আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (এই শব্দ সম্পর্কে(উচ্চারণ) ) ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এই অঞ্চলটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে অঞ্চলটিকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অংশ মনে করা হয়। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জনিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নামে দুটি পৃথক দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি গঠিত। এই দুই দ্বীপপুঞ্জ ১০° উত্তর অক্ষরেখা দ্বারা বিচ্ছিন্ন। আন্দামান এই অক্ষরেখার উত্তরে ও নিকোবর এর দক্ষিণে অবস্থিত। এই অঞ্চলের পূর্বে আন্দামান সাগর ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
Barren island.jpg
Floaters @ Andaman.jpg
Ross and Smith island, Andaman Nicobar Island.jpg
Sunset at Andaman Islands.jpg
(উপরে থেকে ঘড়ির কাঁটার ক্রমে) ব্যারেন দ্বীপ, রস ও স্মিথ দ্বীপের সমুদ্রতীর; আন্দামান দ্বীপে সূর্যাস্ত; আন্দামানের জলের ডোবা
ভারতের মানচিত্ৰে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান
ভারতের মানচিত্ৰে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান
স্থানাঙ্ক (পোর্ট ব্লেয়ার): ১১°৪১′ উত্তর ৯২°৪৬′ পূর্ব / ১১.৬৮° উত্তর ৯২.৭৭° পূর্ব / 11.68; 92.77স্থানাঙ্ক: ১১°৪১′ উত্তর ৯২°৪৬′ পূর্ব / ১১.৬৮° উত্তর ৯২.৭৭° পূর্ব / 11.68; 92.77
দেশ ভারত
স্থাপন১ নভেম্বর ১৯৫৬
রাজধানী এবং বৃহত্তম শহরপোর্ট ব্লেয়ার
জেলা
সরকার
 • লেফটেন্যান্ট গভর্নরনৌসেনাপতি (অবসরপ্রাপ্ত) দেবেন্দ্র কুমার যোশী
 • প্রধান সচিবচেতন ভূষণ সংঘী, আইএএস
 • লোকসভা কেন্দ্র
আয়তন[১]
 • মোট৮,২৫০ বর্গকিমি (৩,১৯০ বর্গমাইল)
এলাকার ক্রম২৮তম
জনসংখ্যা (২০১২)[২]
 • মোট৩,৮০,৫২০
 • জনঘনত্ব৪৬/বর্গকিমি (১২০/বর্গমাইল)
ভাষা[৩]
 • সরকারীহিন্দি, ইংরেজি[৩]
 • মৌখিক ভাষাবাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, তেলুগু, তামিল, নিকোবরি, মালয়ালম, কুরুখ, মুন্ডা, খারিয়া[৪]
সময় অঞ্চলIST (ইউটিসি+05:30)
আইএসও ৩১৬৬ কোডIN-AN
এইচ ডি আই (২০১৮)বৃদ্ধি0.739 (উচ্চ) •৬ষ্ঠ
ওয়েবসাইটwww.andaman.gov.in
প্রতীক
প্রাণীডুগং – ২০০৪
পাখিআন্দামান বনকপোত – ২০০৪
ফুলজারুল – ২০১৪
বৃক্ষআন্দামান পাদাউক – ২০০৪
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির রাজধানী আন্দামানের শহর পোর্ট ব্লেয়ার। ২০০১ সালের ভারতের জনগণনা অনুসারে, এই অঞ্চলের জনসংখ্যা ৩৫৬,১৫২। এই অঞ্চলের স্থলভাগের সামগ্রিক আয়তন ৬,৪৯৬ বর্গকিলোমিটার। এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি কলকাতা হাইকোর্টের অধিকারক্ষেত্রের অন্তর্গত।

ব্যারেন দ্বীপ

আন্দামান নিকোবরের ব্যারেন দ্বীপ হল দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি[৫][৬][৭][৮]

ভাষাসমূহসম্পাদনা

২০১১ অনুযায়ী আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ভাষাসমূহ [৯].[১০]

  বাংলা (২৮.৪৯%)
  তামিল (১৫.২০%)
  হিন্দি (১৩.৪৭%)
  তেলুগু (১৩.২৪%)
  নিকোবরী (৭.৬০%)
  মালয়ালম (৭.২২%)
  নাগপুরি-সাদরি (৫.৫৩%)
  কুরুখ/ওরাওঁ (৩.৯৬%)
  মুন্ডারি (১.২২%)
  খারিয়া (১.০৭%)
  অন্যান্য (৩.০০%)

ইতিহাসসম্পাদনা

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি। ১৭৭৭ সালে ব্রিটিশরা এই অঞ্চলে একটি নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা চালিয়েছিল। এই সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, বহিরাগতদের আগমনের আগে কয়েক শতাব্দীকাল এই দুই দ্বীপপুঞ্জ নেগ্রিটো ও মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর অধিকারে ছিল।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাসকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়: ব্রিটিশ অধিকার প্রতিষ্ঠা, ব্রিটিশ রাজত্ব, জাপানি রাজত্ব ও স্বাধীনোত্তর যুগের ইতিহাস। ১৭৮৮ সালে দুই নৌ-আধিকারিকের সুপারিশক্রমে ১৭৮৯ সালে তদনীন্তন গভর্নর-জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ পোর্ট কর্নওয়ালিশের কাছে চাটহাম দ্বীপে একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপন করেন। এই বছরই লেফটানেন্ট রেজিনল্ড ব্লেয়ার এই অঞ্চলে একটি সমীক্ষার কাজ চালান। তার নামানুসারে পোর্ট কর্নওয়ালিশের নাম হয় পোর্ট ব্লেয়ার।

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার এখানে একটি বন্দীনিবাস স্থাপনের পরিকল্পনা করে। ১৮৫৮ সালে ভাইপার দ্বীপে তৈরি হয় একটি কারাগার, একটি গ্যালো ও একটি জনবসতি। ২০০ জন বন্দীকে এই কারাগারে এনে রাখা হয়। এঁদের অধিকাংশই ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী সৈনিক। ১৯০৬ সালে পোর্ট ব্লেয়ারে সেলুলার জেল তৈরি হলে আগের কারাগারটি পরিত্যক্ত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চলাকালে ১৯৪২ সালের ২১ মার্চ জাপানিরা আন্দামান দখল করে নেয়। জাপানি সেনাবাহিনীর হাতে এই অঞ্চলের বহু নিরপরাধ মানুষও নিহত হন। পরে জাপানিরা এই দ্বীপপুঞ্জ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ সরকারের হাতে তুলে দেয়। ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুভাষচন্দ্র পোর্ট ব্লেয়ারে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চল ব্রিটিশদের অধিকারমুক্ত ছিল। এই সময় আন্দামান খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে। ১৯৪৫ সালের ৮ অক্টোবর জাপানি সেনাবাহিনীর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া কম্যান্ড পোর্ট ব্লেয়ারে আত্মসমর্পণ করলে ব্রিটিশরা এই দ্বীপপুঞ্জের অধিকার আবার ফিরে পায়।

১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ একত্রে স্বাধীন ভারতের অঙ্গীভূত হয়।

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. "Andaman and Nicobar Administration"। And.nic.in। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৩ 
  2. Census of India ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ জুন ২০০৭ তারিখে, 2011. Census Data Online, Population.
  3. "50th Report of the Commissioner for Linguistic Minorities in India" (PDF)। ১৬ জুলাই ২০১৪। পৃষ্ঠা 109। ২২ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৬ 
  4. "www.andaman.gov.in"। ২০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৬ 
  5. Priya Srivastava (২০১৮-১১-২১)। "All about Barren Island, South Asia's Only Active Volcano in Andaman"। Times of Indian। 
  6. Benjamin Elisha Sawe। "Which Is The Only Active Volcano In South Asia?"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৩-১৫ 
  7. Dr. Aditi Jain। "Volcanic spewing in Barren Island is continuation of 2005 eruption"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৯ 
  8. Rashmi Mishra। "List of Volcanoes in India: The only Indian live Volcano at Andaman & Nicobar Islands is Active again!"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০২-১৮ 
  9. http://www.censusindia.gov.in/2011census/C-16.html
  10. "DISTRIBUTION OF THE 22 SCHEDULED LANGUAGES-INDIA/STATES/UNION TERRITORIES - 2011 CENSUS" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৬ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা