শক্তি

শক্তির প্রকার

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় শক্তি বলতে কাজ করার সামর্থ্যকে বুঝায়। প্রধানত শ‌ক্তি হ‌চ্ছে পদা‌র্থের এমন একটি বৈ‌শিষ্ট্য যার সৃ‌ষ্টি বা ধ্বংস নেই , এক রূপ থে‌কে অন্য রূপ নি‌তে পা‌রে এবং এক বস্তু থে‌কে অন্য বস্তুতে যেতে পারে। বিখ্যাত E=mc² অনুযা‌য়ী শ‌ক্তি পদা‌র্থে নি‌হিত থাক‌তে পা‌রে । যেমন ফিসন বি‌ক্রিয়া । কাজ বা কার্য হচ্ছে বল(force) ও বলের দিকে সরণের (displacement) গুণফল। কৃতকাজের পরিমাণ দিয়েই শক্তি পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ বস্তুর শক্তি হচ্ছে ঐ বস্তু মোট যতখানি কাজ করতে পারে। সুতরাং কাজের একক ও শক্তির একক অভিন্ন - জুল। ১ জুল = ১ নিউটনХ ১ মিটার। শক্তি একটি অদিক রাশি

শক্তি
Sun in February (black version).jpg
সূর্য পৃথিবীতে বেশিরভাগ জীবনের জন্য শক্তির উৎস। এর কেন্দ্রে কেন্দ্রীণ সংযোজনের ফলে প্রোটন থেকে হিলিয়াম গঠনের মাধ্যমে ভর শক্তিতে রূপান্তরিত। এই শক্তি সূর্যের পৃষ্ঠে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে বিকিরণ শক্তি হিসেবে মহাকাশে মুক্ত হয়।
সাধারণ প্রতীক
E
এসআই এককজুল
অন্যান্য একক
kW⋅h, BTU, calorie, eV, erg, foot-pound
এসআই মৌলিক এককেJ = kg m2 s−2
সংকীর্ণ এবং ব্যাপক বৈশিষ্ট্য?হ্যাঁ
সংরক্ষিত?হ্যাঁ
মাত্রাM L2 T−2
বিদ্যুত চমক শক্তিশালী তড়িৎক্ষেত্রের দ্বারা বাতাসের বৈদ্যুতিক ভাঙ্গন এবং শক্তি প্রবাহের সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ। আবহমন্ডলের তড়িৎ বিভব শক্তি তাপশক্তি, আলোকশক্তি এবং শব্দে রূপান্তরিত হয়।

শক্তির রূপসম্পাদনা

শক্তির বিভিন্ন রূপ আছে। মোটামুটিভাবে শক্তির নয়টি রূপ দিয়ে প্রাকৃতিক সব ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া হয়। শক্তির রূপগুলি হলঃ

শক্তির রূপগুলোকে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বল অনুসারে অভিহিত করা হয়।

শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতিসম্পাদনা

শক্তির যে কোন রূপকে অন্য যে কোন রূপে রূপান্তরিত করা যায়, কিন্তু মোট শক্তির পরিমাণ একই থাকে। একে শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি বা শক্তির নিত্যতা সূত্র বলা হয়। শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতিকে এভাবে বিবৃত করা যায়ঃ

শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি কেবল একরূপ থেকে অপর এক বা একাধিকরূপে পরিবর্তিত হতে পারে। মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।[১]

শক্তি একরূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হলে শক্তির কোনো​ ক্ষয় হয় না। একটি বা একাধিক বস্তু যে পরিমাণ শক্তি হারায়, অন্য এক বা একাধিক বস্তু ঠিক একই পরিমাণ শক্তি পায়। নতুন করে কোনো​ শক্তি সৃষ্টি হয় না বা কোন শক্তি ধ্বংসও হয়না। সুতরাং এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল, এখনও ঠিক সেই পরিমাণ শক্তিই আছে।

কাজ-শক্তি উপপাদ্যসম্পাদনা

কোন বস্তুর উপর কৃত কাজ তার গতিশক্তির পরিবর্তনের সমান। অর্থাৎ যেহেতু কোন বস্তুর উপর কাজ করলে তা বস্তুকে গতি দেয়, আবার যেহেতু ঐ গতিকে কাজে রূপান্তর করা সম্ভব (তাকে থামিয়ে দিতে গিয়ে), সেহেতু আমরা বলি ঐ বস্তুতে (গতি)শক্তি এসেছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

পদার্থবিজ্ঞান,নবম-দশম শ্রেণি,পৃষ্ঠা নং ১০২, এনসিটিবি (http://www.nctb.gov.bd/)

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

  1. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত নবম ও দশম শ্রেণীর মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, পরিমার্জিত সংস্করণঃ ডিসেম্বর ২০০৮, পৃষ্ঠা নং ৮২