হান্স ফন ইউলার-শেলপিন

সুইডিশ জৈব রসায়নবিদ

হান্স কার্ল আগস্ট সাইমন ফন ইউলার-শেলপিন (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৩ – ৭ নভেম্বর ১৯৬৪)[১] ছিলেন একজন জার্মান বংশোদ্ভূত সুইডিশ বায়োকেমিস্ট (জৈব-রসায়নবিদ)। তিনি চিনি এবং এনজাইমের (উৎসেচক) উর্বরতা নিয়ে তদন্তের জন্য আর্থার হার্ডেনের সাথে ১৯২৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯০৬-১৯৪১) সাধারণ ও জৈব রসায়নের অধ্যাপক এবং এর ইনস্টিটিউট ফর অর্গানিক-কেমিক্যাল রিসার্চ (অনু: জৈব-রাসায়নিক গবেষণাগার) (১৯৩৮-১৯৪৮) এর পরিচালক ছিলেন। ইউলার-শেলপিন উপসালার রসায়নবিদ পির টিওডর ক্লেভের কন্যা অ্যাস্ট্রিড ক্লেভকে বিয়ে করেন এবং লিওনহার্ড ইউলার তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। ১৯৭০ সালে তাঁর পুত্র উলফ ফন ইউলার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

হান্স ফন ইউলার শেলপিন
Hans von Euler-Chelpin 1934.jpg
জন্ম(১৮৭৩-০২-১৫)১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৩
আউগসবুর্গ
মৃত্যু৬ নভেম্বর ১৯৬৪(1964-11-06) (বয়স ৯১)
স্টকহোম, সুইডেন
জাতীয়তাসুইডেন
কর্মক্ষেত্ররসায়ন
প্রতিষ্ঠানস্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন ছাত্রবার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়
পিএইচডি উপদেষ্টাকার্ল ফ্রেডহাইম[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
অন্যান্য 
শিক্ষায়তনিক উপদেষ্টা
হের্মান এমিল ফিশার
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
রসায়নে নোবেল পুরস্কার (১৯২৯)

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ইউলার-শেলপিন ১৮৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জার্মানির আউগসবুর্গে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রয়েল বাভারিয়ান রেজিমেন্টের একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন, যাকে শীঘ্রই মিউনিখে স্থানান্তর (বদলি) করা হয়। শৈশবে তিনি তার দাদীর সাথে তার বেশিরভাগ সময় ওয়াসারবার্গ অ্যাম ইন-এ কাটান। তিনি আউগসবুর্গের রয়্যাল জুনিয়র হাই স্কুলে (পূর্ব নাম, হলবিইন ব্যায়ামাগার) ও পরবর্তিতে ওয়ার্জবুর্গ এবং উলমে ভর্তি হন। বাভারিয়ান প্রথম ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টে (কামান সেনাদল) এক বছরের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পর তিনি রঙ তত্ত্বের প্রতি আগ্রহী হন এবং মিউনিখ একাডেমি অফ পেইন্টিং (মিউনিখ চারুকলা একডেমি) (১৮৯১-১৮৯৩) চিত্রাঙ্কন শিক্ষা শুরু করেন। তিনি স্মিড-রিউট এবং লেনবাখের অধীনে অধ্যয়ন শুরু করেন। যিনি বাস্তববাদী শৈলীর একজন জার্মান চিত্রশিল্পী। তাই তিনি এমিল ফিশার এবং এ রোজেনহাইমের অধীনে রসায়ন অধ্যয়ন করতে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং এমিল ওয়ারবুর্গ এবং মাক্স প্লাংকের অধীনে পদার্থবিজ্ঞান অধ্যয়ন করন। সেখানে ১৮৯৫ সালে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।[২]

১৮৯৯ সালে ইউলার-শেলপিন স্টকহোমের রয়্যাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি ভ্যান 'টি হফ-এর গবেষণাগার পরিদর্শন শুরু করেন, যিনি ভালটার নের্ন্‌স্টের সাথে বিজ্ঞানের প্রতি ইউলার-শেলপিনকে প্রভাবিত করেছিলেন।[২]

১৯০২ সালে তিনি সুইডিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তা সত্ত্বেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউলার-শেলপিন জার্মান বিমান বাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগদান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জার্মান পক্ষে একটি কুটনৈতিক মিশনে কাজ করেন।

১৯০৬ সালে তিনি স্টকহোমের রয়েল ইউনিভার্সিটির জেনারেল এবং জৈব রসায়নের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯২৯ সালে নট, অ্যালিস ওয়ালেনবার্গ ফাউন্ডেশন এবং স্টকহোমে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বোর্ডের রকফেলার ফাউন্ডেশনের ভিটামিন ইন্সটিটিউট ও ইন্সটিটিউট অব বায়োকেমিস্ট্রি প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং ইউলার-শেলপিন। তার পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৪১ সালে তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন, কিন্তু তার গবেষণা অব্যাহত রাখেন।[২]

হান্স ফন ইউলার-শেলপিন দুইবার বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন অ্যাস্ট্রিড ক্লেভ, যিনি প্রথম সুইডিশ মহিলা যিনি বিজ্ঞানের ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯১৩ সালে তিনি এলিজাবেথ ব্যারোনেস আফ উগলাসকে (১৮৮৭-১৯৭৩) বিয়ে করেন, যিনি ইউলার-শেলপিনকে তার গবেষণায় সহযোগিতা করেছিলেন। তার পুত্র উলফ ফন ইউলার (১৯০৫ - ১৯৮৩) একজন সুপরিচিত শারীরতত্ত্ববিদ ছিলেন এবং ১৯৭০ সালে তিনি সিন্যাপসের ওপর নোরপাইনফ্রাইনের রাসায়নিক প্রকৃতি নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৩১ সালে তার কন্যা কারিন ফন ইউলার-শেলপিন লেখক স্ভেন স্টল্পকে বিয়ে করেন।[২]

জীবদ্দশায় ইউলার-শেলপিন বেশ কিছু মনোগ্রাফ তৈরি করেন যেমন: বায়োকেমিস্ট্রি অফ টিউমার, বোলেসল স্কারজিনস্কি, যা ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয় এবং অন্যটির শিরোনাম দ্যা কেমোথেরাপি অ্যান্ড প্রোক্সিস অব ক্যান্সার, যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

ইউলার-শেলপিন ৬ নভেম্বর ১৯৬৪ সালে ৯১ বছর বয়সে স্টকহোমে মারা যান।[২]

নোবেল পুরস্কার লাভসম্পাদনা

১৯২৯ সালে ইউলার-শেলপিন এবং আর্থার হার্ডেন কার্বোহাইড্রেট অ্যালকোহলযুক্ত গাঁজন এবং এনজাইমের (উৎসেচক) ভূমিকা নিয়ে গবেষণার জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Hans von Euler-Chelpin | Swedish biochemist"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৬ 
  2. "The Nobel Prize in Chemistry 1929"NobelPrize.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৬