সিদ্দিকুর রহমান

বাংলাদেশী পেশাদার গল্ফার

সিদ্দিকুর রহমান (জন্ম: ২০ নভেম্বর, ১৯৮৪) বাংলাদেশের গল্‌ফ খেলোয়াড় বা গল্‌ফার। তিনি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম গলফার হিসেবে জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর শিরোপা।[১] তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্য কলকাতার এই সময় পত্রিকা বাংলার টাইগার উডস নামে অভিহিত করে।[২] ২০১৬ রিও অলিম্পিকে তিনি প্রথম বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদ হিসেবে সরাসরি অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করেন।[৩]

সিদ্দিকুর রহমান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণনামমোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান
জন্ম (1984-11-20) ২০ নভেম্বর ১৯৮৪ (বয়স ৩৬)
মাদারীপুর, বাংলাদেশ
উচ্চতা৫ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৬০ মিটার)
ওজন১৮৫ পাউন্ড (৮৪ কিলোগ্রাম; ১৩.২ স্টোন)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
আবাসঢাকা, বাংলাদেশ
খেলোয়াড়ী জীবন
প্রফেশনাল হোন২০০৫
বর্তমান ট্যুরএশিয়ান ট্যুর
পেশাদারী জয়
ট্যুরপ্রতি জয়
এশীয় ট্যুর
অন্যান্য

জন্ম ও শৈশবসম্পাদনা

১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ২০ নভেম্বর সিদ্দিকুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন মাদারীপুরে। পারিবারিক নাম মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান[৪] তার বাবার নাম আফজাল হোসেন এবং মায়ের নাম মনোয়ারা বেগম। পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে সিদ্দিকের অবস্থান তৃতীয়।[৪] জন্ম থেকেই প্রচন্ড অভাবের মধ্যে বেড়ে উঠেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর বাবা আফজাল হোসেন পুরো পরিবার নিয়ে পেটের দায়ে এসে উঠেছিলেন ঢাকার খানিক বাইরে ধামালকোটের বস্তিতে। সেই সন্ত্রাসময় স্থানটিতে বেড়ে ওঠতে ওঠতে সিদ্দিক একসময় পাশের বাড়ির এক ছেলের সাথে চলে যান ঢাকাস্থ কুর্মিটোলায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর গলফ ক্লাবে। সেখানে তিনি 'বলবয়' হিসেবে বল কুড়ানোর কাজ করতে শুরু করেন, তখন তিনি পড়তেন দ্বিতীয় শ্রেণীতে।[৪] এভাবে তার সামান্য কিছু আয় (৩০ টাকার মতো) হতে থাকে। আর পাশাপাশি কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয় এই সাহেবী খেলার।[১]

একসময় 'বলবয়' থেকে 'ক্যাডি' পদে পদোন্নতি হলো তার। এবারে তিনি খেলোয়াড়দের পেছন পেছন তাদের সরঞ্জাম বহন করার এবং টুকটাক সহায়তা করার সুযোগ পান। আর এভাবে এই খেলার পোকা মাথায় ঢুকে যায় তার। তিনি তার স্বল্প সামর্থ্য দিয়ে এক লোহার দোকানে গিয়ে লোহার রড দিয়ে গলফ ক্লাবের মতো একটা কিছু তৈরি করে নেন। পড়ালেখার পাশাপাশি ক্যাডি'র দায়িত্ব পালন করেও সিদ্দিক তখন এই আনকোরা ক্লাব দিয়ে গলফ চর্চা করতেন।[১]

গলফের প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল আর-সবার থেকে ঢের বেশি। একসময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন: একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে ফেললেন সিদ্দিক।[১]

অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিক।[১]

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

অপেশাদার টুর্নামেন্ট
বাংলাদেশ (৫টি)
পাকিস্তান (২টি)
শ্রীলঙ্কা (২টি)
নেপাল (২টি)
ভারত (১টি)
পেশাদার টুর্নামেন্ট
পিজিটিআই প্লেয়ারস চ্যাম্পিয়নশিপ (পুনে, ভারত) ২০০৮
ইউনিটেক হরিয়ানা ওপেন (হরিয়ানা, ভারত) ২০০৮
গ্লোবাল গ্রিন বেঙ্গালুরু ওপেন (বেঙ্গালুরু, ভারত) ২০০৯
আমেরিকান এক্সপ্রেস ওপেন (ঢাকা, বাংলাদেশ) ২০১০
এশিয়ান ট্যুর
ব্রুনাই ওপেন (ব্রুনাই) ২০১০
হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ(ভারত) ২০১৩
তথ্যসূত্র: স্টেডিয়াম, দৈনিক প্রথম আলো।[৫]
মূল তথ্য উৎস: এশিয়ান ট্যুর ডট কম।

সিদ্দিকুর রহমান ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্ট জয় করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে জিতেছেন ৫টি, পাকিস্তান, নেপালশ্রীলঙ্কায় জিতেছেন ২টি করে, আর একটি জিতেছেন ভারতে। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বাংলাদেশী গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর-এ অংশ নেয়ার। এবং এ বছরই ব্রুনাই ওপেন শিরোপা জিতে নেন। একই বছর তিনি এশীয় গলফারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯-তে উঠে আসেন।[১] ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এশিয়ান ট্যুর-এ স্থান পাবার পর পরই ১ আগস্ট প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর-এর শিরোপা।[১] ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। [৬] ২০১৬ রিও গেমসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. দেবব্রত মুখোপাধ্যায় (৩০ অক্টোবর ২০১০)। "সিদ্দিকুর রহমান: শূন্য থেকে শিখরে"ছুটির দিনে, দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা। পৃষ্ঠা ৫-৭ ও ২৩। ২০১০-১১-০১ তারিখে মূল (প্রিন্ট) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১০ 
  2. ঢাকার টাইগার বনাম এই বাংলার দুই গল্ফার
  3. "গলফার সিদ্দিকুরের হাতে বাংলাদেশের পতাকা"। এনটিভি অনলাইন। 
  4. আসিফ শাহরিয়ার কল্লোল (১১ আগস্ট ২০১০)। "সিদ্দিকুরের গলফ জয়ের গল্প"দৈনিক আমার দেশ। ঢাকা। ১৩ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল (ওয়েব) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১০ 
  5. স্টেডিয়াম:আলোর বাড়ি, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, দৈনিক প্রথম আলো, ৮ আগস্ট ২০১০; পরিদর্শনের তারিখ: ৮ নভেম্বর ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।
  6. "গলফার সিদ্দিকুরের দিল্লি জয়" (ওয়েব)দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা। ১০ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

অলিম্পিক গেমস
পূর্বসূরী
মাহফিজুর রহমান সাগর
বাংলাদেশের পতাকা বাহক
২০১৬ রিও দি জেনেরিও
উত্তরসূরী
নির্ধারিত হয়নি