in India and Ceylon in 1926–27"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৪ 
  5. Rogerson, Sidney (১৯৬০)। Wilfred Rhodes। London: Hollis and Carter। পৃষ্ঠা 135–37। 
  6. Stewart Caine, C, সম্পাদক (১৯২৮)। "Part II: M. C. C. Team in India"। Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। পৃষ্ঠা 631। 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা