অমৃতলাল সরকার (ইংরেজি: Amritalal Sarkar) (১৮৮৯ - ৪ এপ্রিল, ১৯৭১) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী। অল্প বয়সেই বিপ্লবী অনুশীলন দলের সভ্য হন এবং লাঠি, ছোরা ও তরবারি পরিচালনায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। শ্রীহট্টের একটি আশ্রমের অধিবাসী স্ত্রী-পুরুষদের উপর পুলিসি অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য এস.ডি.ও. গর্ডন সাহেবকে হত্যা প্রচেষ্টায় যোগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সহযোগী ছিলেন। এ ব্যাপারে আহত হলেও গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। মুক্তির পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন এবং নিজ অঞ্চলে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করেন।[১]

অমৃতলাল সরকার
জন্ম১৮৮৯
মৃত্যু৪ এপ্রিল, ১৯৭১
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

জন্ম ও শিক্ষাসম্পাদনা

অমৃতলাল সরকারের জন্ম টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার নাগরপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম মানিকচন্দ্র সরকার। তিনি ১৯২১ সালে জেল থেকে মুক্ত হবার পর বিবাহ করেন।[১] মানিকগঞ্জ হাইস্কুলে পড়ার সময় অনুশীলন সমিতির সংস্পর্শে এসে ক্রমে বিপ্লবী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।[২]

ছদ্মনামসম্পাদনা

অমৃতলাল সরকার অনুশীলন সমিতির নেতারূপে পরেশ, মহলানবীশ, নোরিয়া, জেনারেল ইত্যাদি ছদ্মনামে আত্মগোপন করে দলের কাজ পরিচালনা করতেন।[২]

জেলজীবনসম্পাদনা

অমৃতলাল সরকার অনেক দুঃসাহসিক কাজে যুক্ত থেকে ১৯১৬ সালের জুলাই মাসে পুলিসের হাতে ধরা পড়েন এবং ১২ জানুয়ারি ১৯১৭ তারিখ থেকে ৩ নং রেগুলেশনের বন্দি হন। বিভিন্ন জেলে বন্দি থেকে ১৯২১ সালে মুক্ত হন। ১৯২৩ সালে পুনরায় রেগুলেশন বন্দিরূপে সাড়ে চার বছর দক্ষিণ ভারতের জেলে কাটান। তিনি ব্রিটিশ রাজের জেলে মোট ১২ বৎসর বন্দি থাকেন এবং ৬০ মাস পলাতক জীবন অতিবাহিত করেন।[১][৩]

মৌলভীবাজার দুর্ঘটনাসম্পাদনা

সিলেটের বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার অরুণাচল জগৎসী আশ্রমে সাধুদের ওপর পুলিসের অত্যাচার হচ্ছিলো এবং এজন্য মহকুমা হাকিম গর্ডন সাহেব দায়ী ছিলেন। অনুশীলনের নেতারা গর্ডন সাহেবকে শাস্তি দেওয়ার জন্য যোগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, তারাপ্রসন্ন বল, ও অমৃতলাল সরকারকে পাঠান। যোগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সাথে একটি বোমা ও পিস্তল ছিলো। কাটা তারের বেড়া পার হওয়ার সময় ঘোর অন্ধকার রাত্রে যোগেন্দ্র হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে বোমা ফাটে এবং নিজ বোমায় যোগেন্দ্র নিহত এবং অপর দুজন আহত হন। যোগেন্দ্রের দেহ ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে, অপর দুজন অতি কষ্টে দলের কর্মী লালমোহন দে'র সাহায্যে পলায়ন করে ঢাকায় আসতে সক্ষম হন। যোগেন্দ্রের দেহ শনাক্ত করার জন্য সরকার ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৪৪-৪৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. দরজি আবদুল ওয়াহাব, ময়মনসিংহের চরিতাভিধান, ময়মনসিংহ জেলা দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপন কর্তৃপক্ষ, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ, এপ্রিল ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ১১।
  3. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গণ, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ৭৮, ২১৩।